Tag: Mamdani

  • Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আজ, শুক্রবার আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ছবি সম্বলিত বিশাল ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এ দিনই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখবেন তিনি।

    সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এই সংযোগস্থলের একটি ডিজিটাল পর্দায় ভাগবতের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। আজ, ২৯ অগাস্ট আয়োজিত হতে চলা “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানের আগে এই প্রচার চালানো হয়েছে।

    তিনটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ভাগবত। তাঁর সফরসূচিতে কানাডা এবং ব্রিটেনও রয়েছে। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের বছরেই তাঁর এই বিদেশ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে বক্তব্য রাখবেন ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে বক্তব্য রাখার কথা আরএসএস প্রধানের। আমেরিকান হিন্দুদের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও আলোচনার লক্ষ্যে গঠিত সংগঠন অ্যাহেড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

    স্থানীয় সময় দুপুর ২টো থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা আজ, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৩টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক, সঙ্গীত ও শিল্পকলার বিভিন্ন পরিবেশনাও থাকবে।

    আয়োজকদের দাবি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও দেশের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এর ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে “বসুধৈব কুটুম্বকম” বা “সমস্ত পৃথিবী এক পরিবার”—এই প্রাচীন ভারতীয় ভাবনাকে। আয়োজকদের মতে, ২০০-রও বেশি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করছে।

    ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের আগে এদিন নিউইয়র্কের ২৬ সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইসকন মন্দির পরিদর্শন করেন ভাগবত।

    সেখানে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদের প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করেন তিনি। অংশ নেন গৃহহীনদের মধ্যে খাবার বিতরণের একটি কর্মসূচিতেও।

    ইসকনের পরিচালন পর্ষদের কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে স্বামী প্রভুপাদ এই স্থানেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি সংগঠন শনিবার অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

    সংগঠনটির দাবি, ৬১টি আন্তঃধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে (Mohan Bhagwat)।

    নিউইয়র্কের মেয়রও এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস একটি “বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির” ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্দোলন।

    তবে একই সঙ্গে মেয়র জোহরান মামদানি স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো (RSS) আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক প্রশাসনের নেই।

    মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের হস্তক্ষেপ

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও।

    কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ মার্কিন সরকারের কাছে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভাগবতের ভিসা বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি জানান, আলোচনার জন্য আরএসএস প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিনি প্রস্তুত।

    কমিশনের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে বলেছে, ভারতকে নিয়ে ওই সংস্থা বারবার “ভুল ও উসকানিমূলক বক্তব্য” দিয়েছে।বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংস্থাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সম্পর্কে ভুল এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে এবং নিজস্ব উদ্দেশ্য রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত।

    নিউ ইয়র্কের মেয়রের বক্তব্য

    এদিকে, নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, তিনি ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনের এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন করেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি কবুল করেন, একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে (Mohan Bhagwat)।

    মামদানি আরও বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর মায়ের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এখনও ভারতে রয়েছেন। নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত সম্পর্কে তাঁর পরিবারের ধারণা ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে (RSS) একটি বর্জনমূলক রাজনৈতিক ভাবনার উত্থান তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে এবং তিনি সেই মতাদর্শের বিরোধী (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat in US) নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)। নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৯ আগস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি মহল থেকে বিরোধিতা এবং অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু অধিকার ও শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এইচএএফ (HAF)আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সতর্ক থাকতে’ এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    মামদানিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ দেওয়া এক বার্তায় এইচএএফ (HAF) হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়ননেস সেলিবরেশন (Universal Oneness Celebration)’ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বাধা দেওয়া হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)-র উদ্দেশে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন -এর বার্তা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিউইয়র্কের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন মামদানি

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মামদানি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের কোনও আইনি এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। নিজের ভারতীয়-আমেরিকান পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবারের কাছে ভারতের পরিচয় ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হিসেবে, যেখানে প্রত্যেকেরই জায়গা রয়েছে। মামদানির অভিযোগ, বর্জনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

    নিউইয়র্কে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী মেরি মিলবেন মেয়র মামদানি-সহ সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র প্রতি বিরোধিতার কারণেই মামদানি ও অন্যান্য সমালোচকরা ভাগবতের অনুষ্ঠানকে নিশানা করছেন। ২৯ আগস্টের নির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রচার বন্ধের অসফল প্রয়াস

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)-এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট। এই সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। বুধবার সংগঠনটির @AheadForum1 হ্যান্ডেলটি হঠাৎই অনুপলব্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ঘটনাটি সম্ভবত ভুলবশত ঘটেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের যোগাযোগমূলক প্রচারে ‘সার্বজনীন শান্তি, একতা, সম্প্রীতি’ এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে ভয় কেন

    পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হলে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম X-এ পোস্ট করে জানায়, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ‘বট’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজ-মাধ্যম-কে ধন্যবাদ জানায় তারা। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের বিরোধীরা বিভ্রান্তিকরভাবে বট ব্যবহার করে X-এর অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করানোর চেষ্টা করেছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    কেন বন্ধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট

    তবে X-এর পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি কেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের সরাসরি কোনও যোগসূত্রেরও প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএস একটি ‘বর্জনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী’ মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের বছরেই আন্তর্জাতিক সফরে বেরিয়েছেন মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ নিয়ে তাঁর এই সফর। বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat in US) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার তারা জানায়, অনুষ্ঠানটি ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ ভাবনায় আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার কড়া জবাব দিলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য মামদানি ও তাঁর সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বিরোধিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন

    প্রচার বিভাগের প্রধান তথা প্রবীণ নেতা সুনীল আম্বেকর এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ। সেখানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সামনে আরএসএস-এর ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরবেন। আম্বেকরের কথায়, “খোলা আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলকে স্বাগত জানায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে RSS যে সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, এই উদ্যোগও সেই ধারারই অংশ। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংগঠনের দর্শন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।”

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকে সমর্থন

    ২৬ অগাস্ট ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মিলবেন লেখেন, মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন মামদানি এবং তাঁর মতো সমাজতন্ত্রীরা, কারণ তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধী। তাঁর দাবি, বিষয়টি “বেশ স্পষ্ট”। অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন মিলবেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন “সমাজতান্ত্রিক স্লোগানের জবাব দেয় না, তারা পুঁজিবাদের নিয়মে চলে”। তাই তাঁর মতে, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই হবে। মামদানি ও তাঁর “সমাজতন্ত্রীদের দল”-কে উদ্দেশ করে মিলবেন বলেন, তাঁরা যদি এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তাহলে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেরাই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়ে পাল্টা সমাবেশ করতে পারেন। ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকেও সমর্থন করেছেন মিলবেন। অনুষ্ঠানের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ বা ‘সর্বজনীন একতা’ (Universal Oneness) ভাবনাটি তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারতকে ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা অনুষ্ঠানের অংশ হোক, এমন আশাও প্রকাশ করেন মার্কিন এই গায়িকা।

    ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান

    ড. মোহন ভাগবত আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ ভারতীয়-আমেরিকানের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান। ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া তাঁর ১৭ দিনের সফরে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration) নামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা

    ভাগবতের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-সহ বেশ কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে তা বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না। আরএসএস-এর ভাবনাকে তিনি “বর্জনমূলক” বলে মন্তব্য করে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণার সঙ্গে তার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তবে, আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই ড. মোহন ভাগবতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, “সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে।” ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্কে আরও দু’টি ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের। এরপর তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পরবর্তী পর্ব শুরু হবে।

     

  • New York City Mayor: মামদানি কি পারবেন নিউ ইয়র্কে কমিউনিস্ট-কথিত স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে?

    New York City Mayor: মামদানি কি পারবেন নিউ ইয়র্কে কমিউনিস্ট-কথিত স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্ক সিটির নয়া মেয়র (New York City Mayor) হয়েছেন জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। বছর চৌত্রিশের এই মানুষটি অবশ্য এখনও মেয়র পদে শপথ নেননি। তবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। তাঁর জয়ে বিশ্বজুড়ে আনন্দে আত্মহারা ‘ওয়োক’ লবি। অথচ, মামদানি বামপন্থী জিহাদি হিসেবে পরিচিত। ‘ওয়োক’ লবির হাবভাবেই প্রকাশ, অচিরেই কমিউনিস্ট-কথিত স্বর্গরাজ্যের ধারণা বাস্তবায়িত হয়ে যাবে নিউ ইয়র্ক সিটিতে। ওই লবির উন্মাদনা দেখে মনে হয়, নিউ ইয়র্কের মেয়রই যেন পৃথিবীর সম্রাট, যিনি বিশ্বের সব জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিককে ধ্বংস করতে চলেছেন।

    খবরের ভেতরের খবর (New York City Mayor)

    এবার ফেরা যাক খবরের ভেতরের খবরে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিউ ইয়র্ক হল ডেমোক্র্যাট পার্টির শক্ত ঘাঁটি। এই দলটি এতটাই বামঘেঁষা হয়ে গিয়েছে যে, তাদের কথা ও কাজ অনেক সময়ই কমিউনিস্টদের মতো মনে হয়। আমরা জানি, সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদী ও ‘ওয়োক’ প্রচার পশ্চিমী সভ্যতাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে লাগামহীনভাবে অভিবাসনে উৎসাহ দেয়। এই লক্ষ্য পূরণের জন্যই নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ভোটারদের কোনও পরিচয়পত্র দেখাতে হয়নি। যার অর্থ হল, অবৈধ অভিবাসীরাও ভোট দিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই বিপুল ভোটে জয় মামদানির।

    মামদানির প্রতিশ্রুতি

    নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে মামদানি দরিদ্র ও নিপীড়িতদের জন্য প্রায় সবকিছুই বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ধনী-সুবিধাপ্রাপ্তদের ওপর বাড়তি কর চাপিয়ে জোগাড় করা হবে ওই অর্থ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত একশো বছরে এই ধরনের সামাজিকতাবাদী পরীক্ষার পরিণতি বহুবার ব্যর্থ হয়েছে। তাই মামদানির প্রতিশ্রুতিগুলির পরিণতিও আলাদা কিছু হবে বলে মনে হয় না (Zohran Mamdani)। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার একবার বলেছিলেন, “সোশ্যালিজমের সমস্যা হল এক সময় আপনি অন্যদের টাকাই শেষ করে ফেলেন।” জানা গিয়েছে, মামদানির জয়ের খবর পাওয়ার পর পরই নিউ ইয়র্ক ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছেন সম্পদ-স্রষ্টা ও কর্মদাতারা (New York City Mayor)।

    মামদানির আসল রূপ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বামপন্থীদের এই উচ্ছ্বাস বেশিদিন স্থায়ী হবে না। কিন্তু তাদের শাসন যতদিন থাকবে, ততদিন কোনও দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নীতিগুলি যে ধ্বংস ডেকে আনবে, তা অনুমান করতে হলে মামদানির নীতিগুলির ওপর ভালোভাবে চোখ বোলানো প্রয়োজন। তিনি নিদারুণভাবে ইহুদি-বিরোধী। তিনি বলেছেন, “বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যদি নিউ ইয়র্কে ঢোকেন, তবে তাঁকে গ্রেফতার করবেন।” তিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগান দিয়ে ইহুদিদের বিরুদ্ধে এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হিংসা উসকে দিয়েছিলেন। হিন্দুদের প্রতি তাঁর ঘৃণা বিভীষিকাময়। এই মামদানিই একবার টাইমস স্কয়্যারে এক জেহাদি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা হিন্দুদের উদ্দেশে গালিগালাজ করছিল।

    মামদানি পাকিস্তানের সমর্থক

    মামদানি পাকিস্তানের সমর্থক। প্রশ্রয় দেন জেহাদি ও খালিস্তানপন্থী জঙ্গিদের ভারতবিরোধী কার্যকলাপকে (Zohran Mamdani)। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর বিদ্বেষ তীব্র। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, আজ আর কোনও গুজরাটি মুসলমান জীবিত নেই। কারণ ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় তারা সবাই নিহত হয়েছে (New York City Mayor)। এই ধরনের মিথ্যাচার ও অসততার নজির অনায়াসেই গড়তে পারেন মামদানি। তিনি বলেন, “যৌনকর্মকে অপরাধ মুক্ত করা উচিত।” তিনি মাদকাসক্তদের জন্য ‘সেফ ইনজেকশন সাইট’ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। শিশু-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন শিথিল করার নকশাও ছকেছেন তিনি। বর্তমান আইনে শিশু-নির্যাতনের অভিযোগকারীকে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হয় না। কিন্তু মামদানি চান, অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হোক, যাতে নির্যাতনকারী সহজেই তাঁকে ভয় দেখাতে বা আক্রমণ করতে পারে।

    মামদানির ‘কুইয়ার লিবারেশন’ নীতি

    মামদানি ‘কুইয়ার লিবারেশন’ নীতির মাধ্যমে নিউ ইয়র্ককে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়স্থল করে তুলতে চান। এজন্য ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা বন্ধ করার পক্ষপাতীও তিনি। এই সংস্থাই অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। উল্লেখ্য, ‘কুইয়ার’ শব্দটির আওতায় মামদানি এমনদের বোঝান যারা নিজেদের বিড়াল, কুকুর, ছাগল বা অন্য কিছুর সঙ্গে ‘আইডেন্টিফাই’ করে (New York City Mayor)। নিউইয়র্ককে আইনশৃঙ্খলাহীন ও নৈরাজ্যের কেন্দ্র বানানোর পথে থাকা কাঁটা দূর করতে মামদানি সমর্থন করেন পুলিশের জন্য বরাদ্দ কমানোর ধারণা। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ‘উন্মুক্ত সীমান্ত’ নীতি নিয়েছে, যাতে বেলাগাম অভিবাসন সম্ভব হয়। তাদের বিশ্বাস, এর বিনিময়ে তারা বড় ধরনের রাজনৈতিক ফয়দা তুলতে পারবে (Zohran Mamdani)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যে নিউইয়র্ক একসময় আমেরিকার ঐশ্বর্যের শীর্ষ প্রতীক ছিল, সেটিই এখন পরিণত হতে চলেছে যৌনকর্মী, অবৈধ অভিবাসী, মাদকাসক্ত, সমকামী এবং শিশুকামপ্রবণদের আড্ডাখানায় (New York City Mayor)।

  • Anti Hindu: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হলেন ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি

    Anti Hindu: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হলেন ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টিস স্লিওয়া এবং নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাস্ত করেন। মামদানি হলেন নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র (Anti Hindu)। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া বছর চৌত্রিশের এই ব্যক্তি কুইন্স স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য এবং ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া মোট ভোটের মাত্র ৭ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি পেয়েছেন। আর ৪০ শতাংশের একটু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন কুয়োমো। চলতি বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কুয়োমোকে পরাজিত করেছিলেন মামদানি।

    মামদানির ঐতিহাসিক জয় (Anti Hindu)

    মামদানির এই ঐতিহাসিক জয়ের খবর এল এমন একটা সময়, যখন দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভার্জিনিয়ার প্রথম নারী গভর্নরের নির্বাচনও। ডেমোক্র্যাটরা আরও পাঁচটি কংগ্রেশনাল আসনও দখল করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রায় ২০ লাখ নিউ ইয়র্কবাসী ভোট দেন। ১৯৬৯ সালের পর থেকে এটি শহরের মেয়র নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটারের অংশগ্রহণ। মামদানি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র (Zohran Mamdani)। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর ও আর্থিক কেন্দ্রের প্রথম আফ্রিকায় জন্ম, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী মেয়রও।

    হাউজিং কাউন্সিলর

    সংবাদ মাধ্যমে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। ১ জানুয়ারি শপথ নেবেন তিনি (Anti Hindu)। উগান্ডার কাম্পালায় অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন মামদানি। বেড়ে ওঠা ম্যানহাটনে। সেখানকার একটি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। স্নাতক হন নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর তিনি হাউজিং কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। ভাড়াটিয়া অধিকার এবং আবাসন ব্যয়সাধ্যতার সমস্যাগুলির ওপর কাজ করেন তিনি। মামদানি মীরা নায়ারের ছেলে। এই মীরা নায়ারই নির্মাণ করেছিলেন ‘মনসুন ওয়েডিং’ এবং ‘সালাম বম্বে’র মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র। মামদানির বাবা মাহমুদ মামদানি উগান্ডার শিক্ষাবিদ। তিনি উপনিবেশবাদ এবং আফ্রিকান গবেষণা সম্পর্কিত পাণ্ডিত্যের জন্য পরিচিত। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

    মামদানির পোস্ট

    জয়ের খবর পাওয়ার পর মামদানি এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেট্রো রেলের দরজা খুলছে, আর দেওয়ালে লেখা, ‘জোহরান ফর নিউ ইয়র্ক সিটি’। মুহূর্তে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। মামদানি বলেন, “এই শহর সবার। আমরা এক সঙ্গে ন্যায় ও সহানুভূতির পথে এগিয়ে যাব। নিউ ইয়র্ক এখন নতুন দিগন্তের দিকে হাঁটছে।”

    হিন্দু বিদ্বেষ

    রাজনীতির জগতে পা রাখার আগে মামদানি ছিলেন নিতান্তই এক অচেনা মুখ। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং হিন্দু-বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জেরে দ্রুতই তিনি চলে আসেন খবরের শিরোনামে। ২০২২ সালের (Zohran Mamdani) অগাস্টের একটি ভিডিওয় দেখা যায়, তিনি একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মিছিলে থাকা লোকজন লাগাতার হিন্দুদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর স্লোগান দিচ্ছিল। ঘটনাটি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনকে তিনি একটি ‘মসজিদ ধ্বংসের উদযাপন’ এবং ‘নির্যাতনের অস্ত্র’ আখ্যা দেন (Anti Hindu)।

    মামদানির বিতর্কিত মন্তব্য

    মামদানি গত বছর নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠাকে ‘হিন্দুত্বের চরমপন্থা’ বলে দাবি করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, “গুজরাট দাঙ্গার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুসলমানদের হত্যায় সাহায্য করেছিলেন।” মোদির সমর্থক হিন্দুদের তিনি ‘ফ্যাসিবাদী’ও আখ্যা দেন। মে মাসে নিউ ইয়র্ক ফোকাস আয়োজিত এক জনসভায় মামদানি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তুলনাও করেন (Anti Hindu)। তিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদার’ মতো ইহুদি-বিরোধী গণহত্যামূলক স্লোগানকেও সমর্থন করেন।

    ইহুদি-বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

    হিন্দু-বিরোধী সংগঠন ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)’ এবং অন্যান্য ইহুদি-বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কালিও লেগেছে তাঁর গায়ে। ফোবর্সের তথ্য অনুযায়ী, মামদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অনুমান। এর বেশিরভাগই সম্পত্তি উগান্ডায় পারিবারিক মালিকানাধীন জমি থেকে। এর মূল্য দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলারের মধ্যে। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে তাঁর বার্ষিক বেতন ১.৪২ লাখ ডলার (Zohran Mamdani)।

    ট্রাম্পের হুমকি

    মামদানির জয়ের পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। রিপালিকান শিবির থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘চরমপন্থী ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির প্রতীক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। নির্বাচনের দিন সকালেই ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “যদি মামদানি জেতেন, তবে আমি নিউইয়র্ক শহরকে ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেব (Anti Hindu)।”

    এখন ট্রাম্প কী ব্যবস্থা নেন, সেটাই দেখার।

LinkedIn
Share