Tag: Muslim League

Muslim League

  • Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র (Direct Action Day) ৭৮তম বার্ষিকী মনে করিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কত দ্রুত একটি সভ্যতাকে গ্রাস করতে পারে। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট মুসলিম লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই উপমহাদেশের ইতিহাসে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহতম হিংসার অন্যতম ঘটনায় পরিণত হয় (Calcutta Horrors History)। আজ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নতুন করে হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায়, ১৯৪৬-এর সেই অন্ধকার দিনের স্মৃতি ফের আলোচনায় এসেছে।

    পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ (Direct Action Day)

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্টের ঘটনাকে আকস্মিক দাঙ্গা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমনটাই দাবি করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে। মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আহ্বানকে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পাকিস্তান গঠনের দাবি মেনে নিতে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    রমজানের ১৭তম দিনের সঙ্গে কর্মসূচিটির সময় মিলে যাওয়াকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে এই দিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিটির মধ্যে ধর্মীয় বিজয়ের ঐতিহাসিক বয়ানের রাজনৈতিক ব্যবহার ছিল।

    কলকাতায় কর্মসূচির আগে ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে আসে। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৬ অগাস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসলিমের সমাবেশ নিশ্চিত করেছিলেন।এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    কলকাতা ময়দানের বিশাল সমাবেশে প্রায় এক লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের হাতে ছিল লোহার রড, লাঠি এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সংগঠিত দলগুলি কলকাতার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত।

    ৭২ ঘণ্টার ভয়াবহতা

    পরবর্তী তিন দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে হিন্দুদের দোকানপাট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর আবাসিক এলাকাগুলিতেও হামলা শুরু হয়। আমহার্স্ট স্ট্রিট, বোরতলা ও জোড়াসাঁকোর মতো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম হিসাবেও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, আবার কিছু সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। মাত্র তিন দিনের মধ্যে এক লাখেরও বেশি হিন্দু গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।

    হামলার নৃশংসতার বিবরণ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা, হত্যা, অঙ্গহানি এবং মৃতদেহের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপ ট্যালবট সেই সময়ের কলকাতার রাস্তায় বিকৃত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ, ঠেলাগাড়িতে স্তূপ করে রাখা মৃতদেহ এবং নর্দমায় পড়ে থাকা মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা করেছিলেন (Direct Action Day)।

    হামলার লক্ষ্য শুধু মানুষ বা সম্পত্তি ছিল না। হিন্দু মন্দিরে হামলা, ধর্মীয় প্রতীক অপবিত্র করা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। কলকাতা ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হতে পারে—এই ধারণা থেকেই হিন্দুদের উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হিন্দু প্রতিরোধ

    এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত, হিন্দুদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী, এবং ‘ভারতীয় জাতীয় বাহিনী’র নেতা ছিলেন। তাঁর সংগঠনে ৭০০ থেকে ৮০০ জন সদস্য ছিলেন (Calcutta Horrors History)।

    স্থানীয় কুস্তিগির ও মাংসের দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত গোপাল পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্ন শ্রেণির হিন্দু যুবকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক, দুধওয়ালা, কামার এবং মারওয়াড়ি ব্যবসায়ীরা। আর্থিক সাহায্যও মিলেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অস্ত্র এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় জোগাড় করা অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর বাহিনী ১৮ অগাস্ট পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে। প্রথমে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল তাঁদের কৌশল।

    এই পাল্টা প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়। তিন দিনের মধ্যে মুসলিম পক্ষের হতাহতের সংখ্যা হিন্দুদের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর সোহরাওয়ার্দী গোপালের কাছে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দূত পাঠান। ২১ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দী সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক প্রশমিত হয় কলকাতার হিন্দু জনসংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি।

    সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র ঘটনাপ্রবাহে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য দফতরের দায়িত্বও ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রচারের ওপর তাঁর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল।

    জানা গিয়েছে, ভয়ঙ্কর হিংসার সময়ও পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কার্যত হামলাকারীদেরই সাহায্য করেছিলেন। দাঙ্গার সময় তিনি পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষগুলিতে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

    মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানকে অসম্ভব করে তুলে দেশভাগের পক্ষে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করা। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই হিংসার ভূমিকা ছিল।

    কলকাতার বাইরে বাংলার গ্রামাঞ্চলেও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে নোয়াখালির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড একই ধরনের সংগঠিত হিংসার উদাহরণ (Calcutta Horrors History)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ১৯৪৬-এর সঙ্গে তুলনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দু’হাজারেরও বেশি হিন্দুবিরোধী হিংসার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫২টি মন্দিরে হামলা এবং ২৩ জন হিন্দুর মৃত্যুও রয়েছে (Direct Action Day)।

    এই ঘটনাগুলিকে ১৯৪৬ সালের কলকাতার হিংসার সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলার ধারা এখনও দেখা যায়।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাতের পরিবর্তনকেও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৪০ সালে যেখানে হিন্দুদের অনুপাত প্রায় ২৮ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং দেশত্যাগের মতো কারণ।

    ২০২১ সালে দুর্গাপুজোর সময় হামলা, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর জামাত-সমর্থিত হিংসার অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা-পরবর্তী হামলাকে একই ধারার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই ধরনের হামলা আরও দ্রুত সংগঠিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন

    হিন্দুদের ওপর হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছে বারংবার। পশ্চিমি সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি হিন্দুবিরোধী হিংসাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের নীরবতা হামলাকারীদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ করে দেয়।

    বীর সাভারকরের পুরনো সতর্কবার্তাকেও এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আনা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কংগ্রেসের তোষণনীতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত হিন্দুদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। পরবর্তী ইতিহাসের আলোকে সেই আশঙ্কাকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে (Direct Action Day)।

    ইতিহাসের শিক্ষা কী?

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখনও পুরোপুরি গ্রহণ করা হয়নি—এমনটাই এই বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য (Calcutta Horrors History)। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সংঘাত যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন একটি সমাজে সহাবস্থান গুরুতরভাবে বিপন্ন হতে পারে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন—এমন দাবিও করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় আদর্শগত নেটওয়ার্কগুলির ভূমিকা নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও বলে অভিমত প্রতিবেদন লেখকের। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট কলকাতার রাস্তায় সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন জ্বলেছিল, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিধ্বনি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতীতের ঘটনাগুলিকে স্বীকার করা, বিশ্লেষণ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা (Direct Action Day)।

     

  • Keralam CM Race: মুসলিম লিগের পছন্দ মেনে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন, গণনার ১০ দিন পরে নাম ঘোষণা কংগ্রেসের

    Keralam CM Race: মুসলিম লিগের পছন্দ মেনে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন, গণনার ১০ দিন পরে নাম ঘোষণা কংগ্রেসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা ১০ দিনের জটিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর (Keralam CM Race) নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস। দক্ষিণের এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভিডি সতীশনকে বেছে নিয়েছেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সতীশনের নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা কেরলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপা দাশমুন্সি। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিতালা ও কে সি ভেনুগোপাল-এর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার পর শেষ পর্যন্ত সতীশনের পক্ষেই সিলমোহর দিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় শরিক দল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)।

    কেন বাছা হল সতীশনকে

    এদিন দীপা দাসমুন্সির সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন, মুকুল ওয়াসনিক এবং জয়রাম রমেশ। কেরলে ১০২টি আসনে জয়ী হয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ইউডিএফ। অথচ ভোটগণনার পর থেকে ১০ দিন কেটে গেলেও এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা স্থির করতে পারছিলেন না কংগ্রেস নেতৃত্ব। গত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সতীশন ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন কংগ্রেস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিতালা। এর আগে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, কংগ্রেস পরিষদীয় দল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছে। কিন্তু বিধায়কদের একাংশ আবার সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানান। এই অংশটির যুক্তি ছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইউডিএফ এবং কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়েছেন সতীশনই।

    মুসলিম লিগের দাবি মানা হল

    সতীশনকে বেছে নেওয়ার পিছনে কংগ্রেসের জোট নির্ভরতা অনেকাংশে দায়ী। কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইন্ডিয়ান মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)-এর রাজ্য সভাপতি সাদিক আলি সাহেব-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে মুসলিম লিগ প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। ১৩ মে মালাপ্পুরমে বৈঠকে আইইউএমএল স্পষ্টভাবে সতীশনের পক্ষ নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, ইউডিএফকে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন সতীশনই। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ইউডিএফ পেয়েছে ১০২টি আসন। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৬৩ এবং মুসলিম লিগের ২২টি আসন থাকায় জোট সরকার গঠনে আইইউএমএল-এর গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-র ওয়েনাড় লোকসভা কেন্দ্রেও মুসলিম লিগের প্রভাব রয়েছে। ওয়েনাড়, কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরম জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে লিগের সাংগঠনিক শক্তি থাকায় কংগ্রেস নেতৃত্ব তাদের বিরাগভাজন হতে চায়নি। অন্যদিকে সতীশনের উত্থান ঘিরে আদর্শগত বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিজেপি ও সংঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, তিনি ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করেন।

  • BJP: “কংগ্রেস সভাপতি পিএফআই, মুসলিম লিগ ও জামিয়ত উলেমার ভাষায় কথা বলছেন”, তোপ বিজেপির

    BJP: “কংগ্রেস সভাপতি পিএফআই, মুসলিম লিগ ও জামিয়ত উলেমার ভাষায় কথা বলছেন”, তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পিএফআই, মুসলিম লিগ ও জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের ভাষায় কথা বলছেন।” খাড়গের আরএসএস সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দে করতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করল বিজেপি (BJP)। শুক্রবার খাড়গে বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী, আরএসএসের (RSS) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। কারণ দেশের অধিকাংশ আইনশৃঙ্খলা সমস্যা বিজেপি-আরএসএসের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারি কর্মচারীদের সংঘের সঙ্গে যুক্ত হতে দিয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের উত্তরাধিকারের অপমান করেছেন।

    খাড়গের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির প্রতিক্রিয়া (BJP)

    খাড়গের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “আমরা খাড়গের আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। আজ তিনি আরএসএসের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া, মুসলিম লিগ এবং জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের ভাষার মতো।” তাঁর মতে, এমন আপত্তিকর মন্তব্য করার আগে আরএসএস এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানা উচিত ছিল কংগ্রেস সভাপতির। তিনি বলেন, “মহাত্মা গান্ধী, বিআর আম্বেডকর, জওহরলাল নেহরু এবং ইন্দিরা গান্ধী সংঘ সম্পর্কে কী বলেছেন, খাড়গের তা জানা ও বোঝা উচিত ছিল।” সম্বিত বলেন, “১৯৩৪ সালে ওয়ার্ধায় সংঘের একটি শিবির পরিদর্শন করার পর মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন যে সংগঠনে শৃঙ্খলা এবং অস্পৃশ্যতার অনুপস্থিতি দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন। ১৯৩৯ সালে পুনেতে সংঘের একটি শিবির পরিদর্শনের পর আম্বেডকর বলেছিলেন যে সংগঠনে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মধ্যে সম্পূর্ণ সমতার পরিবেশ দেখে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।”

    গান্ধী-নেহরু-ইন্দিরা-প্রণবের আসএসএস প্রশস্তি

    তিনি (BJP) বলেন, “১৯৬২ সালের ভারত–চিন যুদ্ধের পর জওহরলাল নেহরু ১৯৬৩ সালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সংঘকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সংঘ অংশগ্রহণ করেছিল। এসব নথিভুক্ত ইতিহাস।” বিজেপির এই নেতা বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে কাপূর কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আরএসএসের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক ছিল না এবং এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ও সর্বসাধারণের ডোমেইনে রয়েছে।” তিনি বলেন, “মহাত্মা গান্ধী ও নেহরু থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী ও প্রণব মুখোপাধ্যায় – সকলেই সংঘের প্রশংসা করেছেন। মল্লিকার্জুন খাড়গের উচিত আরএসএসের (RSS) ইতিহাস এবং দেশের ইতিহাস পড়া। সংঘ সম্পর্কে কংগ্রেসের বহু নেতার কী মন্তব্য ছিল, সেটাও তাঁর জানা ও বোঝা উচিত (BJP)।”

  • PM Modi: “কংগ্রেসের ইস্তাহারে মুসলিম লিগের ভাবনা”, তোপ মোদির

    PM Modi: “কংগ্রেসের ইস্তাহারে মুসলিম লিগের ভাবনা”, তোপ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি কংগ্রেস। তাতে দেওয়া হয়েছে গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। শনিবার উত্তরপ্রদেশের সাহরানপুরের এক জনসভা থেকে কংগ্রেসের সেই ইস্তাহারকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।

    ‘মুসলিম লিগের ভাবনা’

    তিনি বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মুসলিম লিগের যে ভাবনা ছিল, সেই ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে কংগ্রেসের ইস্তাহারে। কংগ্রেসের ইস্তাহারে সম্পূর্ণভাবে মুসলিম লিগের ছাপ রয়ে গিয়েছে।” সাহারানপুরের ওই সভায় কংগ্রেসকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “কংগ্রেস যে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে, তাতে এটাই প্রমাণ হয় যে আজকের দিনে ভারতের আশা-আকাঙ্খার সঙ্গে কংগ্রেসের দূর-দুরান্তেও কোনও যোগ নেই। বর্তমানে ভারতের আশা-আকাঙ্খার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কংগ্রেস।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুসলিম লিগের ভাবনায় পুষ্ট এই ইস্তাহারে যে অংশটুকু বাকি রয়েছে, সেখানেও সম্পূর্ণভাবে বামপন্থী ভাবনার প্রভাব রয়েছে।” তিনি বলেন, “দূর-দুরান্ত পর্যন্ত এখানে কোথাও কংগ্রেসকে দেখা যাচ্ছে না। একবিংশ শতাব্দীতে এসে এই কংগ্রেস ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেসের ইস্তাহার দেখলে বুঝতে পারবেন, তারা দেশকে একশো বছর পিছিয়ে দেবে। নারীশক্তিকে কোনওদিন গুরুত্ব দেয়নি কংগ্রেস। স্বাধীনতার পর থেকে মহিলারা কষ্ট করেছেন। কংগ্রেসকে কি শাস্তি দেওয়া উচিত নয়?”

    আরও পড়ুুন: “শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে গুন্ডামির”, ভূপতিনগরকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া রাজ্যপালের

    বিজেপি সরকারের একাধিক জনদরদি প্রকল্পের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আমাদের সাহসী মেয়েরা সেনায় যোগ দিতে পারেন। তাঁদের জন্য সৈনিক স্কুলের দরজা খুলে দিয়েছি। মহিলাদের ছ’মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ঘোষণা করেছি। সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণের ব্যবস্থাও হয়েছে। গ্রামের মহিলারা সাইকেল চালাতে পারতেন না, তাঁরা এখন ড্রোন চালান। ইসরোর প্রকল্পও সামলাচ্ছেন মহিলারা। আপনারা ভাবতে পারেন, অনেক করেছি। বিশ্বাস করুন, এটা ট্রেলার। আরও কাজ হবে। আপনাদের স্বপ্নপূরণের জন্য আমি দায়বদ্ধ। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব (PM Modi)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের WhatsappTelegramFacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

  • Shehbaz Sharif: পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ১৪ অগাস্টে ইস্তফা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের 

    Shehbaz Sharif: পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ১৪ অগাস্টে ইস্তফা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী মাসে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে ইস্তফা দেবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। শুক্রবার রাতে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় এ কথা জানিয়েছেন তিনি। ‘পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ’ (পিএমএল-এন) নেতা শাহবাজ বলেন, ‘‘চলতি বছরের শেষেই দেশে সাধারণ নির্বাচন হবে। সাংবিধানিক বিধি মেনে অগাস্টে আমি সরে দাঁড়াব। ক্ষমতা তুলে দেব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে।’’

    কী বললেন শাহবাজ

    চলতি বছরের অগাস্ট মাসে শেষ হচ্ছে পাক পার্লামেন্টের মেয়াদ। প্রবল আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে নির্বাচন। পাক সংবিধান মেনে আগামী মাসেই পাক সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় অগাস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান সামলানোর যে দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি যথাযথ পালন করেছেন বলেও দাবি করেন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘দেশ পরিচালনার যে পবিত্র দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়েছিল, আমি তা নিরলস ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি।’’

    আরও পড়ুুন: ‘ভারত-ফ্রান্স বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’, মোদির সঙ্গে সেলফি পোস্ট আপ্লুত মাক্রঁর

    প্রসঙ্গত, গত বছর এপ্রিল মাসে পাক পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ইমরান খান। এরপরেই প্রধানমন্ত্রীর আসন বসেন শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান পিপলস পার্টি, মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল সহ একাধিক দলের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছিল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের প্রধান। প্রসঙ্গত, পাক সংবিধান অনুযায়ী দেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আগামী ১৪ অগস্ট পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস। সেদিনই শেষ হচ্ছে শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সরকারের মেয়াদ। স্বাধীনতা দিবসেই পাক প্রেসিডেন্ট  আরিফ আলভির হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দিতে পারেন বলে অনুমান। সেই সঙ্গে সুপারিশ করতে পারেন পাক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ারও।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share