Tag: mrfa deal

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

  • Super Rafale F5: বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি ‘সুপার রাফাল’! এমআরএফএ চুক্তির যুদ্ধবিমান কি চূড়ান্ত করে ফেলল ভারত?

    Super Rafale F5: বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি ‘সুপার রাফাল’! এমআরএফএ চুক্তির যুদ্ধবিমান কি চূড়ান্ত করে ফেলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহেই ভারতীয় নৌসেনার জন্য ৬৩ হাজার কোটি টাকায় ফ্রান্স থেকে রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার (Super Rafale F5)। আগামী এক-দু মাসের মধ্যেই ওই ফ্রান্সের সঙ্গে সরকারিস্তরে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে ভারত, এমন জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই চুক্তি হলে, তা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে চলেছে। তবে, এটা খবর নয়। কেন্দ্রীয় সূত্র মারফৎ নতুন যা তথ্য এসেছে, তা আরও চমকে দেওয়ার মতো। এক কথায়, শীঘ্রই সম্ভবত ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে হতে চলেছে ‘মাদার অফ অল ডিফেন্স ডিল’।

    যুদ্ধবিমানের বাছাই এক প্রকার সেরে ফেলেছে ভারত!

    শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মিডিয়াম রোল ফাইটার এয়ারক্র্যাফট বা এমআরএফএ চুক্তির (MRFA Deal) জন্য যুদ্ধবিমানের বাছাই এক প্রকার সেরে ফেলেছে ভারত। সূত্রের দাবি, সরকারিভাবে এখনও এই নিয়ে কোনও কথা না বলা হলেও, ভারত আবার রাফালকেই কিনতে চলেছে। তবে, এক্ষেত্রে ভারতীয় বায়ুসেনায় বর্তমানে রাফালের যে সংস্করণ ব্যবহৃত হচ্ছে, এমআরএফএ-তে সেই বিমান আসবে না। ভারত চাইছে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে একেবারে সর্বাধুনিক মডেল ‘সুপার রাফাল’-কে ঘরে তুলতে।

    কী এই ‘সুপার রাফাল’ (Super Rafale F5)

    ২০১৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রান্সের সঙ্গে গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) ডিল বা সরকারিস্তরে সরাসরি চুক্তি করেছিল ভারত। রাফালের কার্যকারিতা ও ক্ষমতা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ভারতীয় বায়ুসেনা। যে কারণে, সম্প্রতি নৌসেনার জন্য ২৬টি রাফাল-মেরিন (নৌ-সংস্করণ) কেনায় সম্মতি জানিয়েছে মোদি মন্ত্রিসভা। এই চুক্তিও সম্ভবত হতে চলেছে জি-টু-জি পদ্ধতিতে। তবে, ভারতীয় বায়ুসেনা বর্তমানে যে রাফাল ব্যবহার করছে সেটি এফ-৩ সংস্করণের। তবে, এমআরএফএ চুক্তির (MRFA Deal) জন্য ভারতের চাইছে একেবারে এই যুদ্ধবিমানের সর্বাধুনিক তথা এই শ্রেণির সবচেয়ে শক্তিশালী এফ-৫ সংস্করণ কিনতে। অন্তত, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বায়ুসেনার ইচ্ছা তেমনই। এই যুদ্ধবিমানকেই ‘সুপার রাফাল’ (Super Rafale F5) বলে অভিহিত করেছে বিমানটির ফরাসি প্রস্তুতকারক সংস্থা দাসো।

    ধারে-ভারে-ক্ষমতায় প্রায় পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুপার রাফাল’

    ভারত নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘অ্যামকা’ (AMCA) তৈরি করছে। ফলে, ভারত চাইছে এমন একটি চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যা ক্ষমতায় পঞ্চম প্রজন্মের মতো পাল্লা দিতে সক্ষম। রাফালের এফ-৩ সংস্করণটি কার্যত চতুর্থ প্রজন্মের। কিন্তু, এফ-৫ সংস্করণটি (Super Rafale F5) ধারে-ভারে-ক্ষমতায় প্রায় পঞ্চম প্রজন্মের। এই সংস্করণে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের একাধিক প্রযুক্তি রয়েছে। অন্তত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান এমনটাই। কারণ, এফ-৫ রাফাল জেটে যুক্ত করা হয়েছে এমন প্রযুক্তি, যা বর্তমান তো বটেই, এমনকী ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্যও আদর্শ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌলতে এই যুদ্ধবিমানকে ‘অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী এক ‘লয়াল উইংম্যান’-কেও।

    কী এই ‘লয়াল উইংম্যান’?

    আকাশ যুদ্ধে ‘লয়াল উইংম্যান’ কনসেপ্ট বা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে ভারত সহ বিশ্বের তামাম সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশ গবেষণা চালাচ্ছে। ভারতের ‘অ্যামকা’-তেও এই ‘লয়াল উইংম্যান’ কনসেপ্ট রাখা হয়েছে। ‘লয়াল উইংম্যান’ হচ্ছে একটি আনম্যানড্ কমব্যাট এরিয়াল ভেহিক্যল বা ইউসিএভি (UCAV)। এক কথায় সশস্ত্র মানববিহীন যুদ্ধবিমান। এটি মাদারশিপের (চালক যুদ্ধবিমান) সঙ্গে সুসংহত যোগাযোগ রেখে পাশাপাশি উড়বে। পেটে ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম ‘লয়াল উইংম্যান’ (Loyal Wingman) মাদারশিপের পাইলটের কমান্ডে যাবতীয় কাজ করবে। শুধু তাই নয়। প্রয়োজন পড়লে, পাইলট তথা মূল যুদ্ধবিমানকে বাঁচাতে নিজেকে বলিদান দেবে।

    ছায়াসঙ্গী সবচেয়ে ঘাতক ড্রোন

    ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ ল্য কর্নুর দাবি, নতুন এফ-৫ রাফাল (Super Rafale F5) জেটটি একটি স্টেলথ ফাইটার ড্রোন দিয়ে সজ্জিত হবে।” মন্ত্রীর কথার সত্যতা স্বীকার করে নেন রাফালের প্রস্তুতকারক সংস্থা দাসো-র সিইও এরিক ত্রাপিয়ে। তাঁর মতে, রাফালের সঙ্গে এই ইউসিএভি যুক্ত করলে আকাশ থেকে ভূমি এবং আকাশ থেকে আকাশ উভয় ক্ষেত্রেই মিশনের কর্মক্ষমতা এবং সাফল্যের শতাংশ বহুগুণ উন্নত হতে পারে।” তিনি আরও জানান যে, রাফাল এফ-৫ জেটের (Super Rafale F5) ইউসিএভি-র ওজন হবে ১০ টন এবং তার অস্ত্রবহন ক্ষমতা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ টন হবে। এছাড়া, পূর্বসূরি এফ-৪-এর তুলনায় এফ-৫ সংস্করণে আরও শক্তিশালী সাফরান ইঞ্জিন এবং সর্বাধুনিক ডেটা লিঙ্ক থাকবে। এতে মোতায়েন করা যাবে স্ক্র্যামজেট-নির্ভর হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে ০-২০ গুণ বেশি গতি) ক্ষেপণাস্ত্র, যা লড়াইয়ে যুদ্ধবিমানকে প্রভূত সুবিধা দেবে।

    এমআরএফএ নিয়ে ফ্রান্সের আগ্রহ

    কিন্তু, কেন রাফাল এফ-৫ (Super Rafale F5) নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? কেনই বা এই বিমানের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় কর্তারা? কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ফ্রান্স এবং উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে একাধিকস্তরে এমআরএফএ চুক্তি (MRFA Deal) নিয়ে আলোচনা চালিয়েছে ভারত। সূত্রের দাবি, আলোচনার টেবিলে ফ্রান্স ভারতের এই শর্তে রাজি হয়েছে যে, এমআরএফএ চুক্তি হলে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি বিমান ফ্রান্সে তৈরি হয়ে আসবে। বাকিগুলো ভারতেই তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, দাসোর সিইও ত্রাপিয়ে ভারতকে খোলা প্রস্তাব দিয়েছেন যে, তারা ভারতে রাফাল যুদ্ধবিমান উৎপাদনের একটি পৃথক অ্যাসেম্বলিং ইউনিট খুলতে ভীষণই আগ্রহী। শর্ত একটাই— যদি ভারতের থেকে ন্যূনতম ১০০টি যুদ্ধবিমানের বরাত মেলে তবেই। এদেশে দাসোর অ্যাসেম্বলি ইউনিট হলে, খরচ অনেকটাই কম হবে। পাশাপাশি, রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রচুর সুবিধা হবে। জানা যাচ্ছে, নৌসেনার জন্য রাফাল-এম যুদ্ধবিমানের চুক্তি করতে শীঘ্রই ভারতে আসতে পারেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ ল্য কর্নু। তখনই, এমআরএফএ চুক্তি (MRFA Deal) নিয়ে ফের বসা হবে বলে আশা।

    চুক্তি হলেই ভারতে অ্যাসেম্বলি ইউনিট

    এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, রাফাল এফ-৫ যুদ্ধবিমান (Super Rafale F5) এখনও হাতে পায়নি ফরাসি বায়ুসেনাই। ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আশা, ২০২৬-২৭ সালের মধ্যেই উৎপাদন শুরু হবে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এই যুদ্ধবিমান সেদেশের বায়ুসেনার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। ভারত যদি আগামী এক-দু বছরের মধ্যে এই চুক্তি করে নেয়, তাহলে, দাসো দ্রুত এদেশে অ্যাসেম্বলি ইউনিট তৈরির কাজ শুরু করতে পারবে। সেক্ষেত্রে, দাসোর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে ভারতের এক বা একাধিক বেসরকারি সংস্থাও। তেমনটা হলে, ২০৩২ সাল থেকেই ভারতের কারখানা থেকে রাফাল এফ-৫ বের হবে।

LinkedIn
Share