Tag: Mukesh Ambani

Mukesh Ambani

  • Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে (Ambani)। এই আবহে ফের সরব হলেন প্রযুক্তি দুনিয়ার ধনকুবের ইলন মাস্ক। সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনম্র ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করুন।” বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে (Elon Musk)।

    ভারতে নিজের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে মাস্ক লিখেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, আপনি ভারতের সাধারণ মানুষের উপর নিজের একচেটিয়া শোষণ বজায় রাখতে চাইবেন। তা সত্ত্বেও, স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেওয়ার কথা কি বিবেচনা করবেন?”

    তিনি আরও লিখেছেন, “অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও এমন বহু এলাকা রয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। স্টারলিঙ্ক তাদের জীবনকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে।”

    ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ঘিরে প্রতিযোগিতা (Ambani)

    স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক-সহ মোট তিনটি সংস্থা ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে টেলিযোগাযোগের অনুমোদন পেয়েছে। অন্য দু’টি সংস্থা হল ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। শেষের সংস্থাটি জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা।

    তবে অনুমোদন পেলেই পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। স্যাটেলাইট পরিষেবার জন্য বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগে এই শর্তগুলি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অন্তর্গত নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে (Ambani)।

    ‘একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতেই বাধা’

    বিতর্কের সূত্রপাত বুধবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ইউজারের পোস্টের জবাব দিতে গিয়ে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েক জন একচেটিয়া ক্ষমতাধর ব্যক্তি স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছেন।

    তিনি লেখেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় জনগণের উপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কয়েক জন ক্ষমতাধর ব্যক্তি আমাদের আটকে দিচ্ছেন। তাঁরা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন… এটি ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ!” মাস্কের এই অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিবৃতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। সেখানে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।

    মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, “স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই কাঠামো বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সমস্ত ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য সরকার একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো চালু করেছে।”

    ‘সব আইন মেনেও কেন অনুমোদন মেলেনি?’

    কেন্দ্রের বিবৃতির পর বৃহস্পতিবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতের সমস্ত আইন ও সরকারি শর্ত মেনে চলার পরেও স্টারলিঙ্ক এখনও পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

    তিনি লেখেন, “১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্ক অনুমোদিত। ভারতের সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করেছি। তা হলে এখনও অনুমোদন মিলছে না কেন? আম্বানিই কি ভারতের প্রকৃত বস?”

    শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়, যখন অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন মানুষের জীবন বাঁচাতে স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতে স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু পুরুষ, মহিলা ও শিশুর জীবন রক্ষা করতেও তা সাহায্য করতে পারে (Elon Musk)।

    সব মিলিয়ে, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমোদন ঘিরে স্টারলিঙ্কের দাবি, কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং মাস্কের একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এহেন আবহে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা কবে চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Ambani)।

     

  • Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই সফরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকের পরই বাংলায় নতুন লগ্নির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন (Reliance Investment) অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। বৈঠকে রাজ্যে সংস্থার একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠী আগেই পশ্চিমবঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। স্বাস্থ্য, আতিথেয়তা, পর্যটন, আবাসন এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি নতুন হাসপাতাল, একাধিক হোটেল এবং একটি বড় গল্ফভিত্তিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এদিকে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যে নতুন লগ্নি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। বুধবার নবান্নে রিলায়েন্সের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইন্টারনেট সংযোগ পরিকাঠামো (Reliance Investment)

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় দিঘায় সংস্থার তৈরি করা সমুদ্রতলের কেবল লাইন কেন্দ্রের বিষয়টিও উঠে আসে। এই প্রকল্প চালু হলে রাজ্যের ইন্টারনেট সংযোগ ও তথ্য আদানপ্রদানের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যে শিল্প বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রিলায়েন্সের পাশাপাশি রাজ্যে অন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে। আদানি গোষ্ঠী ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সেই বিনিয়োগের মধ্যে বন্দর, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, তথ্যকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে।

    ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা অম্বুজা নেওটিয়ার

    অম্বুজা নেওটিয়ার ঘোষিত ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। এই অর্থে কলকাতা, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে পাঁচটি নতুন হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আবাসন ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা এবং (Reliance Investment) গল্ফভিত্তিক একটি বড় আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। হোটেল ও পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স, দীঘা, সুন্দরবন, শান্তিনিকেতন ও রায়চকে হোটেল তৈরির পরিকল্পনার কথা সংস্থা জানিয়েছিল। কলকাতা ও শিলিগুড়িতে সম্মেলনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির কোনটি কবে বাস্তবায়িত হবে, কোথায় কোন প্রকল্প গড়ে উঠবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তার বিস্তারিত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছলে রাজ্যের শিল্প, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও আবাসন ক্ষেত্রে তার প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।

    রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির অন্যতম লক্ষ্য এখন বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। ফলে (Suvendu Adhikari) রিলায়েন্স, অম্বুজা নেওটিয়া এবং অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনাকে সেই বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Reliance Investment)।

     

  • Industrial Development in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানিরা! রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প-পরিবেশ নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Industrial Development in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানিরা! রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প-পরিবেশ নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদানির পর আম্বানি, রাজ্যে শিল্প ফেরাতে সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে নতুন শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে মরিয়া ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে বিশদে জানালেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে কত বিনিয়োগ আসছে, তার চেয়েও কর্মসংস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতে সিপিএম এবং গত পনেরো বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে জমে থাকা জট বা ‘ব্যাকলগ’ কাটিয়ে নতুন পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি

    রাজ্যে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুকেশ অম্বানির রিলায়্যান্স গোষ্ঠী। বুধবার কলকাতার মেলাপ্রাঙ্গণে শিল্পের জন্য জমি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমনটাই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অম্বানিরা রাজ্যে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যে আসতে পারে।’’ উল্লেখ্য, সোমবার মুম্বইতে অম্বানিদের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’য় গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। যোগ দেন তাঁদের বাড়ির গণেশপুজোয়। পরে মুকেশ অম্বানির সঙ্গে নৈশভোজও সারেন।

    রাজ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ!

    বুধবার রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে বার্তা দিয়ে শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘৩৩টি শিল্পসংস্থার হাতে শিল্পজমির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’’ বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপর যে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, সেকথা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমার ভাবনা হচ্ছে যে কত ইনভেস্টমেন্ট করলেন সেটা বড় কথা নয়, কত এমপ্লয়মেন্ট দিলেন তার উপরে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।”

    রাজ্যে শিল্পস্থাপনের সহায়ক পরিবেশ

    শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনওরকম হুমকি বা তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে সরাসরি সরকারকে জানানো যাবে।’’ এ জন্য টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। কোথাও কেউ হুমকি দিলে বা তোলাবাজির চেষ্টা করলে ওই নম্বরে অভিযোগ জানালে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’’ নতুন শিল্প প্রকল্প এলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিষেবা, পরিবহণ, সরবরাহ এবং ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের তরফে আশা করা হচ্ছে।

    শিল্পক্ষেত্রের জন্য জমি বরাদ্দ

    এদিন সরকারের তরফে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের জন্য জমি বরাদ্দের কথা জানানো হয়। তার মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প পার্কে এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। হরিণঘাটা, খড়্গপুর, পানাগড়, রঘুনাথপুর, ফলতা, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, নৈহাটি, কোচবিহার, সল্টলেক এবং অঙ্কুরহাটি-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলের নামও অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিল্পায়নের লক্ষ্যেই ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বিভিন্ন শিল্প পার্কে এই জমি দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, জমি বরাদ্দের মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাওয়া হবে।

    বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা

    শিল্পনীতি নিয়ে এ দিন পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাম আমলে শিল্পায়নের চেষ্টা থাকলেও দলের অবস্থান ছিল নেতিবাচক। তাঁর আরও বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলে জমি নীতির কারণে শিল্পের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়ার প্রসঙ্গও তিনি তোলেন। পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতির সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আগের সরকারে ‘ইনসেন্টিভ’ বা বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যত গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান সরকার শিল্পে উৎসাহ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে।’’ রাজ্যের নতুন খসড়া শিল্প নীতি (Draft Industrial Policy) প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই নীতিতে ইনসেন্টিভ বা উৎসাহভাতার বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত খসড়াটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের (CS) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব নিজের দফতরের সমস্ত হেড অফ ডিপার্টমেন্টদের নিয়ে তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে ক্যাবিনেটে পেশ করবেন। এরপর মন্ত্রিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই তা কার্যকর হবে। তবে পূর্বের শাসনকালগুলির অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতেও ছাড়েননি তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্য, অতীতে সিপিএম আমল এবং বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানায় অর্থনীতির বেহাল দশা হয়েছে। সেই পুরনো জমানার জঞ্জাল বা ব্যাকলগের বোঝা আর বর্তমান সরকার বহন করতে পারবে না। সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানমুখী ইনসেন্টিভ এবং স্বচ্ছ নীতির হাত ধরেই বাংলা শিল্পচিত্রে নতুন যুগ দেখবে বলে বার্তা শুভেন্দুর।

    পরিকাঠামোগত সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার পাশে থাকবে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে জমির ব্যবহার এবং পরিকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলেই আশা সরকারের। আরও শিল্প আসবে। শিল্প সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং আম্বানি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যদিও সেই আলোচনার সব কথা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাননি তিনি, তবে আদানি গোষ্ঠী যে বাংলার একাধিক সেক্টরে কাজ করতে চলেছে, সে বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস মিলেছে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বা টিম রাজ্যে পাঠাচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। পাশাপাশি শিল্পপতি গৌতম আদানি আজ সকাল ১১ টায় নিউটাউনে প্রায় দু’হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ বা হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলেও জানান তিনি।

     

     

     

     

  • Suvendu-Ambani Meeting: অ্যান্টিলিয়ায় আম্বানিদের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক, বাংলায় বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত!

    Suvendu-Ambani Meeting: অ্যান্টিলিয়ায় আম্বানিদের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক, বাংলায় বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। বাংলায় রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগ, বর্তমানে চালু থাকা ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং একাধিক নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রিলায়েন্সের তরফেও বৈঠকের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অ্যান্টিলিয়ায় প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক

    শিল্পমহলের নজরে থাকা এই বৈঠকটি হয় মুম্বইয়ে আম্বানি পরিবারের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-য়। সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং রাজ্যে রিলায়েন্সের ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োগ্যাস-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বৈঠকের আগে থেকেই অবশ্য বাংলায় রিলায়েন্সের বিনিয়োগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কয়েক দিন আগে একটি শিল্প সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন, অনন্ত আম্বানির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেখানেই রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ডেটা সেন্টার এবং সেমিকন্ডাক্টর হাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “অনন্ত আম্বানির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি ও মুকেশ আম্বানি বাংলায় আসছেন। বাংলায় বিনিয়োগ করবেন ওঁরা। ডেটা সেন্টার ও সেমি কন্ডাক্টর হাবে কাজ করবেন।” এরপর গণেশ উৎসবের পর মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকের কথা প্রকাশ্যে জানান শুভেন্দু। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, এই সফর কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি বাংলায় বড় বিনিয়োগের রূপরেখা তৈরিই মূল লক্ষ্য?

    ‘বনতারা’ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা?

    শুধু শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্র নয়, আম্বানিদের ‘বনতারা’ প্রকল্প নিয়েও বাংলার সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, পূর্ব ভারতে বন্যপ্রাণ ও সংরক্ষণকেন্দ্রিক একটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার চাইছে উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অথবা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের অরণ্যাঞ্চলকে সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য তুলে ধরতে।

    সম্প্রতি পুরুলিয়া সফরে গিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রথম বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার সঙ্গে ‘বনতারা’-র সম্ভাব্য প্রকল্পের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই মুহূর্তে বাংলায় বনতারা প্রকল্প স্থাপনের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বিষয়টি এখনও সম্ভাবনার স্তরেই রয়েছে।

    বাংলায় ইতিমধ্যেই রিলায়েন্সের জমি

    বাংলায় রিলায়েন্সের বিনিয়োগের সম্ভাবনা একেবারে নতুন নয়। নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হাবে ইতিমধ্যেই ডেটা সেন্টারের জন্য রিলায়েন্সকে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। ফলে মুম্বইয়ের এই বৈঠককে শুধু নতুন বিনিয়োগের আলোচনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। রাজ্যে রিলায়েন্সের ইতিমধ্যে থাকা ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করা এবং নতুন ক্ষেত্রের দরজা খোলার বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    শিল্পমহলে বিনিয়োগ ঘিরে তৎপরতা

    মে মাসে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ টানার উদ্যোগের কথা বারবার সামনে এনেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সরকারের দাবি, নতুন শিল্প স্থাপন, পুরনো শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    সম্প্রতি আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর সঙ্গেও বাংলায় বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিল্পমহলে আরও একাধিক বড় গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের যোগাযোগের খবর সামনে এসেছে। এই আবহে রিলায়েন্সের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    আদানি গোষ্ঠীর প্রকল্পও সামনে

    একই সময়ে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর প্রকল্প নিয়েও তৎপরতা চলছে। নিউ টাউনে ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে গোষ্ঠীটির। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের শিলান্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে এবং গৌতম আদানির উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পটির জন্য ১,০০০ শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রাখার পরিকল্পনার কথাও আগে জানানো হয়েছে।

    এদিকে দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও রয়েছে। শিল্প স্থাপন ও ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিকে সামনে রেখে একাধিক শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার।

    এই আবহে মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক বাংলায় রিলায়েন্সের পরবর্তী বিনিয়োগ-পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে কোন প্রকল্পে কত বিনিয়োগ হবে, তার চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও হয়নি।

  • Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রাজ্যে পালাবদলের পর বেসরকারি লগ্নির একাধিক প্রস্তাব এলেও আবেদনকারী সংস্থার বিস্তারিত তথ্য ও অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখেই বিনিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। বিতর্কে থাকা কোনও সংস্থাকে কোনওভাবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।’ শুক্রবার ফের সরকারের এমন নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    এদিন সল্টলেকের একটি শপিং মলে বিপণির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সরকারের অবস্থান (DRDO Project) ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে সেই প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। শীঘ্রই প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা সরকারের তরফে জানানো হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও রাজ্যে একটি বড় প্রকল্প তৈরি করতে চলেছে। তাঁর কথায়, “ডিআরডিওর তরফে পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলের জুনপুটে একটি বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত ভাবে পরে জানাব।”

    উল্লেখ্য, বাম আমলে কাঁথি মহকুমার হরিপুরে সমুদ্রসৈকতের কাছে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী তৃণমূলের তরফে প্রকল্পটির বিরোধিতা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন হরিপুর থেকে অল্প দূরত্বে জুনপুটে ডিআরডিওর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির কাজও ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

    এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হলেও, কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। আমি এসে তাদের সেই চিঠির জবাব দিয়েছি। ওখানে বড় প্রকল্প হবে। তাকে ঘিরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে সেখানে।”

    রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশের ভাবমূর্তি বদলাতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পায়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তবে শিল্প ও বাণিজ্য টানার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এ দিন স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।

    তিনি (Suvendu Adhikari) বলেন, “যেসব সংস্থা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আসছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সংস্থাগুলি দুর্নীতির টাকায় চলছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও প্রতারণা বা তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে।”

    পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে আক্রমণ

    এ দিন পূর্বতন সরকারের শিল্প নিয়ে অনীহার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে রাজ্যে বাণিজ্য ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে গত চার মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ঘটা করে শিল্প-বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও বাস্তবে সেই অনুপাতে বিনিয়োগ আসেনি। তাঁর দাবি, “তখন শুধুমাত্র ছবি তোলার পর্ব চলত।”

    বর্তমান সরকার (DRDO Project) সেই পরিস্থিতি বদলাতে প্রথমে জমির ব্যবস্থা, ব্যাঙ্কের অর্থায়ন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। এরপরই শিল্পসংস্থা ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    অনন্ত আম্বানির সঙ্গে লগ্নি নিয়ে কথা

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি এবং তাঁর বাবা মুকেশ আম্বানির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে অনন্ত আম্বানির কথা হয়েছে। অনন্ত এবং ওঁর বাবা মুকেশ আম্বানি এখানে লগ্নি করা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ওঁরা আমাকে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণেশ চতুর্থীর পরেই ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাব।”

    সরকারের দাবি (Suvendu Adhikari), জমি, অর্থায়ন ও পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো বিষয়গুলি আগে নিশ্চিত করে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার নীতিও বজায় রাখা হবে।

     

  • Reliance: ভারতের নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে ১০ লাখ কোটি টাকা লগ্নি করবে রিলায়েন্স

    Reliance: ভারতের নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে ১০ লাখ কোটি টাকা লগ্নি করবে রিলায়েন্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার এক বিরাট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উদ্যোগর ঘোষণা করলেন বিলিয়নিয়ার শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি। তিনি জানান, রিলায়েন্স (Reliance) ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জিও আগামী সাত বছরে ১০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ভারতের নিজস্ব এআই সক্ষমতা (AI Infrastructure) গড়ে তুলতে এবং দেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের পথে দ্রুত এগিয়ে নিতে।

    ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (Reliance)

    ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান বলেন, “এই বিনিয়োগ কোনও জল্পনাভিত্তিক পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অঙ্গীকার।” তাঁর দাবি, জনসংখ্যাগত শক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, বিপুল তথ্য উৎপাদন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের তুলনাহীন সুবিধা রয়েছে। আগামী কয়েক দশকে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান এআই শক্তি হয়ে উঠতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আম্বানি জানান, জিও ইন্টেলিজেন্সের অধীনে শক্তিশালী দেশীয় কম্পিউট পরিকাঠামো গড়ে তুলতে তিনটি প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এআই-প্রস্তুত ডেটা সেন্টার নির্মাণ

    প্রথমত, বহু-গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এআই-প্রস্তুত ডেটা সেন্টার নির্মাণ, যার মধ্যে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জামনগরে ১২০ মেগাওয়াটেরও বেশি সক্ষমতা চালু হওয়ার কথা। এটি বৃহৎ পরিসরে এআই প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্স সক্ষমতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
    দ্বিতীয়ত, রিলায়েন্সের নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা কাজে লাগানো, কচ্ছ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ গিগাওয়াট পর্যন্ত অতিরিক্ত সবুজ বিদ্যুৎ এআই পরিকাঠামোকে শক্তি জোগাবে। তৃতীয়ত, জিওর টেলিকম নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত দেশব্যাপী এজ কম্পিউট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা ব্যবহারকারীদের কাছাকাছি কম বিলম্বে ও সাশ্রয়ী মূল্যে এআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে (Reliance)।

    ভারতের ডিজিটাল পরিসর

    ভারতের ডিজিটাল পরিসরের কথা উল্লেখ করে আম্বানি বলেন, “দেশে প্রায় ১০০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম কম ডেটা খরচ এখানে। পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি স্টার্টআপ ও ১০০-র বেশি ইউনিকর্ন নিয়ে একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আধার এবং ইউপিআইয়ের মতো ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো দ্রুত এআই গ্রহণের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। জিওর ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহকভিত্তি বুদ্ধিমান পরিষেবাকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে বলেও জানান (AI Infrastructure) তিনি। আম্বানি বলেন, “কম্পিউটিং শক্তির খরচ কমানোই ভারতের এআই স্বপ্ন পূরণের কেন্দ্রীয় শর্ত। ভারত বুদ্ধিমত্তা ভাড়া করে নিতে পারে না।” টেলিকম খাতে যেমন জিও ডেটার মূল্য কমিয়ে বাজারে পরিবর্তন এনেছিল, তেমনভাবেই এআই ব্যবহারের খরচ কমানোই তাদের লক্ষ্য।

    এআই রূপান্তরমূলক শক্তি

    এআইকে তিনি এক রূপান্তরমূলক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে পৌরাণিক ‘অক্ষয় পাত্রে’র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর মতে, এটি জ্ঞান, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতায় সীমাহীন উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, বিশ্ব এআই পরিসর এখনও উন্নত অর্থনীতিতে কেন্দ্রীভূত কম্পিউট ক্ষমতা ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক প্রবেশাধিকারের প্রয়োজনের মধ্যে বিভক্ত (Reliance)। ভারতের পথ হওয়া উচিত নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে এআইকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবার নাগালের মধ্যে রাখা—যাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের যুগে ভারত গ্লোবাল সাউথের উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে (AI Infrastructure)।

     

LinkedIn
Share