Tag: Melilla

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

LinkedIn
Share