Tag: modi govt

modi govt

  • Iran-Israel Conflict: “সক্রিয় সরকার, মিসাইলের শব্দের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম” মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয়রা

    Iran-Israel Conflict: “সক্রিয় সরকার, মিসাইলের শব্দের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম” মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয়রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে উদ্বেগের মধ্যে থাকা বহু ভারতীয় নাগরিক ধীরে ধীরে দেশে ফিরছেন। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আল খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। এর জেরে গোটা অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দুবাই, যেখানে বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি অবস্থিত, সেই শহরও ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ থাকায় বহু ফ্লাইট (Iran-Israel Conflict) বাতিল হয়েছে এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন।

    দুবাই থেকে ফিরছেন ভারতীয়রা

    সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে আটকে পড়েছিলেন বহু ভারতীয়। সোমবার (২ মার্চ) থেকে তাঁদের অনেকেই বিশেষ ও বিকল্প বিমানে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। দুবাই থেকে ইন্দোরে ফিরে আসা ব্যবসায়ী প্রভীন কক্কর জানান, “ওখানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার ভালো কাজ করছে।” একদল বিজেপি নেতাও দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। তাঁদের মধ্যে বিশাল প্যাটেল বলেন, “মিসাইল প্রতিহত করার শব্দ শোনা যেত, তখন কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হতো। তবে আমিরাত সরকার সতর্ক ছিল। সেখানে থাকা সব ভারতীয়রই দেখভাল করা হয়েছে।” সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বিজেপি নেতা সঞ্জয় শুক্লাও একই কথা বলেন। তাঁর কথায়, “প্রথম দু’দিন পরিস্থিতি বেশ খারাপ মনে হচ্ছিল। দুবাইতেও হামলার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন বাহিনী তা প্রতিহত করে। আমরা নিয়মিত সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম।”

    দিল্লিতে নামতেই স্বস্তি

    দুবাই থেকে দিল্লিতে ফেরা সুনীল গুপ্ত জানান, “আমি খুবই চিন্তায় ছিলাম। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। চারদিকে যা ঘটছিল, তা দেখে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। শুধু বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম।” অন্যদিকে, ওমানের মাস্কাট থেকে ফেরা সুহেল আহমেদ জানান, বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ লাইন, বিভ্রান্তি—পরিবার নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন। অনেকের টাকাও ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় দ্রুত ছাড়পত্র ও ভালো ব্যবস্থাপনা দরকার।”

    মিসাইল দেখামাত্রই ব্যবস্থা

    জানা গিয়েছে দুবাইয়ের বিমানবন্দর আংশিক চালু হয়েছে। যদিও যাত্রীদের জানানো হয়েছে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তবেই বিমানবন্দরে যেতে। মঙ্গলবার ওমান থেকে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। তাঁর বলছেন দেশের মটিয়ে পা দিয়ে তাঁর যারপরনাই নিশ্চিন্ত বোধ করছেন। ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে ভারতে ফের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস। ফিরে আসা যাত্রীদের মধ্যে অনিশা আগরওয়াল নামের একজন বলেন, “ওখানে মিসাইল দেখামাত্রই ব্যবস্থা নিচ্ছিল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। আমরা সে সব দেখে ভয়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও দুবাইয়ের সরকার কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে যথা সম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে মিসাইল ও সেই মিসাইল ধংসের কারণে কান ফাটানো আওয়াজ আমরা পেয়েছি। যে কারণে আমাদের সঙ্গে থাক বাচ্চাদের বেশ সমস্যা হচ্ছিল।”

    রণাঙ্গনের মাঝে আটকে

    পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে এয়ার ইন্ডিয়া আংশিকভাবে বিমান পরিষেবা চালু করে। তাতে একটি বিমানে দুবাই থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন অন্তত ১৫০ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, বলিউড নায়িকা ইশা গুপ্তা। দুবাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামা পীযুষ পল্লভ, নীতা শর্মা, সঞ্জীবরা জানাচ্ছেন, “ফোনে ক্রমাগত অ্যালার্ট আসছিল। মাঝেমধ্যে সাইরেনের শব্দে বুঝতে পারছিলাম, মিসাইল ছোড়া হয়েছে, কোথাও ধ্বংসলীলা চলছে। শুধু ভাবছিলাম, কখন এই অবস্থা থেকে বেরব। আপনার পকেটে যথেষ্ট অর্থ না থাকলে এই পরিস্থিতি সামলানো কঠিন।” সেলিব্রেটি থেকে সাধারণ পর্যটক রণাঙ্গনের মাঝে আটকে ছিলেন সবাই। স্বদেশে ফিরেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। যেমন অভিজ্ঞতা হল, সেই রেশ কাটাতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।

    ফ্লাইট পরিস্থিতি

    কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত ভারতীয় এয়ারলাইন্সের ১,২২১টি এবং বিদেশি সংস্থার ৩৮৮টি বিমান বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ও অতিদীর্ঘ দূরত্বের বিমান পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ২৪টি ভারতীয় বিমান পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এমিরেটস ও ইতিহাদের ৯টি ফ্লাইট উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) অতিরিক্ত ৫৮টি ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ইন্ডিগো এবং ২৩টি এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস পরিচালনা করবে।

    সক্রিয় কেন্দ্রের মোদি সরকার

    আরব দুনিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা (Iran-Israel Tension) ও সংঘাতের মধ্যে গালফ অঞ্চলে (Gulf region) আটকে পড়া ভারতীয়দের (stranded Indian nationals) দেশে ফেরাতে সবরকম ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। পরিবর্তিত আকাশপথ পরিস্থিতি নজরে রেখে ভারত সরকার গালফে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যও তাদের বাসিন্দাদের সাহায্যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে বিমান পরিষেবা এবং দেশে ফিরছেন উদ্বিগ্ন ভারতীয় নাগরিকরা।

    ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (Prahlad Joshi) বলেন, গালফ অঞ্চলে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তাঁর কথায়, “যেখানে যেখানে ভারতীয়রা বিপদে পড়েছে, কেন্দ্র সবসময়ই তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছে। ইউক্রেন (Ukraine) থেকেও আমরা নিজের নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছিলাম। ভারতীয়দের সুরক্ষা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

  • India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির সরকার (Modi Govt) কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে রাজি নয়। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের তপ্ত পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি (India US Relation)। ভারত–আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ভারত যে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠারেঠোরে।

    ভারতের বার্তা (India US Relation)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস যদি শত্রুতাপূর্ণ ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে না আসে, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু অপেক্ষা করতে ভারত প্রস্তুত। এই বার্তাটি দেওয়া হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, যে সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে আমেরিকার আরোপিত দণ্ডমূলক শুল্ক, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া প্রকাশ্য মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই সময় ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখে ভারত পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির (India US Relation) ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে। ডোভাল সাফ জানিয়ে দেন, ভারত এই তিক্ততা কাটিয়ে আবারও বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে প্রকাশ্য অপমান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। তিনি আরও জানান, অতীতেও ভারত কঠিন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে (Modi Govt)।

    সুর নরম ট্রাম্প প্রশাসনের

    এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই সুর নরম হতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের। ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে ফোন করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন—যা আগের বক্তব্যগুলির তুলনায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। পরবর্তীকালে দুই নেতা একাধিকবার কথা বলেন, যার ফলে ধীরে ধীরে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের পথ তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। তবে মোদি সরকার এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কোনও লিখিত (India US Relation) চুক্তি প্রকাশ করেনি।

    একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

    এই ঘোষণা নয়াদিল্লির কিছু শীর্ষ আধিকারিককেও বিস্মিত করে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা নীরবে এগিয়েছে (Modi Govt)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ এই চুক্তি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এর পরই ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে স্বীকার করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলছে।

    এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, ভারত তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল নয়।এই বিস্তৃত কৌশলই সম্ভবত আমেরিকার ওপর সম্পর্ক মেরামতের চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির পরিণতি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অচলাবস্থা থেকে ভারত আরও (Modi Govt) শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে বেরিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত (India US Relation) চুক্তির ভালো দিকটিই আদায় করেছে।

     

  • Union Budget: নির্মলার বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব মহিলা উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর

    Union Budget: নির্মলার বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব মহিলা উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট (Union Budget) পেশ করেছেন, তাতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, লাখপতি দিদি প্রকল্পের (Lakhpati Didi Scheme) সাফল্যের ভিত্তিতে সরকার মহিলাদের ঋণনির্ভর জীবিকা থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করতে সাহায্য করতে চায়। বাজেটে মহিলাদের জন্য স্বনির্ভর উদ্যোক্তা গোষ্ঠীকে (Self-Help Entrepreneurs) কমিউনিটি-মালিকানাধীন খুচরো বিপণন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে তৃণমূল স্তরে উদ্যোক্তা কার্যক্রম জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মহিলা-নেতৃত্বাধীন স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি স্থানীয় খুচরো বিপণন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতে পারবেন, মহিলাদের তৈরি পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং কমিউনিটি স্তরে স্থায়ী জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    নারী উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক নীতিগত উদ্যোগ (Union Budget)

    গত বছরে লিঙ্গভিত্তিক বাজেট বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক নীতিগত উদ্যোগ এবং লাখপতি দিদি প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী ‘শি-মার্টস (She-Marts)’ চালুর কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,
    “লাখপতি দিদি প্রকল্পের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আমি প্রস্তাব রাখছি, যাতে নারীরা ঋণ-নির্ভর জীবিকা থেকে এক ধাপ এগিয়ে উদ্যোগের মালিক হতে পারেন। উন্নত ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লাস্টার উন্নয়ন ফেডারেশনের আওতায় কমিউনিটি-মালিকানাধীন খুচরো বিপণন কেন্দ্র হিসেবে শি-মার্টস স্থাপন করা হবে (Union Budget)।” লাখপতি দিদি প্রকল্প হল কেন্দ্রের একটি উদ্যোগ, যার লক্ষ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। এই প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট নারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, প্রকল্পের অধীনে নেওয়া ঋণের ওপর সুদের ভর্তুকির ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে উপভোক্তাদের আর্থিক চাপ কমে।

    নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ

    বাজেট ২০২৬-এর অধীনে উন্নীত লাখপতি দিদি প্রকল্প নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ আরও প্রসারিত করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন নারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে, তেমনি দেশজুড়ে তাদের তৈরি পণ্য বিক্রির জন্য আরও বেশি খুচরো বিপণন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে নারীরা বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন এবং স্থায়ী রোজগারের উৎস তৈরি করতে পারবেন (Lakhpati Didi Scheme)। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকায়ই মহিলাদের জন্য নতুন আর্থিক সুযোগ সৃষ্টি হবে (Union Budget)।

     

  • Union Budget: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা মোদি সরকারের

    Union Budget: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস স্ট্যান্ডিং কমিটি’ নামে একটি নয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করল (Union Budget) কেন্দ্রীয় সরকার (Modi Govt)। রবিবার এই ঘোষণাটি করা হয়। কমিটির লক্ষ্য হল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য ভারতীয় কর্মশক্তিকে প্রস্তুত করা। সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই কমিটি মূলত পরিষেবা খাতের ওপর গুরুত্ব দেবে, যাকে তিনি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন।

    নতুন প্রযুক্তির প্রভাব (Union Budget)

    এই কমিটি কর্মসংস্থানের ফল উন্নত করা এবং এআই-সহ নতুন প্রযুক্তির প্রভাব ভারতের শ্রমবাজারে কীভাবে পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করবে। তরুণদের জন্য শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে একটি মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পরিষেবা খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালক। নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি পরিষেবা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করবে, যা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে। সীতারামন জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পরিষেবা বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব ১০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তাঁর মতে, কমিটি এমন ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করবে যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে এবং রফতানি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে (Union Budget)।

    ডিজিটাল সরঞ্জাম

    কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে এআই-সহ নতুন প্রযুক্তি শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়ন করা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল সরঞ্জাম কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।” এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কমিটি সুপারিশ করবে, কীভাবে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়। অর্থমন্ত্রী বলেন, “এআই-সহ উদীয়মান প্রযুক্তির প্রভাব কর্মসংস্থান ও দক্ষতার চাহিদার ওপর কীভাবে পড়ছে, তা মূল্যায়ন করে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হবে।” তিনি আরও (Modi Govt) বলেন, “তরুণদের জন্য বহুমুখী ও দক্ষ পেশাগত সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেবে (Union Budget)।”

    সহায়ক স্বাস্থ্য পেশা

    এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হবে অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনস বা সহায়ক স্বাস্থ্য পেশা। অর্থমন্ত্রী জানান, এই খাতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিকীকরণ করা হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এতে ১০টি নির্বাচিত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে অপটোমেট্রি, রেডিওলজি, অ্যানেস্থেশিয়া, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি ও বিহেভিয়ারাল হেলথ। অর্থমন্ত্রীর মতে, আগামী পাঁচ বছরে এর ফলে প্রায় এক লাখ নতুন সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তেমনি দেশে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদাও মেটানো যাবে।

    পরিষেবা খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ ভারতের এমন এক (Modi Govt) কর্মশক্তি গড়ে তুলবে, যা আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে (Union Budget)।

     

  • Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যতের এক ঝলক তুলে ধরতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। ২৬ জানুয়ারি (Republic Day 2026) কর্তব্য পথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে রাইফেল-মাউন্টেড রোবট। সাম্প্রতিক মহড়ায় দেখা গিয়েছে এই উন্নত চতুষ্পদ যন্ত্রগুলো। এই ধরনের অস্ত্র ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেই রীতি বদলের সূচনা করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মনির্ভরতার বার্তা দিতে দেশে তৈরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। সেই ধারা মেনেই এ বার ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্যপথে সামরিক উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নতুন কয়েকটি নমুনার সঙ্গে দেশবাসী পরিচিত হবেন।

    যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রোবট

    রাইফেল-মাউন্টেড রোবটগুলি সাধারণত মাল্টি-ইউটিলিটি লেগড ইকুইপমেন্ট (MULEs)। যুদ্ধ সহায়তা ও নজরদারির জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলি অস্ত্র, সেন্সর এবং নজরদারি সরঞ্জাম বহনে সক্ষম। ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই ১০০টি এমন রোবোটিক মডিউল নিজেদের অপারেশনাল ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটিকে স্বয়ংক্রিয়তা ও মানববিহীন যুদ্ধক্ষেত্র সহায়তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ধরনের চতুষ্পদ রোবট আগে অসামরিক ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছিল— ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট সম্প্রচারে চলমান ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই রোবটগুলি। এবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নজরদারি, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধের জন্য অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে সেনাবাহিনী। বিশেষ করে দুর্গম ও শত্রুপ্রবণ এলাকায় এই রোবটের কার্যকারিতা অপরিসীম।

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র

    একসময় যুদ্ধ মানে ছিল সৈন্যের মুখোমুখি লড়াই। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ভর করত সৈন্যসংখ্যা, শারীরিক শক্তি ও সাহসের ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে মহাকাশ ও ডিজিটাল জগতে। আজকের যুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র অনেক সময় বন্দুক নয়, বরং ড্রোন, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি। ভারত থেকে পাকিস্তান, ইউক্রেন থেকে গাজা, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র,—সর্বত্র যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাতে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো কিংবা পাহারার কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি কমে আসে। অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও এই পরিবর্তনের অংশ।

    অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল

    প্রযুক্তির এই প্রদর্শনীকে আরও জোরালো করবে ডিআরডিও-র তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (LRAShM)। আগামী ২৬ জানুয়ারি অর্থাৎ, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ভারতের নতুন দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রর নকশা ও প্রস্তুত করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও। অত্যাধুনিক এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর হাইপারসনিক গতি। অর্থাৎ, শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি বেগে উড়তে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। আর সেই কারণেই শত্রুপক্ষের রেডারে ধরা পড়ে না এই মিসাইল। বর্তমানে এই ক্ষেপণাত্র ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম। তবে, আগামীতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যাতে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করছে ডিআরডিও। এই ক্ষেপণাত্র বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহন করতে পারে। যাতে এই একই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের বর্ম ভেদ করতে পারে। এ ছাড়াও এই মিসাইল মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়তে পারে। ফলে আকাশের দিকে লক্ষ্য রাখা বিভিন্ন রেডার এড়িয়ে যেতে পারে। এই মিসাইলের এরোডায়নামিক দক্ষতা একে অনেক দূর পর্যন্ত গ্লাইড করতে বা উড়তে সাহায্য করে। এর প্রদর্শন ভারতের হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অধীনে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    কৌশলগত দিক থেকেও এই মিসাইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মিসাইল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। কারণ, এই মিসাইল সর্বোচ্চ দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ডিআরডিও দুই ধরনের মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। একটি হল হাইপারসনিক ইন্টার কন্টিনেন্টাল গ্লাইড মিসাইল ও হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। লং-রেঞ্জ অ্যান্টি শিপ মিসাইলের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রমাণ করে মিসাইল নিয়ন্ত্রণ কৌশল, মিসাইলের গতিপথের নকশা ও মিসাইল প্রযুক্তি তৈরিতে ভারত এখন গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে।

    কর্তব্য পথে আত্মনির্ভর ভারত

    ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এ (Republic Day 2026) ভারত উদযাপন করবে তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। প্রথা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে থাকে বর্ণাঢ্য সামরিক প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশজুড়ে দেশাত্মবোধক কর্মসূচি। এ বছরের থিম বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে—‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এই থিম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতীয় সংগীতের ভূমিকা এবং দেশের সামষ্টিক চেতনায় তার চিরস্থায়ী প্রভাবকে শ্রদ্ধা জানায়। সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র। বাড়ছে যুদ্ধ বিমান, যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা। উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। একদিকে যেমন বিদেশি সংস্থা বিনিয়োগ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা সেক্টরে তেমনই ভারতের ডিআরডিও সহ সংস্থাগুলোও কাজ করে চলেছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতাই হয়ে উঠেছে ভারতের মন্ত্র। এবার তারই ছবি ফুটে উঠবে দিল্লির কর্তব্য পথে।

  • National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫, যা ‘হেলথ সিকিউরিটি সেস’ নামেও পরিচিত, ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নের কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও শাসনগত সীমাবদ্ধতা সামনে আসার পর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নীতি বিশেষজ্ঞরা। এই বিলে পান মসলা, তামাকজাত দ্রব্য-সহ ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদনের উপর বিশেষ সেস আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও স্বাস্থ্য-ক্ষতিকর পণ্যকে এর আওতায় আনতে পারবে। এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে।

    উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর: একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ

    এই বিলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কর আরোপের ক্ষেত্রে বিক্রয় নয়, বরং উৎপাদন ক্ষমতাকে ভিত্তি ধরা। সাধারণ পরোক্ষ কর যেখানে বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সেস ধার্য হবে উৎপাদন যন্ত্রের সক্ষমতার উপর। এর ফলে আয় লুকোনো, আংশিক রিপোর্টিং এবং খণ্ডিত বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি। যন্ত্রচালিত উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে উৎপাদিত পাউচ বা টিনের সংখ্যা এবং প্রতিটির ওজন অনুযায়ী সেস নির্ধারিত হবে। বিল অনুযায়ী, যন্ত্রচালিত প্রক্রিয়ার জন্য মাসিক সেসের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০১ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ম্যানুয়াল উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতার জন্য মাসিক প্রায় ১১ লক্ষ টাকা সেস ধার্য হবে।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থায়িত্ব

    এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ তহবিলে জমা হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক নয়, তবুও নীতিগতভাবে ক্ষতিকর ভোগের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করার কথাই বলা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর ব্যবস্থা বিক্রয় বা চাহিদার ওঠানামার উপর কম নির্ভরশীল হওয়ায় রাজস্ব প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন বিশেষভাবে কার্যকর।

    নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা

    বিলে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। উৎপাদন যন্ত্রের নিবন্ধন, ক্ষমতার ঘোষণা, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানা, পণ্য ও যন্ত্র বাজেয়াপ্তকরণ, এমনকি গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল ও বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার সংযোগ

    এই বিলের মূল দর্শন হলো—স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর জাতীয় নিরাপত্তা আলাদা বিষয় নয়। উচ্চ রোগপ্রবণতা, জীবনধারা-জনিত অসুস্থতা এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার দেশের স্বাস্থ্য ব্যয় ও জরুরি প্রস্তুতির উপর দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায়ের মাধ্যমে সরকার সামাজিক খরচকে আংশিকভাবে অভ্যন্তরীণ করার চেষ্টা করছে। এটি একদিকে ভোক্তা আচরণের সামাজিক প্রভাবের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই উৎস থেকেই জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির জন্য অর্থ সংগ্রহের পথ খুলে দিচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন

    তবে এই বিল কার্যকর হলে একাধিক প্রশ্নও উঠছে। ভবিষ্যতে কোন কোন পণ্য এর আওতায় আসবে, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারে কতটা স্বচ্ছতা থাকবে, এবং কঠোর নিয়ম ছোট ও ম্যানুয়াল উৎপাদকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এসব বিষয় বাস্তবায়নের সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫ কেবল একটি কর নীতি নয়, বরং ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে আনার এই উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে—এই সেস থেকে সংগৃহীত অর্থ দেশের স্বাস্থ্য সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতায় কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে তার উপর।

  • Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ২৩ ডিসেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় কিষাণ দিবস বা জাতীয় কৃষক দিবস। এই দিনটি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত, যিনি আজীবন কৃষকস্বার্থের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিষাণ দিবস উপলক্ষে দেশ শ্রদ্ধা জানায় সেই কৃষকদের—যাঁরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র। ২০১৪ সালের পর থেকে কৃষক কল্যাণ ও কৃষি উন্নয়ন নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতির কেন্দ্রে রয়েছে। আর্থিক সহায়তা, ঝুঁকি সুরক্ষা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজকে আরও লাভজনক, নিরাপদ ও টেকসই করার চেষ্টা চলছে।

    সরাসরি আয় সহায়তা: পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি

    কৃষকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পান, যা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই অর্থ কৃষিজ উপকরণ কেনা থেকে শুরু করে পারিবারিক প্রয়োজনে কাজে আসে, ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন ১১ কোটিরও বেশি কৃষক এবং মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩.২৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পিএম-কিষাণের ২১তম কিস্তি প্রদান করা হয়, যার মধ্যে শুধু হরিয়ানাতেই ৩১৬ কোটি টাকা পৌঁছেছে ১৫.৮ লক্ষের বেশি কৃষকের কাছে।

    কৃষি সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ঝুঁকি থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)। এই প্রকল্পে খরিফ ফসলের জন্য কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশ এবং রবি ফসলের জন্য ১.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়, বাকি অংশ বহন করে সরকার। ২০২৫ সালে উত্তরাখণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার কৃষক এই বিমা প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। শুধু উত্তরাখণ্ডেই ২৮,০০০-এর বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৬২ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

    আত্মনির্ভরতার পথে নতুন উদ্যোগ

    ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি কৃষকদের আত্মনির্ভরতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দুটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেন—পিএম ধান-ধান্য কৃষি যোজনা এবং ডাল স্বনির্ভরতা মিশন। প্রায় ৩৫,৪৪০ কোটি টাকার এই সম্মিলিত প্রকল্প ১০০টি জেলায় সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্য একটাই—কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি স্বাস্থ্যের উন্নতি।

    সহজ ঋণ: কিষাণ ক্রেডিট কার্ড

    বীজ, সার, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের জন্য মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্প কৃষকদের সহজ ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে কার্যকর কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ৭.৭৫ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি সুদের ভর্তুকি কৃষকদের বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাচ্ছে। আজীবন কৃষিকাজের পর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে পিএম কিষাণ মানধন যোজনা। এটি একটি স্বেচ্ছামূলক পেনশন প্রকল্প, যার মাধ্যমে ৬০ বছর বয়সের পর কৃষকরা মাসিক পেনশন পান।

    প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির পথে

    আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকার কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ফসল ফলন পূর্বাভাস প্রযুক্তি (YES-TECH) এবং উন্নত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের সময়োপযোগী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কিষাণ দিবসে মোদি সরকারের কৃষিনীতি এক নতুন ভারতের ছবি তুলে ধরছে—যেখানে ডিজিটাল লেনদেন কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেয়, বিমা প্রকল্প প্রাকৃতিক ঝুঁকি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উর্বর মাঠ থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি কৃষিজমি—সর্বত্রই সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। মোদি সরকারের সহায়তায় অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও আত্মনির্ভর কৃষিই শক্তিশালী ভারতের ভিত্তি।

  • CAA: বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসা ১২ শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দিল মোদি সরকার

    CAA: বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসা ১২ শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দিল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুসলমানদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে কোনও মতে এক কাপড়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেক হিন্দু। এমনই ১২ জন হিন্দু শরণার্থীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব (Indian Citizenship) দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) -এর অধীনে তাঁদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র দিয়েছে সরকার। ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হাতে পেয়ে তাঁরা যেন হাতে চাঁদ পেয়েছেন। যার জেরে অবসান ঘটল বহু দশকের অনিশ্চয়তার। সেই সঙ্গে সূচনা হল এক নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে থাকলেও, নিরন্তর অত্যাচারের কারণে ভারতকেই তাঁরা তাঁদের মাতৃভূমি হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। শেষমেশ সেই দেশেই চিরকালের জন্য ঠাঁই জুটল সহায়-সম্বলহীন এই ১২জন হিন্দু শরণার্থীর।

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রা (CAA)

    এই হিন্দু পরিবারগুলির বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রাটি ছিল যথেষ্ট বেদনাদায়ক। তাঁদের অনেকেই পূর্ব বাংলা ছেড়ে আসেন কেবল পরণের পোশাকটি সম্বল করে। ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের কারণে তাঁদের জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছিলেন শুধু এই বিশ্বাস নিয়েই যে ভারত তাঁদের রক্ষা করবে। ভারতে বসবাস করলেও বস্তত তাঁরা ছিলেন রাষ্ট্রহীন। নাগরিকত্ব না থাকায় তাঁরা নিয়মিত চাকরির জন্য আবেদন করতে পারতেন না, পাসপোর্ট পেতেন না, কিংবা অন্যান্য মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। কোনও নথির প্রয়োজন হলেই তাঁদের বলা হত ১৯৭১ সালের আগের কাগজপত্র দেখাতে। কার্যত এটি ছিল তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। কারণ নিরন্তর হিংসার মধ্যে তাঁরা এ দেশে চলে এসেছিলেন কোনওক্রমে।

    লড়াই চলেছে দশকের পর দশক ধরে

    শরণার্থী এই হিন্দুদের লড়াই চলেছে দশকের পর দশক ধরে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের নাগরিকত্ব পেতে দেরি হয়েছে। তৃণমূল তো বটেই, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বহু নেতাও তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। যার ফলে এই দেশের হাজার হাজার হিন্দু শরণার্থী দিন কাটিয়েছেন ভয়ে ভয়ে। এই ভয় পাছে কখনও ফের বাংলাদেশে ফিরতে হয়, সেই ভেবে, কখনও বা কাজ হারানোর ভয়ে, এবং যে দেশকে তারা নিজেদের ঘর মনে করত, সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ভয় (CAA)।

    সিএএ

    শরণার্থী পরিবারগুলির জন্য স্বস্থির হাওয়া বয়ে নিয়ে এসেছে সিএএ। মোদি সরকার এই সিএএ-এর বিধি জারি করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর পরিবর্তন হতে থাকে তাঁদের পরিস্থিতির। এই সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে যে অগ্রগতি হয়েছে তাকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে মতুয়া এবং অন্যান্য হিন্দু সম্প্রদায়দের জন্য যাঁরা দেশভাগের সময় ও পরবর্তী কালে ভারতে এসেছেন। অথচ, এই সিএএ-রই প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলবল (Indian Citizenship)।মতুয়া সম্প্রদায়ই রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী গোষ্ঠী। তাঁরা মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বহু দশক ধরে ঠাকুরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় বহু পরিবার কাগজপত্র ছাড়াই বসবাস করতেন। তাঁরা সব সময় আশঙ্কায় থাকতেন যে তাঁদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এখন, নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর তাঁরা বলছেন, এখন তাঁরা নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবেন।

    বিজেপির অবদান

    এই অগ্রগতির একটি বড় অংশই সম্ভব হয়েছে মাস দুয়েক ধরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিজেপির খোলা সহায়তা কেন্দ্র এবং ক্যাম্পগুলির জন্য। নদিয়া, কোচবিহার এবং অন্যান্য অঞ্চলের ক্যাম্পগুলি হাজার হাজার শরণার্থীকে সিএএর ফর্ম পূরণ, তথ্য যাচাই এবং কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে সাহায্য করেছে। যাঁরা একসময় মনে করতেন তাঁরা কখনওই বৈধ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না ভারতে, তাঁরাই এখন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন (CAA)।

    কী বলছেন নাগরিকত্ব পাওয়া ভারতীয়রা

    সম্প্রতি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার এক ব্যক্তি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু মানুষ, বিশেষ করে হিন্দুরা ভারতে এসেছিলেন। আমার অভিজ্ঞতায়, যখন আমরা ভারতে এসেছিলাম, তখন রেলওয়ে স্টেশনে জিআরপি আমাদের আটক করে বারাসত ও শিয়ালদহে নিয়ে গিয়েছিল। তখন (Indian Citizenship) আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পাসপোর্ট অফিসে যেতে গিয়েও নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমাদের সন্তানদের পরীক্ষায় বসা বা ভর্তি হতেও বহু নথিপত্র জমা দিতে হয়েছে। এখন সরকারের প্রণীত আইনের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে উদ্বাস্তু মানুষরা অনেক উপকৃত হয়েছে। উদ্বাস্তুদের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানাই (CAA)।”

  • Tourism Vision 2029: ‘ট্যুরিজম বুস্ট ভিশন ২০২৯’, কেন্দ্রের এই লক্ষ্য সম্পর্কে জানেন কি?

    Tourism Vision 2029: ‘ট্যুরিজম বুস্ট ভিশন ২০২৯’, কেন্দ্রের এই লক্ষ্য সম্পর্কে জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের ৫০টি দেশীয় পর্যটনস্থলকে বিশ্বমানের আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থলে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। ‘ট্যুরিজম বুস্ট ভিশন ২০২৯’ (Tourism Vision 2029) নামে মোদি সরকারের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যই হল দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক পরিকাঠামোর সমন্বয়ে (Indias Heritage) এক নতুন বৈশ্বিক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা।

    এক মাসের মধ্যে সম্ভাব্য পর্যটনস্থলের নাম (Tourism Vision 2029)

    জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এক মাসের মধ্যে সম্ভাব্য পর্যটনস্থলের নাম প্রস্তাব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত জায়গাগুলিতে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই উন্নয়ন একটি কেন্দ্রীয় নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যেখানে মজবুত উন্নয়ন, সহজলভ্যতা এবং দর্শনার্থীর অভিজ্ঞতা – এই তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কাশ্মীরের তুষারাবৃত উপত্যকা থেকে কেরালার শান্ত ব্যাকওয়াটার, গুজরাটের উপকূলীয় ঐতিহ্য থেকে অসমের সবুজ পাহাড় -এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের বৈচিত্র্যকে এক ঐক্যবদ্ধ উৎকর্ষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।

    আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রতিযোগিতামূলক সম্পদ

    সরকারি আধিকারিকরা এই প্রকল্পকে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ভারতের বিশাল সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রতিযোগিতামূলক সম্পদে রূপান্তরিত করবে। এই প্রকল্প এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অন্তত একটি করে ফ্ল্যাগশিপ পর্যটনকেন্দ্রে উন্নয়ন করা যায়। এটি আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনা এবং জাতীয় গৌরবের আহ্বানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিরাট কর্মসংস্থানের সুযোগ

    আধিকারিকদের মতে, এই ৫০টি নির্বাচিত পর্যটনস্থলের উন্নয়ন হলে তা বিরাট কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে (Tourism Vision 2029), ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে, ভারতে ঢুকবে রাশি রাশি বিদেশি মুদ্রা। স্থানীয় শিল্পী, পর্যটনগাইড এবং হোটেল শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মীরাও সরাসরি উপকৃত হবেন। সর্বোপরি, এই প্রকল্পের লক্ষ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, বিশেষত পর্যটন পরিকাঠামো খাতে। তবে এটি এমনভাবে রূপায়িত হবে যাতে পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় থাকে (Indias Heritage)।

    আধুনিক যুগের স্বদেশি আন্দোলন!

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই উদ্যোগ পর্যটনে আধুনিক যুগের এক স্বদেশি আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে – যার ভিত্তি স্থানীয় সংস্কৃতি, অথচ উপস্থাপিত হবে বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে। এর লক্ষ্য এমন সব পর্যটনস্থল তৈরি করা, যা ভারতের চিরন্তন ঐতিহ্যকে প্রকাশ করবে এবং একই সঙ্গে উৎকর্ষ ও নবতর উদ্ভাবনের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রতিফলিত করবে। মোদি সরকারের আশা, ২০২৯ সালের মধ্যে ভ্রমণপিপাসুরা ভারত আবিষ্কারের ৫০টি নতুন কারণ খুঁজে পাবেন, যেখানে প্রতিটি জায়গাই হবে ‘বিকশিত ভারতে’র প্রতিচ্ছবি (Tourism Vision 2029)।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়তে প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত। তার পর থেকে তিনি আরও বেশি করে জোর দিয়েছেন আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ওপর। এজন্য আহ্বানও জানিয়েছেন দেশবাসীকে। কেবল কৌশলগত ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভারতের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং পর্যটনকেও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও জোর দিয়েছেন তিনি। এই সময়ই ভারতের পর্যটন শিল্প যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তুরস্কের মতো দেশগুলিকে বয়কট করার। কারণ তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষ (Indias Heritage)। এই সময় আম-ভারতীয়কে সরকার বারবার জানিয়েছে, ভারতে পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা অসীম। তবে এই শিল্প ক্ষেত্রে জোয়ার আনতে গেলে যা প্রয়োজন, তা হল এই ক্ষেত্রকে সঠিক দিকনির্দেশে পরিচালিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল। আধিকারিকদের ভাষায়, “নয়া পরিকল্পনাটি ঠিক সেটাই, যেটি ভারতের স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সুবিধেগুলিকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্যে রূপান্তরিত করবে (Tourism Vision 2029)।”

    কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসেই নীতি আয়োগের বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের বলেছিলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের উন্নত দেশে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত শহর নির্মাণ এবং প্রতিটি রাজ্যে কমপক্ষে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করতে। ওই বৈঠকে তিনি পর্যটন শিল্পকে চাঙা করতে, স্থানীয় অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে এবং মজবুত নগর গড়ে তুলতে (Indias Heritage) ‘এক রাজ্য, এক বিশ্বব্যাপী গন্তব্যে’র প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “রাজ্যগুলির উচিত সর্বাত্মক পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে বিশ্বব্যাপী মাণদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তত একটি করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা। এটি প্রতিবেশী শহরগুলির উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অনুঘটকের কাজ করবে (Tourism Vision 2029)।”

  • H 1B Visa Fee Row: ভারতীয় বংশোদ্ভূত তারকা অধ্যাপক-গবেষকদের দেশে ফেরাতে নয়া প্রকল্প কেন্দ্রের

    H 1B Visa Fee Row: ভারতীয় বংশোদ্ভূত তারকা অধ্যাপক-গবেষকদের দেশে ফেরাতে নয়া প্রকল্প কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী (H 1B Visa Fee Row) কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে নয়া প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। এর লক্ষ্য হল বিদেশে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত তারকা অধ্যাপক ও গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনা (Modi Govt)। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধু শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানীদের ভারতে ফেরানোই নয়, বরং তাদের দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে বসানো হবে। এতে এক দিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলা যাবে, তেমনি ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রকেও আরও শক্তিশালী করা যাবে।

    এইচ-১বি ভিসা (H 1B Visa Fee Row)

    সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা নীতি এবং এইচ-১বি ভিসার উচ্চ ফি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শাটডাউনের ফলে ব্যাপক ছাঁটাই চলছে। চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার ফেডারেল কর্মচারী। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন শিক্ষা বিভাগ, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে কর্মীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হল ভারতের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতকে শক্তিশালী করা। এজন্য নির্বাচিত গবেষকদের ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান- যেমন আইআইটি, বিভিন্ন গবেষণাগার, এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ও জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোয় পদ দেওয়া হবে।

    অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র

    সূত্রের খবর, এই প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, টেকনোলজি এবং গণিত ক্ষেত্রের ১২ থেকে ১৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে চালু করা হবে। গবেষকদের সেট-আপ অনুদান দেওয়া হতে পারে, যা তাঁদের ভারতে নিজস্ব ল্যাব ও গবেষণা টিম তৈরিতে সাহায্য করবে। জানা গিয়েছে, আইআইটিগুলিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন পরিচালক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

    কী বলছেন শিক্ষাবিদরা

    ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধরনের (H 1B Visa Fee Row) পরিবর্তনগুলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।  এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এমআইটি স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বৈষ্ণবের মতে, “আর্থিকভাবে আমরা হয়তো কখনও বৈশ্বিক বেতনের সমান হতে পারব না। কিন্তু এখানে একটি আবেগগত টান রয়েছে। এই বার্তা প্রতিভা আকর্ষণ করবে। সঠিক মানুষ নির্বাচন করে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে। তদারকি করা হবে, তবে সেখানে গুরুত্ব থাকবে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ওপর, লেনদেনভিত্তিক বিনিময়ের ওপর নয় (Modi Govt)।”

    ভারতীয় অধ্যাপকের বার্ষিক আয়

    উদাহরণস্বরূপ, একজন ভারতীয় অধ্যাপকের বার্ষিক আয় প্রায় ৩৮,০০০ মার্কিন ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে তা ১,৩০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে এবং চিনে প্রায় ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার। জানা গিয়েছে, সরকার এমন একটি প্রকল্প তৈরি করছে যা প্রক্রিয়াগত দেরি, অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়-সহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবে। একই সঙ্গে বৌদ্ধিক সম্পদ অধিকার, গবেষণার স্বাধীনতা এবং স্থায়ী পদ বা চাকরির কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে এই প্রকল্পটি আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে।

    বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সহযোগিতা

    বর্তমানে ইউরোপ, চিন এবং তাইওয়ানের মতো দেশগুলি বিপুল পরিমাণে অর্থায়নযুক্ত উদ্যোগ এবং নয়া গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ করছে। ভারত এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলিকে এগিয়ে নিতে যেতে চায় এবং দেশ থেকে বৈজ্ঞানিক প্রতিভার ভিন দেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে চায় (H 1B Visa Fee Row)। যদিও ভারত ইতিমধ্যেই ভিজিটিং অ্যাডভান্সড জয়েন্ট রিসার্চ ফ্যাকাল্টি প্রোগ্রামের মতো কিছু উদ্যোগ চালু করেছে, যা বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ দেয়। কিন্তু এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। ২০১৭–১৮ সালে সূচনার পর থেকে এই প্রোগ্রাম ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে প্রায় ১০০টি সহযোগিতামূলক গবেষণা প্রকল্প শেষ করেছে (Modi Govt)।

    ভারত থেকে বহু মানুষ আমেরিকায় যান

    প্রসঙ্গত, আমেরিকার নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস সম্প্রতি একটি এ বিষয়ে বিবৃতি জারি করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার পরে আমেরিকার বাইরে রয়েছেন এমন কারও জন্য এইচ-১বি ভিসা চাইলে ওই ১ লাখ ডলার দিতে হবে। ওই নির্ধারিত সময়ের পরে যে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে কোনও বিদেশি কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তি, প্রবেশের পর বিজ্ঞপ্তি এবং প্রাক-উড়ান তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রেও নয়া কড়াকড়ি কার্যকর হবে (H 1B Visa Fee Row)। নয়া নিয়ম অনুসারে, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলিকে ১ লাখ ডলার দিতে হচ্ছে ট্রাম্প সরকারকে। এইচ-১বি ভিসা নিয়ে প্রতি বছর ভারত থেকে বহু মানুষ আমেরিকায় যান (Modi Govt)। এই মুহূর্তে ভারতীয়রাই এই ভিসার সব চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু গত বছরেই ভারত থেকে ভিসার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে ৭১ শতাংশ (H 1B Visa Fee Row)।

LinkedIn
Share