Tag: Minority rights Bangladesh

  • Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদীদের চাপে পড়ে বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে প্রস্তাবিত ৮১ ফুট উচ্চতার ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণ স্থগিত করে দিয়েছে প্রশাসন। তার জেরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Bangladesh Hindus Protest) বিএনপি শাসিত বাংলাদেশে। অভিযোগ, মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করা ইসলামপন্থীদের একটি বিক্ষোভে ভগবান রামের ছবির অবমাননা (Lord Ram Image Desecration) করা হয়। তারই প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, স্লোগান দেন ‘জয় শ্রী রাম’।

    বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি (Bangladesh Hindus Protest)

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, গাইবান্ধার এক সমাবেশে ভগবান রামের ছবির ওপর জুতো রেখে অপমান করা হয়েছে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়কে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ করা না বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। হিন্দু মহাজোটের ডাকে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। শেষ হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গিয়ে। প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কাছেও আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এদিনই রংপুরে হিন্দুদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সামান্য তর্কাতর্কিও হয়।

    নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ বন্ধ

    এদিকে, পলাশবাড়িতে নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরে আর কাজ এগোয়নি। ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির তরফে। কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র দাসের দাবি, মূর্তি নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে ৮১ ফুটের রামমূর্তির পাশাপাশি ৫০ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি এবং ৩০ ফুটের শিবমূর্তিও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আপাতত মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

    মন্দির কমিটির বক্তব্য

    শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত জানান, “সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মন্দির কমিটি আপাতত রাম মূর্তি স্থাপনের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সমালোচনার মধ্যে থাকতে চাই না। কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হোক, আমরা সেটাও চাইব না। এ দেশে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। তবে কোনও কিছু করতে হলে ধর্মের প্রতিই সম্মান রেখেই করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই নীতিতে আমরা সবাই বিশ্বাসী (Bangladesh Hindus Protest)।” এদিকে, হিন্দু মহাজোট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি পলাশবাড়ির এই প্রকল্প ফের শুরু করার অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়ই এক এক করে রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী নয়া কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী বললেন তসলিমা নাসরিন?

    নির্বাসিত লেখিকা বাংলাদেশের তসলিমা নাসরিন বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি একটি মৌলিক অধিকার হয়, তবে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। দেশে নতুন নতুন মসজিদ নির্মাণ করা গেলে একটি রামমূর্তি বা মন্দির নির্মাণ নিয়ে এত আপত্তি কেন?” তসলিমা জানান, প্রকল্পটিকে ঘিরে যে ধরনের হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও মতভেদ বা ধর্মীয় অবস্থান অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা ধর্মীয় প্রকল্পে বাধা দেওয়ার কারণ হতে পারে না।” পলাশবাড়ি এলাকায় (Lord Ram Image Desecration) আগেও হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার কথাও মনে করিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) দেন নির্বাসিত লেখিকা।

    উত্তেজনা বাংলাদেশের নানা প্রান্তে

    ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশের নানা প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা। ‘সচেতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দে’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রনিবাসের আবাসিকরাও যোগ নেন। পরে ওই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে গিয়ে পৌঁছয় শাহবাগ মোড়ে। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন (Bangladesh Hindus Protest) প্রতিবাদীরা। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুরা দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশই তারা। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলেই খবর (Lord Ram Image Desecration)।

     

  • Uttar Pradesh: বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান যোগীর, জাত–ধর্মভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    Uttar Pradesh: বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান যোগীর, জাত–ধর্মভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের ধ্বংস করে দেবে, যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে।” প্রয়াগরাজে (Uttar Pradesh) জগতগুরু রামানন্দাচার্যের ৭২৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কথাগুলি বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (CM Yogi)। জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তাও দেন তিনি। বলেন, “এ ধরনের বিভাজন সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

    ধ্বংস করে দেবে (Uttar Pradesh)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের ধ্বংস করে দেবে, যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষদেরও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে এবং হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তারা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব (Uttar Pradesh)।”

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে (CM Yogi)। বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁদের মুখে যেন ফেভিকল লাগানো রয়েছে,  অথবা কেউ সেলোটেপ এঁটে দিয়েছে। কারও মুখ থেকে একটি কথাও বেরোচ্ছে না” (Uttar Pradesh)।এদিন ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন জগদগুরু রামানন্দাচার্যকে। তিনি বলেন, “প্রায় ৭০০ বছর আগে জগদগুরু রামানন্দাচার্য ভগবান সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বরের শরণ নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন জাতের শিষ্যও গ্রহণ করেছিলেন।”

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার

    এদিকে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান- ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে অন্তত ৫১টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে, ১০টি খুন, ১০টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা, ২৩টি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও জমি দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, ৪টি ক্ষেত্রে ধর্ম অবমাননা ও ‘র’-এর এজেন্ট তকমা দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার এবং নির্যাতন,  ১টি ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা এবং ৩টি শারীরিক হামলার ঘটনা। হিংসার এই প্রবণতা নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে বলে খবর। ৩ জানুয়ারি, শরীয়তপুরে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় (Uttar Pradesh)।

    এদিনই ভোরবেলায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মিলন দাসের পরিবারকে ডাকাতির সময় বন্দি করে রাখা হয়। ওই দিনই কুমিল্লার হোমনা এলাকায় সোনু দাসের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ ভরি সোনার গয়না, ১২ ভরি রুপো এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ (CM Yogi)।

LinkedIn
Share