Tag: Multilateralism

  • BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক আঞ্চলিক সংকটের আবহে এবারের সম্মেলনে সমষ্টিগত স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর (Food Energy Resilience) উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে ভারত। খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল—এই ক্ষেত্রগুলিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    বিশ্ব অর্থনীতির নয়া চাপ (BRICS Summit)

    নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এখনও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে একটি কার্যকর সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই ভারতের এবারের সভাপতিত্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। ফলে এবারের বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্র

    তবে সম্মেলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি কি যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে? পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ফলে সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ব্রিকসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট ২০২৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। সেই সময় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।

    গত বছর বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামকে অংশীদার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বেড়েছে।

    বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশে মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বসবাস করে। বিশ্ব মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই গোষ্ঠী। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি

    ভারতের এবারের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই সারা বছর ধরে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ভারতের মূল ভাবনা হল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমন একটি জনকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যার ভিত্তি হবে “মানবতা সর্বাগ্রে”—এই ধারণা (Food Energy Resilience)।

    ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিও আলোচনা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের জায়গাগুলি নিয়েও রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন।

    ব্রিকসের লক্ষ্য

    ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই অংশীদারিত্বের তিনটি মূল স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (BRICS Summit)।

    ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলনের সূচনা হবে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠকের বিষয় “অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব পরিচালনব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ”। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রনেতারা “ভারত উদ্ভাবন প্রদর্শনী” পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে হবে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্র গ্রহণ এবং তার পর যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    শনিবারের কর্মসূচির শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে (BRICS Summit)।

    রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ, অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে হবে আনুষ্ঠানিক দলগত আলোকচিত্র গ্রহণ। এরপর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে মূল উন্মুক্ত অধিবেশন (BRICS Summit)। এর বিষয় “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ” (Food Energy Resilience)।

    শেষ পর্বের কর্মসূচি

    দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শেষ পর্বে প্রকাশ করা হবে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র। তবে তার আগে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বাণিজ্যিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তখন ব্রিকস সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এবারের সম্মেলনেই তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাওয়া যেতে পারে (BRICS Summit) বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (UN Security Council Reform) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি ফের জোরালোভাবে তুলল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সাধারণ পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ভারত বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার ভারত (India)

    স্থানীয় সময় ১৪ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, “ভারতের কাছে ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ হল, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম করা। সেই কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সর্বাত্মক সংস্কার, সাধারণ পরিষদের পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত— টেকসই উন্নয়নের এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।”

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে

    রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে (India)।” নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন হরিশ। তিনি বলেন, “আশি বছর আগের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আর যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘ এখনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। আন্তঃসরকারি আলোচনার কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রস্তুত বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর পদক্ষেপও মূলত কাগজেই রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

    আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আন্তঃসরকারি আলোচনার বিষয়ে যে সুপারিশগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই আলোচনার সহ-সভাপতিরা তৈরি করেছিলেন, পরিকল্পনার সহ-সমন্বয়কারীরা নন। ওই অংশ নিয়ে ভারতের গুরুতর আপত্তি থাকলেও, গঠনমূলক মনোভাব থেকেই ভারত এই কর্মপরিকল্পনা সমর্থন করেছে (UN Security Council Reform)।” আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিত অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং উন্নয়নমুখী হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল দায়িত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে সব আন্তরিক উদ্যোগকে ভারত (India) সমর্থন করে যাবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করে তোলাই আমাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত (UN Security Council Reform)।”

     

  • Finnish President: “বৈশ্বিক শক্তির গতিপথ দ্রুত সরে যাচ্ছে নয়াদিল্লির দিকে”, বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

    Finnish President: “বৈশ্বিক শক্তির গতিপথ দ্রুত সরে যাচ্ছে নয়াদিল্লির দিকে”, বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বৈশ্বিক শক্তির গতিপথ দ্রুত সরে যাচ্ছে নয়াদিল্লির (New Delhi) দিকে।” কথাগুলি বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট (Finnish President) অ্যালেকজান্ডার স্টাব। ভারতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর যুক্তি, ভারতের জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক শক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টাব আগামী দশক সম্পর্কে একটি পূর্বাভাস দেন। তিনি বলেন, “প্রথমত, আমি মনে করি ভবিষ্যৎটা ভারতেরই। আমি এখন ভারতে আছি, তা-ই বলছি, কিংবা কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানোর জন্য বলছি, তা নয়। আমার মতে জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং ইতিহাস—সবই ভারতের পক্ষে কথা বলছে।”

    মোদি-স্টাব বৈঠক (Finnish President)

    রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেন স্টাব। পরে তিনি এই বৈঠককে অসাধারণ বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে এটি ফিনল্যান্ড ও ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন,
    “এটি সত্যিই চমৎকার। আমি খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি। এরপর রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিয়েছি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।” ২০১৩ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন স্টাব। সেই বারের সফরের কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন ভারতের দ্রুত উন্নয়নের কথাও। তিনি বলেন, “আমি শেষবার এখানে এসেছিলাম ২০১৩ সালে। এখন উন্নয়ন, পরিকাঠামো, রাস্তা এবং ভবনগুলি দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। ভারতে ফিরে আসতে সব সময়ই ভালো লাগে (Finnish President)।”

    চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সদ্য স্বাক্ষরিত মউয়ের পারস্পরিক সুবিধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এই মউগুলি স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক বিনিময় আরও ভালো হবে। এটি দুই দিক থেকেই লাভজনক হবে (New Delhi)।” মুম্বই সফরের সময় প্রেসিডেন্ট স্টাব ২৬/১১ জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে তাজ প্যালেস হোটেলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ সর্বত্রই একটি বড় হুমকি। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের হামলাগুলি ছিল ভয়াবহ। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার পক্ষে বড় সম্মানের (New Delhi)।” পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন যে বর্তমান বিশ্ব পরিবর্তনের সময় পার করছে এবং পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন (Finnish President)।

    বিশ্বব্যবস্থা সময়ে সময়ে বদলায়

    তিনি বলেন, “বিশ্বব্যবস্থা সময়ে সময়ে বদলায় এবং এখন আমরা সেই পরিবর্তনের সময় দেখছি। আমি চাই এটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে হোক, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ম ও মানদণ্ডের মাধ্যমে, কেবল বহুমেরু ক্ষমতার লড়াই নয়, যেখানে কেবল স্বার্থ, চুক্তি ও লেনদেন প্রাধান্য পায়। বাস্তবে হয়তো এর মাঝামাঝি কিছু একটা ঘটবে।” ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমী দেশগুলিকে ভারতের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে আমি আনন্দিত। আমার পশ্চিমী বন্ধুদের বলছি, যদি আমরা বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চাই, তাহলে আজকের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার টেবিলে যথাযথ ক্ষমতা ও জায়গা দিতে হবে (Finnish President)।”

    ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে ভারত

    তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত ১৯৪৫ সালের যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার বদলে বর্তমান সময়ের প্রতিফলন করা। আমরা ১৯৪৫ সালের পৃথিবীতে বাস করছি না, তাই প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন হওয়া উচিত নয়। এগুলিকে ২০২৬ সালের পৃথিবীকে প্রতিফলিত করতে হবে। তাই আমি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের আহ্বান জানিয়েছি (New Delhi)।” নিজের গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে স্টাব বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজের ভবিষ্যতের জন্য ভারতের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ‘দ্য ট্রায়াঙ্গল অফ পাওয়ার’ (The Triangle of Power) নামে একটি বই লিখেছি। সেখানে আমি দেখিয়েছি যে গ্লোবাল সাউথ ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে, এবং তার নেতৃত্ব দেবে ভারত (Finnish President)।”

     

LinkedIn
Share