মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (RG Kar Case) আর্থিক দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেল ইডি (ED)। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তারা জানায়, রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৭ জুলাই।
মিলল সরকারের অনুমোদন
এর আগে ইডি এই মামলায় সন্দীপকে গ্রেফতার করেছিল। প্রথম চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তিনি সরকারি দায়িত্বে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল। সেই কারণে এত দিন বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে পারেনি। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন হাতে আসায় এবার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ হল চওড়া।তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া চার্জশিটে সন্দীপ ছাড়াও দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার নাম রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই দুই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় এটিই ইডির (ED) প্রথম চার্জশিট। এর আগে এই একই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই-ও।
প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ!
ইডির অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের কাছে পাঠানো বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিকল্পিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছিল। সেই অর্থ নগদে তোলা বা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উৎস এবং সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এই আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় সন্দীপের বড় ভূমিকা রয়েছে (RG Kar Case) বলে দাবি ইডির। সরকারি অনুমোদন মেলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া আরও (ED) দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।
