Tag: mohan bhagwat

mohan bhagwat

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক এক বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। ‘বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কানাডার দশটি প্রদেশ থেকে দু’হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আলোচনা, আপনজনের মতো একাত্মতা এবং সমাজের প্রতি যৌথ দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কানাডার হিন্দু সমাজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মিলনমেলায় পরিণত হয় (Hindu Vishwa Bandhu)।

    উদ্যোক্তাদের বক্তব্য (Mohan Bhagwat)

    কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিদের একত্রিত করে এই সমাবেশের আয়োজন করে কানাডিয়ান হিন্দুজ ফর আউটরিচ, রিলেশনস অ্যান্ড ডায়লগ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কানাডার ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন সহযোগিতা করে। আয়োজকদের বক্তব্য, কানাডার বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ভারতীয় হিন্দু সভ্যতার চিরন্তন আদর্শ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। অর্থাৎ, “সমস্ত পৃথিবীই এক পরিবার।” এই দর্শনকে ভিত্তি করে আয়োজিত সমাবেশে হিন্দু পরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদ্‌যাপনের পাশাপাশি কানাডার বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ও অর্থবহ অবদানের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাগবত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দু সভ্যতা, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসা ভাগবতকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজগঠন ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। চরিত্রগঠন, সামাজিক ঐক্য, সেবা, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং সমাজকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কানাডার মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে। ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ সমাবেশে সেই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে সামনে আনা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেও কীভাবে বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া যায়, সেই ভাবনা অনুষ্ঠানের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে (Mohan Bhagwat)।

    অনুষ্ঠান মঞ্চ আলোকিত করেছিলেন যাঁরা

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আলবার্টার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কানাডার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য জেসন কেনি। কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের জনজীবনের যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা ও ভারতের মধ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন (Hindu Vishwa Bandhu)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে কানাডার বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী কাশ্মীর সিং ধালিওয়াল। তিনি খালসা দিওয়ান সোসাইটি এবং ঐতিহাসিক রস স্ট্রিট গুরুদ্বারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডায় হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই একটি সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ভিত্তি।

    হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্ব

    সমাবেশে হিন্দু পরিচয় ও ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে এই পরিচয়কে কেবল নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। সেবা, সামাজিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনটির লক্ষ্যও মূলত এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কানাডিয়ান হিন্দু সমাজের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে দেশের মূলধারার আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্মীয় গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং প্রজন্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি (Mohan Bhagwat)। কানাডায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা, অঞ্চল, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের এই বৈচিত্র্যকে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত করার পাশাপাশি কানাডার সমাজজীবনে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রেখেও যে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ তারই একটি উদাহরণ (Hindu Vishwa Bandhu)।

    দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশ তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হিন্দু সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং কানাডার সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বার্তাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে (Mohan Bhagwat)।

    লক্ষ্য, সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মূল সুর ছিল—নিজের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের পরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। পারস্পরিক বন্ধুত্ব, আলাপ-আলোচনা, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে একটি আরও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং ১৭৫টিরও বেশি সংগঠনের সহযোগিতা এই উদ্যোগের ব্যাপকতাকেও স্পষ্ট করেছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে কানাডার হিন্দু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন (Hindu Vishwa Bandhu) ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের (New York) ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ভাষণ ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভাগবত সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তাঁর সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থী শিখদের একাংশ ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিসে’র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা (Mohan Bhagwat)

    ঘটনার কয়েকটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক খালিস্তানপন্থী ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা নিজের পায়ের চারপাশে বেঁধে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং পতাকা নিয়ে অবমাননাকর আচরণ করছেন। অন্য একটি ভিডিয়োতে কয়েকজন প্রতিবাদকারী ভারতের তেরঙ্গা পতাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলছেন এবং নাচতে নাচতে উল্লাস করছেন দেখা যায়।ভাগবতের আমেরিকা সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থীদের একটি দল ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও পোস্টারে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বার্তা দেখা যায়। এমনই একটি পোস্টারে লেখা ছিল, “মোদি হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ।” পাশাপাশি তারা খালিস্তানের সমর্থনে এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা মোহন ভাগবতের একটি প্রতিকৃতি-সহ পোস্টারও প্রদর্শন করেন। সেই প্রতিকৃতির গলায় জুতোর মালা পরানো হয় বলে অভিযোগ।

    মোহন ভাগবতকে আমেরিকান হিন্দুদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সংলাপ বিষয়ক সংগঠনের পক্ষ থেকে “সার্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ভিতরের ইনফোসিস থিয়েটারে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    খালিস্তানপন্থীদের অতি সক্রিয়তা

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তিনটি দেশ সফরে বেরিয়েছেন ভাগবত। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার তিনি আমেরিকায় পৌঁছন। তবে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাধিক ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই সুযোগে তারা নিজেদের ভারতবিরোধী প্রচার চালায় বলে অভিযোগ (Mohan Bhagwat)।

    ভারত সরকার ‘শিখস ফর জাস্টিস’কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে অতীতেও ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার এবং ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়। কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ।

    ভাগবতের সফরকে ঘিরে প্রতিবাদ এবং পাল্টা প্রতিবাদের ঘটনায় আমেরিকার মাটিতে ভারতীয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে (New York) কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী প্রচার কতটা সক্রিয় হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার (Universal Oneness), এই চিরন্তন ভারতীয় দর্শনের কথা তুলে ধরে বিশ্বকে ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর বক্তব্য, দেশ শুধু ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ কোনও সত্তা নয়। প্রতিটি দেশেরই একটি বিশেষ দায়িত্ব, বার্তা ও লক্ষ্য রয়েছে। আর ভারতের দায়িত্ব হল বৈচিত্র্যের মধ্যেও নিহিত ঐক্যের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সেই বার্তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।

    ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ (Mohan Bhagwat)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে  ভাগবত বলেন, আমেরিকার ক্ষেত্রে ‘বহুত্ববাদ’ শব্দটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভারতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। তাঁর কথায়, ভারতের চেতনার মধ্যেই ঐক্য এবং বৈচিত্র্য—দু’টিই রয়েছে। বৈচিত্র্যকে তাই শুধু মেনে নেওয়া নয়, তাকে সম্মান ও উদ্‌যাপন করাও প্রয়োজন। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে যে মৌলিক একাত্মবোধ রয়েছে, সেটিও মনে রাখতে হবে। ভাগবত বলেন, “জাতি কেবল ভৌগোলিক সত্তা নয়। জাতির একটি দায়িত্ব রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, প্রত্যেক জাতির একটি বার্তা রয়েছে, একটি লক্ষ্য পূরণ করার রয়েছে এবং একটি নিয়তি রয়েছে। ভারতের সেই নিয়তি কী? ভারতকে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সত্য উপলব্ধি করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকেও সেই ঐক্যের উপলব্ধি করাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এক, আর বৈচিত্র্যের কারণে সেই একত্ব আরও সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়। তাই বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করতে হবে, সম্মান করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের একত্বের অনুভূতিকেও মনে রাখতে হবে।”

    সঠিক চিন্তার গুরুত্ব

    মানবজীবনে সঠিক চিন্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর মতে, সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও মানুষের উপর বর্তায়। সঠিক চিন্তা মানুষকে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, আর ভুল চিন্তা তাকে পশুসুলভ প্রবৃত্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভাগবতের কথায়, “মানুষকে পশুর থেকে আলাদা করে যে বিশেষ গুণ, তা হল চিন্তা করার ক্ষমতা। মানুষ যদি সঠিকভাবে চিন্তা করে, তাহলে সে সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে। সঠিক ও ভুল বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই বিশ্বের প্রতি তার দায়িত্বও রয়েছে।” তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন সত্তা রয়েছে। শরীর, পরিচয় কিংবা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য আলাদা হলেও, মানুষের অন্তরে এমন কিছু রয়েছে যা সবাইকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই উপলব্ধিকেই তিনি ‘অস্তিত্বের ঐক্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের ঐক্যই আমাদের সত্য। বিশ্বকে এক হিসেবে দেখাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি (Mohan Bhagwat)।”

    সভ্যতার দুই বিপরীত প্রবণতা

    সভ্যতার দু’টি বিপরীত প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একদিকে রয়েছে ‘বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচতে দাও’-এর মানসিকতা। অন্যদিকে রয়েছে এমন প্রবণতা, যেখানে নিজের মত ও আদেশ মেনে চললেই অন্যকে বাঁচার অধিকার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা বলে, “তুমি আমাদের কথা মেনে চলো, আমরা তোমাকে রক্ষা করব”, তাদের তিনি রাক্ষসসুলভ প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। ভারতীয় সাধু-সন্তদের আদর্শের উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অন্যের প্রতি বিদ্বেষ দূর করার শিক্ষা দেয়। মানুষের মনে থাকা শত্রুতা ও ঘৃণা দূর করাই হওয়া উচিত প্রার্থনা ও সাধনার অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রবাসীদের উদ্দেশে মোহন-বার্তা

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন ভাগবত। তিনি বলেন, যে দেশে তাঁরা কাজ করছেন এবং বসবাস করছেন, সেই কর্মভূমির প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান থাকা উচিত। কর্মভূমির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে, তা ভারতের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবোধের ভিত্তিতে করতে হবে (Universal Oneness)। ভাগবতের (Mohan Bhagwat) বক্তব্য, “আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের তাঁদের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হবে। সেই কর্তব্য পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থাকলে, ভারত যে মূল্যবোধ আপনাদের দিয়েছে, সেই মূল্যবোধ নিয়েই জীবনযাপন করুন।” ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, হিমালয় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ভারতের একটাই দায়িত্ব—এই জ্ঞান ও জীবনদর্শনকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে তা শুধু বক্তৃতা বা প্রচারের মাধ্যমে নয়, নিজেদের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দেখাতে হবে। তিনি বলেন, “ভারতের একজন মানুষের দায়িত্ব হল অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া, শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয়।”

    ধর্ম কি

    ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়মাত্র নয়। বিশ্বব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত ও টিকিয়ে রাখার যে নীতি, সেটিই ধর্ম। মানুষের জীবনযাত্রার গুণমান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ধর্ম একটি নিয়ামক শক্তি। তাঁর (Mohan Bhagwat) মতে, ধর্ম হল মধ্যপন্থা—যেখানে দায়িত্ব, সংযম এবং পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয় ঘটে। ভাগবত বলেন, “ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে বিশ্ব টিকে থাকে। ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে মানুষ জীবনের গুণমান বজায় রাখতে পারে। মধ্যপন্থাই ধর্ম। আমরা একত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং বৈচিত্র্যে সজ্জিত। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক, আর ঐক্যই সত্য।” অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, একজন মানুষ কত অর্থ উপার্জন করলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তিনি সমাজ ও বিশ্বকে কতটা ফিরিয়ে দিলেন। ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল শিক্ষা হল নিজের অর্জনের একটি অংশ অন্যদের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া। আরএসএস কর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়েছি। তাই বিশ্বকে আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা কত উপার্জন করি, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমরা কতটা বিতরণ করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। এটাই আমাদের পরম্পরা (Universal Oneness)।”

    বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সূত্র

    বক্তব্যের একেবারে শেষে ভাগবত বলেন, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান, আত্মসংযম এবং নিঃস্বার্থভাবে সমাজকে দেওয়ার মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই একটি টেকসই ও সম্প্রীতিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যকে বাদ দিয়ে নয়, বরং তার মধ্যেকার একত্বকে স্বীকার করেই বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ভারতীয় জীবনদর্শন তাই শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি টেকসই জীবনপদ্ধতির ভিত্তি হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আজ, শুক্রবার আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ছবি সম্বলিত বিশাল ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এ দিনই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখবেন তিনি।

    সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এই সংযোগস্থলের একটি ডিজিটাল পর্দায় ভাগবতের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। আজ, ২৯ অগাস্ট আয়োজিত হতে চলা “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানের আগে এই প্রচার চালানো হয়েছে।

    তিনটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ভাগবত। তাঁর সফরসূচিতে কানাডা এবং ব্রিটেনও রয়েছে। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের বছরেই তাঁর এই বিদেশ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে বক্তব্য রাখবেন ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে বক্তব্য রাখার কথা আরএসএস প্রধানের। আমেরিকান হিন্দুদের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও আলোচনার লক্ষ্যে গঠিত সংগঠন অ্যাহেড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

    স্থানীয় সময় দুপুর ২টো থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা আজ, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৩টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক, সঙ্গীত ও শিল্পকলার বিভিন্ন পরিবেশনাও থাকবে।

    আয়োজকদের দাবি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও দেশের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এর ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে “বসুধৈব কুটুম্বকম” বা “সমস্ত পৃথিবী এক পরিবার”—এই প্রাচীন ভারতীয় ভাবনাকে। আয়োজকদের মতে, ২০০-রও বেশি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করছে।

    ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের আগে এদিন নিউইয়র্কের ২৬ সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইসকন মন্দির পরিদর্শন করেন ভাগবত।

    সেখানে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদের প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করেন তিনি। অংশ নেন গৃহহীনদের মধ্যে খাবার বিতরণের একটি কর্মসূচিতেও।

    ইসকনের পরিচালন পর্ষদের কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে স্বামী প্রভুপাদ এই স্থানেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি সংগঠন শনিবার অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

    সংগঠনটির দাবি, ৬১টি আন্তঃধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে (Mohan Bhagwat)।

    নিউইয়র্কের মেয়রও এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস একটি “বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির” ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্দোলন।

    তবে একই সঙ্গে মেয়র জোহরান মামদানি স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো (RSS) আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক প্রশাসনের নেই।

    মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের হস্তক্ষেপ

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও।

    কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ মার্কিন সরকারের কাছে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভাগবতের ভিসা বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি জানান, আলোচনার জন্য আরএসএস প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিনি প্রস্তুত।

    কমিশনের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে বলেছে, ভারতকে নিয়ে ওই সংস্থা বারবার “ভুল ও উসকানিমূলক বক্তব্য” দিয়েছে।বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংস্থাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সম্পর্কে ভুল এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে এবং নিজস্ব উদ্দেশ্য রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত।

    নিউ ইয়র্কের মেয়রের বক্তব্য

    এদিকে, নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, তিনি ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনের এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন করেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি কবুল করেন, একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে (Mohan Bhagwat)।

    মামদানি আরও বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর মায়ের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এখনও ভারতে রয়েছেন। নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত সম্পর্কে তাঁর পরিবারের ধারণা ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে (RSS) একটি বর্জনমূলক রাজনৈতিক ভাবনার উত্থান তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে এবং তিনি সেই মতাদর্শের বিরোধী (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat in New York: নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত, জোর দিলেন ‘কৃষ্ণ চেতনা’য়

    Mohan Bhagwat in New York: নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত, জোর দিলেন ‘কৃষ্ণ চেতনা’য়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা সফরে গিয়ে নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে (ISKCON) গেলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in New York)। শুক্রবার ২৬, সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে গিয়ে তিনি শ্রীল প্রভুপাদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। পাশাপাশি গৃহহীনদের জন্য খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। ইসকনের গভর্নিং বডি কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে জানান, ভাগবতের উপস্থিতিতে ‘জিরো হাঙ্গার নিউ ইয়র্ক’ উদ্যোগের আওতায় খাবার বিতরণ করা হয়। ১৯৬৬ সালে শ্রীল প্রভুপাদ এই স্থান থেকেই ইসকনের যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সনাতন ধর্ম

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে গৌরাঙ্গ দাস জানান, মোহন ভাগবতের এই সফর ‘ঐতিহাসিক’। তাঁর কথায়, বিশ্বজুড়ে ইসকনের (Mohan Bhagwat Visits ISKCON) প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ১২০টি দেশে ইসকনের প্রায় ১,৩০০টি মন্দির রয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদের হাত ধরেই হিন্দু সনাতন ধর্ম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আরএসএস এবং ইসকন কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান গৌরাঙ্গ দাস। ইসকনের যোগাযোগমন্ত্রী তথা গভর্নিং বডি কমিশনার অনুত্তম দাসও আরএসএস প্রধানের সফরকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও মেরুকরণের এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ঈশ্বরচেতনা ও কৃষ্ণচেতনার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কীভাবে আরও কাজ করা যায়, তা নিয়ে ইসকন ভাবনাচিন্তা করছে।

    কৃষ্ণ চেতনা-ই মানুষকে একত্রিত করে

    মন্দিরে নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে ভাগবত ইসকনকে একটি ‘অনুপ্রেরণাদায়ী স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকে ‘শ্রীকৃষ্ণ চেতনা’-র এক গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, সেখানে এসে তিনি ‘বিশুদ্ধ সাত্ত্বিক ভালোবাসা’-র অনুভূতিতে আপ্লুত হয়েছেন। মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, বিশ্বে মতপার্থক্য, সংঘাত ও বিভাজন থাকলেও মানুষকে একত্রিত করতে পারে চেতনা। তাঁর কথায়, “আজকের পৃথিবীতে এত সংঘাত, এত দ্বৈততা। একমাত্র যে জিনিস মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, তা হল চেতনা। সেই চেতনা হল কৃষ্ণ চেতনা।” উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোহন ভাগবত বর্তমানে তিন দেশ—আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেন সফর করছেন। আজ, শনিবার ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’-এর অংশ হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat in US) নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)। নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৯ আগস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি মহল থেকে বিরোধিতা এবং অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু অধিকার ও শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এইচএএফ (HAF)আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সতর্ক থাকতে’ এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    মামদানিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ দেওয়া এক বার্তায় এইচএএফ (HAF) হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়ননেস সেলিবরেশন (Universal Oneness Celebration)’ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বাধা দেওয়া হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)-র উদ্দেশে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন -এর বার্তা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিউইয়র্কের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন মামদানি

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মামদানি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের কোনও আইনি এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। নিজের ভারতীয়-আমেরিকান পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবারের কাছে ভারতের পরিচয় ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হিসেবে, যেখানে প্রত্যেকেরই জায়গা রয়েছে। মামদানির অভিযোগ, বর্জনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

    নিউইয়র্কে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী মেরি মিলবেন মেয়র মামদানি-সহ সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র প্রতি বিরোধিতার কারণেই মামদানি ও অন্যান্য সমালোচকরা ভাগবতের অনুষ্ঠানকে নিশানা করছেন। ২৯ আগস্টের নির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রচার বন্ধের অসফল প্রয়াস

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)-এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট। এই সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। বুধবার সংগঠনটির @AheadForum1 হ্যান্ডেলটি হঠাৎই অনুপলব্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ঘটনাটি সম্ভবত ভুলবশত ঘটেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের যোগাযোগমূলক প্রচারে ‘সার্বজনীন শান্তি, একতা, সম্প্রীতি’ এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে ভয় কেন

    পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হলে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম X-এ পোস্ট করে জানায়, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ‘বট’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজ-মাধ্যম-কে ধন্যবাদ জানায় তারা। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের বিরোধীরা বিভ্রান্তিকরভাবে বট ব্যবহার করে X-এর অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করানোর চেষ্টা করেছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    কেন বন্ধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট

    তবে X-এর পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি কেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের সরাসরি কোনও যোগসূত্রেরও প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএস একটি ‘বর্জনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী’ মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের বছরেই আন্তর্জাতিক সফরে বেরিয়েছেন মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ নিয়ে তাঁর এই সফর। বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat in US) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার তারা জানায়, অনুষ্ঠানটি ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ ভাবনায় আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার কড়া জবাব দিলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য মামদানি ও তাঁর সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বিরোধিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন

    প্রচার বিভাগের প্রধান তথা প্রবীণ নেতা সুনীল আম্বেকর এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ। সেখানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সামনে আরএসএস-এর ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরবেন। আম্বেকরের কথায়, “খোলা আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলকে স্বাগত জানায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে RSS যে সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, এই উদ্যোগও সেই ধারারই অংশ। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংগঠনের দর্শন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।”

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকে সমর্থন

    ২৬ অগাস্ট ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মিলবেন লেখেন, মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন মামদানি এবং তাঁর মতো সমাজতন্ত্রীরা, কারণ তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধী। তাঁর দাবি, বিষয়টি “বেশ স্পষ্ট”। অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন মিলবেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন “সমাজতান্ত্রিক স্লোগানের জবাব দেয় না, তারা পুঁজিবাদের নিয়মে চলে”। তাই তাঁর মতে, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই হবে। মামদানি ও তাঁর “সমাজতন্ত্রীদের দল”-কে উদ্দেশ করে মিলবেন বলেন, তাঁরা যদি এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তাহলে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেরাই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়ে পাল্টা সমাবেশ করতে পারেন। ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকেও সমর্থন করেছেন মিলবেন। অনুষ্ঠানের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ বা ‘সর্বজনীন একতা’ (Universal Oneness) ভাবনাটি তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারতকে ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা অনুষ্ঠানের অংশ হোক, এমন আশাও প্রকাশ করেন মার্কিন এই গায়িকা।

    ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান

    ড. মোহন ভাগবত আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ ভারতীয়-আমেরিকানের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান। ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া তাঁর ১৭ দিনের সফরে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration) নামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা

    ভাগবতের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-সহ বেশ কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে তা বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না। আরএসএস-এর ভাবনাকে তিনি “বর্জনমূলক” বলে মন্তব্য করে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণার সঙ্গে তার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তবে, আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই ড. মোহন ভাগবতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, “সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে।” ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্কে আরও দু’টি ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের। এরপর তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পরবর্তী পর্ব শুরু হবে।

     

  • Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্কে পা রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in US)। সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনে তিনটি দেশে সফর করছেন তিনি। তাঁর ১৭ দিনের সফরের প্রথম পর্বে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছলেন ভাগবত। ‘তিলক’ পরিয়ে আমেরিকার মাটিতে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁকে। আমেরিকা ছাড়াও কানাডা এবং ইউকে-তেও যাবেন তিনি। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্কের ‘ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন’-এ ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলেব্রেশনস’ (Universal Oneness Celebrations) নামে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মোহন ভাগবত। সংঘের তরফে জানানো হয়েছে, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আয়োজিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই সফর। সফরকালে তিনি প্রবাসী ভারতীয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    রাখি বন্ধনের আবহে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠান

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর তরফে রাখিবন্ধন উৎসবের প্রেক্ষাপটে এক বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয়েও বক্তব্য রাখবেন অনেকে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং বিশ্বশান্তির বার্তা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের দাবি।

    ভাগবতের সফরের উদ্দেশ্য

    আরএসএস-এর (RSS Chief Event in US) প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান যে, প্রবাসীদের আমন্ত্রণে ২৫ অগাস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে সফর করছেন আরএসএস প্রধান। আরএসএস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত, হিন্দু সমাজ এবং আরএসএস সম্পর্কে সঠিক ও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা। ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর দাবি, গোটা বিশ্ব একটি পরিবার, এই কালজয়ী এবং সর্বজনীন বার্তা দিতেই তরা নিউ ইয়র্কের সভাটি করছে। কৃত্রিম বিভাজন, ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বন্ধন, পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের চেতনাকে জোরাল করে তোলাই লক্ষ্য।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি মেয়র মামদানির

    তবে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়্যারের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরএসএস-এর অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁর সমর্থন নেই এবং তিনি ‘বিভাজনমূলক মতাদর্শ’-এর বিরোধী। অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মামদানি বলেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষমতা শহর প্রশাসনের রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মামদানির বক্তব্য, তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর পরিবার তাঁকে এমন একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণা দিয়েছে, যেখানে সকলের জন্য জায়গা রয়েছে। কোনও মানুষ বা গোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে এমন মতাদর্শের তিনি বিরোধিতা করেন বলেও জানান। বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ মেহমুদ মামদানির ছেলে জোহরান। তাঁর মতে, নিউইয়র্কও জাতি, ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী।

    আরএসএস নিয়ে ইউএসসিআরএফ-এর মন্তব্য

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF) আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানায়। গত ১৯ অগাস্ট সংস্থাটি মার্কিন সরকারকে আরএসএস নেতাদের সরকারি পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানো এবং তাঁদের সঙ্গে সরকারি বৈঠক না করারও পরামর্শ দেয়। ইউএসসিআরএফ-এর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। ২০ অগাস্ট বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থাটি ভারত সম্পর্কে ভুল ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে। ফলে তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

    মার্চের রিপোর্টেও আরএসএস নিয়ে সুপারিশ

    ইউএসসিআরএফ-এর মার্চ মাসে প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে আরএসএস এবং র (R&AW)-সহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে ভারত সরকার সেই রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বেছে নেওয়া তথ্যনির্ভর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের বক্তব্য ছিল, রিপোর্টটি এমন কিছু সূত্রের উপর নির্ভর করেছে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভারতের পরিস্থিতির একটি একপেশে ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

    ২০১৮ সালেও আমেরিকা সফর করেছিলেন ভাগবত

    এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও আমেরিকা সফর করেছিলেন মোহন ভাগবত। সে সময় শিকাগোয় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ৬০টি দেশের প্রায় ২,৫০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্যও রাখেন ভাগবত। এবারও আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে সভা রয়েছে ভাগবতের। সেখানে ৫০০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা করার কথা তাঁর।

LinkedIn
Share