Tag: migrant

migrant

  • Migrant Workers: ভোট দিতে রাজ্যে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটাররা, ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি

    Migrant Workers: ভোট দিতে রাজ্যে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটাররা, ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটমুখী বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটারদের (Migrant Workers) রাজ্যে ফিরিয়ে এনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বিজেপি (BJP)। ‘বাংলা চলো’ ডাক দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল বিজেপি। এজন্য দিল্লি–সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে বাংলাগামী ৭৩টি ট্রেনে পরিযায়ীদের জন্য টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। অন্তত এমনই দাবি দিল্লি বিজেপির।

    পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটারদের ফেরাচ্ছে বিজেপি (Migrant Workers)

    ভোটারদের নিয়ে যেতে এসি বাস, বড় গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পদ্ম-শিবির সূত্রে খবর, পরিযায়ীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বাস ও গাড়ি ইতিমধ্যেই রওনাও দিয়েছে বাংলার উদ্দেশে৷ এবার বাংলায় নির্বাচন হচ্ছে দুদফায়। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। পরের দফার নির্বাচন হবে এই মাসেরই ২৯ তারিখে।  জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় যেসব বিধানসভা আসনে নির্বাচন হবে, সেখানকার ভোটারদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে আগে। প্রথম দফায় নির্বাচন হবে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে। এর আগেই যাতেই ওই কেন্দ্রগুলির ভোটারদের ফিরিয়ে আনা যায়, তারই ব্যবস্থা করেছে পদ্ম শিবির।

    কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য

    বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার বাঙালি বাংলায় পাড়ি দিচ্ছেন৷ এঁরা প্রত্যেকেই বাংলার বৈধ ভোটার৷ দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ–সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী এই বাঙালি ভোটাররা যাতে তাঁদের নিজেদের ভোট নিজেই দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করেছে বিজেপি (Migrant Workers)।” প্রসঙ্গত, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটাররা যাতে গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিতে পারেন, তাই অনেক আগেই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই মর্মে নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছিল  দিল্লির প্রদেশ বিজেপি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড়–সহ বেশ কিছু রাজ্যের প্রদেশ শাখায়৷ এর পরেই কোমর বেঁধে মাঠে নামেন গৈরিক সৈনিকরা (BJP)।

    পরিযায়ী ভোটারদের প্রতিক্রিয়া 

    গ্রেটার নয়ডায় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন দীনেশ দাস৷ তিনিও আসছেন ভোট দিতে। বলেন, ‘সার নিয়ে বাংলায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দেখে মনে হয়েছে, আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের ভোট দেওয়াটাও খুবই জরুরি।’ ওয়াটার সাপ্লাই সংস্থার অভিজ্ঞ লেবারার তথা বাংলার ভোটার রাজীব শেখ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “প্রতিবার ঈদের সময়ই কেবল ফিরি। এই প্রথম শুধু ভোট দিতেই আসছি।“ তিনি বলেন, “অসমে কাজ করছিলাম। সবাই বলছে, এবার ভোট না দিলে নাম কেটে দিতে পারে। তাই কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরছি। কাজ পরেও পাওয়া যাবে। কিন্তু ভোট দেওয়ার সুযোগ মিস করলে চাপ হয়ে যাবে (Migrant Workers)।’

    কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটমুখী বাংলায় দলে দলে ঘরে ফিরছেন রাজীবের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভোটাররা। বাংলায় কোনও শিল্প নেই। নেই অন্য কোনও কাজ করার সুযোগও (BJP)। নিতান্তই বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে যেতে হয় কাজের খোঁজে। সেখানে কাজও মেলে। যদিও পরিবার-পরিজনদের ছেড়ে বাসিন্দা হতে হয় ভিন রাজ্যের। সেই হাতের কাজ ছেড়েই এবার বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের ধারণা, এবার ভোট না দিলে হারাতে হতে পারে ভারতীয় নাগরিকত্ব। ভোট দেওয়ার আগ্রহের চেয়েও এবার নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ই চেপে বসেছে তাঁদের। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁদের। যে কারণেই ঘরে ফিরছেন বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক-ভোটাররা।

    এসআইআর জুজু!

    পশ্চিমবঙ্গের দক্ষ শ্রমিকদের কদর ভারতজুড়েই। কেউ নির্মাণকর্মী, পাইপলাইন শ্রমিক, হোটেল কর্মী, ফুলের কাজের কর্মী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছড়িয়ে থাকেন গোটা দেশেই। ভোট ঘনিয়ে আসতেই, ঘরে ফিরছেন তাঁরাও। পেটের জ্বালায় ঘর ছেড়েছেন রাজীবের মতোই মালদার শ্রমিক সইফুল। তিনি কাজ করেন নাগাল্যান্ডে (BJP)। বলেন, “আমরা পাইপলাইনের কাজ করি নাগাল্যান্ডে। হঠাৎ শুনলাম ভোট না দিলে অনেক কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।” কেবল উত্তর-পূর্ব নয়, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু থেকেও বহু গৃহকর্মী, রান্নার কাজ করা মহিলা, নির্মাণ শ্রমিক ফিরছেন বাংলায়, স্রেফ নিজের ভোটটা নিজে দিতে। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বাস ভাড়া করছেন। কেউ কেউ আবার গাদাগাদি করে জেনারেল কামরায় চেপে ফিরছেন নিজের জেলায়। উলুবেড়িয়ার লেবার সাপ্লায়ার হাসিবুল। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমি এই কাজই করছি। এই প্রথম দেখছি ভোটের জন্য এমন তাড়াহুড়ো করে ছেলেরা বাড়ি ফিরছে (Migrant Workers)। আসলে সবাই ভয় পাচ্ছে। কেউ বলছে ভোট না দিলে নাম থাকবে না, কেউ বলছে সরকারি স্কিম বন্ধ হয়ে যাবে। তাই রিস্ক না নিয়ে কাজ ছেড়ে ওরা ফিরছে নিজের জেলায় (BJP)।’

    কাজের লোকের অভাব বিভিন্ন রাজ্যে

    মালদার রহিম মণ্ডলও সংসারের জোয়াল টানতে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। অতশত বুঝি না। শুধু চাই আমাদের নাম যেন থাকে, ভোটটা দিতে পারি। বাড়িতে মা, বউ-বাচ্চারা আছে। তাই সব ছেড়ে চলে আসছি।’ এদিকে, উত্তরপ্রদেশের খুরজা বা দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বহু কারখানা ও বাড়িতে রীতিমতো কাজের লোকের অভাব দেখা দিয়েছে। শিল্পমহলের দাবি, একসঙ্গে এত শ্রমিক চলে যাওয়ায় কাজকর্মে বেশ সমস্যা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কারওরই কিছু করার নেই। আসলে, ভোট যে বড় বালাই (Migrant Workers)!

     

LinkedIn
Share