Tag: mental health

mental health

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালে ঘুম ভেঙেও ক্লান্তি যায় না। মাথা ধরে থাকে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও ল্যাপটপে চোখ আটকে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ মাথার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই কাজে মনোযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাথা ব্যথা। এমনকি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়েও ভোগান্তি! শারীরিক পরীক্ষায় জটিল অসুখ ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার মাথা ব্যথা শরীরের ভোগান্তি বাড়ায়। আবার কাজের দক্ষতাও কমিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে! এমন সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ ভারতীয়! বিশেষত ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছে এক সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় সমীক্ষা। আর কম বয়সি ভারতীয়দের এই ভোগান্তির নেপথ্যে মূলত দুটো কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা!

    ভারতীয়দের মাথা ব্যথা কতখানি বাড়তি বোঝা হয়ে উঠছে? কাদের ভোগান্তি বেশি?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাইগ্রেন এবং অন্যান্য কারণে ভারতীয়দের একটা বড় অংশ মাথা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত যাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, ভুক্তভোগীদের তালিকায়, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন। কর্ণাটক, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো একাধিক বড় রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মাথা ব্যথার ভোগান্তি বেশি। বিশেষত মাইগ্রেনের সমস্যায় পুরুষের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি ভোগেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০-৪৫ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের ৩১ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় কাবু। পুরুষদের ভোগান্তির হার ১৮ শতাংশ। ফলে মাইগ্রেন জাতীয় মাথা ব্যথায় মহিলাদের ভোগান্তি বেশি। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বেশি। তরুণ প্রজন্মের শহুরে ভারতীয়রা এই সমস্যায় অধিক ভুগছেন। বিশেষত যাদের পেশাগত জীবনে বাড়তি প্রতিযোগিতা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, বহুজাতিক সংস্থায় সেলস, মার্কেটিংয়ের মতো বিভাগে কর্মরত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই ভোগান্তি বেশি দেখা গিয়েছে।

    মাথা ব্যথার ভোগান্তির নেপথ্যে কোন দুই কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ার নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পরিবেশ দূষণ এবং দ্বিতীয়ত মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা।

    পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে মাথা ব্যথার ভোগান্তি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক। বছরভর নানান উৎসবে বাজি পোড়ানো হয়। তাছাড়াও মানুষের সচেতনতার হার খুবই কম। তাই বায়ুদূষণের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক উপাদান বেড়ে চলেছে। এছাড়াও ভারতের অধিকাংশ শহরে শব্দ দূষণ মারাত্মক পরিমাণে বেশি। লাগাতার তীব্র শব্দ দূষণ মাইগ্রেন সহ একাধিক ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে। ভারতের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের মাথা ব্যথার নেপথ্যে এই দূষণকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার তীব্র আওয়াজ এবং বাতাসের ক্ষতিকারক উপাদান শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একদিকে স্নায়ুকে দূর্বল করে দেয়। আরেকদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মস্তিষ্কের ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে মাথা ব্যথার মতো ভোগান্তি বাড়ে।

    মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা!

    শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং একাধিক নানান মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করা হয়। অর্থাৎ, স্ট্রেস, ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে। শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। মাথার যন্ত্রণার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অবসাদ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলাদের মাথা ব্যথার বিশেষত মাইগ্রেনের মতো স্নায়ুঘটিত সমস্যার নেপথ্যে থাকে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব এবং একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। মহিলাদের জীবনে একাধিকবার হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে। বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা কিংবা তার পরবর্তী পর্বেও নানান পরিবর্তন ঘটে। তার জেরেই মাইগ্রেন এবং অন্যান্য ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    ভোগান্তি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমাতে তরুণ প্রজন্মের পরিবেশ সচেতন থাকা জরুরি। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন‌ বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিবেশ সচেতনতার পাশপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পেশাগত বা ব্যক্তিগত চাপ থাকলেও নিয়ম মাফিক যোগাভ্যাস চালানো প্রয়োজন। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। যার ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা রুখতে সুবিধা হবে। মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হলেই মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমবে। তাছাড়া মানসিক চাপ, অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তবেই তরুণ প্রজন্মের এই ভোগান্তি কমবে।

  • Alzheimer’s in Indian Women: নাম-ঠিকানাও ভুলে যাচ্ছেন? ভারতে বাড়ছে অ্যালজাইমার, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মহিলারা

    Alzheimer’s in Indian Women: নাম-ঠিকানাও ভুলে যাচ্ছেন? ভারতে বাড়ছে অ্যালজাইমার, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মহিলারা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিঃশব্দেই শরীরে উপস্থিত হচ্ছে। কিন্তু যখন তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে, অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ফলে, পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে। জীবন যাপন কঠিন হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ব্যক্তির পাশপাশি, তার পরিবারের সদস্যরাও সমানভাবেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বিপদ বাড়াচ্ছে অ্যালজাইমার। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে হারে ভারতবাসীর মধ্যে এই সমস্যা বাড়ছে, তাতে আগামীদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

    অ্যালজাইমার কী? কেন এই নিয়ে এত উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমার হল স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। আক্রান্ত মনে রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। নিজের নাম, পরিচয়, ঠিকানাও মনে রাখতে পারেন না। দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। ফলে, স্নান করা, শৌচালয় যাওয়া কিংবা খাওয়ার ক্ষমতাও থাকে না। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। এই সমস্যায় আক্রান্তের পাশপাশি, তার পরিবারকেও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ এমন সমস্যায় আক্রান্ত হলে, তাকে সব সময় একজনের সাহায্য প্রয়োজন হয়। সেই সাহায্যদানকারী কেয়ার গিভারেও স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

    কী বলছে গবেষণা?

    সম্প্রতি Longitudinal Aging Study in India (LASI) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ৬০ বছরের উর্ধ্বে থাকা ৮০ লাখ মানুষ এই অ্যালজাইমার সমস্যায় আক্রান্ত। ষাটোর্ধ্ব প্রায় ৮ শতাংশ ভারতীয় অ্যালজাইমারের সমস্যায় ভুগছেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্তের হার ৯ শতাংশ। তুলনায় পুরুষদের আক্রান্তের সংখ্যা ৫.৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করছেন। বয়স্কদের অধিকাংশ ৮০ বছরের অধিক বেঁচে থাকছেন। কিন্তু ৬০-এর পরেই এই ধরনের স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে, এমন পরিস্থিতিতেই তাঁরা ১০-১৫ বছর বেঁচে থাকছেন।‌ যখন তাঁদের জীবন যাপনের মান কমে যাচ্ছে। বেঁচে থাকলেও সুস্থ জীবন যাপন হচ্ছে না। যা সমাজের পক্ষেও ভালো নয়। দেশের প্রবীণ নাগরিকেরা এমন অসুস্থ জীবন যাপন করলে, সেটা দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্র নিয়ে যথেষ্ট চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন,সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০-র পরে সমস্যা প্রকট হলেও চল্লিশ বছরের পর থেকেই এর লক্ষণ অল্প হলেও দেখা দেয়। তাই স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত কোনো রকম সমস্যা হলে তা নিয়ে সতর্কতা জরুরি।

    কেন মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে?

    হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমারের সমস্যা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা দিচ্ছে। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী কালে অর্থাৎ মেনোপজের পরে মহিলাদের শরীরে একাধিক পরিবর্তন হয়। শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এর প্রভাব যথেষ্ট গভীর। মস্তিষ্কের উপরে এই হরমোনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ইস্ট্রোজেন। শরীরে সেই হরমোনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অ্যালজাইমারের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    জিনগত কারণও দায়ী

    মহিলাদের যে কোনও জিনগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পরিবারের কেউ অ্যালজাইমারে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সেই জিনগত কারণেও মহিলারা এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন হলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। দেশের দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, এ দেশে মহিলাদের শিক্ষার সুযোগ সমান ছিলো না। এমনকি মহিলাদের শিক্ষার পথে একাধিক অন্তরায় ছিলো। এখনো রয়েছে। তাই মহিলাদের কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগ কম। এগুলো প্রৌঢ় কালে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে উঠছে। ফলে অ্যালজাইমারের মতো রোগের দাপট বাড়ছে।

    কগনিটিভ রিজার্ভ কী? কেন অ্যালজাইমার রুখতে কগনিটিভ রিজার্ভে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কগনিটিভ রিজার্ভ হল মস্তিষ্কের এক বিশেষ ক্ষমতা। যেকোনো সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ এলেও মস্তিষ্ক নিজের কাজ ঠিকমতো চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক গতিতেই কাজ করতে পারে। বার্ধক্য মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু কগনিটিভ রিজার্ভ মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালজাইমার রুখতে তাই কগনিটিভ রিজার্ভে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমারের মতো সমস্যা রুখতে হলে মস্তিষ্ক সচল রাখা জরুরি।‌ ধাঁধা বা ব্রেন গেম নয়। বরং নতুন কিছু শেখা জরুরি। নতুন কিছু শিখলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কগনিটিভ রিজার্ভ তৈরি হয়। অর্থাৎ মস্তিষ্ক তার কাজ করার ক্ষমতা বজায় রাখে। তাই চল্লিশ বছরের পরেই ভারতীয়দের নতুন কিছু শেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নতুন ভাষা শেখা, কিংবা বাদ্যযন্ত্র শেখা জরুরি।

    কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    • ● বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ভাষা শিখলে মনোযোগের প্রয়োজন হয়। ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। চল্লিশ বছরের পরে যে কোনও নতুন ভাষা শেখার অভ্যাস তৈরি হলে অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমবে।
    • ● যে কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার অভ্যাস তৈরি হলে হাতের স্নায়ু ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর যোগাযোগ আরো ভালো হবে। পেশির কাজ হবে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকবে। এর ফলে অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমবে।
    • ● বয়স বাড়লে নতুন কিছু শেখা সম্ভব না হলে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত বই পড়লে কগনিটিভ রিজার্ভ ভালো থাকে। এতে মনে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    • ● যে কোনও সামাজিক কিংবা শিক্ষামূলক গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়াতে এবং অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে ছবি আঁকার স্কুল, কিংবা নাচ, গান বা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয় এমন ক্লাবে যোগ দেওয়া উচিত। এতে একাকিত্ব কমে। ফলে মস্তিষ্কের উপরে চাপ পড়ে না। আবার নিজের মতামত জানানো, অন্যের কথা শোনা এবং আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। তাছাড়া সৃজনশীল কাজ মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ায়। তাই অ্যালজাইমারের মতো সমস্যার ঝুঁকিও কমে‌।
    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

  • Korean Love Game: ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর জালে মর্মান্তিক পরিণতি গাজিয়াবাদে! কী এই গেমিং অ্যাপ? কীভাবে সতর্ক হবেন?

    Korean Love Game: ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর জালে মর্মান্তিক পরিণতি গাজিয়াবাদে! কী এই গেমিং অ্যাপ? কীভাবে সতর্ক হবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গেম যে প্রাণঘাতী হতে পারে, তা আগেও দেখেছে বিশ্ব। কখনও মোমো চ্যালেঞ্জ, কখনও ব্লু হোয়েল, কখনও আবার লেথাল কোম্পানি, শ্যাজো ফাইট ২, জম্বি কিলারের মতো গেম প্রাণ কেড়েছে। কোনও গেমে কিশোর-কিশোরী স্রেফ নির্দেশকে পালন করতে গিয়ে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে গেম নিয়ে প্রবল মানসিক চাপ থেকে চরম ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে নেটিজেনরা। আবারও সেই একই ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি শান্ত আবাসিক এলাকা। ভারত সিটি সোসাইটির একটি বহুতল আবাসনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন নাবালিকা বোনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ ও তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই চরম সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে তথাকথিত একটি অনলাইন গেম—‘কোরিয়ান লাভ গেম’ (Korean Love Game)।

    আত্মহত্যার নোটে ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর উল্লেখ

    মৃত তিন বোন হলেন—পাখি (১২), প্রাচি (১৪) ও বিশিকা (১৬)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বুধবার রাত আনুমানিক ২টোর দিকে তিনজন একসঙ্গে ফ্ল্যাটের বারান্দায় যান এবং নিচে ঝাঁপ দেন। তাঁদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় প্রতিবেশীদের। সকালে গোটা এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায় এই ঘটনায়—কেউই বুঝে উঠতে পারছিলেন না কীভাবে তিন বোন একসঙ্গে এমন চরম পথ বেছে নিল। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে সরাসরি ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর উল্লেখ রয়েছে। নোটটি বাবা-মায়ের উদ্দেশে লেখা বলে জানা গিয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “মা-বাবা, আমাদের ক্ষমা করো… এখন তোমরা বুঝবে আমরা গেমটাকে কতটা ভালোবাসতাম—কোরিয়ান লাভ গেম।” এই নোট উদ্ধারের পরেই তদন্ত নতুন মোড় নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাট থেকে আরও ডায়েরি, হাতে লেখা নোট এবং ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার হয়েছে, যা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    কোভিডের সময় থেকেই আসক্তির শুরু

    পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিন বোন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল এবং জীবনের প্রায় সবকিছুই একসঙ্গে করত। তবে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকেই তাঁদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। লকডাউনের সময় স্কুলে যাওয়া কমে যায়, সামাজিক মেলামেশা বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে শুরু করে তারা। মেয়েদের বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা একটি অনলাইন গেমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “বাবা ফোন কেড়ে নেওয়া ও গেম ডিলিট করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ততদিনে আসক্তি গভীর হয়ে গিয়েছিল।” মেয়েদের কাছে, “পাপা, আমরা কোরিয়ানকে ছাড়তে পারি না। কোরিয়ানই আমাদের জীবন, কোরিয়ানই সব।”

    কী এই ‘কোরিয়ান লাভ গেম’?

    প্রচলিত মোবাইল গেমগুলোর মতো কোনও একক বা নির্দিষ্ট অ্যাপ নয় ‘কোরিয়ান লাভ গেম’। তদন্তকারীদের মতে, এটি মূলত কোরিয়ান পপ সংস্কৃতি, কে-ড্রামা ও ভার্চুয়াল ডেটিং ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত এক ধরনের অনলাইন, টাস্ক-ভিত্তিক রোমান্টিক গেমের শ্রেণি। এই ধরনের গেম সাধারণত মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল প্রেমিক/প্রেমিকা, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি কিংবা স্বয়ংক্রিয় চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগে জড়িয়ে পড়ে। কথোপকথনে থাকে কোরিয়ান ধাঁচের রোমান্টিক ভাষা, আবেগঘন বার্তা, ভালোবাসার আশ্বাস এবং একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের অনুভূতি।

    কী করতে হয় এই গেমে

    প্রাথমিক পর্যায়ে দেওয়া কাজগুলো তুলনামূলকভাবে নিরীহ—যেমন নিরবচ্ছিন্ন চ্যাট করা, ছবি পাঠানো, বার্তা লেখা বা তথাকথিত ‘সম্পর্ক’ গোপন রাখা। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজগুলো ক্রমশ আরও ব্যক্তিগত, হস্তক্ষেপমূলক ও চরম আকার ধারণ করতে পারে। একজন শিশু মনোবিদের ভাষায়, “কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে, নিঃশর্তভাবে নির্দেশ মানতে এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে গিয়ে আত্মহানির মতো কাজে উৎসাহিত করা হয়।”

    কোরিয়ান কালচারের প্রতি আসক্তি

    সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়দের মধ্যে কোরিয়ান পপ কালচার, কোরিয়ান ড্রামা বা ওয়েব সিরিজের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। ‘কোরিয়ান লাভ’ নামে এই গেমে আসলে সেই সেন্টিমেন্টটাই ব্যবহার করা হয়েছে। কোরিয়ান পপ কালচার, কোরিয়ান ড্রামা এবং কোরিয়ান ডেটিং কালচারের আদলে তৈরি এই গেমে ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ব্যবহারকারীরা। ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারের সঙ্গে রোম্যান্টিক মেসেজিংয়ের পাশাপাশি চলতে থাকে দৈনিক বিভিন্ন টাস্ক দেওয়া। প্রথম প্রথম সেই টাস্কগুলি শেষ করতে ভালোই লাগে। কিন্তু, যতদিন যায়, গেমের লেভেল যত বাড়ে, ততই কঠিন হয় টাস্ক, বাড়তে থাকে মানসিক চাপও। আর এখানেই সৃষ্টি হয় সমস্যার।

    ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর সঙ্গে মিল

    বছর ১৩ আগে ২০১৩ সালে রাশিয়ায় একটি গেম জনপ্রিয় হয়েছিল। তার নাম ব্লু হোয়েল। সেই গেম ছড়িয়ে পড়েছিলে গোটা বিশ্বে। ২০১৬ সালে সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে সেই গেমের ক্ষতিকারক দিকগুলি সম্পর্কে জানা গিয়েছিল। গেমের নিয়ম অনুসারে, ৫০ দিন ধরে ৫০টি ‘টাস্ক’ পূর্ণ করতে হতো খেলোয়াড়কে। নিজের উপরে নানা রকমের অত্যাচার করতে হতো সেই গেমের শর্ত মেনে। গেমের অ্যাডমিনকে পাঠাতে হতো তার ছবি, ভিডিও। একদম শেষ দিনে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হতো। ‘কোরিয়ান লাভ’ নামের এই গেমটিও একইরকম টাস্কবেসড একটি খেলা। তদন্তকারীদের ধারণা, ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর কাঠামোর সঙ্গে কুখ্যাত ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর বেশ কিছু মিল রয়েছে। ব্লু হোয়েল ছিল ধাপে ধাপে দেওয়া একাধিক বিপজ্জনক কাজের সিরিজ, যার শেষ পরিণতি ছিল আত্মহত্যা। কয়েক বছর আগে এই চ্যালেঞ্জ ঘিরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এবং বহু কিশোর-কিশোরীর মৃত্যুর সঙ্গে এর যোগ পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, কোরিয়ান লাভ গেমেও একইভাবে বহু ধাপে আবেগী নির্ভরতা তৈরি করা হয় এবং শেষ ধাপে দুর্বল মানসিক অবস্থার ব্যবহারকারীদের মারাত্মক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

    মানসিক বিপন্ন কিশোর-কিশোরীরা

    মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্করা এই ধরনের রোমান্টিক, আবেগনির্ভর অনলাইন গেমের প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। বাজি বা অর্থভিত্তিক গেমের তুলনায় এই প্ল্যাটফর্মগুলো আরও বিপজ্জনক, কারণ এখানে প্রতিযোগিতা বা অর্থ নয়—ব্যবহারকারীদের ভালোবাসা, অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি ও স্বীকৃতির প্রয়োজনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কৈশোরে এই আবেগগুলো স্বাভাবিকভাবেই আরও তীব্র থাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, গাজিয়াবাদের তিন বোনের মোবাইল ফোন ঘেঁটে প্রাথমিক ভাবে দেখা গিয়েছে, অতিমারির সময়কালে তারা দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শেষ ঘটনাটিকে তারা কোনও ‘যৌথ কাজ’ বা গেমের চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিল কি না। ফোনগুলো বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যোগাযোগের সূত্র, ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম এবং এর পেছনে কোনও মানব নিয়ন্ত্রক ছিল নাকি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম—সব দিকই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

    অভিভাবক ও প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে অনলাইন গেমিং-সংক্রান্ত আত্মহত্যার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, বিশেষ করে বাজি ও চ্যালেঞ্জভিত্তিক গেমে জড়িয়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোমান্টিক টাস্ক-ভিত্তিক গেমগুলো আরও ভয়ংকর, কারণ এগুলো সরাসরি মানুষের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করে। গাজিয়াবাদের তিন বোনের মৃত্যু শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন উপস্থিতির ভয়াবহ দিকটি আবারও সামনে এনে দিয়েছে। পুলিশ ও শিশু কল্যাণ দফতর অভিভাবকদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানো, স্ক্রিন টাইম সীমিত করা এবং গোপনীয়তা, অতিরিক্ত অনলাইন আসক্তি, মানসিক বিচ্ছিন্নতা বা আচরণগত হঠাৎ পরিবর্তনের মতো সতর্ক সংকেতগুলোর প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

  • Suicide Prevention: ‘আত্মহত্যা’ সবচেয়ে বড় ‘মহামারি’! কীভাবে রুখবেন প্রবণতা?

    Suicide Prevention: ‘আত্মহত্যা’ সবচেয়ে বড় ‘মহামারি’! কীভাবে রুখবেন প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আত্মহত্যা (Suicide) নিয়ে কটাক্ষ নয়। বরং আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে (World Suicide Prevention Day) পালিত হয়। এছাড়া, ভারতে ৭ থেকে ১৩ তারিখ ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন উইক (National Suicide Prevention Week) পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশ জুড়ে আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি (Prevent Suicide)। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আত্মহত্যা ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ভয়ঙ্কর প্রবণতা মারাত্মক ভাবে‌ বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Union Health Ministry) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত তিন বছরে প্রায় ২৭ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন, সেই লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। আর এই মহামারি রুখতে সবচেয়ে জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) সম্পর্কে সচেতন হওয়া। তাই দেশ জুড়ে চলছে আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতনতা (Suicide Awareness) কর্মসূচি।

    কাদের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে? কর্মশালার লক্ষ্য কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। মানসিক অবসাদ (Mental Depression), হতাশা বাড়ছে।‌ তার থেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বিশেষত ছেলেদের মধ্যে এই ঘটনা আরও বেশি। চলতি বছরে ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন উইক উপলক্ষে দেশ জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি (Prevent Suicide) পালন চলছে। মূল লক্ষ্য আত্মহত্যা নিয়ে কটাক্ষ বন্ধ করা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে এ দেশে সচেতনতার হার এখনও অনেক কম। তাই কেউ আত্মহত্যা করবেন, জানালে অনেকেই এ নিয়ে কটাক্ষ করেন।

    এমন কথা অনেক সময়েই বলা হয়, যাতে সেই ব্যক্তির আত্মহত্যা করার ঝোঁক আরও বেড়ে যায়‌। আবার পরিবারের কেউ আত্মহত্যা করলে বাকিদের অনেক সময়েই নানান সামাজিক কটাক্ষের শিকার হতে হয়। যার ফলে তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়। আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যা নিয়ে কটাক্ষ নয়। বরং আত্মহত্যার লক্ষণ সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। এই লক্ষ নিয়েই মূলত দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। মূলত স্কুলগুলোতে নাটক, নাচ, গানের মাধ্যমে এই বিষয়ে কর্মশালা চলছে।‌ যাতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়। অবসাদ কিংবা হতাশার মতো সমস্যা হলে কীভাবে‌ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া যায় এবং আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায় সে সম্পর্কেও জানানো হচ্ছে।

    কীভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা (Suicidal Tendencies) রুখবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা কমানোর জন্য এই সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ কেউ অতিরিক্ত চুপচাপ হয়ে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সতর্ক‌ (Prevent Suicide) থাকা প্রয়োজন। বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েরা যদি দিনের অতিরিক্ত সময় ঘর বন্ধ করে একলা থাকে, তাহলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। একাকিত্ব আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিবারের কেউ কোনও ঘটনায় মারাত্মক আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেও বাকিদের সতর্কতা জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে, অনেক সময় আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে।

    বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনও সদস্য মানসিক অবসাদে ভুগছেন কিনা সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মানসিক অবসাদ। অনেক সময়েই অবসাদের মতো জটিল রোগকে নিছক মন খারাপের তকমা দেওয়া হয়। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। তাই এই সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা রুখতে শুধুই কথা বলা নয়। প্রয়োজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং চিকিৎসা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে‌ যেমন রোগীকে, তাঁর পরিবারের যত্নের পাশাপাশি চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের প্রয়োজন হয় (Prevent Suicide)। ঠিক তেমনি আত্মহত্যার প্রবণতার মতো জটিল মানসিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন থেরাপি। তাই পরিবার ও বন্ধুদের পাশে থাকার পাশপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও থেরাপিও জরুরি। তাই কাছের মানুষের মধ্যে এই ধরনের প্রবণতা তৈরি হলে দেরি করা উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবেই‌ বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে। আত্মহত্যাকে মহামারির আকার দেওয়া যাবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Student Suicides: পড়ুয়াদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান ছাপিয়ে যাচ্ছে সব রেকর্ড! কী বলছে রিপোর্ট?

    Student Suicides: পড়ুয়াদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান ছাপিয়ে যাচ্ছে সব রেকর্ড! কী বলছে রিপোর্ট?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আত্মহত্যা এক মহামারির মতো প্রভাব বিস্তার করছে। আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে পড়ুয়াদের ওপর। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার প্রবণতা পুরনো সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, এই প্রবণতা রুখতে না পারলে পরবর্তীতে আরও বড় বিপদ তৈরি হতে পারে। ১০ সেপ্টেম্বর ‘সুইসাইড প্রিভেনশন ডে’! বিশ্ব জুড়ে এই নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। পিছিয়ে নেই ভারত। দেশ জুড়ে স্কুলস্তর থেকেই নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মহলে চলছে নানা কর্মশালা। আত্মহত্যার প্রবণতা (Student Suicides) রুখতে কথা বলার অভ্যাসকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাই স্কুলস্তর থেকেই বোঝানো হচ্ছে, যে কোনও পরিস্থিতিতে পরিবার, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আলোচনা করতে হবে। তাহলে পাওয়া যাবে সমাধানসূত্র।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর সাহায্যে এক সর্বভারতীয় সংস্থা চলতি বছরের অগাস্ট মাসে একটি রিপোর্ট (Latest Report) প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ২০২৩-র তুলনায় চলতি বছরে ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের আত্মহত্যার প্রবণতা (Student Suicides) ৪ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিক ভাবে আত্মহত্যার ঘটনা‌ বেড়েছে ২ শতাংশ। অর্থাৎ, সামগ্রিক আত্মহত্যার ঘটনার তুলনায় পড়ুয়া আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনা অনেক সময়েই ‘আন্ডার রিপোর্ট ‘ অর্থাৎ ঠিকমতো‌ পুলিশকে জানানো হয় না। তারপরেও এই দ্বিগুণ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান, স্পষ্ট করছে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ২০২২ সালে পড়ুয়া আত্মহত্যার ঘটনায় দেখা গিয়েছে, ৫৯ শতাংশ পড়ুয়া ছাত্র। ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের সংখ্যা বেশি। তবে, ২০২৩ সালে উদ্বেগজনক ভাবে ছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

    কোথায় বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা? (Student Suicides)

    সাম্প্রতিক প্রকাশিত ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। রাজস্থানে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যার জেরে রাজস্থানে ১৮-২৫ বছর বয়সি পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি। তাই প্রতি বছর পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনায় রাজস্থান শীর্ষ তালিকায় থাকে। মহারাষ্ট্রেও অসংখ্য প্রফেশনাল কোর্সের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বহু ছেলেমেয়ে সেখানে পড়াশোনা করতে যান। তাই আত্মহত্যার ঘটনা বেশি হয়। তবে তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যও তালিকায় থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

    কেন পড়ুয়াদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, কেরিয়ারের সঠিক দিশা না পাওয়া, মারাত্মক প্রত্যাশা এবং একাকিত্বে ভোগার মতো সমস্যা থেকেই অধিকাংশ পড়ুয়ার আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। তারা জানাচ্ছে, স্কুলস্তর থেকেই পড়ুয়াদের নানা পেশার হদিশ দেওয়া জরুরি। গতানুগতিক পথ ছাড়াও সাফল্য পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলে, পড়ুয়ারা দিশাহীন হবেন না। বছরের পর বছর একটি নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তির চেষ্টা, সেটায় অসাফল্য, অনেক সময়েই পড়ুয়ারা অবসাদগ্রস্ত (Student Suicides) হয়ে পড়ছেন। কিন্তু ভারতে এখন একাধিক নতুন পেশার দিশা তৈরি হয়েছে। গতানুগতিক পথের বাইরেও সেই সব পেশায় সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা সেই সব বিষয় জানতে পারছে না। 
    তাছাড়া পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক যেন বজায় থাকে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের নানা মানসিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু পরিবার সেই জটিলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলে আরও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। একাকিত্ব বাড়তে পারে। আর তার জেরেই আত্মহত্যার মতো ঘটনাও বাড়ছে। তাই নিয়মিত সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি। তাদের সঙ্গে গল্প করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। যে কোনও সমস্যা, উদ্বেগ তারা সহজেই পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। তাহলে‌ বড় বিপদের ঝুঁকি কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Indoor Plants: বাড়ির পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখবে ইন্ডোর প্ল্যান্ট! কোন গাছ বসালে কমবে অসুখের ঝুঁকি?

    Indoor Plants: বাড়ির পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখবে ইন্ডোর প্ল্যান্ট! কোন গাছ বসালে কমবে অসুখের ঝুঁকি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাড়ি‌ সাজাতে নানান রকমারি ছবি কিংবা শো-পিস‌ এখন পুরানো রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে। নতুন ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি সাজানোর ফ্যাশনে এখন এগিয়ে রয়েছে গাছ। হরেক রকমের গাছ, বিশেষত ইন্ডোর প্ল্যান্ট দিয়ে বাড়ি বা ফ্ল্যাট সাজানোই এখন রেওয়াজ। তবে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুই ফ্যাশনের জন্য নয়। বাড়িতে এমন কিছু ইন্ডোর প্ল্যান্ট (Indoor Plants) রাখা উচিত, যাতে পরিবারের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এমন কয়েকটি গাছ রয়েছে, যা শোওয়ার ঘরে কিংবা বাইরের ঘরে রাখলে পরিবেশ ভালো থাকে। রোগের ঝুঁকি কমে। এমনকি সেই গাছের পাতা নিয়মিত ব্যবহার করলে একাধিক রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়। একদিকে বাসস্থানের সৌন্দর্য, আরেকদিকে রোগ প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য। ইন্ডোর প্ল্যান্টের গুণ অনেক। কিন্তু কোন ইন্ডোর প্ল্যান্ট সুস্বাস্থ্যের পথ সহজ করে?

    বায়ুদূষণ কমায় স্নেক প্ল্যান্ট! (Indoor Plants)

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্নেক প্ল্যান্ট একটি জনপ্রিয় ইন্ডোর প্ল্যান্ট। লম্বাটে হলুদ-সবুজ পাতার স্নেক প্ল্যান্ট শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, এই গাছ বাড়ির পরিবেশও ভালো রাখে। বাতাসে দূষণ বাড়ছে‌। ফুসফুসের সমস্যা কিংবা বক্ষঃরোগের অন্যতম কারণ হল দূষিত বাতাস। স্নেক প্ল্যান্ট বাতাসের খারাপ উপাদান সহজেই শোষণ করে নেয়। এই গাছ বাড়িতে এয়ার পিউরিফায়ারের মতোই কাজ করে‌। তাই স্নেক প্ল্যান্ট অত্যন্ত উপকারী একটি ইন্ডোর প্ল্যান্ট।

    অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর একাধিক উপকার! 

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাড়িতে অ্যালোভেরা কিংবা ঘৃতকুমারীর মতো ইন্ডোর প্ল্যান্ট রাখলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। সবুজ সতেজ এই গাছ বাড়ির সৌন্দর্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। আবার অ্যালোভেরার স্বাস্থ‌্যগুণ অপরিসীম। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক ত্বকের রোগ কমাতে অ্যালোভেরার (Indoor Plants) বিকল্প নেই। তাই বাড়িতে এই গাছ রাখলে তার পাতার ভিতরের জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে‌। অ্যালোভেরার পাতার জেলি ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ হয়। ত্বকের একাধিক রোগ কমে।

    পিস লিলি অক্সিজেনের জোগান দেয় (Indoor Plants)

    বাড়ি সাজাতে অনেকেই নানান সুন্দর গাছ ব্যবহার করেন। তার মধ্যে অন্যতম হল পিস লিলি। এই গাছ বাড়ির যে কোনও জায়গায় রাখলেই আলাদা মাত্রায় সৌন্দর্য বাড়াবে। এই গাছ কম আলোতেও ভালো থাকে। এই শোওয়ার ঘরের কোণেও এই গাছ রাখা যায়।  তবে এই গাছের গুণ বিশেষ রকমের। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অক্সিজেন দ্রুত তৈরি করতে পারে পিস লিলি। তাই এই গাছ বাড়িতে থাকলে বাড়ির পরিবেশ সুস্থ থাকে। রোগের দাপট কমাতে পারে পিস লিলি। 

    আরেকা পাম সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী 

    যে কোনও পাম জাতীয় গাছ বাতাসের দূষিত কণা দ্রুত টেনে নেয়। তবে ইন্ডোর প্ল্যান্ট (Indoor Plants) হিসেবে সব চেয়ে জনপ্রিয় আরেকা পাম। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই গাছের রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। এই গাছ সহজেই বাড়ির বাতাস বিশুদ্ধ করে। বাতাসের দূষিত কণা টেনে নেওয়ার পাশপাশি বাড়ির পরিবেশকেও স্বাস্থ‌্যকর করে তোলে এই গাছ। 

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • World Schizophrenia Day: সিজোফ্রেনিয়া আসলে কী? জেনে নিন এই রোগের অজানা কিছু তথ্য

    World Schizophrenia Day: সিজোফ্রেনিয়া আসলে কী? জেনে নিন এই রোগের অজানা কিছু তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শারীরিক রোগ নিয়ে আমাদের দেশের মানুষ যতটা খোলামেলা, ঠিক তার উল্টোটা হয় মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে। আমারা কেবল বাইরে থেকেই নিজেদের উন্নত করেছি। কিন্তু মন এখনও পড়ে পুরনো যুগে। তাইতো মানসিক রোগ নিয়ে আমাদের এখনও ট্যাবু কাটেনি। পরিবারের কেউ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা করানোর আগে সমস্যা লুকোতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যাকে সাধারণত কেউ তেমন গুরুত্ব দিতে চান না। যে কারণে মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু হয় একেবারে শেষ মুহূর্তে। আর তখন পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমনই এক ভয়ানক মানসিক রোগ হল সিজোফ্রেনিয়া। বর্তমানে গোটা বিশ্বে শুধুমাত্র সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটির বেশি যার বেশীরভাগই মূলত অবহেলার শিকার। তাই সিজোফ্রেনিয়া সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতি বছর ২৪ মে বিশ্ব সিজোফ্রেনিয়া দিবস (World Schizophrenia Day) পালন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    কাদের হয় এই রোগ? (World Schizophrenia Day) 

    সম্প্রতি এক সমিক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত। সাধারণ মানুষের গড় আয়ুর তুলনায় সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর আয়ু প্রায় ১৫-২০ বছর কমে যায়। অর্থাৎ, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর মৃত্যু সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেকটাই আগে হয়। ২০-৪৫ বছর বয়েসি কিশোর-কিশোরী, পুরুষ-মহিলা, যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

    কী কারনে হয় সিজোফ্রেনিয়া? 

    ঠিক কী কারণে কেউ সিজোফ্রেনিয়ায় (World Schizophrenia Day) আক্রান্ত হন তার কোনও নির্দিষ্ট কারণ এখনও খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। তবে কোনও অভিজ্ঞতার ফলে অত্যধিক মানসিক চাপ থেকে এই রোগের সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়াও বংশগত কারণ, মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যের অভাব, অনেক সময় ভয়াবহ ভাইরাল ইনফেকশন থেকেও হতে পারে সিজোফ্রেনিয়া। 

    সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ

    সিজোফ্রেনিয়া (World Schizophrenia Day) রোগের প্রধান লক্ষণগুলি মূলত ৩ ভাবে প্রকাশ পায়—১)চিন্তার মধ্যে অসংলগ্নতা, ২)আচরনগত সমস্যা, ৩)অনুভূতি বিষয়ক সমস্যা। অর্থাৎ কোনও অবাঞ্ছিত বিষয় নিয়ে মনে অযথা সন্দেহ,ভুল জিনিসকে সত্যি ভেবে তার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস কিংবা হটাৎ করেই জোরে হেঁসে ওঠা, আবার কোনও কারণ ছাড়াই কেঁদে ফেলা, হঠাত করেই খুব বেশি রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে ওঠা,কোনও কারণ ছাড়াই এক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকা,আগে একেবারেই যা করতেন না, সে ধরনের আচরণ করতে থাকা। বিশেষ কোনও কিছুর গন্ধ পেতে থাকা, যদিও সেই গন্ধ অন্যেরা কেউই পাচ্ছেন না অথবা কেউ তার সঙ্গে কথা না বললেও, মনে হতে পারে কেউ যেন তার সঙ্গেই কথা-বার্তা বলছে। সিজফ্রেনিয়ার রোগীরা এ ভাবেই পশুপাখির ডাকও শুনতে পান।

    আরও পড়ুন: ৪০০ পেলেই কাশী-মথুরায় বিতর্কিত জমিতে মন্দির নির্মাণ, ফের হুঁশিয়ারি হিমন্তের

    এই রোগের প্রভাব 

    উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলি যদি কারও মধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় দেখতে পাওয়া যায় তাহলে তিনি সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা না করানো হলে তা ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। আমাদের দেশে মানসিক রোগ সম্পর্কে ধারণায় স্বচ্ছতার অভাব থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চরম অবস্থায় পৌঁছে যায় সিজোফ্রেনিয়া (World Schizophrenia Day)। এই রোগে আক্রান্তের ভাবনা-চিন্তা, অনুভূতি, কাজের উপর প্রভাব ফেলে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই মনরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সামান্য অবহেলাও মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। তবে সময় মত চিকিৎসা করালে অনেক ক্ষেত্রেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • World Meditation Day: বিশ্ব মেডিটেশন দিবসে জেনে নিন এর কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা

    World Meditation Day: বিশ্ব মেডিটেশন দিবসে জেনে নিন এর কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ মে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস (World Meditation Day)। মেডিটেশন হল আসলে মনের ব্যায়াম। নিরবে এক জায়গায় চুপ করে বসে একমনে ধ্যান করলে বৃদ্ধি পায় মনোযোগ ও সচেতনতা। এছাড়াও নিয়মিত মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি এর সুফল হিসাবে জীবনে নেতিবাচক প্রভাব কেটে ইতিবাচক প্রভাবের সৃষ্টি হয়। 
    জানা গিয়েছে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ নিয়মিত মেডিটেশন করেন। তাই প্রতি বছর এই ২১ মে দিনটিকে বিশ্ব ধ্যান দিবস (World Meditation Day) হিসেবে পালন করা হয়। 

    জেনে নেওয়া যাক  এই মেডিটেশনের বিশেষ কিছু উপকারিতা-(Health Benefits of Meditation)

    মানসিক চাপ থেকে মুক্তি- মেডিটেশন আমাদের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। যদি নিয়মিত ভাবে মেডিটেশন করা যায় তবে মানুষের চাপ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যাবে। 
    মনকে শান্ত রাখা- মানসিক চাপ মুক্তির পাশাপাশি নিয়মিত ভাবে মেডিটেশন করলে মন শান্ত হবে। অর্থাৎ সারাদিন কাজের পর যে খিটখিটে ভাব আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় তা থেকে নিমিষেই মুক্তি লাভ হবে। 
    মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ- নিয়মিতভাবে মেডিটেশন করলে মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। এছাড়াও ডিপ্রেশন বা অনেক রকম নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকেও মুক্তি লাভ ঘটে।
    মনোযোগ বৃদ্ধি- মেডিটেশন (World Meditation Day) এর আরো একটি উপকারিতা হলো মনোযোগ বৃদ্ধি হওয়া। অর্থাৎ সামান্য ছোট ছোট জিনিস যেগুলো আমরা কারণে অকারণে ভুলে যাই বা মনে রাখতে পারি না সেই সব ক্ষেত্রে নিয়মিত মেডিটেশন করলে আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধি হবে। ও যেকোনও কাজে একাগ্রতা আসবে। 
    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ- নিয়মিত মেডিটেশন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মত বিপদের ঝুঁকিও কম থাকে। 
    স্মৃতিশক্তির উন্নতি- নিয়মিত ভাবে মেডিটেশন করলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে। 
    অনিদ্রা থেকে মুক্তি- নিয়মিতভাবে মেডিটেশন করলে মিলবে অনিদ্রা থেকে মুক্তি। একইসঙ্গে তৈরি হবে একটা ভালো ঘুমের রুটিন।

    আরও পড়ুন: ‘বন্ধুদেশ’ ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রয়াণ, রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা ভারতে

    বর্তমানে ডিপ্রেশন বা হতাশার শিকার বহু মানুষ। এই প্রতিযোগীতার সমাজে লড়াইয়ে নেমে অনেকেই ভেঙে পরেন। আর ঠিক তখনই তারা নেন চিকিৎসকের পরামর্শ। আর চিকিৎসক এইসব বিষয়ে সবার আগে পরামর্শ দেন মেডিটেশনের (World Meditation Day)। কারন আত্মশক্তির বিকাশ, রোগ নিরাময়, সাফল্য কিংবা প্রশান্তি লাভে মেডিটেশনের গুরুত্ব এখন খুবই উল্লেখযোগ্য। তাই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মেডিটেশন হয়ে উঠেছে রোগ নিরাময়ের বিকল্প পদ্ধতি, সাফল্যের অব্যর্থ প্রক্রিয়া ও মানসিক প্রশান্তির একমাত্র রাস্তা।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Depression: মানসিক অবসাদ ৫৮ শতাংশ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে! কীভাবে মোকাবিলা করবেন? 

    Depression: মানসিক অবসাদ ৫৮ শতাংশ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে! কীভাবে মোকাবিলা করবেন? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরের পাশপাশি বাড়ছে মনের রোগ। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীরের রোগ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পাশপাশি মনের অসুখ নিয়েও সচেতনতা জরুরি। না হলে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, মনের অসুখ বাড়িয়ে দিচ্ছে শরীরের একাধিক রোগ। তাই মানসিক রোগ (Depression) নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক সমীক্ষা? (Depression)

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় জানা‌ গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে মানসিক অবসাদ।‌ গোটা বিশ্বের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ মানসিক অবসাদে ভুগছেন।‌ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একাকিত্ব থেকেই অবসাদ হচ্ছে। বিশ্বের প্রথম তিন অবসাদে (Depression) ভোগা দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ভারতীয় মানসিক অবসাদের শিকার। আর এই অবসাদের অন্যতম কারণ একাকিত্ব। 
    ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মানসিক অবসাদে ভুগলে শরীরে একাধিক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষত, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের মতো সমস্যা বাড়ছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মানসিক অবসাদগ্রস্থের এই ধরনের রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি ৫৮ শতাংশ বেশি থাকে। অধিকাংশ মানসিক অবসাদগ্রস্থের নানান শারীরিক সমস্যা থাকে। যার অধিকাংশই জীবনযাপনের ধরনের জন্য হয়।

    কেন বাড়ছে মানসিক অবসাদ? (Depression)

    মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে মানসিক অবসাদের সমস্যা বাড়ছে। তার প্রধান‌ কারণ একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাকিত্ব মানে একা থাকা নয়। একাকিত্ব হল এমন এক মানসিক অবস্থা, যখন একজন ভাবেন, তিনি একা (Depression)। তাঁর পাশে কেউ নেই। তাঁর সমস্যা, তাঁর ভাবনা‌ বলার মতো কেউ তাঁর কাছে নেই। সেখান থেকেই অবসাদের সমস্যা তৈরি হয়। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ মানুষ পরিবারের সঙ্গেও‌ ঠিকমতো সময় কাটাতে পারেন না।‌ ফলে, নিজের মনের কথা ভাগ করে‌ নেওয়ার সুযোগ ক্রমশ কমছে। সেখান থেকেই অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা বাড়ছে।

    কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব? (Depression)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব দূর করতে পারলেই অনেকটা সমস্যা মোকাবিলা হবে। মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক অবসাদ কমলে একাধিক শারীরিক সমস্যা কমে। এটা একাধিকবার প্রমাণ হয়েছে। তাই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য (Depression) সুস্থ রাখতেই হবে। তবেই সুস্থ দীর্ঘ জীবনযাপন সম্ভব। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে।‌ দিনে অন্তত একবার পরিবারের সকলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একসঙ্গে বসে খাওয়ার সময় একে অপরের সঙ্গে কথা বলে সারাদিনে কে কী করল, বিভিন্ন ঘটনা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এতে মানসিক চাপ কমে। এছাড়া নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে‌ যোগাযোগ করা জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়া হোক কিংবা সরাসরি বসে কথা বলা, নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ একাকিত্ব কাটাতে বিশেষ সাহায্য করে। স্কুল জীবন বা কর্ম জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে একাকিত্ব কমে‌। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন কিছুটা সময় সমবয়সীদের সঙ্গে কাটানোর পরামর্শ‌ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। 
    তবে, মানসিক অবসাদের সমস্যা জটিল হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেই জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ, অনেক সময় নির্দিষ্ট ওষুধ আর থেরাপির প্রয়োজন হয়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share