Tag: Maoist

Maoist

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) কান্ধমাল জেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা মাওবাদীদের অস্ত্র (Maoist Arms) ও বিস্ফোরকের ভাণ্ডারের হদিস পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দারিংবাড়ি থানার আওতায় মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত পাঁচ দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জঙ্গলে এটি তৃতীয় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।

    অভিযানে মিলল প্রচুর অস্ত্র (Odisha)

    ২৮ অগাস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কান্ধমাল জেলার একাধিক জঙ্গল এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় মাওবাদীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরেই অভিযান শুরু হয়। সশস্ত্র তল্লাশি অভিযানে বিশেষ অভিযান গোষ্ঠী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। রায়কিয়া, বালিগুড়া, দারিংবাড়ি এবং কোটগড় থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের আওতায় বাবুতি, জিমাবাড়ি, কারাহাপাঙ্গা, গারারমহা, জিমারাহা, তেলসি, সিদুপদর, পদলামালা, মাতাবাড়ি, তেরানিপাঙ্গা, ঝাঝিবাড়ি, টুকুবাড়ি, সাতারি, সালাকিঙ্গিয়া, পরিগড়া এবং পেনামাল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে মাটির নীচে বা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারটির সন্ধান পান।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে একটি ১২ বোরের রাইফেল, একটি একনলা রাইফেল এবং একটি এসবিএল গ্রেনেড। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১৯টি বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি টিফিন-বাক্স আইইডি, এক বান্ডিল কর্ডেক্স এবং দুটি জেলাটিন স্টিক। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১৩ রাউন্ড শূন্য দশমিক ৩০৩ ক্যালিবারের গুলি এবং একনলা রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাওবাদীদের শিবিরে ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু সামগ্রী, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক সামগ্রী থাকায় সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় ও সরিয়ে নেওয়ার জন্য বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলকে অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

    ন’টি দল নিয়ে অভিযান

    কান্ধমালের পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, এই অভিযানে একাধিক নিরাপত্তা দল অংশ নিয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান গোষ্ঠীর পাঁচটি দল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একটি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধানে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কান্ধমালকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, জেলায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জঙ্গল এলাকায় অতীতে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ছিল, সেখানে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার প্রাক্তন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট পরিকাঠামো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

    অভিযান চলবে

    জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করার পাশাপাশি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটিগুলিকে যাতে ফের সশস্ত্র কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য (Odisha)।

    পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতীতে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। সাম্প্রতিক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা কান্ধমালে অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    আগেও মিলেছে মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ

    কান্ধমালে চলতি বছরে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৬ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীতাগুড়হা, গঞ্জুগুড়হা, কুটিবারহি, গুড়িকিয়া এবং লাঞ্জাম গ্রামের আশপাশের জঙ্গল থেকে আরও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। এলাকাগুলি কোটগড়, বালিগুড়া এবং তুমুড়িবান্ধা থানার আওতাধীন।

    এর আগে ১১ জুন বালিগুড়া এলাকাতেও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    কান্ধমালকে ৩১ মার্চ ২০২৬ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বারবার অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মাওবাদী পরিকাঠামোর সন্ধানে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।

    ২৬ অগাস্ট মালকানগিরিতেও অস্ত্র উদ্ধার

    কান্ধমালের ঘটনার দু’দিন আগে, ২৬ অগাস্ট ওড়িশা-ছত্তিশগঢ় সীমান্তবর্তী মালকানগিরি জেলার একটি জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মথিলি থানার আওতাধীন চেরকোটলা, কিরমিটি, কোটওয়াপদর এবং কাদাভাটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান।

    কৌশলগত দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রতিবেশী ছত্তিশগঢ়ের বস্তার জেলার দরভা থানা এলাকা এবং সুকমা জেলার পুসপাল থানা এলাকার সংলগ্ন।

    অস্ত্র মিলেছিল সুন্দরগড়েও

    এর আগে ২৪ অগাস্ট সুন্দরগড় জেলার কে বালাং থানার আওতাধীন সিলকুটা সংরক্ষিত জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার হয়।

    আত্মসমর্পণকারী নকশালদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারটি প্রায় চার বছরের পুরনো। সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক সামগ্রী, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়।

    অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভাঙতেই নজর

    মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওড়িশার তিনটি জঙ্গল এলাকা থেকে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, চিরুনি তল্লাশি এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও মাওবাদী পরিকাঠামোর অবশিষ্ট অংশগুলি (Maoist Arms) সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমানো সম্ভব হবে (Odisha)।

     

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব ভারতে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা। সেই কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) অজয় মাহতো ওরফে “টাইগার”কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গিরিডির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অজয়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মিলতে পারে মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Jharkhand)

    অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের অভিযান শাখার কর্তা নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “এটি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের বড় সাফল্য।” তাঁর দাবি, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ চক্র, বিস্ফোরক তৈরির নেটওয়ার্ক, তোলাবাজির উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই তথ্য ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলা নকশালবিরোধী অভিযানে গতি আনবে। নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করা, সংগঠনের রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।” অজয় গিরিডি জেলার পিরটাঁড় ব্লকের পান্ডেদিহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নওয়াদিহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর বিশেষ কোবরা ইউনিট হারলাডি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। অভিযানের সময় কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীকে।

    ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অজয় বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই কমিটি ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তিনি শুধু সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং বড় বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম মূল কুশীলব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিস্ফোরক হামলা, তোলাবাজি, অবৈধ অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক মামলায়ও রয়েছে তাঁর নাম। তদন্তে উঠে এসেছে সারান্ডা, কোলহান, পশ্চিম সিংভূম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিস্ফোরক পুঁতে রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনের সদস্যদের পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন (Jharkhand) তিনি। গত ছ’বছরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২০ সালে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রামবাসীকে খুন এবং বন দফতরের কার্যালয়ে বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

    একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও যুক্ত

    ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তুম্বাহাকা এবং মেরালগড়া এলাকায় বিস্ফোরক হামলায় কোবরা ব্যাটালিয়নের একাধিক জওয়ান জখম হন। ওই ঘটনাগুলির নেপথ্যেও তাঁর দলের ভূমিকা ছিল বলে দাবি (Maoist Leader) তদন্তকারীদের। ওই বছরে বিস্ফোরক লুট, টোন্টো এলাকায় সংঘর্ষে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আধিকারিক অমিত তিওয়ারি এবং কনস্টেবল গৌতম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। হাতিবুরু এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও অজয়ের দল সক্রিয় ছিল। পুলিশের চর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক বিস্ফোরক হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের একাধিক ঘটনায় তাঁর দলের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও জখম হন।

    বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে সমাথা জঙ্গলে বিস্ফোরণে কোবরা ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর মারা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে মারাংপোঙ্গা এবং কিনবির জঙ্গলে সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে কোবরা ইউনিটের একাধিক আধিকারিক এবং জওয়ান জখম হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলাগুলির পরিকল্পনায়ও অজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, অজয় মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম দক্ষ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছিলেন (Jharkhand)। বিস্ফোরক তৈরি ও পুঁতে রাখা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, তাঁর গ্রেফতারের ফলে সারান্ডা, কোলহান এবং গিরিডি অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগবে। সংগঠনের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার, অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অজয়কে

    বর্তমানে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক মাওবাদী সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং সক্রিয় নাশকতা চক্রগুলিকেও ভেঙে দেওয়া যাবে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে যাব (Maoist Leader)।” নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অজয়ের গ্রেফতারি শুধুমাত্র এক কুখ্যাত মাওবাদী নেতার গ্রেফতারি নয়, বরং বামপন্থী উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। তদন্ত যত এগোবে, ততই মাওবাদী সংগঠনের বাকি থাকা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে (Jharkhand) পারে এই গ্রেফতারি।

     

  • Maoist-Free India: “দারিদ্রতার জন্য মাওবাদ ছড়ায় না, মাওবাদের প্রভাবে দারিদ্রতা বাড়ে” নকশাল-মুক্ত ভারত, ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Maoist-Free India: “দারিদ্রতার জন্য মাওবাদ ছড়ায় না, মাওবাদের প্রভাবে দারিদ্রতা বাড়ে” নকশাল-মুক্ত ভারত, ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্তাচলে লাল সূর্য! লাল ‘সন্ত্রাস’কে দেশ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে ৩১ মার্চের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সেই দিন। তার আগে, সোমবার লোকসভায় শাহ জোর গলায় জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারণ করে দেওয়া সময়সীমা মেনে ভারত থেকে বামপন্থী চরমপন্থা (LWE)-কে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হয়েছে। ভারত এখন ‘মাওবাদী মুক্ত’। একই সঙ্গে তিনি জানান, মাওবাদীদের শেষ ঘাঁটি ছত্তিশগড়ের বস্তার ‘উন্নয়নের পথে’ হাঁটছে। বস্তারের উদাহরণ টেনে শাহ জানান, লাল সন্ত্রাস সরে গিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতে মাওবাদ এখন বিলুপ্তির পথে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্পন্ন হলে দেশবাসীকে জানানো হবে। তবে আমি বলতে পারি যে আমরা নকশাল-মুক্ত হয়ে গিয়েছি।”

    ধ্বংস হয়েছে মাওবাদীদের রেড করিডর

    “নকশাল-মুক্ত ভারত” নিয়ে একটি আলোচনা চলাকালীন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বামপন্থী চরমপন্থীদের (LWE) নির্মূল করার জন্য উল্লেখযোগ্য একটি অভিযানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “৭০৬ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ২,২১৮ জন মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৪,৮৩৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে”। তিনি জানান, দেশের মোট ১২ রাজ‍্য থেকে নির্মূল মাওবাদীরা। শাহ বলেন, “তেলঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড মাও মুক্ত। ধ্বংস করা হয়েছে মাওবাদীদের রেড করিডর।”

    কংগ্রেসকে নিশানা

    লোকসভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বিরোধী দলের কাছে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, স্বাধীনতার পর ৭৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৬০ বছর কংগ্রেস দেশ শাসন করার পরও কেন বস্তারের জনগণকে উন্নয়নমূলক সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল? তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের পর, যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্ষমতায় আসেন, তখন প্রত্যেক গরীব মানুষ একটি করে বাড়ি, গ্যাস সংযোগ, পানীয় জল, বিমা এবং খাদ্যশস্য পেয়েছে। বস্তারের জনগণকে কেন বঞ্চিত করা হয়েছিল? এর কারণ কী তবে লাল সন্ত্রাস?”  ছত্তিশগঢ়ে মাওবাদীদের ইন্ধন জুগিয়েছে কংগ্রেস’, সংসদে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে তোপ দাগেন শাহ।

    বামপন্থী মতাদর্শের জন্যই নকশালবাদের বিস্তার

    বক্তৃতায় তিনি ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালের কথা উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রাথমিক সতর্কতাগুলিকে কার্যকর ভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। সেই কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনটি বিস্তার লাভ করেছে।’’ শাহের অভিযোগ, নকশালবাদের মূল মন্ত্র কখনওই উন্নয়ন ছিল না। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে জেতার জন্য সময় ইন্দিরা গান্ধী সেই মতাদর্শকে সমর্থন করেছিলেন। বামপন্থী মতাদর্শের জন্যই নকশালবাদের বিস্তার হয়। শাহ বলেন, ‘‘নকশালবাদের সূচনা হয় পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি থেকে।’’ নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে মাওবাদীরা তাঁদের অস্ত্রভান্ডার পূর্ণ করতেন, লোকসভায় বলেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘মাওবাদীদের ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় ৯২ শতাংশই পুলিশের থেকে লুট করা।’’ শাহ আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও। তাঁর দাবি, মাওবাদী নেতা হিডমার সমর্থনে ওঠা স্লোগানের মঞ্চে ছিলেন রাহুল। তাঁর ভারত জোড় যাত্রায় যোগ দিয়েছিল কয়েকটি মাওবাদী সংগঠনও।

    গুলির জবাব গুলিতেই

    অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যারা সাংবিধানিক ব্যবস্থা মানবে না, অস্ত্র হাতে তুলবে, তাদের প্রতি সরকারের কোনও সহনশীলতা নেই। তিনি বলেন, “যে বন্দুক হাতে তুলে নেবে, তাকে তার মূল্য চোকাতে হবে।” পাশাপাশি মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ করে জীবনের মূলধারায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। শাহের হুঙ্কার, ‘‘যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে’’— এই নীতিতে বিশ্বাসী মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বুঝিয়ে দেন, সহিংসতার জায়গা নেই। শাহের কথায়, ‘‘যাঁরা অস্ত্র তুলে নেবেন, তাঁদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।’’

    কোন পথে মাও-দমন

    দেশকে মাওবাদী-মুক্ত করার পরিকল্পনা কী ভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা লোকসভায় বর্ণনা করেন শাহ। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২০ অগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে স্থির হয়, কী ভাবে মাওবাদী-বিরোধী অভিযান চালানো হবে। পাঁচ বছর পর ২০২৪ সালের ২৪ অগস্ট মাওবাদী নির্মূল করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তার পরে গত দু’বছর ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযানে একে একে দেশের প্রায় ১২ রাজ্যে অভিযান চলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের মধ্যে প্রায় সকলেই হয় আত্মসমর্পণ করেছেন, নয়তো নিহত হয়েছেন।

    নিরীহ আদিবাসীদের হাতিয়ার করে মাওবাদ

    নিরীহ আদিবাসী সম্প্রদায়কে যারা অসৎ কাজে ব্যবহার করছে, তাদের তীব্র সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “তারা সবসময় দাবি করে যে, তারা আদিবাসীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছে, কিন্তু বাস্তবে তারা তাদের হিংসাত্মক মতাদর্শ ছড়াচ্ছে। গণতন্ত্র বা উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনও আস্থা বা ভাবনা নেই।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “দারিদ্রতার জন্য মাওবাদ ছড়ায় না। মাওবাদের প্রভাবে দারিদ্রতা বাড়ে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘এতগুলো বছরে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় আইনের শাসন ছিল না। তারা সংসদীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। সেই কারণে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্রের মধ্য বাস করেছে। হাজার হাজার তরুণ, তরুণী প্রাণ হারিয়েছেন।’’

    প্রতিটি গ্রামে স্কুল-রেশন

    শাহ আরও জানান, “আজ ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশালবাদ প্রায় শেষ। মানুষের সাহায্যে ও পাশে থাকতে প্রতিটি গ্রামে স্কুল করা হয়েছে। রেশন দোকান খোলা হচ্ছে, নিয়মিত ৫ কেজি খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে। আধার কার্ড তৈরি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং মানুষের কাছে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে।” শুধু বস্তার নয়, দেশের প্রায় সব মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা ‘সন্ত্রাসমুক্ত’ হয়ে ‘বিকাশের’ পথে হাঁটছে, মত শাহের।

     

  • Maoists Surrender: ছত্তিশগড়ের বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর, উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী

    Maoists Surrender: ছত্তিশগড়ের বস্তারে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর, উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ সামগ্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আত্মসমর্পণ মাওবাদীদের। বুধবার ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায় অন্তত ১০৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের সম্মিলিত মাথার মোট পুরস্কার মূল্য ছিল ৩.৯৫ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি নকশাল ঘাঁটি থেকে একসঙ্গে এত টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

    নকশাল ঘাঁটি থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ, সোনা (Maoists Surrender)

    এদিন যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন কমিউনিস্ট পার্ট অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-র দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য। তারা বস্তার জেলার সদর শহর জগদলপুরে আত্মসমর্পণ করে। বস্তার রেঞ্জের পুলিশের আইজি সুন্দররাজ পি জানান, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নকশাল ঘাঁটি থেকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩.৬১ কোটি টাকা নগদ, প্রায় ১ কেজি সোনা, ১০১টি অস্ত্র। এই অস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে একে ৪৭ রাইফেল, ইনসাস রাইফেল, এসএলআর, লাইট মেশিনগান, .৩০৩ রাইফেল এবং ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার।

    ছত্তিশগড় পুলিশের বক্তব্য

    আত্মসমর্পণকারী গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে রয়েছে ডিভিশনাল কমিটির সদস্য রাহুল তেলাম, পান্ড্রু কোভাসি ও ঝিত্রু ওয়াম (পশ্চিম বস্তার বিভাগ), রামধর ওরফে বীরু (পূর্ব বস্তার বিভাগ) এবং মল্লেশ (উত্তর বস্তার বিভাগ)। এছাড়াও ছিলেন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (PLGA) ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার মুচাকি এবং অন্ধ্র-ওডিশা সীমান্ত এলাকার ডিভিশনাল কমিটির সদস্য কোসা মান্দাভি। ছত্তিশগড় পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পুনা মার্গেম: রিহ্যাবিলিটেশন টু রিজুভেনেশন” কর্মসূচির আওতায় ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বস্তার বিভাগীয় সদর দফতর জগদলপুরে এই ১০৮ জন মাওবাদী মূলধারায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হিংসা ত্যাগ করা এই ক্যাডারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নকশাল অস্ত্রভান্ডারের হদিশ মিলেছে।

    কী বলছেন উপমুখ্যমন্ত্রী

    ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি জানান, আত্মসমর্পণকারী ছ’জন ডিভিশনাল কমিটি সদস্যের মাথার ওপর প্রতি জনের জন্য ৮ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল ৩ জন কোম্পানি প্লাটুন কমিটি কমান্ডার, ১৮ জন প্লাটুন পার্টি কমিটি সদস্য, ২৩ জন এরিয়া কমিটির সদস্য, ৫৬ জন সাধারণ পার্টির সদস্য। জেলাওয়াড়ি পরিসংখ্যানটি হল, বীজাপুরে ৩৭ জন, দান্তেওয়াড়ায় ৩০ জন, সুকমায় ১৮ জন, বস্তারে ১৬ জন, নারায়ণপুরে ৪ জন এবং কঙ্কেরে ৩ জন। পুলিশের মতে, মাওবাদীদের এই বিরাট সংখ্যায় আত্মসমর্পণ মাওবাদী মতাদর্শের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র অভিযানের ফল।

    মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ

    পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, গত ২৬ মাসে ছত্তিশগড়ে মোট ২,৭১৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত বস্তার বিভাগেই আত্মসমর্পণ করেছে ২,৬২৫ জন। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশে নকশালবাদের অবসানের জন্য ডেডলাইন দিয়েছেন চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এদিকে, বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দু’জন সদস্য এখনও পলাতক। গত বছরের শুরুতে এই কমিটিতে ২১ জন সদস্য ছিল, যার মধ্যে ১৯ জনই আত্মসমর্পণ করেছে বা সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। ২০০০ সালের শুরুর দিকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিল ৪০-৪৫জন সদস্য।

    মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা

    উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে মাওবাদের অবসান হলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বস্তার অঞ্চল থেকে অধিকাংশ আধাসামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। বিধানসভায় বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার ৩১ মার্চ ২০২৬-কে সশস্ত্র মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এরপর ধাপে ধাপে বাহিনী প্রত্যাহার করা শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, এই বাজেটে পুলিশ বিভাগের জন্য ৭,৭২১.০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল বলেন, “সবাই চায় মাওবাদের অবসান হোক, এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।” তাঁর প্রস্তাব, ৩১ মার্চ রাজ্যে মাওবাদ নির্মূলীকরণ উপলক্ষে বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। আলোচনার শেষে ভোটাভুটিতে কাট মোশন ৩৭ বনাম ২৪ ভোটে খারিজ হয় এবং পরে বিধানসভা শর্মার দফতরগুলির বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করে।

     

  • Maoist Encounter: অন্ধ্রের জঙ্গলে ফের তল্লাশি অভিযান, হিডমার পরে খতম আরও সাত মাওবাদী

    Maoist Encounter: অন্ধ্রের জঙ্গলে ফের তল্লাশি অভিযান, হিডমার পরে খতম আরও সাত মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদীদের শীর্ষনেতা মাডবী হিডমার মৃত্যুর পর নিরাপত্তাবাহিনী এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে (Maoist Encounter) আরও সাত মাওবাদীর মৃত্যু হল। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সকালে আলুরি সীতারামারাজু জেলার মারেদুমিলির জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনী এবং মাওবাদীদের ফের গুলির লড়াই শুরু হয়। অন্ধ্রের গোয়েন্দাকর্তা এডিজি মহেশচন্দ্র লাড্ডা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ছয় মাওবাদীর মৃত্যুর পর থেকে বাকি সদস্যদের খোঁজে জঙ্গল ঘিরে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। বুধবার ভোরে মাওবাদীরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা গুলি চালায় বাহিনীও। দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে সাত মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছে টেক শঙ্কর

    ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী (Maoist Encounter) পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত দশ বছরে গোটা দেশে ৬ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী ও সাধারণ মানুষ মাওবাদীদের হাতে নিহত হয়েছেন। আগামী দিনে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করাই লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের। সেই লক্ষ্যেই চলছে অভিযান। মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামারাজু জেলায় যৌথ বাহিনীর এনকাউন্টারে শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার হিডমার মৃত্যুর একদিন পর অর্থাৎ আজ ওখানে আবার সাত মাওবাদীর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে যে, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং তেলঙ্গানা- এই তিন রাজ্যের সীমানায় থাকা মারেদুমিলির জঙ্গলে আবার গুলির লড়াইয়ের ফলে ওই সাতজন মাওবাদী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মাওবাদীদের তিন মহিলা সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এডিজি। এডিজি লাড্ডা আরও জানিয়েছেন, নিহতদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। তবে এক জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁর নাম মেটুরি জোখা রাও ওরফে ‘টেক শঙ্কর। তিনি শ্রীকাকুলামের বাসিন্দা।

    ৫০ জন মাওবাদী গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে খবর, অন্ধ্র-ওড়িশা সীমানায় এরিয়া কমিটি মেম্বার (এসিএম) ছিলেন শঙ্কর। তিনি প্রযুক্তিতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। অস্ত্র তৈরি, যোগাযোগ সংক্রান্ত সরঞ্জাম তৈরি করার বিষয়েও অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন শঙ্কর। এডিজি আরও জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক টিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি এবং আজাদ থাকতে পারেন বলে খবর। মৃতদেহগুলি শনাক্তকরণ এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে এনটিআর, কৃষ্ণা, কাকিনাড়া, কোনাসীমা, এলুরুতে ৫০ জন মাওবাদীকে (Maoist Encounter) গ্রেফতার করা হয়েছে। যা অন্ধ্রপ্রদেশের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় গ্রেফতার। ৪৫টি অস্ত্র, ২৭২ রাউন্ড কার্তুজ, দু’টি ম্যাগাজিন, ৭৫০ গ্রাম তার এবং বিস্ফোরকের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এই দলের অন্য সদস্যদের খোঁজে এখনও তল্লাশি জারি। লাড্ডা বলেন, পুলিশ ছত্তিশগড় থেকে মাওবাদীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের কার্যকলাপ এবং থাকার জায়গা পর্যবেক্ষণ করার পর সর্বশেষ অভিযান শুরু করেছে।

  • Chhattisgarh: ভূপতি ও রূপেশের পর মাওবাদী নেতা রামধনও করতে পারেন আত্মসমর্পণ

    Chhattisgarh: ভূপতি ও রূপেশের পর মাওবাদী নেতা রামধনও করতে পারেন আত্মসমর্পণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) ভূপতি এবং রূপেশের পর বস্তারে অস্ত্র সমর্পণ করার সম্ভাবনা রয়েছে আরও এক শীর্ষ মাওবাদী নেতার। প্রধান নেতৃত্বদের মধ্যে মাওবাদী (Maoist) কমান্ডার রামধনের নিরাপত্তারক্ষীরা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছেন। ৩০-৪০ জন মাওবাদী অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন আবুঝামাদ-সহ উত্তরের বস্তার অঞ্চল মাওবাদী প্রভাব মুক্ত হয়েছে।

    ২৫০ জনের বেশি কট্টর মাওবাদীর অস্ত্র সমর্পণ (Chhattisgarh)

    ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বস্তার এবং মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলা প্রশাসনের কাছে ২৫০ জনেরও বেশি কট্টর মাওবাদী অস্ত্র সমর্পণ করার পরই এই খবর আসে। তবে এই জেলা দীর্ঘদিন মাওবাদীদের কুখ্যাত শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। যেসব মাওবাদী (Maoist) নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাল্লুজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি। তিনি অবশ্য নিষিদ্ধ সিপিআইএম মাওবাদীর পলিটব্যুরো সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। রূপেশ নিজেও উচ্চপদের মাওবাদী নেতা ছিলেন। তবে সেনাবাহিনীর মাওবাদী দমন অভিযান গত কয়েক মাসে বিরাট সাফল্য এসেছে। তবে উল্লেখ্যযোগ্য পদক্ষেপ হল মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ করিয়ে তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা।

    রামধনের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে

    ভূপতি এবং রূপেশের আত্মসমর্পণের পর মাদ অঞ্চলে আরও এক প্রধান মাওবাদী নেতার অস্ত্র সমর্পণের ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, মাওবাদীদের (Maoist) সিসিএম রামধনের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। খুব দ্রুত যে কোনও সময়ে অস্ত্রসমর্পণ করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এই কুখ্যাত নেতা রামধনের উত্তর বস্তার অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন এবং তাঁর মাথার দাম ছিল বিরাট অঙ্কের টাকা। তিনি কাঙ্কের জেলার পানখাঢঞ্জুরের কাছে মাহলা ক্যাম্পের (Chhattisgarh) কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

    উদ্ধার হয়েছিল অস্ত্র

    অক্টোবরেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) জগদলপুরে ১১০ জন মহিলা ক্যাডার এবং ৯৮ জন পুরুষ মাওবাদী (Maoist) আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাওবাদী নেতা ছিলেন ভাস্কর ওরফে রাজমান মান্ডভি, রনিতা, রাজু সালাম, ধন্নু ভেট্টি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার দন্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি, রতন এলম অঞ্চলিক কমিটির সদস্য। তাঁদের কাছে পাওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে ছিল ১৯টি একে-৪৭, ১৭টি এসএলআর রাইফেল, ২৩টি আইএনএসএ রাইফেল, একটি আইএনএসএএস এলএমজি, ৩৬টি ৩০৩ রাইফেল, চারটি কার্বাইন, ১১টি বিজিইএল লঞ্চার, ৪১টি বারো-বোর বা সিঙ্গেল শট বন্দুক এবং একটি পিস্তল।

LinkedIn
Share