Tag: Modi Govt Missile Manufacture

  • India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন (India’s Defence Sector) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (Modi Govt Missile Manufacture)। প্রথমবারের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি ভারতীয় সংস্থাগুলিকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি কারখানার উপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা রফতানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বন্ধু দেশগুলির কাছ থেকে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই এই নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বেসরকারি সংস্থাকে সুযোগ

    সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই অ্যাস্ট্রা এমকে-২ (Astra Mk-2) বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল উৎপাদনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করতে পারে। ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে এটি তেজস এমকে-১এ, মিগ-২৯, সুখোই সু-৩০ এমকেআই এবং রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি একাধিক বন্ধু দেশ ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু সরকারি উৎপাদন সংস্থার উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কোন কোন সংস্থা লাভবান হতে পারে?

    যদিও এখনও কোনও সংস্থাকে চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি বড় ভারতীয় সংস্থা এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সম্ভাব্য সংস্থাগুলি হল—

    টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম (Tata Advanced Systems)
    আদানি ডিফেন্ল অ্যান্ড অ্যারো স্পেস (Adani Defence & Aerospace)
    লারসেন অ্যান্ড টোব্রো (Larsen & Toubro-L&T)
    ভারত ফোর্জ (Bharat Forge)
    কল্যানী স্ট্র্যটেজিক সিস্টেম (Kalyani Strategic Systems)

    ইতিমধ্যেই এই সংস্থাগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ প্রযুক্তি, আর্টিলারি, ড্রোন, সাঁজোয়া যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান তৈরি করছে।

    প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পেও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভাবনা

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ প্রকল্পের পর সরকার ‘প্রলয়’ (Pralay) ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র উচ্চ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই নীতি কার্যকর হলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বেসরকারি শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রতিরক্ষা রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

LinkedIn
Share