তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
সুস্থ জীবন যাপনের অনেকটাই নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপরে।স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকলে, মস্তিষ্ক ভালো থাকলে, শরীর ভালো থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের একাধিক সমস্যাও সমাধান করা সহজ হয়। কিন্তু আধুনিক জীবনে চাপ বাড়ছে। তাই মস্তিষ্কের উপরে তার প্রভাব পড়ছে। নানান শারীরিক সমস্যা এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চারটি অভ্যাসে নজর দিলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। জটিলতা কমবে। জুলাই মাসে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত কয়েকটি অভ্যাসের মাধ্যমেই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে এমন একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যার সঙ্গে সরাসরি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য জড়িয়ে আছে। স্নায়ুর একাধিক রোগের অন্যতম কারণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ, দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। স্নায়ুতন্ত্রের উপরে যার প্রভাব পড়ে। ফলে, হাত-পায়ে খিঁচুনি, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ, যেকোনো কাজে মনোযোগ না করার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে পেশাগত জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও জটিলতা আসে। যার ফলে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, একটা চক্রের মতো সমস্যা বাড়তে থাকে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা
তাছাড়া বিশ্বজুড়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে। প্রৌঢ় বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে পারছেন না। এর ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা বাড়বে। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রয়েছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে নানান অভ্যাস রপ্ত করা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য মস্তিষ্কের সুস্থ থাকা এবং সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। সেটা না হলেই নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আচরণগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এমনটাই মত চিকিৎসকদের একাংশের।
কোন চার অভ্যাসে বাড়তি নজর বিশেষজ্ঞদের?
নিয়ম মাফিক ঘুমের অভ্যাস!
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। আধুনিক জীবনের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে থাকছে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোয় না। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে মস্তিষ্কের স্নায়ু এবং হরমোনের উপরে গভীর চাপ পড়ে। ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নিয়ম মাফিক পর্যাপ্ত ঘুমোয় না। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো কিংবা অনেক সময় অফিসের কাজ করার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস !
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ঠিকমতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে যেমন ভিটামিন, প্রোটিন জরুরি। তেমনি মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খনিজ পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শরীরে পর্যাপ্ত মিনারেল পৌঁছলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই তাঁরা নিয়মিত কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোটের মতো খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান থাকে। এই খনিজ পদার্থগুলো মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
নিয়মিত মেডিটেশন!
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন নিয়মিত তিরিশ মিনিট মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমবে। আবার আচরণগত জটিলতা দেখা দেবে না। অনেকের সব সময় মেজাজ খিটখিটে থাকে। অকারণেই রাগ বাড়ে। নানান ছোটো বিষয়েও উদ্বেগ বাড়ে। সেগুলো তাঁদের আচরণে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোন গত সমস্যার কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে তবেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ জরুরি!
ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশপাশি মস্তিষ্কের অসুখের নেপথ্যেও থাকে ধূমপান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ধূমপান। আবার মস্তিষ্কের নানান রোগের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের অভ্যাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার ধূমপান করলে স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। মস্তিষ্কেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ নিয়মিত লাগাতার ধূমপান। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ধূমপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।
