Tag: Mosquito-borne Diseases

Mosquito-borne Diseases

  • West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসী। কিন্তু এর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার চোখরাঙানি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে বাড়তে পারে বিপদ। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। মশাবাহিত রোগের দাপটে প্রত্যেক বছরেই রাজ্যবাসীর ভোগান্তি বাড়ে। চলতি বছরে ম্যালেরিয়া (West Bengal Malaria Threat) নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের কয়েকটি জেলার গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলতি বছরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি (Health Alert West Bengal)।

    কোন কোন জেলায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহল এলাকা অর্থাৎ— ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুরের কিছুটা অংশে বাড়তে পারে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক অধিকর্তা জানাচ্ছেন, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এবং চলতি বছরে সংক্রমণের হার দেখেই এই জেলাগুলোর জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০২৪-২৪ সালে রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪-২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি ছিল। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার অধিকাংশই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। তাই চলতি বছরে এই জেলাগুলো নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে। তবে এর পাশপাশি কলকাতা নিয়েও উদ্বিগ্ন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় মশাবাহিত রোগের দাপট বেশি। প্রত্যেক বছর কলকাতায় কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখজনক। কলকাতা ঘনবসতিপূর্ণ শহর। তাই ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

    কেন ম্যালেরিয়া নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ায় নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে। ডেঙ্গির মতো ম্যালেরিয়া তাই প্রকট হতে পারে না। মৃত্যুর ঝুঁকিও কম থাকে। কিন্তু ম্যালেরিয়া সংক্রমণ হলে শরীরে একাধিক রোগের দাপট বাড়ে।‌ যা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া উদ্বেগ বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম ধাপেই ম্যালেরিয়া চিহ্নিত না হলে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া আক্রান্তের শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। জ্বর, বমি, মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গের পাশপাশি শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফুসফুস, লিভার এবং মস্তিষ্কের কার্যশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ফলে রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত কিনা, সেটা প্রথম পর্যায়ে চিহ্নিত করা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    কীভাবে বিপদ রুখবেন?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে হলে প্রথমে মশার দাপট কমানো জরুরি। বাড়ি এবং আশপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজরদারি জরুরি। নিকাশি ব্যবস্থাও ঠিক থাকা প্রয়োজন। জমা জলেই মশার বংশবিস্তার হয়। জনসচেতনতার পাশপাশি তাই স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বারবার জ্বর হলে, জ্বরের সঙ্গে বমি, পেট ও মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো দ্রুত রক্ত পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে। রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

LinkedIn
Share