Tag: mohan bhagwat

mohan bhagwat

  • Mohan Bhagwat: ‘‘জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য বলতে বাগাড়ম্বর বোঝায় না, প্রকৃত জ্ঞান হল উপলব্ধি”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: ‘‘জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য বলতে বাগাড়ম্বর বোঝায় না, প্রকৃত জ্ঞান হল উপলব্ধি”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ এপ্রিল ছিল আদি শঙ্করাচার্য জয়ন্তী। এই শুভ দিনে ত্রিপুরার মোহনপুর মহকুমার ফকিরমুরা গ্রামে মা ত্রিপুরেশ্বরীর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত মা সৌন্দর্য চিন্ময়ী মন্দিরের উদ্বোধন করা হল (Mohan Bhagwat)। চিন্ময় মিশন দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরের উদ্বোধন সংস্থাটির ৭৫তম বার্ষিকীর সঙ্গে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় (RSS)। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, ছিলেন আধ্যাত্মিক নেতারাও।

    উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা (Mohan Bhagwat)

    আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল তথা ত্রিপুরা রাজবংশের জিষ্ণু দেববর্মণ এবং রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী। অনুষ্ঠানের পর মন্দির প্রাঙ্গণে একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে ভক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক অংশগ্রহণের এক অপূর্ব মিশ্রণ প্রতিফলিত হয়। এই সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সরসঙ্ঘচালক আরএসএসের মোহন ভগবত, সমাজের দুর্বল অংশের জন্য চিন্ময় হরিহর বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য-সহ সমাজের প্রতি চিন্ময় মিশনের সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    জ্ঞান বা পাণ্ডিত্যের সংজ্ঞা

    প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণে  ভগবত জ্ঞান এবং প্রকৃত উপলব্ধির মধ্যে গভীর পার্থক্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য বলতে কেবল বাগাড়ম্বর বোঝায় না, প্রকৃত জ্ঞান হল উপলব্ধি। গত দু’হাজার বছরে, বিশ্ব বিজ্ঞান থেকে সমাজতন্ত্র পর্যন্ত সব কিছু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। তবুও আজ, তামাম বিশ্ব উপলব্ধি করছে যে সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজন ভারতের বিশ্বদৃষ্টি এবং সনাতন ধর্মের পথনির্দেশনা।” তাঁর মতে, সনাতন ধর্ম বর্তমানে সমগ্র বিশ্বকে সঠিক পথ দেখাচ্ছে। মন্দিরের সামাজিক ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে সরসংঘচালক বলেন, “মন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, এটি ভারতীয় সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুও। বর্তমান যুগে শক্তির পাশাপাশি ভক্তিও প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।”

    ভাগবতের সতর্কবার্তা

    দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরসঙ্ঘচালক একটি সতর্কবার্তাও দেন। তিনি বলেন, “ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের শক্তি নিহিত। কিন্তু ভারতের এই উত্থান থামাতে বহিরাগত শক্তিগুলি ক্রমাগত আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।” অনুষ্ঠানের শুরুতে ত্রিপুরার রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী ভারতের শাশ্বত ঐক্যের বার্তা দেন (RSS)। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের সকলের মাতৃভূমি হল আমাদের ভারতবর্ষ।” তিনি প্রত্যেক নাগরিকের হৃদয়ে ভারতমাতার প্রতি আত্মসমর্পণের চেতনা জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা তাঁর ভাষণে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভগবতের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন (Mohan Bhagwat)।

    মন্দিরের স্থাপত্যের প্রশংসা

    মন্দিরের সুন্দর স্থাপত্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই মন্দিরটি শুধু ত্রিপুরার জন্যই নয়, সমগ্র ভারতের মানুষের জন্য আধ্যাত্মিকতা ও শ্রদ্ধার আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাবে।” মুখ্যমন্ত্রী চিন্ময় মিশনের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের এই মহান উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দাসেনা রেড্ডি বর্তমান ভোগবাদী সামাজিক ব্যবস্থায় চিন্ময় মিশনের ভূমিকার গভীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার মতো একটি সীমান্ত রাজ্যে এই (RSS) বিদ্যালয় ও মন্দির স্থাপন করা কেবল একটি ধর্মীয় কাজ নয়, এটি একটি অনন্য সামাজিক সংস্কার প্রচেষ্টা (Mohan Bhagwat)।”

     

  • Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সংস্কৃত (Sanskrit) ভাষা জানা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। আজ, ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ ডিডিইউ মার্গে সংস্কৃত ভারতীর কার্যালয় ‘প্রণবে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথাগুলি বলেন তিনি। ভাগবত বলেন, “‘প্রণব’ নামে নতুন কার্যালয়ের এই উদ্বোধন একটি শুভ মুহূর্তে হচ্ছে। এটি আমাদের সবার জন্য আনন্দ ও উৎসাহের বিষয়। বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু করা যে কোনও কাজ স্থায়ী ও সফল হয়।”

    সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি (Mohan Bhagwat)

    তিনি বলেন, “সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি, কারণ চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম জীবন্ত ঐতিহ্য এখনও এর মাধ্যমে বিদ্যমান। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এমন এক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে যা জীবিত ও জড়—সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করে। এই কর্তব্য পালন করতে হলে ভারতকে জানতে, গ্রহণ করতে এবং নিজেকে ভারতের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “সংস্কৃত একটি ভাষা হলেও, এটি শুধু ভাষা নয়। আপনি যদি সংস্কৃত জানেন, তবে যে কোনও ভারতীয় ভাষা বোঝা সম্ভব। ভারতে সংস্কৃত জাতির আত্মা, কারণ এটি চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম ঐতিহ্য, যা আজও জীবন্ত (Sanskrit)।”

    ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য

    তিনি ভারতের দার্শনিক ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারতের অস্তিত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সত্তাও নয়। ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যার ওপর জীবনের ধারাবাহিকতা নির্ভর করে।” সরসংঘচালক বলেন, “শৈশবে স্কুলে সংস্কৃত শেখা কঠিন মনে হত। পাঠ্যক্রমে ‘শ্লোক’ মুখস্থ করতে হত, যা ভাষাটিকে কঠিন বলেই মনে করাত। কিন্তু বাড়িতে যখন সেই একই শ্লোক শুনতাম, তখন তা আর কঠিন বলে মনে হত না।” আরএসএস কর্তা বলেন, “আজও এই সমস্যাটি রয়ে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতকে কঠিন মনে করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন? বাস্তবে ভাষা শেখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল কথোপকথন, বই নয় (Sanskrit)।”

    কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়

    তিনি বলেন, “কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়, ব্যাকরণ নয়। আমি যখন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করি, স্থানীয় ভাষার সব শব্দ না জানলেও মূল ভাব বুঝতে পারি। নিয়মিত শোনা ও বলার মাধ্যমে ভাষা স্বাভাবিকভাবে শেখা যায়। তাই ভাষা শেখার সর্বোত্তম উপায় হল সেই ভাষাভাষীদের মধ্যে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং নিজেও বলা (Mohan Bhagwat)।” সংস্কৃত ভারতীর প্রশংসা করে ভাগবত বলেন, “এই সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে সংস্কৃতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং কথোপকথন পদ্ধতিতে ভাষাটিকে জনপ্রিয় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে সমাজে সংস্কৃতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানুষকে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গে ফের যুক্ত করছে, ফলে সংস্কৃত শেখা ও বোঝার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “নতুন কার্যালয় নির্মাণ অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে, কার্যালয় কাজের কারণ নয়, বরং কাজের বিস্তারের ফল।”

    সংস্কৃত সংরক্ষণ

    এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র দিবসে ‘প্রণব’ নামে সংস্কৃত ভারতীর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের খবর জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি ভারতের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ (Mohan Bhagwat)।” তিনি এও বলেন, “সংস্কৃত আমাদের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বাহক। এর মধ্যে বিজ্ঞান, দর্শন-সহ নানা জ্ঞানের ধারাবাহিক প্রবাহ রয়েছে, যা মানবতার পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ। সংস্কৃতের (Sanskrit) মহিমা অসীম।” প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, গত ১১ বছরে সংস্কৃত সংরক্ষণ ও প্রচারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন শিক্ষা নীতিতে ভারতীয় ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংস্কৃত ভবিষ্যতেরও ভাষা

    তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমি ‘সুভাষিত’ শেয়ার করে শাস্ত্রের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সংস্কৃত শুধু অতীতের ভাষা নয়, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেরও ভাষা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভাষার শিক্ষা ও প্রসারের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক (Sanskrit) আত্মা নতুন শক্তি লাভ করবে। সংস্কৃত ভারতীর সকল কর্মীদের নিষ্ঠা এবং সংস্কৃত ভাষার উন্নয়নে তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় (Mohan Bhagwat)।” তাঁর আশা, ‘প্রণব’ কার্যালয়ের উদ্বোধন এই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

     

  • RSS: কান্দাকুর্তিতে ‘স্ফূর্তি মন্দির’ উদ্বোধন করলেন ভাগবত, আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের পৈতৃক গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠান

    RSS: কান্দাকুর্তিতে ‘স্ফূর্তি মন্দির’ উদ্বোধন করলেন ভাগবত, আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের পৈতৃক গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত তেলঙ্গনার নিজামাবাদ জেলার কান্দাকুর্তিতে নবনির্মিত ‘স্ফূর্তি মন্দির’ (Spoorti Mandir) উদ্বোধন করেছেন। উল্লেখ্য, এই কান্দাকুর্তি গ্রামটি আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের পৈতৃক ভিটে।

    দেশপ্রেমের প্রেরণা জোগায় (RSS)

    শনিবার আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি আরএসএস (RSS) প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ এবং জাতির প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। ভাগবত বলেন, “কান্দাকুর্তি কেবল একটি গ্রাম নয়, এটি ত্যাগের একটি পবিত্র স্থান যা দেশপ্রেমের প্রেরণা যোগায়।”

    ঐতিহাসিক গুরুত্ব

    কান্দাকুর্তি গ্রামটি গোদাবরী, মঞ্জিরা এবং হরিদ্রা নদীর ত্রিবেণী সঙ্গমে অবস্থিত। হেডগেওয়ারের পূর্বপুরুষরা এখান থেকেই নাগপুরে চলে গিয়েছিলেন। নবনির্মিত এই স্মারক ভবনটি ডঃ হেডগেওয়ারের জীবন এবং তাঁর প্রদর্শিত পথের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে সেবামূলক কাজের অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাগবতের বার্তা

    সরসঙ্ঘচালক ভাগবত (Mohan Bhagwat) তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, ডঃ হেডগেওয়ার চেয়েছিলেন ভারত যেন বিশ্বগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত হয়। আর সেই স্বপ্ন পূরণে প্রত্যেক নাগরিককে চরিত্র গঠন এবং সমাজ সেবায় মনোনিবেশ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরএসএস-এর (RSS) পদস্থ কার্যকর্তারা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী এবং স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন। কান্দাকুর্তিতে এই স্মারকটি নির্মাণের ফলে গ্রামটি আগামী দিনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডঃ হেডগেওয়ারের পৈতৃক ভিটেবাড়িটিকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

  • Bangladesh: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় ‘মাজার’ প্রধানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন

    Bangladesh: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় ‘মাজার’ প্রধানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধানকে (Sufi shrine) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম শামীম রেজা (৫৫), যিনি এলাকায় ‘জাহাঙ্গীর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ওই মাজার পরিচালনা করতেন। অভিযুক্তরা সকলেই কট্টরপন্থীর সমর্থক বলে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ (Bangladesh)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে একদল লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শামীম রেজার (Sufi shrine) মাজারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আস্তানার ভেতরে থাকা শামীম রেজাকে তারা নির্বিচারে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।  হামলায় তাঁর আরও কয়েকজন অনুসারীও জখম হয়েছেন।

    পুলিশের বক্তব্য

    দৌলতপুর (Bangladesh) থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি পুরনো বলেই মনে হচ্ছে, তবে সেটি নতুন করে সামনে আসায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও জানান, শামীম রেজাকে (Sufi shrine) এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

    কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পুরানো একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।”

  • Ranveer Singh: নাগপুরে আরএসএস দফতরে রণবীর সিং, কেন জানেন?

    Ranveer Singh: নাগপুরে আরএসএস দফতরে রণবীর সিং, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস কর্তা মোহন ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জের তারকা অভিনেতা রণবীর সিং (Ranveer Singh)। তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুক্রবার তিনি গিয়েছিলেন নাগপুরে, বিজেপির সদর কার্যালয়ে (Mohan Bhagwat)।  সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, ভগবতের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অভিনেতা সাদা কুর্তা-পায়জামা পরেছিলেন। জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল ৪টা নাগাদ বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন ধুরন্ধরের তারকা। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান নাগপুরে, আরএসএসের সদর দফতরে। সেখানে তিনি ছিলেন ঘণ্টা দেড়েক।

    ভগবতের সঙ্গে সাক্ষাৎ (Ranveer Singh)

    জানা গিয়েছে, রণবীর আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের সঙ্গে দেখা করেন। আলোচনা করেন তাঁর ছবিটি নিয়ে। তাঁকে সংগঠনের কাজকর্ম ও সেবামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে জানানো হয়। রণবীর রেশিমবাগে অবস্থিত ড. হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দিরেও যান। সেখানে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেবি হেডগেওয়ার এবং সরসংঘচালক এমএস গোলওয়াকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সঙ্ঘের তরফে তাঁকে ওই দুই নেতার জীবন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। রণবীর সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আরএসএস সদস্যের সঙ্গেও কথা বলেন। রণবীরের এই সফর এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ১৯ মার্চ। রোজগার করেছে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি (Ranveer Singh)।

    প্রোপাগান্ডা বলে সমালোচনার কড়া জবাব

    তবে, অনেকেই এই ছবিটিকে প্রোপাগান্ডা বলে সমালোচনা করেছেন (Mohan Bhagwat)। সম্প্রতি, চলচ্চিত্র নির্মাতা সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সমালোচকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং ছবির পরিচালক আদিত্য ধর ও অভিনেতা রণবীর সিংকে সমর্থন করেন। ছবিটি দেখে তিনি প্রশংসাও করেন।

    তিনি লিখেছেন, “অনেক লেখক ও অভিনেতা প্রোপাগান্ডার ওপর কেরিয়ার গড়েছেন, আর ইন্ডাস্ট্রি চুপ করে থেকেছে। এখন একই দল ধুরন্ধরকে নিয়ে মজা করছে। আপনি নিজেকে লিবারাল বলতে পারেন না যদি আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় উপহাস করা। কবে থেকে সত্যকে প্রোপাগান্ডা বলা শুরু হয়েছে, জানি না… অদ্ভুত সময়। মূল কথায় আসি… আমি @আদিত্যধর ফিল্মস এবং @রণবীরঅফিসিয়ালকে বলতে চাই, এই খারাপ নজর এভাবে যাবে না… এক মুঠো লাল লঙ্কায় কাজ হবে না… পুরো ক্ষেত জ্বালাতে হবে (Mohan Bhagwat)। গত রাতে (Ranveer Singh) ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ দেখলাম… অসাধারণ ছবি (এসআইসি)।”

     

  • Mohan Bhagwat: “ভারত মানবতার নিয়ম মেনে চলে, যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করতে পারে”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: “ভারত মানবতার নিয়ম মেনে চলে, যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করতে পারে”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে মানবতার পাঠ দিলেন সরসংঘ চালক মোহন ভাগবত। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে আরএসএস (RSS) প্রধান বললেন, “ভারত মানবতার নিয়ম মেনে চলে, যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করতে পারে।” পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঘনীভূত সংঘাতের আবহে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) ভারতের শান্তিদূতের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেছেন।

    ভারত সর্বদা ‘মানবতার ধর্ম (Mohan Bhagwat)

    নাগপুরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বিশ্বের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভারতই একমাত্র দেশ যারা শান্তি ও সংহতির বার্তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ভারত সর্বদা ‘মানবতার ধর্ম’ বা মানবতার নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাপ্ত করতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভারতের সংস্কৃতি এবং ডিএনএ-তে হিংসা নয়, বরং শান্তি ও পরোপকার মিশে আছে। ভারত (RSS) কোনো দেশকে জয় করতে চায় না, বরং ভারত হৃদয় জয় করতে চায়।”

    বিশ্ব শান্তিতে ভারতের ভূমিকা

    আমেরিকা ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কথা উল্লেখ করে সরসংঘ (RSS) চালক মোহন ভাগবত বলেন, “যখন বিশ্বজুড়ে বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ সংঘাতে লিপ্ত, তখন ভারত মানবতার স্বার্থে মধ্যস্থতা করার ক্ষমতা রাখে। ভারতের প্রাচীন জ্ঞান এবং বর্তমান কৌশলগত অবস্থান দুই পক্ষকেই শান্ত করতে সহায়ক হতে পারে। ভারত কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। ভারতের কাছে ধর্ম মানে হল মানবতা। এই আদর্শকে পাথেয় করেই ভারত অতীতেও বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখাবে।”

    বর্তমান প্রেক্ষাপট

    মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা, হুমকি, পাল্টা হুমকির ফলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের নিরপেক্ষ এবং মানবিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। ভারত কোনো পক্ষ নেয় না, ভারত ন্যায়ের পক্ষ নেয়। আরএসএস (RSS) প্রধানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বড় প্রভাব ফেলছে। তাঁর মতে, ভারত যদি নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়ায়, তবে বর্তমান বিশ্বের বড় বড় যুদ্ধ ও বিবাদ মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম রাষ্ট্রদূত হুসেন হাসান মির্জাও বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটিমাত্র ফোনেই সংঘাতের সমাধান করতে পারেন। ইরান ও ইজরায়েলে মোদির একটি ফোন কলই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।”

  • RSS: “আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া উৎসাহজনক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ মুকুন্দ

    RSS: “আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া উৎসাহজনক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ মুকুন্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত উৎসাহজনক এবং অনুপ্রেরণামূলক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ। আরএসএসের জাতীয় স্তরের বার্ষিক সাধারণ সভা অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়ছে কেরলের সমালখায়। কেরালায় স্বয়ংসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজার হাজার মুসলিম ও খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন (Centenary Programmes)। সেখানে তাঁদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করা হয়। সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় আজ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ। ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে সভার উদ্বোধন করেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত এবং সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে।

    কেরলে আরএসএসের তিনদিনের সভা (RSS)

    তিনদিনের এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেরলের সমালখার পট্টিকল্যাণায় অবস্থিত মাধব সৃষ্টি ক্যাম্পাসে। সহ সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ সাংবাদিকদের সভার উদ্বোধন এবং সভা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রধান সুনীল আম্বেকরও। মুকুন্দ জানান, যেহেতু এই সভাটি আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই সারা দেশ থেকে ১৪০০-রও বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। সভার শুরুতে সম্প্রতি প্রয়াত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন শিবকথা বর্ণনাকারী সৎগুরু দাস মহারাজ, পরিবেশবিদ মাধব গাডগিল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা লোকসভার স্পিকার শিবরাজ পাটিল, পরিবেশকর্মী সালুমারাদা থিম্মাক্কা, প্রত্নতত্ত্ববিদ কেএন দীক্ষিত, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওল, তামিল চলচ্চিত্র প্রযোজক এভিএম সারাভানন, মিজোরামের প্রাক্তন রাজ্যপাল স্বরাজ কৌশল, শিক্ষাবিদ বিনয় হেগড়ে, কমিউনিস্ট নেতা আর নল্লাকান্নু এবং প্রবীণ সাংবাদিক তথা সম্পাদক প্রফুল্ল গোবিন্দ বরুয়া।

    কী জানালেন সহ সরকার্যবাহ

    সহ সরকার্যবাহ জানান, আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের সজ্জন শক্তির সমর্থন ও অংশগ্রহণ স্বয়ংসেবকদের অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে (Centenary Programmes)। আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ২ অক্টোবর ২০২৫ নাগপুরে শুরু হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। এর একদিন আগে ভারত সরকার আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট এবং একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করে। তিনি জানান যে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে দুই ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে-এক, সংগঠনের বিস্তার এবং দুই, সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো। এই প্রেক্ষিতেই গৃহ সম্পর্ক অভিযান চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কিছু প্রান্তে স্বয়ংসেবকরা ১০ কোটিরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছেছেন এবং প্রায় ৩.৯ লক্ষ গ্রামে গিয়েছেন। অন্যান্য অঞ্চলেও এই কর্মসূচি চলছে (RSS)। এই কর্মসূচিতে স্বয়ংসেবকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কোনও জাতি বা সম্প্রদায়গত পক্ষপাত ছাড়াই আরএসএস সম্পর্কে আলোচনা করেন।

    সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করাই লক্ষ্য

    কেরালার উদাহরণ দিয়ে মুকুন্দ জানান, সেখানে স্বয়ংসেবকরা ৫৫,০০০-এরও বেশি মুসলিম পরিবার এবং ৫৪,০০০-এরও বেশি খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা আন্তরিকভাবে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন (Centenary Programmes)। তিনি এও জানান, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৩৬,০০০-এরও বেশি হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলি শহর, গ্রাম এবং দূরবর্তী জনজাতি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাঁরা প্রথমবার এমন উষ্ণতা ও আত্মীয়তার অনুভূতি পাচ্ছেন। মুকুন্দ জানান, সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে নাগরিক সংগোষ্ঠীরও আয়োজন করা হয়েছে।

    পঞ্চ পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিবেশ

    এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে সমাজে পঞ্চ পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই পাঁচটি পরিবর্তন হল, সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা, আত্মগৌরব ও স্বদেশি ভাবনা, পরিবার ব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই জাতি ও সমাজকে মহান করা সম্ভব (RSS)। তিনি জানান, সরসংঘচালক মোহন ভাগবত রাজ্য রাজধানী ও চারটি প্রধান বড় শহরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার মহানগরের অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ১০০০-এরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে (Centenary Programmes)।

    ক্রমেই বাড়ছে আরএসএসের শাখা

    সংগঠনের বিস্তার সম্পর্কে তিনি জানান, গত এক বছরে দেশের বহু নতুন জায়গায় নতুন শাখা শুরু হয়েছে। আগামী বছরগুলিতে গ্রাম ও ছোট শহরে আরও বেশি শাখা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে (RSS)। আরএসএস নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। মণিপুরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার উন্নত পরিস্থিতিও উৎসাহজনক। এই প্রচেষ্টায় আরএসএস স্বয়ংসেবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পড়শি দেশ বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুকুন্দ। যদিও আশা করেন, আগামী দিনে তাঁদের অবস্থার উন্নতি হবে। মুকুন্দ বলেন, “আরএসএসের উদ্দেশ্য হল সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে জাতি গঠনের কাজে এগিয়ে যাওয়া।”

    আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি চলবে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে (RSS)।তিনি জানান, আরএসএস সারা বিশ্বের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে (Centenary Programmes)। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় সহ প্রচার প্রধান নরেন্দ্র ঠাকুর, প্রদীপ জোশি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা। আরএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশের ৫১,৭৪০টি জায়গায় ৮৩,১২৯টি শাখা পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫,৬৮৩ টি জায়গায় ৮৮,৯৪৯টি শাখা। অর্থাৎ এক বছরে ৩,৯৪৩টি নয়া জায়গা যেমন যুক্ত হয়েছে, তেমনি মোট শাখাও বেড়েছে ৫,৮২০টি। এটি সংগঠনের ধারাবাহিক বিস্তারকে নির্দেশ করে।

    জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭,০৪৮টি হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ। এই সম্মেলনগুলি শহর, গ্রাম, জনজাতি ও দূরবর্তী অঞ্চলেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পঞ্চ পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মূল বিষয় হল সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সচেতনতা (Centenary Programmes), কুটুম্ব প্রবোধন, আত্মগৌরব এবং নাগরিক কর্তব্য পালন (RSS)।

     

  • RSS: “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা,” বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা,” বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) জোর দিয়ে বলেছেন যে, সনাতন ধর্মের উন্নতি ও পুনরুত্থানের যে নিরন্তর প্রক্রিয়া চলছে। সংঘ তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা যা বিশ্বজুড়ে মানবতাকে পথ দেখায়। সংঘকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বরং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখুন যাতে এটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।”

    সনাতন ও ভারত (RSS)

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) উল্লেখ করে বলেন, “ভারত ও সনাতন ধর্ম একে অপরের পরিপূরক। ভারতের অস্তিত্ব ও পরিচিতি সনাতন ধর্মের আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে। ভারত জাগরিত হলে সনাতন ধর্মও জাগরিত হয়। সনাতন জাগ্রহ হলে দেশ এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।” রাজস্থানে সংঘের (RSS) একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন মোহন ভাগবত।

    সংঘের ভূমিকা

    সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সংঘ (RSS) কোনো নতুন মতাদর্শ প্রচার করছে না, বরং সনাতন ধর্মের প্রাচীন ও শাশ্বত মূল্যবোধগুলোকেই সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।” তিনি তাই স্বয়ংসেবকদের আহ্বান করে বলেন, “তারা ব্যক্তি চরিত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ব্রতী হন। সমাজ গঠন আর পুনঃনির্মাণ হলে ভারত রাষ্ট্রও সঙ্ঘবদ্ধ হবে।”

    তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে, তার সমাধান কেবল সনাতন ধর্মের প্রদর্শিত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ বিশ্বই এক পরিবার দর্শনের মাধ্যমেই সম্ভব। আরএসএস এই একতার ভাবধারাকে শক্তিশালী করতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি মনে করেন, যখন প্রতিটি ভারতীয় নিজের শিকড় ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, তখনই ভারত প্রকৃত অর্থে ‘বিশ্বগুরু’র আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে।

    ভারতের সাংস্কৃতিক সংহতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দাদা গুরু ঐতিহ্যের অবদান শীর্ষক একটি জাতীয় স্তরের সিস্পোজিয়াম ৭ এবং ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। যোধপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃত ভারতী ইন্সটিউট এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক অধ্যায়ন কেন্দ্র সহ বেশ কয়েকটি নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান অংশীদার হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। বিভিন্ন আচার্য সন্ন্যাসী এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। এখানে সরসংঘ (RSS) চালক বিশেষ ভাষণ রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।

  • RSS: “বাংলাদেশে ১.২৫ কোটি হিন্দু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করলেই নির্যাতন বন্ধ হবে”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “বাংলাদেশে ১.২৫ কোটি হিন্দু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করলেই নির্যাতন বন্ধ হবে”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইতে আরএসএস-এর (RSS) ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাঃ মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সেখানকার ১.২৫ কোটি হিন্দু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিলে তারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের সমর্থন পাবে।” বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের বিপক্ষে বেশি পরিমাণে হিন্দুরা একজোট হলে তবেই নির্যাতন বন্ধ হবে।

    বাংলাদেশ প্রসঙ্গে (Mohan Bhagwat)

    রবিবার মুম্বাইয়ের ওরলিতে অবস্থিত নেহেরু সেন্টারে আয়োজিত ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক ব্যাখ্যানমালার দ্বিতীয় দিনে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু আছে। তারা যদি সেখানে থেকে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন, তবেই নির্যাতন বন্ধ হবে। বিশ্বের সমস্ত হিন্দুরা তাদের সাহায্য করবে। পাশে দাঁড়াবে। ধর্ম এবং অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় গোটা বিশ্ব চিন্তিত।

    জনসংখ্যা ও অনুপ্রবেশ

    আরএসএস (RSS) প্রধান (Mohan Bhagwat) বলেন, “অতীতের সরকারগুলো ভারতের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি জন্মহার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশই দায়ী। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে এবং তা সফল হবে। দেশের উন্নতি এবং প্রগতিতে জনসংখ্যার ভারসাম্য অবশ্যই দরকার।”

    ভারতের অখণ্ডতা

    একই ভাবে ভাগবত কড়া ভাষায় দেশের অখণ্ডতা প্রসঙ্গে বলেন, “ভারতকে এখন আর দুর্বল করা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তারা নিজেরাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।”

    সংঘের অর্থায়ন ও জীবনযাত্রা

    সংঘের তহবিল নিয়ে অনেকের কৌতূহল দূর করতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat)  জানান, “আরএসএস (RSS) কোনো কর্পোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক টাকা নেয় না। সংঘের কর্মীরা নিজেরাই তহবিল সংগ্রহ করেন। ভ্রমণের সময় সংঘের কর্মীরা হোটেলে না থেকে অন্য কর্মীদের বাড়িতে থাকেন এবং নিজেদের টিফিন সাথে রাখেন।

    জাতিভেদ ও নেতৃত্ব

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) স্পষ্ট করে দেন, “আরএসএস-এ কোনো বৈষম্য নেই। যেকোনো জাতির মানুষই আরএসএস (RSS) প্রধান হতে পারেন। তফশিলি জাতি বা উপজাতি হওয়া কোনো অযোগ্যতা নয়, আবার ব্রাহ্মণ হওয়া কোনো বিশেষ যোগ্যতা নয়। সংঘ সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করে।”

    মুসলিম প্রধান এলাকা প্রসঙ্গে

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “মুসলিম প্রধান এলাকায় কোনো চ্যালেঞ্জ আসলে সংঘ সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় না। প্রতিপক্ষ গালিগালাজ করলেও সঙ্ঘের কর্মীরা শান্ত থেকে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেন। সংঘের একমাত্র লক্ষ্য হলো সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং এটি কোনো বিশেষ শক্তি বা রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার স্বার্থে কাজ করে না।

  • RSS: “সংঘ যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত: ভারত কোনও ভূগোল নয়, এটি একটি ‘স্ব-ভাব’-এর নাম”, বললেন ভাগবত

    RSS: “সংঘ যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত: ভারত কোনও ভূগোল নয়, এটি একটি ‘স্ব-ভাব’-এর নাম”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত “সংঘ (RSS) যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত” (100 Years of Sangh Journey – New Horizons) শীর্ষক ব্যাখ্যানমালায় মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) আরএসএসের আদর্শগত ভিত্তি, শাখার ভূমিকা, হিন্দু পরিচয়ের ধারণা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর এই বক্তব্য শোনার জন্য উপস্থিত ছিলেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরুতে এই ধরনের ব্যাখানমালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘ শতবর্ষে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়াই সংঘের কর্তব্য বলে জানিয়েছেন ভাগবত।

    সঙ্ঘের কাজের অনন্যতা (RSS)

    মুম্বইয়ে এদিনের ব্যাখান মালায় ভাগবত বলেন (Mohan Bhagwat), “সংঘের (RSS) কাজ বিশ্বে অনন্য। তথাগত বুদ্ধের পর ভারতের ইতিহাসে সংঘের মতো কাজ আর দেখা যায়নি। সংঘ কোনও আধাসামরিক বাহিনী বা রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতার বিষয়। সংঘ কারওর বিরোধিতার জন্য বা ক্ষমতার জন্য গঠিত হয়নি, বরং দেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে।”

    ইতিহাস ও সমাজ সংস্কার

    ভাষণ দিতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “এও হিউম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশদের একটি ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে, কিন্তু ভারতীয়রা একে স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেছিল।” তাঁর প্রশ্ন, আমাদের সমাজ কি সত্যিই একতাবদ্ধ? সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, কুসংস্কার এবং নিরক্ষরতা দূর না হওয়া পর্যন্ত জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। তাই এই লক্ষ্যে কাজ করাই আমাদের প্রধান কাজ।”

    হেডগেওয়ার ও সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা

    সংঘের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ার সম্পর্কে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হেডগেওয়ার ছিলেন একজন জন্মগত দেশপ্রেমিক। ১৯২৫ সালের বিজয়াদশমীর দিন তিনি হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সংঘের যাত্রার সূচনা করেন। সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা আজ দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি সেবা প্রকল্প পরিচালনা করছেন কোনও সরকারি সাহায্য ছাড়াই। অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন করেন। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় গ্রেফতার করেছিল।”

    শাখার ধারণা ও ঐক্য

    শাখা মানে দিনের মধ্যে এক ঘণ্টা সময় বের করে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ভগবদ্ ধ্বজের নীচে দাঁড়ানো। সেখানে জাতি, বর্ণ বা শিক্ষার কোনও পার্থক্য নেই। এটি শরীর, মন ও বুদ্ধিকে শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম।

    হিন্দু পরিচয় ও ভারত

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) মতে, “ভারতে যাঁরা বাস করেন তাঁরা সবাই হিন্দু। এখানে ‘হিন্দু’ কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নাম নয়, বরং এটি একটি বিশেষণ। তিনি গুরু নানকের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, ভারত হলো ‘ধর্ম-প্রাণ’ দেশ। ‘ধর্ম-নিরপেক্ষতা’র চেয়ে ‘পন্থ-নিরপেক্ষতা’ শব্দটি বেশি সঠিক।”

    ভারত ও বিশ্বগুরু

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ভারত কোনও ভৌগোলিক অভিব্যক্তি নয়, এটি একটি স্বভাব বা সংস্কৃতির নাম। ভারতের লক্ষ্য হল বিশ্বকে ধর্মের পথে চালিত করা এবং সেবা করা। ভারত কোনও ‘মহাশক্তি’ (Superpower) হয়ে অন্যদের ওপর দাদাগিরি করতে চায় না, বরং এটি ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে বিশ্বকে সঠিক পথ দেখাতে চায়।” ভাগবত তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও চরিত্র থেকে সারা বিশ্ব শিক্ষা নেবে। শিবাজি মহারাজের মতো মহান ব্যক্তিত্বের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে। সংঘ (RSS) গত শত বর্ষ ব্যাপী এই কাজই করছে।”

LinkedIn
Share