Tag: Murshidabad Dengue

  • West Bengal Dengue: পুজোর আনন্দে ডেঙ্গির থাবা! ৪ দিনে ১৩০০ আক্রান্ত, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা

    West Bengal Dengue: পুজোর আনন্দে ডেঙ্গির থাবা! ৪ দিনে ১৩০০ আক্রান্ত, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতে আর মাত্র কয়েক দিন। আর তারপরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব শুরু! কিন্তু দুর্গাপুজোর মুখে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। উৎসবমুখর পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গির আতঙ্ক কিছুতেই কমছে না। বরং পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে‌। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ চলছে। তবে উৎসবের মরশুমেও সাধারণ মানুষকে সচেতন এবং সতর্ক থাকতে হবে। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে‌।

    কেন উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথমে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। গত চার দিনে নতুন করে ১৩০০ মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিল। প্রশাসনের শীর্ষ মহলে সে নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে আগাম সতর্কতা ছিল, আগামী কয়েক সপ্তাহ বিপদ বাড়তে পারে। কার্যত সেই আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে।

    কোন কোন জেলায় বাড়তি উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য ভবন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। গত কয়েক দিনে এই জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি নতুন করে ডেঙ্গি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই রয়েছে কলকাতা। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত কলকাতায় ২৮০০-র বেশি মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরে তালিকায় রয়েছে নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া। এই জেলাগুলোতেও ডেঙ্গি উদ্বেগজনক হারে ক্রমশ বাড়ছে।

    কেন ডেঙ্গির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার পরেই ডেঙ্গির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়। বর্ষা কমার পরেই জমা জলে মশা সহজেই বংশবিস্তার করে। তার জেরেই মশাবাহিত রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ে।
    প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে দেশ জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে এ বছর গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গির প্রকোপ কম। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর এই সময়ে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। যদিও স্বাস্থ্য দফতর রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষা কমার পরেই বাড়ির আশপাশের জায়গা, ছাদ কিংবা বাগানের টবে জল জমে থাকে। ফলে পরিষ্কার জমা জলে সহজেই ডেঙ্গির ভাইরাস বহনকারী মশা জন্মায়। তাই ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে।

    ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন হলুদ সতর্কতা?

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, রাজ্যে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ডেঙ্গির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শীতে ডেঙ্গির প্রকোপ কমে। কিন্তু তারপরেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। কারণ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি নিধনের সবচেয়ে ভালো সময় শীতকাল। এলাকা পরিষ্কার, জমা জল যাতে না থাকে, তার পাকাপাকি বন্দোবস্ত করা, লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি চালানো, জারি থাকলে আগামী বছরে বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমান ভাবেই ডেঙ্গির প্রকোপ আটকানোর কাজ চলবে। যাতে প্রশাসনিক সক্রিয়তায় কোনও ত্রুটি না থাকে, তাই হলুদ সতর্কতা জারি থাকছে।
    পাশপাশি, গত কয়েক বছরের সংক্রমণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শীতেও এই রাজ্যে ডেঙ্গি সংক্রমণ জারি থাকে। কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। তাই শীতেও যাতে ডেঙ্গি শক্তি বাড়াতে না পারে, তাই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।

    পুজোয় ডেঙ্গির দাপট রুখতে কী বার্তা?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দুর্গাপুজোর সময় ডেঙ্গির বিপদ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি।‌ ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজর জরুরি। বিশেষত নিজের বাড়ির ছাদ, বাগান কিংবা নর্দমায় যাতে জল না জমে থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
    ডেঙ্গি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সব সময় সহযোগিতা করতে হবে। কারণ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ডেঙ্গি সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য না থাকলে ডেঙ্গি আটকানো মু্শকিল। তাই এলাকার কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে সেই তথ্য স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পাশপাশি কোনও জায়গায় জল জমে থাকলে, অপরিচ্ছন্ন থাকলেও প্রশাসনকে জানাতে হবে।
    জ্বর হলেই খেয়ালখুশি মতো ওষুধ খাওয়া নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই নিয়মিত সেটা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। জ্বরের সঙ্গে বমি, গায়ে লাল দাগ বা তীব্র মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা করাতে হবে। কারণ, তাহলেই সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অযথা আতঙ্ক নয়। তবে উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দ করার পাশপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

LinkedIn
Share