Tag: Mental Health Awareness

  • Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাজারের খুচরো পয়সার হিসাবে মাঝেমধ্যে গোলমাল হয়ে যায়। আবার কখনও খুব পরিচিত মানুষের নাম-পদবী মনে পড়ে না। এমন নানান ছোটো ছোটো স্মৃতি বিভ্রাট অনেক সময়েই বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার সমস্যা। এই সমস্যা শুধুই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নয়। বরং, চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া হল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা। মস্তিষ্ক আর সক্রিয় থাকতে পারছে না। দেশ জুড়ে এই সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়ার দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভিটামিনের অভাব!

    কোন ভিটামিনের অভাবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে?

    চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, স্নায়ু সক্রিয় রাখতেও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি-১২ ঘাটতি ডিমেনসিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ সরাসরি মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে মস্তিষ্কের শক্তি কমে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা কমলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। বরং চল্লিশোর্ধ্ব যে কোনও মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এতে সুস্থ জীবন যাপন ব্যহত হয়। তাই পুষ্টির দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু যাতে সক্রিয় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমবে।

    কীভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ চাহিদা পূরণ করতে হলে খাবারে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। খাবার থেকেই শরীর সহজে এই ভিটামিন সংগ্রহ করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি-১২ চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমের কুসুমে ভিটামিন বি-১২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। দিনে অন্তত একটা থেকে দুটো ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২ সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। ডিমের মতোই সামুদ্রিক মাছ এবং মাংস ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ বয়স চল্লিশ পেরলেই নিয়মিত পাতে মাছ বা মাংস থাকা জরুরি। দিনে হোক বা রাতের খাবারে মাছ বা মাংসের একটি পদ‌ থাকলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশপাশি ভিটামিন বি-১২ জোগান হয়। দুধ, পনির জাতীয় খাবারেও ভিটামিন বি-১২ থাকে। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিরামিষাশীদের ভিটামিন বি-১২ সহজ উৎস হলো দুধ এবং পনির। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিজ থেকেও ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়।

    ভারতে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ কি বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ডিমেনশিয়া জনস্বাস্থ্য সমস্যার আকার নিচ্ছে। ভারতের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন। যা ভারতের সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন সম্পূর্ণ ব্যহত হয়। কার্যশক্তি হারিয়ে যায়। সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ডিমেনশিয়ার দাপট বাড়লে তা সামগ্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত খাবারের তালিকায় নজর দেওয়া জরুরি। বাড়ির তৈরি কম তেল মশলার প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক উপকার হবে। এমনকি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা ও বজায় থাকবে। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করলে তবেই মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর আর মনের সীমানাতেই আটকে নেই সমস্যা। জীবন যাপন এমনকি অর্থনীতির উপরেও প্রভাব ফেলবে এই সঙ্কট। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে মানসিক চাপে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে এই সমস্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিয়েছে। তাই এপ্রিল মাস জুড়ে চলছে মানসিক চাপ নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুই সচেতনতা যথেষ্ট নয়। বরং, প্রয়োজন জীবন যাপনে পরিবর্তন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের স্লোগান, ‘বি দ্যা চেঞ্জ’। নিজের জীবনে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আবার এক সঙ্গে আশপাশের মানুষের জীবনেও যাতে মানসিক চাপ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি‌। তাঁদের আশঙ্কা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। যার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক চাপের শিকার। অবসাদ, উদ্বেগ সহ একাধিক মানসিক সমস্যার নেপথ্যে থাকছে মানসিক চাপ। সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের ৫০ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ হল মানসিক চাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টেলি মানস’ সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ একটা নির্দিষ্ট ফোন কলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা জানাতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সমাধানের পথ খুঁজে পাবেন। গত এক বছরে ৩৪ লাখের বেশি মানুষ টেলি মানস-এ নিজের মানসিক চাপে শিকারের কথা জানিয়েছেন। যাদের অধিকাংশের সমস্যা যথেষ্ট জটিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ৩৫ বছরের নীচে ৬০ শতাংশ ভারতীয় মানসিক চাপে ভুগছেন।

    কেন শরীর ও মনের পাশপাশি আর্থিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে মানসিক চাপ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মানসিক চাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পাশপাশি আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হতে চলেছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে কর্মক্ষমতা ও কর্ম দক্ষতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ। আগের থেকে কম দক্ষ ও নিপুণতা কমে যাওয়ায় কাজের মান কমছে। অনেক সময়েই মানসিক চাপের কারণে কাজের গুণমান খারাপ হচ্ছে। এর ফলে কাজ হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আবার মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মানব সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তাই এগুলোর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপরে পড়ছে। এছাড়া মানসিক চাপ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। আর্থিক উন্নতিতে এর প্রভাব পড়ছে। তাই মানসিক চাপ কেবল স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। এর প্রভাব আরও গভীর।

    কেন মানসিক চাপ বাড়ছে?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রতিযোগী পরিবেশ, এর অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে স্কুল স্তর থেকেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আধুনিক অর্থনীতিতে কর্মজীবনেও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। কাজের নিশ্চয়তা কমছে। আর্থিক উন্নতির জন্য এক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। এগুলো মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাছাড়া শহুরে জীবনে বদলে যাচ্ছে পরিবারের সমীকরণ। নিজের উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো সঙ্গী পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ শহুরে ভারতীয় একাকিত্বে ভুগছেন। যা মানসিক চাপ তৈরি করছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি ভারতে মানসিক চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর জেরে অপর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে। আবার ভার্চুয়াল জগত জীবন যাপনের ধারায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এগুলো মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

    মানসিক চাপ শরীরের জন্য কতখানি বাড়তি বিপজ্জনক?

    মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজের মতো একাধিক সঙ্কট তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কম বয়সে স্ট্রোকের নেপথ্যেও থাকে মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। তাই একাধিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সেই প্রভাব দেখা যায়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে মানসিক চাপ কমাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বরং কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তাকে কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে যাতে বড় বিপদ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শরীর চর্চা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস, ধ্যান করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম ঘুম মানেই মানসিক চাপ বাড়বে। নিয়মিত যাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য বরাদ্দ জরুরি। অর্থাৎ গান গাওয়া, ছবি আঁকা কিংবা গল্পের বই পড়ার মতো কাজে কিছুটা সময় দিলে মানসিক চাপ কমবে। তবে নিজের কথা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব কমাতে না পারলে মানসিক চাপ বাড়বে। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর পাঁচ জনের মতো পরিচিত ছন্দে জীবন কাটে না। নিজের কথা বোঝানোর ভঙ্গি আলাদা। আনন্দ-দুঃখ-যন্ত্রণা প্রকাশের ধরণ ভিন্ন। তবে অধিকাংশের থেকে আলাদা হলেও, মানবাধিকারের প্রশ্নে কিন্তু তারা সকলের সঙ্গে এক সারিতেই রয়েছেন‌। ২ এপ্রিল ছিল অটিজম সচেতনতা দিবস। আর চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অটিজম সচেতনতায় আক্রান্তদের মানবাধিকার নিয়ে সচেতনতা প্রসার সবচেয়ে জরুরি। এ বছরের থিম, ‘autism and humanity: every life has value.’ আর পাঁচজনের থেকে ব্যতিক্রম বলেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যায় না। অটিজম আক্রান্তের প্রতি মানবিক থাকা জরুরি।‌ কারণ প্রত্যেক জীবন মূল্যবান। অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। অটিজম নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি। তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এই মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    অটিজম কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এর নেপথ্যে থাকে দিন ঘটিত কারণ। এই সমস্যা শিশুর কথা বলা, অন্যদের মনের ভাব প্রকাশ, সামাজিক মেলামেশায় প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ অটিজম আক্রান্ত অন্যদের দেখে কোনও কাজ করতে শিখতে পারে না। তাঁরা এক কাজ বারবার করেন। তীব্র আলো, শব্দে তাঁদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।

    ভারতে কি অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজম আক্রান্ত।‌ গত এক দশকে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

    কেন ভারতে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত এক দশকে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বছর দশেক আগেও এই সমস্যা সম্পর্কে অধিকাংশ পরিবার অসচেতন ছিলেন। এর ফলে শিশু আক্রান্ত হলেও, চিহ্নিত হত না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এই সমস্যা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে। লাগাতার স্ক্রিনিং হচ্ছে। আর তার ফলেই শিশুদের এই সমস্যা রয়েছে কিনা, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া স্ক্রিনিং পদ্ধতিও উন্নত হচ্ছে। তাই মাইল্ড অটিজম অর্থাৎ খুব সামান্য সমস্যা থাকলেও, সেটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

    অটিজম সচেতনতায় মূল চ্যালেঞ্জ কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের জীবন যাপনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সামাজিক অসচেতনতা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আর পাঁচ জনের থেকে ভিন্ন হলেও, আক্রান্তের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে, এ নিয়ে সচেতনতা কম। আক্রান্তের শিক্ষার অধিকার রয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তলানিতে‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ স্কুলে অটিজম আক্রান্তের শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে, সমাজের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ অটিজম আক্রান্তদের কমে যায়। এর ফলে, তাঁদের জীবন যাপন আরো জটিল হয়ে যায়। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা আরো কমে যায়। তাছাড়া, অনেকক্ষেত্রে আক্রান্তদের মানবিক সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁদের কথা বলার সমস্যা নিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগের জটিলতা নিয়ে কটুক্তি করা হয়। এর ফলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও কমে যায়। লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পারবে, এই সমস্যা কমাতে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত, এ নিয়ে সচেতনতা প্রসার জরুরি।‌ অটিজম আক্রান্ত শিশুর শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তারা খেলবে, আঁকবে, সবকিছু করবে। তাঁদের সমস্ত কাজে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতে হবে। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা প্রসার জরুরি। তবেই আক্রান্তেরা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারবেন। প্রতিকূলতা কমবে।

     

LinkedIn
Share