Tag: MDR

  • UPI Transaction: ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত, দীপাবলির পর কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম

    UPI Transaction: ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত, দীপাবলির পর কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিয়ে ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ইউপিআই (UPI Transaction) মার্চেন্ট লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালুর প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি। নতুন নিয়ম কার্যকর করার সম্ভাব্য সময় দীপাবলির পর, অর্থাৎ ৮ নভেম্বর, ২০২৬-এর পরে। তবে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত কাঠামো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে তা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মনে করা হচ্ছে। দীপাবলি ও বিয়ের মরশুমে খুচরো বাজারে কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সময় ছোট দোকানদার থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীরা বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য মজুত, কর্মী নিয়োগ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সামলাতে ব্যস্ত থাকেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন লেনদেন-সংক্রান্ত খরচ চালু হলে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারত। সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত সেই আশঙ্কা কিছুটা কমল।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি মেনে সিদ্ধান্ত?

    প্রস্তাবিত MDR কাঠামো নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) উৎসবের মরশুমের পরে নতুন নিয়ম চালুর পক্ষে সওয়াল করে। সংগঠনটির মতে, উৎসবের ঠিক আগে মার্চেন্টদের উপর নতুন চার্জ কার্যকর হলে ব্যবসায়িক খরচ ও লেনদেনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নিয়ম কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ী, খুচরো বিক্রেতা এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীরা নতুন কাঠামো সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে এমডিআর চালুর প্রস্তাব বাতিল হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। আপাতত শুধু কার্যকর করার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সাধারণ গ্রাহকদের ইউপিআই লেনদেন কি বিনামূল্যেই থাকবে?

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় সমস্ত ইউপিআই লেনদেনের উপর চার্জ বসানোর কথা বলা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট কিছু উচ্চমূল্যের মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রেই এমডিআর প্রযোজ্য হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী—

    • ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে (P2P) লেনদেন: বিনামূল্যেই থাকবে।
    • ২,০০০ টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট লেনদেন: এমডিআর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
    • যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: ইউপিআই কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পি২পিএম শ্রেণির ব্যবসায়ীরা অব্যাহতির আওতায় থাকবেন।
    • ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট মার্চেন্ট লেনদেন: প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী এমডিআর প্রযোজ্য হতে পারে।

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী, লেনদেনের সংখ্যার নিরিখে ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর কাছে হওয়া প্রায় ৯৫–৯৬ শতাংশ ইউপিআই লেনদেনই এই চার্জের আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটা, দোকানে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়া কিংবা পরিচিতদের কাছে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আপাতত বিনামূল্যে লেনদেনের ব্যবস্থাই বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবিত নিয়মে মার্চেন্টদের গ্রাহকদের কাছ থেকে এমডিআর আদায় করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, এই চার্জ কার্যকর হলেও তা ব্যবসায়ীদের উপর প্রযোজ্য হওয়ার কথা; গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা নয়।

    প্রস্তাবিত এমডিআর-এর হার কত?

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ MDR ধার্য করার কথা বলা হয়েছে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের লেনদেনে এই চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়াও কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য পৃথক হার বা ছাড়ের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন—

    • রেল, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি, ইউটিলিটি এবং কৃষি উপকরণ: নির্দিষ্ট লেনদেনে ৫ টাকার ফ্ল্যাট চার্জের প্রস্তাব।
    • পুঁজিবাজার সংক্রান্ত লেনদেন: ০.০২ শতাংশ হারে ছাড়যুক্ত MDR, যার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য।

    অর্থাৎ, সব ধরনের ব্যবসার জন্য একই হারে চার্জ বসানোর প্রস্তাব নেই। লেনদেনের ধরন, ব্যবসার ক্ষেত্র এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ভিত্তিতে চার্জের কাঠামো আলাদা হতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ছাড়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাড়ার দোকান, রাস্তার ধারের বিক্রেতা এবং ছোট খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে ইউপিআই কিউআর কোড এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থপ্রদানের মাধ্যম। অতিরিক্ত খরচের চাপ থেকে এই ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেওয়াই প্রস্তাবিত ছাড়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    ইউপিআই ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় ইউপিআই বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোবাইল ফোন ও কিউআর কোডের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর সুবিধা শহর থেকে ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সক্রিয় ইউপিআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটির বেশি। মাসিক লেনদেনের মোট মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে মার্চেন্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল লেনদেনের পরিকাঠামো পরিচালনা করতে ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হয়। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বজায় রাখা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং আরও বেশি ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য খরচ প্রয়োজন। এত দিন ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর না থাকায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির জন্য সরাসরি মার্চেন্ট-সাইড রাজস্বের একটি সম্ভাব্য উৎস সীমিত ছিল। প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে সীমিত চার্জ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড় বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জ হল, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবাটিকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী রাখা।

    উৎসবের মরশুমে স্বস্তি, ভবিষ্যতে নতুন নিয়ম

    দীপাবলির আগে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা বর্তমান নিয়মে আরও কিছুদিন লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মার্চেন্ট ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি নতুন নিয়ম সম্পর্কে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার সময় পাবে। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে কোন ধরনের লেনদেনে কত চার্জ লাগবে, কোন ব্যবসায়ী ছাড় পাবেন এবং কীভাবে চার্জ গণনা করা হবে—এই বিষয়গুলি স্পষ্ট করা জরুরি।প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা দীপাবলির পর চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সংশোধিত তারিখ আলাদাভাবে জানানো হবে। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত MDR কাঠামো বাতিল না করে তার বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীরা সাময়িক স্বস্তি পেলেন। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ইউপিআই লেনদেনের সুবিধা বজায় রাখা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা—এই দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে।

  • UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিত্যদিনের ডিজিটাল লেনদেনকে সাধারণ মানুষের জন্য মাশুলমুক্ত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে নয়া কাঠামো ঘোষণা করল কেন্দ্র। নতুন নিয়মে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল দিতে হবে না। লেনদেনের অঙ্ক যতই বড় হোক, এই পরিষেবা বিনামূল্যেই থাকবে। অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনে কোনও লেনদেন মাশুল, প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল আরোপ করা যাবে না (P2P Transaction)। নয়া কাঠামোটি ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনের আওতায় চালু করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের উপর এর সরাসরি কোনও মাশুল চাপছে না।

    বন্ধু-পরিজনকে টাকা পাঠানো থাকছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (UPI)

    বন্ধু, আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনও অতিরিক্ত খরচ হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে সমস্ত লেনদেনই মাশুলমুক্ত থাকবে। অর্থের পরিমাণের উপরও কোনও সীমা ধরে মাশুল বসানো হবে না। এই ধরনের লেনদেন ইউপিআইয়ের মোট লেনদেনের পরিমাণের প্রায় ৭০ শতাংশ। লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে এর অংশ প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দোকানে পেমেন্টেও মাশুল নেই

    দোকান, ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারীকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করলেও কোনও মাশুল লাগবে না। এই ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যবসায়ী—কাউকেই বণিক ছাড়ের হার দিতে হবে না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর পরেও ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেন মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থা।

    ২ হাজার টাকার বেশি পেমেন্টে ব্যবসায়ীর উপর ০.৪ শতাংশ মাশুল

    তবে ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ বণিক ছাড়ের হার কার্যকর হবে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেও নির্ধারিত মাশুল ৩০০ টাকার বেশি হবে না।

    এই মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। এটি ব্যবসায়ীর দিকের পেমেন্ট ব্যবস্থার অংশীদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে। অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এই মাশুল সরকার বা জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন সংগ্রহ করবে না; ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী-সহ পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে তা বণ্টিত হবে।

    ছোট দোকান ও রাস্তার ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য-মাশুলের সুবিধা বহাল থাকছে। কোনও ছোট ব্যবসায়ী ইউপিআইয়ের কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করলে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী শ্রেণির আওতায় তাঁর সমস্ত লেনদেনেই শূন্য বণিক ছাড়ের হার প্রযোজ্য থাকবে। ফলে রাস্তার হকার, পাড়ার ছোট মুদিখানা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর নতুন মাশুলের চাপ পড়বে (UPI) না।

    রেল, টেলিকম, বিমা ও জ্বালানিতে আলাদা হার

    কিছু অত্যাবশ্যক পরিষেবার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশের পরিবর্তে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা হারে বণিক ছাড়ের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেল পরিষেবা, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি এবং কৃষি-উপকরণ সংক্রান্ত পেমেন্ট।

    সরকারের হিসাবে, এই ক্ষেত্রগুলি ইউপিআইয়ের ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী লেনদেনের সংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী লেনদেনের মোট মূল্যের প্রায় ৪৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

    মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারে আরও কম হার

    মিউচুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ, শেয়ারবাজারের দালাল ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বণিক ছাড়ের হার আরও কম রাখা হয়েছে। এখানে হার হবে ০.০২ শতাংশ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত মাশুল নেওয়া যাবে।

    ইউপিআই অ্যাপে গোপন মাশুলও নয়

    নতুন কাঠামোয় ইউপিআই অ্যাপগুলিকে কোনও প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যেন নতুন বণিক মাশুলের খরচ কোনওভাবেই গ্রাহকের উপর চাপিয়ে না দেন (P2P Transaction)।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ফলে মোট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ প্রভাবিত হবে। অধিকাংশ লেনদেন হয় ২ হাজার টাকার নীচে থাকবে, নয়তো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হবে বিশেষ তহবিল

    ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হবে। মোট সংগৃহীত বণিক ছাড়ের হারের ৫ শতাংশ এই তহবিলে রাখা হবে। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ইউপিআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আরও বেশি করে আনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা বিনামূল্যে রেখে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে (P2P Transaction) পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা (UPI)।

     

  • UPI: ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনও চার্জ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

    UPI: ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনও চার্জ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ব্যাঙ্ক কোনও ধরনের চার্জ নিতে পারবে না। একইসঙ্গে রুপে-চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্টের (Free Bank Charges) ক্ষেত্রেও কোনও চার্জ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি (UPI)

    সরকারের প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা পাঠানো বা গ্রহণকারী কোনও ব্যক্তির উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও চার্জ চাপাতে পারবে না কোনও ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা।

    ইউপিআই লেনদেনে চার্জ সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্পষ্ট করতে অর্থমন্ত্রক পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস্ আইনের আওতায় এই পরিবর্তন এনেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন এবং রুপে-চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্টকে নির্দিষ্টভাবে “ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    এর আগে গত মাসে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের কোনও চার্জ দিতে হবে না। তবে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে বণিকদের কাছ থেকে সীমিত পরিসরে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

    ইউপিআই লেনদেন

    অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে হওয়া সমস্ত ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। ব্যবসায়ীদের উপরও কোনও সার্বিক এমডিআর চাপানো হবে না।

    সরকার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের চার্জ চালু করা হলেও তা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে বর্তমানে প্রযোজ্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে (UPI)।

    ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনের পর ইউপিআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে চার্জ নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের এই অবস্থান সামনে (Free Bank Charges) এল। নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই ও রুপে ডেবিট কার্ডের লেনদেনে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চার্জ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে (UPI)।

     

LinkedIn
Share