Tag: Modi SRCC Speech

  • PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে (SRCC) ফিরে নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভরা গ্লাসে’র উদাহরণ স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার সন্ধ্যায় এসআরসিসির শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০১৩ সালের সেই বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বরাবর সম্ভাবনার দিকটি দেখেছেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই কলেজে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মোদি। হাতে এক গ্লাস জল তুলে তিনি বলেছিলেন, আশাবাদীরা সেটিকে অর্ধেক ভরা এবং হতাশাবাদীরা অর্ধেক খালি বলবেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা—গ্লাসটি অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ। শনিবার সেই প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি গ্লাসটিকে পুরো ভরা হিসেবে দেখি—অর্ধেক জল এবং অর্ধেক বাতাস।’’ তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের সেই বক্তব্যের প্রভাব এখনও অনুভব করা যায়। সেই সময় বিজেপি বিরোধী আসনে ছিল এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তা সত্ত্বেও তিনি ওই কলেজের মঞ্চকে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্য ব্যবহার করেননি বলেও জানান। তাঁর কথায়, যা বলেছিলেন, তা বিশ্বাস থেকেই বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সেই পথেই এগিয়েছেন।

    উন্নয়নের গতি এখন অনেক বেশি’ (PM Modi)

    শনিবারের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ২০১৩ সালের ভারত এবং বর্তমান ভারতের তুলনা। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত।

    ২০১৩ সালের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকত সীমান্তে সেনা নিহত হওয়া, ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়। দেশের সর্বত্র ‘পলিসি প্যারালাইসিসে’র আলোচনা ছিল এবং ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এর বিপরীতে বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় এই পরিসংখ্যান ভারতের শক্তি স্পষ্ট করে।’’

    তাঁর দাবি, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভে’র মধ্যে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমান পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। গাড়ি বিক্রি, নির্মাণ, উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদির বক্তব্য, ভারত শুধু বাড়ছে না, দ্রুত গতিতেও এগিয়ে চলেছে।

    তবে প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘নাখোশ ফুফাজি’ বা সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক দিক দেখতে অভ্যস্ত মানুষ হিসেবে কটাক্ষ করেন (PM Modi)।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বার্তা

    দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন সন্ত্রাসবাদ শেষ পর্যায়ে। তারা যদি সাহস দেখায়, তাহলে সেনাবাহিনী ভিতরে ঢুকে তাদের শেষ করে দেয়।’’ সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মোদির বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ তথা মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, বক্তৃতাটি এতটাই বিরক্তিকর ছিল যে ‘‘পেঁয়াজও কেঁদে ফেলত’’।

    কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় শুধু ২০১৩ এবং ২০৪৭ সালের কথা বলেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেননি।

    ১৩ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসআরসিসিতে মোদি

    ২০১৩ সালে এসআরসিসিতে মোদি এসেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তখন গুজরাটে তাঁর চতুর্থ দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কয়েক সপ্তাহ কেটেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল।

    ১৩ বছর পর শনিবার তিনি সেই এসআরসিসিতে ফিরলেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। আগামী মাসে গুজরাট ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়ের দায়িত্ব মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে (PM Modi)।

    ২০১৩ সালের এসআরসিসি বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘এমার্জিং বিজনেস মডেলস ইন দ্য গ্লোবাল সিনারিও (Emerging Business Models in the Global Scenario)’। তবে সেই বক্তৃতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সেটি কার্যত একটি শাসন-ভাবনার ঘোষণাপত্র হয়ে উঠেছিল।

    তখন মোদি বলেছিলেন, সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের অনেকে দেশের যুবসমাজকে শুধু ‘নতুন প্রজন্মের ভোটার’ হিসেবে দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতকে বোঝানো যে দেশের যুবসমাজ আসলে ‘নতুন যুগের শক্তি’।

    ঘটনাচক্রে শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। এদিনই ওই কলেজে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে গুজরাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছিলেন, কোনও ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য রফতানি করতে গেলে ডলার ও পাউন্ড নিয়ে আসেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বিদেশে গেলে তিনি একটি গোটা প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।

    এর আগে (SRCC) এপ্রিল মাসে নিজের বাসভবনে এসআরসিসির পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শতবর্ষ উপলক্ষে (PM Modi) একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

     

LinkedIn
Share