Tag: Mombasa

  • Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রচলিত পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় নতুন উৎসের দিকে ঝুঁকেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া (Petroleum Supplier)। আর সেই সুযোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে পেছনে ফেলে কেনিয়ার সবচেয়ে বড় শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।

    জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জির উদ্ধৃত বেলজিয়ামের পণ্যবাজার-তথ্য সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় পেট্রোল, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে ভারত এখন শীর্ষে। এর আগে এই বাজারে (Kenya) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির।

    কেনিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর জ্বালানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল কেনিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সেই নির্ভরতার জায়গায় এখন বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকল কেনিয়া (Petroleum Supplier)

    ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরামকো, আবুধাবির আদনক এবং এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মতো বড় উপসাগরীয় জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমেম শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহ করত কেনিয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী রফতানি পরিকাঠামো থাকায় সেই বাড়তি চাহিদা পূরণের সুযোগ পায় ভারত।

    কেনিয়ার জ্বালানি বাজার দাপাচ্ছে ভারতের ‘সিক্কা’

    তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জ্বালানি সরবরাহ জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে অগাস্টে নেমে প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। কেনিয়ার জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা যে বাড়ছে, তার প্রমাণ অবশ্য বছরের গোড়াতেই পাওয়া গিয়েছিল। ‘বিজনেস ডেইলি আফ্রিকা’র পর্যালোচনা করা সরকারি নথি অনুযায়ী, ভারতের সিক্কা বন্দর থেকে পাঠানো ৮ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার লিটার কেরোসিন গত ১৯ মার্চ কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে খালাস করা হয়। এর পর এপ্রিল মাসে সিক্কা বন্দর থেকে আরও ১৫ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার লিটার কেরোসিন ও ডিজেল পাঠানো হয়েছিল।

    পরিশোধন ক্ষমতায় ভারতের সুবিধা

    ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। তবে বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা গড়ে তোলার ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলকে প্রক্রিয়াজাত করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করতে পারে দেশটি। ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিশোধনকারী দেশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ভারতেই!

    দেশে বর্তমানে ২২টি চালু তেল শোধনাগার রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সবের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সও ভারতে অবস্থিত। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই বিশাল পরিশোধন কমপ্লেক্স ভারতের জ্বালানি রফতানির সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে (Petroleum Supplier)।

    আফ্রিকায় ভারতীয় জ্বালানির বড় বাজার

    কেনিয়ার বাজারে ভারতের উত্থান আফ্রিকায় ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ। আনাস আলহাজ্জির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে আফ্রিকায় ভারতের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক বছরের এই একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

    ইউরোপের জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল থেকে তৃতীয় কোনও দেশে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধের ফলে ভারতীয় জ্বালানির কিছু চালান ইউরোপের পরিবর্তে আফ্রিকা-সহ অন্য বাজারের দিকে যাচ্ছে (Kenya)। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল রফতানিকারী দেশ রাশিয়াও নিজেদের পরিশোধন ক্ষমতায় বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর ভারত থেকে কিছু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি শুরু করেছে। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগারগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

    কেনিয়ায় ভারতের রফতানি বাড়ল ১৫১ শতাংশ

    কেনিয়ার সঙ্গে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্যও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কেনিয়ায় ভারতের পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই হিসাব শুধু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য নয়, সব ধরনের পণ্য রফতানিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

    তবে সামগ্রিক রফতানি বৃদ্ধিতে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। জুলাই মাসে ভারতের বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি ৬৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের ৪১৩ কোটি ডলারের রফতানি বেড়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে হয়েছে ৬৯২ কোটি ডলার।

    নাইরোবিতে ভারতের হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ভারত। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩১ কোটি ডলার। এর মধ্যে কেনিয়ায় ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০১ কোটি ডলার এবং কেনিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ২৯ কোটি ডলার (Petroleum Supplier)। কেনিয়ায় ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যের তালিকায় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অন্যতম।

    বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে

    কেনিয়ার শীর্ষ পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের উঠে আসা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের তেল পরিশোধন শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারত এখনও ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের বিশাল পরিশোধন ক্ষমতার কারণে সেই অপরিশোধিত তেলকে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে বিদেশের বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

    কেনিয়ার পরিস্থিতি আরও দেখিয়ে দিচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে খুব দ্রুত দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহের পথ বদলে দিতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পূর্ব আফ্রিকায় উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহের ভূমিকা এতদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সেই ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি করেছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি।

    এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

    আফ্রিকার দিকে ভারতীয় জ্বালানি রফতানির এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের নতুন বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রচলিত রফতানি বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ায় আফ্রিকার বাড়তে থাকা চাহিদা ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য বিকল্প বাজার তৈরি করছে। এর ফলে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিকারী হিসেবে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kenya)।

    অন্যদিকে, কেনিয়ার জন্য ভারত থেকে বেশি জ্বালানি আমদানি করার অর্থ হল সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার সময়ে এটি দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরিবহণ খরচ, অপরিশোধিত তেলের দাম, তেল শোধনাগারের অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহ আগের মাত্রায় ফিরে আসে কি না, তার ওপর (Petroleum Supplier)।

  • Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। দুই দেশ আমেরিকা-ইরানের (US Iran Conflicts) মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত। মার্কিন হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। আর এই দুই মহাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Killed), আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

    নিহত ১ ভারতীয়, আহত আরও ৬

    জানা গিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ (Mombasa) ‘আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah)নামে দুটি আমিরশাহির তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ‘মোমবাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যোগাযোগ করা হচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও।

    কড়া প্রতিক্রিয়া আরব আমিরশাহির

    আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।

    কেন হামলা, জানাল ইরান

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, দু’টি ট্যাঙ্কার তাদের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিল। জাহাজগুলি নাকি নিজেদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ‘মাইন পাতা রুট’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই ওই জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। আইআরজিসি-র অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে আরও দেরি হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ঘটনার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের চেয়ে কম, তবুও বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আবার মার্কিন হামলা ইরানে

    পরপর তিনদিন ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছি। ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে এবং অবরোধও ফের কার্যকর করা হচ্ছে।” এদিকে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর করও আরোপ করেছে আমেরিকা।

    হরমুজের রক্ষাকর্তা আমেরিকা!

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনকে এই জলপথের রক্ষাকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং এর নতুন নাম দেবে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক দাবি-পাল্টা দাবি তুঙ্গে উঠেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার পাহারার কারণেই এতদিন এই রুট নিরাপদ ছিল, তাই বিশ্ববাসীর উচিত এর খরচ মেটানো। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সেনাদল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও মার্কিন বাহিনীর পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে গণ্য করা হবে। এই সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি।

LinkedIn
Share