Tag: Murshidabad

Murshidabad

  • Beldanga Violence: বেলডাঙায় পৌঁছল এনআইএ, সঙ্গে ফরেন্সিক দল! স্বাগত জানালেন শুভেন্দু-সুকান্ত, বিজেপির দাবিই কী সত্যি?

    Beldanga Violence: বেলডাঙায় পৌঁছল এনআইএ, সঙ্গে ফরেন্সিক দল! স্বাগত জানালেন শুভেন্দু-সুকান্ত, বিজেপির দাবিই কী সত্যি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙায় অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে ৷ ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে খুন হন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিক ৷ তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছতেই অশান্ত হয়ে ওঠে এলাকা ৷ দীর্ঘ দু’দিন ধরে অশান্তি হয় ৷ এরপর পরিস্থিতি খানিক নিয়ন্ত্রণে আসে ৷ এবার এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ৷ কেন টানা দু’দিন বেলডাঙায় অশান্তি হল, তা পরিকল্পিত ছিল কি না, কেন্দ্রীয় সংস্থা তা যাচাই করে দেখবে।

    এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ

    শনিবার সকালেই কেন্দ্রীয় সংস্থার ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল বেলডাঙা থানায় পৌঁছে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এনআইএ-র কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। তদন্তকারীরা থানায় কেস ডায়েরি এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত বেলডাঙার ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত-সহ ৩৬ জনকে। এনআইএ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরাও আছেন। সূত্রের খবর, সাত থেকে আট সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

    কী ঘটেছিল বেলডাঙায়

    ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। তার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও।

    পরিকল্পিত ভাবে অশান্তি বেলডাঙায়

    বেলডাঙায় (Beldanga Violence) সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়। রাস্তা অবরোধ এবং ট্রেন আটকে দেওয়ায় বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

    পিএফআই আর সিমি-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠন জড়িত

    এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ৷ তাঁরা দুজনেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ৷ এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর আগেও মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল ৷ সে সময় আমি কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম ৷ তাতে আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল তা এখনও বহাল হয়েছে ৷ কিন্তু জেলা প্রশাসন সেই নির্দেশ মানেনি ৷ এরপর আবারও বেলডাঙায় হিংসার ঘটনা ঘটে ৷ এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই ৷ বেলডাঙায় যা হয়েছে সেটা প্রতিবাদ নয়, দেশ বিরোধী আচরণ ৷ পিএফআই আর সিমি-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠন এই অশান্তির নেপথ্যে আছে ৷”

    খুন নয় আত্মহত্যাই

    ঝাড়খণ্ডে গত সপ্তাহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল, সেই পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ আত্মহত্যাই করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃত শ্রমিকের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তদন্তে খুন বা কোনও ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়েছে, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর পর তদন্তের অংশ হিসেবে এক সাব-ইন্সপেক্টর ঝাড়খণ্ডের পালামুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওই এলাকায় বসবাসকারী ৮ থেকে ১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বয়ান নেওয়া হয়। তবে তাঁদের কেউই খুনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিজেপির দাবি, বেলডাঙার হিংসা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিযোগ করেন, এই অশান্তি স্বতঃস্ফূর্ত নয় এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কারা উপকৃত হল এবং কেন প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ নিল না।

    সঠিক তদন্ত করবে এনআইএ, প্রকাশ্যে আসবে সত্য

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা সকলে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই ৷ সেদিন যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল তার থেকে স্পষ্ট এর নেপথ্যে কোনও বড় চক্রান্ত ছিল ৷ এনআইএ রাজ্য পুলিশের আওতার বাইরে ৷ আমি আশা করি, তারা সঠিক তদন্ত করে লুকিয়ে থাকা সত্যটা প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারবে ৷ ” বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার তদন্তভার এনআইএ গ্রহণ করতেই রাজ্য পুলিশের কাছেও পৌঁছেছে একটি নির্দেশ। শুক্রবার পুলিশকে বিশেষ এনআইএ আদালতের নির্দেশ, অশান্তির ঘটনা সংক্রান্ত সমস্ত নথি যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

  • Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ হিংসার মাঝে পড়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। দোষী ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে এটি দ্বিতীয় দোষী সাব্যস্তের নজির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই সাজায় (Samserganj Verdict) অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    নিহতদের পরিবারের পাশে বিজেপি

    সামশেরগঞ্জের (Shamsergunj) ঘটনা নিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত যে রায় শুনিয়েছে তাতে যেমন খুশি নন হরগোবিন্দ দাস (Hargovinda Das) ও চন্দন দাসের (Chandan Das) পরিবার, তেমনই অখুশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই রায়ের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যাবেন। পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এও বলেন, তাঁদের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা হয়নি দোষীদের। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী ও চন্দন দাসের মা পারুল দাস। তাঁদের বক্তব্য, বাড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও পুলিশ (WBP) আধিকারিকরা বলে এসেছিলেন যে ফাঁসি হবে, কিন্তু হল না। তাঁরা ফাঁসি ছাড়া কিছু চাইছেন না। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুভেন্দুর বক্তব্য, পুলিশের সিট (SIT) সবাইকে একই দোষে দোষী দেখিয়েছিল। আসলে লক্ষ্য একটাই – এদের বাড়ির ভাতের বদলে জেলের ভাত খাওয়ানো। এদের বাঁচিয়ে রাখা। বিরোধী দলনেতা এই ইস্যুতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার উচ্চ আদালতে গেলে তাঁরা সর্বোচ্চ আইনি সাহায্য করবেন। দরকারে কলকাতা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করা হবে।

    কীভাবে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা

    ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে উত্তেজিত জনতা জাফরাবাদ এলাকায় হত্যা করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে খুন, দাঙ্গা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, লুটপাট ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন— দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব ওরফে কালু নাদাব, এনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল শেখ, একবাল শেখ, নুরুল শেখ, সাবা করিম, হাজরত শেখ, হাজরত আলি, আকবর আলি ওরফে একবার শেখ এবং ইউসুফ শেখ। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই মামলাটি রাজ্যের অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলা। ২৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয়।”

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

    আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে দুই দফা হামলা প্রতিহত করেছিলেন নিহতরা। তবে তৃতীয়বার হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাঁদের হত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা আদালতে ঘটনার বিবরণ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পরিবারের দাবি, পুলিশের জন্যই দোষীদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়নি। তাদের যাবজ্জীবন হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ সময়মতো পৌঁছালে প্রাণহানি এড়ানো যেত। নিহত চন্দন দাসের মা পারুল দাস জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি আরও বলেন, টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্য দেখে তিনি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। এসআইটি-র চার্জশিট অনুযায়ী, এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    মুখ্যমন্ত্রীর অনৈতিক দাবি

    ঘটনার সময় রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এই অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির দায়িত্ব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন, এই ধরনের রাজনীতি সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। যদিও বিচারচলাকালীন দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা-ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে আগুনে নতুন করে ঘি পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গড়া হয় জেলা পুলিশের তরফে। একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্তরা। শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চলে শুনানি। ২২ তারিখ, সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জঙ্গিপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২), ৩১০(২), ৩৩১(৫), ১৯১(৩), ১২৫(২), ১২৬(২) , ৩৩২( এ) এবং ৩(৫) ধারায় মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন বিচারক।

    রাজ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

    মুর্শিদাবাদের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের রায়ে দোষীদের অপরাধ প্রমাণিত হলেও, ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দায় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রায়ের পর বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংক্রান্ত আন্দোলনের সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি।

  • Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র সূচনা করলেন। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক জনসভায় দলের পতাকা উন্মোচন করে তিনি জানান, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে। সভায় হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তিনি সর্বোচ্চ ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন এবং নির্বাচনের পরে নিজেকে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করাই তাঁর দলের মূল উদ্দেশ্য।

    ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন

    নতুন দল তৈরির দিনই বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিলেন হুমায়ুন কবীর। নিজে বিধানসভা নির্বাচনে ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) বহিষ্কার করা হয়। ১১ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একটি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। নতুন দলের ঘোষণা মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর তৃণমূল নেতৃত্ব, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও তিনি খোলা রাখছেন। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীর নিজে রেজিনগর ও বেলডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

    কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী, ব্রিগেডের ডাক

    সোমবার দুপুর ১টায় নিজের রাজনৈতিক দলের নাম এবং রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ করা হয় দলের পতাকাও। দলের পতাকায় রয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। দলের সভাপতির নামও ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানান আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রথম প্রার্থীর নামও। হাজী ইবরার হোসেনকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁকেই খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। মালদার বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী হচ্ছেন মুস্তারা বিবি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী করা হচ্ছে মনীষা পাণ্ডেকে। এরআগে মনীষা পাণ্ডে ছিলেন তৃণমূলের নেত্রী। ভগবানগোলায় লড়বেন আর এক হুমায়ুন কবীর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। রানিনগর থেকে যিনি লড়বেন, তাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভার প্রার্থীর নাম ডঃ ওয়েদুল রহমান। কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। ইছাপুরের প্রার্থীর নাম সিরাজুল মন্ডল। অর্থাৎ শুধু মালদা-মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ থাকছেন না হুমায়ুন। বালিগঞ্জ, ইছাপুরের মতো কেন্দ্রেও ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা দিলেন। সেইসঙ্গে ইস্তেহার প্রকাশ করেন। হুমায়ুন দাবি করেছেন, ৯০ আসন জিততে পারলে তাঁর দল রাজ্যে সরকার গঠনের কাণ্ডারি হবে ৷ পাশাপাশি এদিন মঞ্চ থেকে হুমায়ুন জানিয়ে দেন আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি।

  • Murshidabad: “মমতার নির্দেশেই উগ্র রাজনীতি করছেন ভরতপুরের বিধায়ক”, বহিষ্কৃত হুমায়ূনকে তোপ শুভেন্দুর

    Murshidabad: “মমতার নির্দেশেই উগ্র রাজনীতি করছেন ভরতপুরের বিধায়ক”, বহিষ্কৃত হুমায়ূনকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৬ ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ভিত্তি স্থাপনা ঘোষণা করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন  তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। একদিকে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, অপর দিকে সভার ময়দানে হাজির হয়ে জানতে পারলেন তিনি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ঘটনার দিন ঠিক সভার আগেই কলকাতার তৃণমূল ভবনে যিনি সাংবাদিক সম্মলেন করে এই কথা ঘোষণা করেছেন তিনি আর কেউ নন কলকাতা মেয়র ববি হাকিম। এই ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের নির্দেশেই উগ্র রাজনীত করছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীর।” তবে হুমায়ূনের নিশানা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তিনি তোপ দেগে বলেন, “আগামীতে এই আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সরাসরি বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক আমি স্বাগত জানাব।”

    আলাদা দল হলে তৃণমূলের ভোট কাটবে (Murshidabad)

    ভরতপুরের (Murshidabad) সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণের জন্য উস্কানি দিচ্ছেন কিনা কিংবা তাঁর পিছনে রয়েছেন কিনা, সেটাও তো জানতে হবে। আমরা কারোর ভরসায় বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আনতে চাই না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে জাতীয়তাবাদী, বিকাশবাদী, সুশাসন, সুরক্ষা, পেটে ভাত, হাতে কাজ, মাথায় ছাদ, নারীর সম্মান, নারীর সুরক্ষা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য একুশটি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে এবং বিহারেও দল বিপুল জয় পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির ক্ষমতায় আসা দরকার।” অপর দিকে মমতা নিজের সভায় নাম না করে হুমায়ূনকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ভোটের আগে কেউ কেউ টাকা খেয়ে বিজেপির তাবেদারি করছে।” তবে শুভেন্দু সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত দেন, হুমায়ূন যদি আলাদা দল গড়েন তাহলে তৃণমূলের ভোট কাটলে বিজেপির কিছুটা সুবিধা হলেও হতে পারে।

    আইএসআই কী সাহায্য করছে?

    উল্লেখ্য ২০২৪ সালের যখন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়, সেই সময় মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ূন। তিনি সাফ বলেছিলেন, “আমি হুমায়ূন, বাবরের ছেলে তাই আমাকে এই কাজ করতেই হবে। ৬ ডিসেম্বর, রেজিনগর (Murshidabad) থেকে বেলডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করব। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজপথ অবরুদ্ধ করবে। মসজিদ গড়বই।” সম্প্রতি ওয়াকফের নামে সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ হয়েছে। চলেছে খুন-ধর্ষণ। ঘরা ছাড়া হয়েছেন শয়ে শয়ে পরিবার। ঠিক তার পরে পরেই হুমায়ূন ইউনূসের বাংলাদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বাংলাদেশের হিন্দুরা খুব ভালো আছেন বলে মন্তব্যও করেছিলেন। বাংলাদেশ এখন আইএসআই-এর খপ্পড়ে, একথা সবাই জানেন। আর তারপরেই বাবরি মসজিদ নিয়ে তোড়জোড়। রাজনৈতিক একাংশের মত হুমায়ূনকে পাকিস্তান মদত করছে।

    হিন্দুদেরকে কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ায়ে দেবেন

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু হিন্দুদেরকে কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেবেন।” তখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ব্যবস্থা নেননি। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম প্রকাশ্যে ‘দাওয়াত-ইসলাম’-এর প্রচার করে বলেছিলেন “যাদের জন্ম মুসলমান ঘরে হয়নি তারা দুর্ভাগা”। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা এক মুসলিম ধর্মের সমাবেশে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “হিন্দু ধর্ম গান্ধা ধর্ম।” কোনও মন্তব্যের জন্য কেউ ক্ষমা চাননি, সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে কোনও রকম আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ হয়নি।

    বহিষ্কার আইওয়াশ?

    তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের অঙ্কে মুসলিম ভোট একটি বড় বিষয়। তাই মুসলমানকে খুশি করতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তোষণের রাজনীতি করেন। এমনটাই বিজেপি বার বার অভিযোগ করে সরব হয়েছে রাজ্যে। উল্লেখ্য রাজ্যে ৬ ডিসেম্বর রামমন্দিরের ৫০০ বছরের জন-গণ আন্দোলনকে ছোট করতে সংহতি দিবস পালন করে ভোটের অঙ্ককে ঠিক রাখবেন বলে দাবি করেছে বিজেপি। ২০২৪ সালে অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং উদ্বোধন নিয়ে খুব একটা খুশি ছিলেন না মমতা। নিমন্ত্রণ পর্যন্ত স্বীকারও করেননি। একই ভাবে হিন্দুধর্মের মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ফলে যে মুখ্যমন্ত্রী ধুলিয়ানে (Murshidabad) মৌলবাদীরা ওয়াকফের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে কোনও অ্যাকশেন নেননি, তিনি হুমায়ূনকে বাবরি ইস্যুতে (Babri Masjid) বহিস্কার করে কি আইওয়াশ করলেন? রাজনীতির একাংশের মানুষ অবশ্য এমনটাই মনে করছেন।

  • Murshidabad: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে এবার বাংলা যোগ, এক সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি

    Murshidabad: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে এবার বাংলা যোগ, এক সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এসেছে এবার পশ্চিমবঙ্গ যোগ। বিস্ফোরণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায় হাজির জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। বুধবার মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে এসে পৌঁছেছে এনআইএ-এর বিশেষ টিম। তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের পর যেসব অভিযুক্ত এবং সন্দেহকারীদের পাকড়াও করা হয়েছে তাঁদের কাছে মোবাইল নম্বরে এই বাংলা যোগ মিলেছে।

    পরিযায়ী শ্রমিকের জঙ্গিযোগ (Murshidabad)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদবাদের নবগ্রাম থানায় অভিযান চালায় এনআইএ। এলাকার মইনুল হাসান নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে যায় এনআইএ-এর তদন্তকারী দল। সন্দেহভাজন মইনুল হাসানকে ডেকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশি চলে বাড়িতে বাড়িতেও। তবে জেরায় জানা গিয়েছে, তিনি একজন পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। কখনও দিল্লি আবার কখনও মুম্বইতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজের সময় কয়েকজন জঙ্গিসংগঠনের লোকজনের সঙ্গে মইনুলের পরিচয় হয়।

    এলাকাবাসীরা রীতিমতো আতঙ্কিত

    দিল্লি বিস্ফোরণের পর জঙ্গি সংগঠনের একাধিক ব্যক্তির কাছে এই মইনুল হাসানের নম্বর মেলে। মইনুলের বাড়িতে তল্লাশিও করা হয়। তবে মইনুল ছাড়াও আরও একাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যে জায়গায় জায়গায় তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী অফিসাররা। বিস্ফোরণকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অভিযুক্তদের যোগসূত্র রয়েছে কিনা তাই ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এলাকাবাসীরা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

    আগেও মিলেছে জঙ্গি যোগ

    জঙ্গিযোগে বাংলার মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার নাম বার বার উঠে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আনসারুল্লা বাংলা টিমের কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয় এই জেলা থেকেই। পরে অসম সহ আরও একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে এবিটি জঙ্গিদের সন্ধান পায়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর অস্ত্র। লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় ইতিমধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চারজন চিকিৎসকদের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। এই বিস্ফোরণকাণ্ডে আরও অনেক বড় মাথার যোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তবে দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের থেকে একাধিক সামগ্রী পাওয়ার পর সেই সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, জঙ্গি মডিউল আরও সক্রিয় করার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে একাধিক বাংলাদেশিকে এদেশ তথা এরাজ্যে ভুয়ো আইডি বানিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • RSS: আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনা! শোক প্রকাশ আরএসএসের, উদ্ধারকাজে সামিল স্বয়ংসেবকরা

    RSS: আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনা! শোক প্রকাশ আরএসএসের, উদ্ধারকাজে সামিল স্বয়ংসেবকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংকটে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) সর্বদাই এগিয়ে আসে – তা প্রাকৃতিক বিপর্যয় হোক কিংবা অন্য কিছু। আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের স্বয়ংসেবকরা সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গুজরাটের কর্ণাবতীর সিভিল হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসকদের ও বিভিন্ন মেডিক্যাল টিমকে সহায়তা করতে থাকেন। একই সঙ্গে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারগুলিকেও দেখভাল করেন এবং সবার সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলেন। আরএসএস-এর এমন নিঃস্বার্থ সেবা বিমান দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকটাই সহায়তা করে (Air India Plane Crash)।

    উদ্ধারকাজে অংশ নেন ১৭৫ স্বয়ংসেবক (RSS)

    প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) নীতিই হল নিঃস্বার্থ সেবা। যেকোনও দুঃসময়ে তারা পাশে দাঁড়ায়। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ১৭৫ জন স্বয়ংসেবক এই সেবাকার্যে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা শুধু উদ্ধারকাজেই নয়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নিহতদের ময়নাতদন্তে সহায়তা, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং রক্তদানেও অংশ নেন (Air India Plane Crash)। এছাড়াও, ২০০০-এর বেশি মানুষকে চা, জল ও খাবার সরবরাহ করে সাহায্য করেন সংঘের স্বয়ংসেবকরা। এই সেবাকাজে আরএসএস-কে সহায়তা করে কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির।

    শোক প্রকাশ আরএসএস-র (RSS)

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারের বিমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ শ্রী সুনীল আম্বেকর। সমাজমাধ্যমের পাতায় তিনি লেখেন- “গুজরাটে আজকের এই বিমান দুর্ঘটনা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা গভীর সমবেদনা জানাই সেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের, যাঁরা এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ভগবানের কাছে আমাদের প্রার্থনা, এই দুঃখ সহ্য করার শক্তি যেন তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে দেন।” প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই আমেদাবাদে ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ২ পাইলট, ১০ কেবিন ক্রু-সহ মোট ২৫২ জন ছিলেন। বহু মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া বিমান। মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের ছাদে ভেঙে পড়ে বিমানটি। এর ফলে,  অনেক জাক্তারি পড়ুয়াও নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • Murshidabad: মুর্শিদাবাদে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনার ৫৬ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিল সিট

    Murshidabad: মুর্শিদাবাদে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনার ৫৬ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিল সিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদে ওয়াকফ অশান্তির জেরে খুন হন হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাস। এই খুনের ঘটনায় শুক্রবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ৫৬ দিন পরে জমা পড়া এই চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে।

    ধৃতদের জেরা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে (Jafrabad Double Murder) অভিযুক্তরা কীভাবে খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিল, কোথায় এবং কতদিন ধরে তারা আত্মগোপন করেছিল। এসব কিছু তথ্যই বিস্তারিতভাবে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। ধৃতদের জেরা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, বলেও জানিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মামলার দ্রুত শুনানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ১২ এপ্রিল খুন হন হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস (Jafrabad Double Murder)

    প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল ওয়াকফ আইনের বিরোধিতার নামে তাণ্ডব চালায় মৌলবাদীরা। উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদ। সেই অশান্তির মধ্যেই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ইদের সময়ে ওড়িশায় কর্মরত বেশ কয়েকজন বিড়ি শ্রমিক গ্রামে ফিরেছিল। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের হিংসায় তারাও জড়িয়ে পড়ে। এরপরে ছুটি শেষে ওড়িশায় ফিরে গেলেও তদন্তকারীদের হাত থেকে ছাড় পায়নি তারা। ওড়িশা থেকেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়

    ঘটনার পরেই রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ) গঠন করে। খুনে অভিযুক্তরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে গা ঢাকা দেয়। এরপর মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের (Murshidabad) বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার মূল চক্রী জিয়াউল শেখকে ধরা হয় উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকা থেকে। তার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করা হয় ওড়িশা থেকে (Jafrabad Double Murder)।

  • Murshidabad Riot: গণবিক্ষোভের ছদ্মবেশে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা হলেও, নেপথ্যে ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্র!

    Murshidabad Riot: গণবিক্ষোভের ছদ্মবেশে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা হলেও, নেপথ্যে ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্র!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছর এপ্রিলে মুর্শিদাবাদে যে হিংসার (Murshidabad Riot) ঘটনা ঘটেছিল, তা কোনও আকস্মিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল না, ছিল সুপরিকল্পিত একটি হিংসার ঘটনা (Radical NGOs)। গণবিক্ষোভের ছদ্মবেশে এই হিংসা সংঘটিত হলেও, এর নেপথ্যে ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্র– চরমপন্থী উসকানি, রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক জটিল মিশ্রণ। সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন মুর্শিদাবাদ’ নামক অনুসন্ধান এক বিরাট গোপন চরমপন্থী নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করেছে, যেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন, ছায়া এনজিও এবং প্ররোচিত যুব বাহিনীকে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সামাজিক ঐক্য বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হয়েছে।

    এটি একটি পরিকল্পিত দাঙ্গা (Murshidabad Riot)

    জানা গিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত দাঙ্গা, যেখানে ধর্মীয় নেতারা ছিলেন মতাদর্শগত কারখানার ভূমিকায় আর পুলিশ-প্রশাসন ছিল হয় সহযোগী, নয় ঠুঁটো। এই সব কিছুর কেন্দ্রে ছিল কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যারা সব কিছু পরিচালনা করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ১০ এপ্রিল। এদিন শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এসএসসি রায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষের ছদ্মবেশে একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। দ্রুত সেটাই মোড় নেয় ওয়াকফ আইন সংক্রান্ত ইস্যুর দিকে। ১১ এপ্রিল এটিই ধারণ করে দাঙ্গার রূপ। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা গিয়েছে, একই যুবক দল যারা হাতে লাঠি এবং প্রচারপত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তারা দুই আন্দোলনেই উপস্থিত ছিল। ১১ এপ্রিল পুলিশের অনুমতি ছাড়াই হয়েছিল জমায়েত। এই জমায়েতের মাঝে ছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা, ‘সমস্ত এনজিও একজোট’। কিন্তু আদতে পুরো ফ্রন্টটি পরিচালিত হচ্ছিল মূলত দুটি সংগঠনের মাধ্যমে – ‘সময়ের আলোর বাতি’ এবং ‘গোল্ডেন স্টার গ্রুপ’। এই সংগঠনগুলি নিজেদের গোষ্ঠী কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করলেও, সেগুলির বিরুদ্ধে উগ্র মতাদর্শ প্রচার এবং সংঘবদ্ধ আন্দোলনের অভিযোগ উঠেছে।

    ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘পলাতক’

    এই হিংসার মূল চাঁই হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তিনজনকে। এরা হল কাওসার, মোস্তাকিন এবং রাজেশ শেখ। পুলিশের খাতায় তাদের পলাতক দেখানো হলেও, স্থানীয়দের দাবি (Murshidabad Riot), দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় তারা ‘পলাতক’ (Radical NGOs)। জানা গিয়েছে, রাজেশ শেখ তৃণমূল যুব ব্লক কমিটির পরিচিত সদস্য। পিএফআই (PFI) এবং এসডিপিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। ২০১৮ সালে এক এসডিপিআই প্রার্থীর পক্ষে তিনি প্রচারও করেছিলেন বলে অভিযোগ। বশির শেখ, যিনি এক সময় সিমির (SIMI) সদস্য ছিলেন, তাঁকেও এই বিক্ষোভের প্রধান সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ওরা সাম্প্রদায়িক উসকানিতে জড়িত

    স্থানীয় ডিআইবির ইনসপেক্টর রাজীব গোপন ক্যামেরায় তাঁদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে বলেন, “হ্যাঁ, ওরা সাম্প্রদায়িক উসকানিতে জড়িত (Murshidabad Riot)। তবে ওরা পলাতক।” এই হিংসায় জুতে দেওয়া হয়েছিল নাবালকদেরও। একাধিক নাবালকের দাবি, কাওসার ও মোস্তাকিন তাদের ডেকে পাঠাত এবং প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট দিত। ‘ওয়াকফ’ শব্দের অর্থ না জানলেও, তাদের বলা হত ঘরে আগুন লাগাতে এবং পাথর ছুড়তে। তাদের বোঝানো হত, তাদের ধর্ম বিপন্ন। তাদের মধ্যে একজন বলে, “ওরা বলেছিল হিন্দুরা আমাদের ধর্মকে গালাগালি দিচ্ছে। সবাই যাচ্ছিল, তাই আমিও গেলাম।” ছেলেটির দাবি, তারা যখন হিন্দু-অধ্যুষিত ঘোষ পাড়ার ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল এবং হেনস্থার শিকার হয়েছিল, তখন স্থানীয় পুলিশই তাদের পাল্টা জবাব দিতে বলেছিল (Murshidabad Riot)।

    বেআইনি এনজিওর রমরমা

    সরকারি খাতা অনুযায়ী, শামসেরগঞ্জে মাত্র ১৮টি এনজিও রয়েছে (Radical NGOs)। যদিও বাস্তব চিত্র হল এলাকায় রয়েছে কয়েক ডজন এনজিও। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এই সংগঠনগুলি মূলত চরমপন্থী চিন্তার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে, কোনওরকম নজরদারি ছাড়াই অর্থ আসছে এবং সর্বোপরি, সমাজকল্যাণের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে সরকারি নজরদারি। স্থানীয় দুই ইমাম স্বীকার করেছেন, অজ্ঞাত পরিচয় কিছু লোক তাদের কাছে এসে মসজিদের মাইকে ওয়াকফ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আহ্বান জানাতে বলেছিল। শুক্রবারের নমাজের ঠিক আগেই এটা করতে বলেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, সর্বোচ্চ জমায়েত।

    বাংলাদেশি ইসলামি বক্তার ভাষণে ইন্ধন!

    মুর্শিদাবাদে যেদিন দাঙ্গা হয়, তার ঠিক পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশি এক ইসলামি বক্তা শামসেরগঞ্জে একটি জলসায় ভাষণ দেন। তার পর থেকেই স্থানীয় হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক কনটেন্ট (Murshidabad Riot)। একটি ভিডিওতে মুসলমানদের হাতে ‘বন্দুক তুলে নিতে’ বলা হয়। আর একটি পোস্টে বলা হয় ‘শিশুদের সামনে পাঠাও’। এসডিপিআই, জমিয়তে ইসলামি হিন্দ এবং জামাত-এ-আহলে হাদিসের সাহিত্য এবং বক্তব্যও ছড়িয়ে পড়ে, যা ওয়াকফ সংক্রান্ত বর্ণনাকে কেন্দ্র করে জ্বলা ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। রাজীব স্বীকার করেন, “এখানে স্লিপার সেল সক্রিয় আছে। মাদ্রাসার ভিতরে উগ্রপন্থা ছড়ানো হচ্ছে। তবে জলসায় কী হয়, তা আমরা জানি না (Radical NGOs)।”

    জেলা কর্মকর্তারা গোপনে সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন, রাজেশের মতো কয়েকজন উগ্রপন্থী রাজনৈতিক রক্ষাকবচ ধারণ করেন। এক প্রবীণ তদন্তকারী বলেন, “এখানে নথিভুক্ত নয় এমন এনজিওগুলি তো কেবল নীচুস্তরের মুখপাত্র। আসল খেলুড়েরা বসে থাকেন ক্ষমতার আসনে, থাকেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে (Murshidabad Riot)।”

  • Murshidabad violence: মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ হিংসা, ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির সুপারিশ রাজ্যপালের

    Murshidabad violence: মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ হিংসা, ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির সুপারিশ রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদে (Murshidabad violence) ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের চলে তাণ্ডব। ঘরছাড়া হন বহু হিন্দু পরিবার। সামশেরগঞ্জে খুন হন বাব-ছেলে। এই আবহে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যপাল। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই রিপোর্টেই রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়েছেন। মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) হিংসা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রাজ্যপাল স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন—মুর্শিদাবাদের ঘটনা (Murshidabad violence) ‘পূর্বপরিকল্পিত’ এবং ‘স্থানীয় প্রশাসনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা’ তার পেছনে দায়ী। রাজ্যপালের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে শোষণের চিত্র এই অশান্তিতে উঠে এসেছে।

    হিংসা বিধ্বস্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিএসএফ ক্যাম্প করার সুপারিশ

    রাজ্যপালের পর্যবেক্ষণ (Murshidabad violence) অনুযায়ী, “রাজ্যে যদি প্রশাসনিক ব্যর্থতা এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।” তাঁর আরও দাবি, ধারাবাহিক ব্যর্থতা চললে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের কথাও বিবেচনা করতে হবে কেন্দ্রকে। একইসঙ্গে রাজ্যের মুর্শিদাবাদ ও মালদা—দুই সীমান্তবর্তী জেলার অশান্ত অঞ্চলগুলিতে স্থায়ীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের , “এই মুহূর্তে সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।” ঠিক এই কারণে হিংসা বিধ্বস্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিএসএফ ক্যাম্প করার কথাও তিনি সুপারিশ করেছেন।

    আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা ক্রমাগত বাড়ছে

    কেন্দ্রকে পাঠানো ওই রিপোর্টে রাজ্যপাল একাধিকবার সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন (Murshidabad violence)। তিনি উল্লেখ করেছেন, “বাংলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা ক্রমাগত বাড়ছে। মুর্শিদাবাদে সাম্প্রতিক হিংসার পর পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের বাতাবরণ কাটছে না।” এই অবস্থায় রাজ্যপাল কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সংবিধান মেনে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার।প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই হিংসাদীর্ণ মুর্শিদাবাদে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সরজমিনে ঘুরে দেখেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। কথা বলেন দুর্গতদের সঙ্গে। এবার সোজা রিপোর্ট পাঠালেন অমিত শাহরের দফতরে।

  • Murshidabad: মুর্শিদাবাদে খুন হওয়া বাবা-ছেলের পরিবারের ওপর সল্টলেকে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ

    Murshidabad: মুর্শিদাবাদে খুন হওয়া বাবা-ছেলের পরিবারের ওপর সল্টলেকে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ অশান্তিতে জাফরাবাদে (Murshidabad) খুন হন হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস। এবার এই খুন হওয়া বাবা-ছেলের পরিবারের উপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। বিজেপির অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতার সল্টলেকে এসে পুলিশ এই পরিবারকে হেনস্থা করেছে। শুধু তাই নয়, দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্য বিজেপির নেতারা। পুলিশ এসে জানায়, ওই পরিবারকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে। এতেই শুরু হয় বিতর্ক। নিহত পিতা-পুত্রের পরিবার পুলিশকে সাফ জানায়, তাঁরা স্বেচ্ছায় এখানে এসেছেন। এদিকে, পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে সল্টলেকের ওই আশ্রয়স্থল (Murshidabad) ছেড়েছেন নিহত বাবা-ছেলের পরিবার। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে তাঁরা পৌঁছেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবনে।

    পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি নিহত পিতা-পুত্রের পরিবার

    বিজেপি সূত্রে খবর, এক সপ্তাহ আগেই জাফরাবাদে (Murshidabad) খুন হওয়া বাবা-ছেলের পরিবার এসে উপস্থিত হন সল্টলেকে। সেখানেই তাঁরা থাকছিলেন এই কয়েকদিন। এরপর রবিবার সকালেই মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) থেকে একদল পুলিশ আসেন, তাঁদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশও ছিল। পুলিশের দল পৌঁছে যায় সল্টলেকের সেই আশ্রয়স্থলে। তারপর তাঁরা নিহত বাবা-ছেলের পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু নিহতের পরিবার কোনওভাবেই তাতে রাজি হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, এরপর পুলিশ জোর পূর্বক বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও সজল ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য বিজেপির নেতারও। এরপরেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে প্রবল বচসা শুরু হয় পুলিশের।

    কী বলছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ?

    নিহত পিতা-পুত্রের পরিবার যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, ওই বাড়ির মালিক বলেন, “মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) বাবা-ছেলে খুন হওয়া পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু আজ পুলিশের যে আচরণ দেখলাম, তাতে তারা তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনীকেও হার মানাবে। দরজায় লাথি মেরে ভিতরে ঢুকেছে। ওদের কাছে কোনও কাগজ নেই।” বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, “যে সময় খুন হয়েছিলেন সেই সময় পুলিশ আসেনি। আর এখন ১৫০ কিমি অতিক্রম করে ঠিক চলে এল? আমরা তো দেখব কোন অভিযোগ দায়ের হয়েছে।”

LinkedIn
Share