Tag: market access

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

LinkedIn
Share