Tag: Maududi’s Islam

  • Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির ইসলামপন্থী সংগঠন (Bangladesh Election) হেফাজত-ই-ইসলাম সেই দেশটির প্রধান ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা (Jihad) করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, “মুসলমানদের জন্য জামায়াতে-ই-ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম (ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ)।”

    হেফাজতে-ই-ইসলামের বক্তব্য (Bangladesh Election)

    চট্টগ্রাম শহরে বিএনপির এক প্রার্থীকে সমর্থন করে হেফাজতে-ই-ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “আমার কাছে এটি কোনও নির্বাচন নয়। এটি জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি জেহাদ।” তিনি জানান, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে হেফাজতের মৌলিক আদর্শগত ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে এবং জামায়াত ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। বাবুনগরীর ভাষায়, “এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতেই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সব মুসলমানের জন্য জামায়াতে ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম এবং কোনওভাবেই তা বৈধ নয়। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে। তারা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।” বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দলটি বর্তমানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, আগে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা জোটে আপত্তি না থাকলেও হেফাজত এখন জামায়াতের বিরোধিতা শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোটই নয়, একই সঙ্গে জনগণ ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়েও ভোট দেবেন। ইসলামপন্থীদের সমর্থিত মহম্মদ ইউনূস সরকার দাবি করেছে, এই চার্টার ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মে’র সঙ্গে (Bangladesh Election) যুক্ত।

    কেন জেহাদ

    প্রশ্ন হল, কেন হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে? হেফাজতের আমির বাবুনগরীর এই বক্তব্য আসে কয়েক মাস আগে জামায়াতকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেওয়ার পর (Jihad)। ২০২৫ সালের অগাস্টে বাবুনগরী বলেছিলেন, “জামায়াতে ইসলামি একটি ভণ্ড ইসলামি দল। এটি খাঁটি নয়। শুধু আমি নই, আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেমরাও এ কথা বলেছেন। জামায়াত মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করে, আর আমরা মদিনার ইসলাম অনুসরণ করি। মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করলে ইমান (সম্মান) ঝুঁকির মুখে পড়ে।” জামায়াতে ইসলামি আবুল আলা মওদুদীর রাজনৈতিক-আদর্শিক ইসলামের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে, যেখানে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয় এবং ধর্ম ও রাজনীতিকে অবিচ্ছেদ্য ধরা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জামায়াত বাবুনগরীর বক্তব্যকে ‘মনগড়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। ‘মদিনার ইসলাম’ নৈতিক সংস্কার, সামাজিক ঐকমত্য, বহুত্ববাদী সহাবস্থান এবং প্রফেটিক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা, যেখানে শাসনব্যবস্থা কোনও দলীয় মতবাদের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক চুক্তি ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিকশিত হয়, যেমন মদিনা সনদ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশভিত্তিক একটি সুন্নি দেওবন্দি ইসলামপন্থী সংগঠন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এবং চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এর সদর দফতর (Bangladesh Election)।

    অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি

    নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করলেও, ১৩ দফা দাবি নিয়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের আইন ও সমাজব্যবস্থাকে ‘ইসলামিকরণে’র জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যেই ইউনূস হেফাজতের নেতা মামুনুল হক ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেন। হাসিনা সরকারের শেষ দিকেও ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা চলছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১২ জনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে পড়েন হেফাজতের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহার (Jihad)। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাকে হেফাজত-সহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘অ-ইসলামিক’ বলে আখ্যা দেয় এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ না হলে পথে নামার হুমকিও দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হেফাজতের এক কর্মী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও তাঁর শতাধিক অনুগামীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইসকনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে (Bangladesh Election)।

    দেশব্যাপী বনধ্

    ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় হেফাজত দেশব্যাপী বনধ ডাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল এবং সিএএ কার্যকরের পর হেফাজত ভারতকে ‘উম্মাহর অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরে একাধিক সমাবেশ করে (Jihad)। সব মিলিয়ে ইসলামপন্থী শক্তিগুলির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কার্যত ‘কে প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে’—এই প্রশ্নের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। হেফাজত-জামায়তে বিভাজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইসলামের গভীর আদর্শগত ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে (Bangladesh Election)।

     

LinkedIn
Share