Tag: Nabanna Meeting

  • Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের (Prasun Mukherjee) সৌজন্যমূলক বৈঠক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। সোমবার এই বৈঠক হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্ভাব্য শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি (Prasun Mukherjee)

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রধান শুভেন্দু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বহুজাতিক সংস্থা ‘ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে’র  চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ ঘোষণার খবর সামনে না এলেও, এই বৈঠককে ঘিরে ভবিষ্যতে বড় শিল্প প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে জানান, প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। তিনি নবান্নে এসেছিলেন সৌজন্যমূলক বৈঠক করতে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, ভবিষ্যতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রবৃদ্ধি ও কৌশলগত উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    তিনি এও জানান, এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত মহলে প্রসূন-শুভেন্দুর এই বৈঠক নিয়ে চড়ছে আগ্রহের পারদ। এদিকে, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। সম্প্রতি গুজরাটের দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমূল হাওড়ার সাঁকরাইলে বড় লগ্নির কথা ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সংস্থাটি উত্তরবঙ্গেও ব্যবসা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করছে (Prasun Mukherjee)।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এহেন পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাঙালি শিল্পপতি প্রসূনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই (Suvendu Adhikari) বৈঠকের ফলশ্রুতিতে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে নয়া বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কতটা সুযোগ সৃষ্টি হয়, এখন সেটাই দেখার (Prasun Mukherjee)।

     

  • Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্য সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। রেলমন্ত্রী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। বাংলাকে এবং দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বার্তা

    নবান্নের বৈঠকে মূলত রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, ফ্রেট করিডর, রেল নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এখন পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাধা দূর হয়েছে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    মেট্রো প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    সাংবাদিক বৈঠকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার মেট্রো রেল সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকার বারবার বাধা সৃষ্টি করেছে। রেলমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতার মানুষ যাতে আধুনিক মেট্রো পরিষেবা না পান, তার জন্য বিগত সরকার বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাইকোর্টের রায় পছন্দ না হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র রেলের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।” তিনি আরও বলেন, “ইউপিএ সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রেল খাতে বার্ষিক বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ মোদী সরকারের আমলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি বাংলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ।”

    কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে নজির

    কলকাতা মেট্রো নিয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মেট্রো প্রকল্প শুরু হওয়ার পর পরবর্তী ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে। তিনি বলেন, “কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উন্নত মেট্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে।”

    দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বুলেট ট্রেনের বড় ঘোষণা

    দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা।
    অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য দেশের পূর্বাঞ্চলকে অত্যাধুনিক দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। (এনজেপি থেকে নয়াদিল্লি বুলেট ট্রেনের প্রকল্পের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম।) প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, ট্রেনটি দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে লখনউ, বারাণসী এবং পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে পৌঁছনো সম্ভব হবে। রেলমন্ত্রীর মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিবহণেই বিপ্লব আনবে না, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন ঘটাবে।

    ডানকুনি-সুরাট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ইস্ট-ওয়েস্ট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির কথাও ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই করিডর চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে। পরিবহণ ব্যয় কমবে, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানকুনি পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স হাব। নতুন করিডর কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও রফতানি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি আসতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়

    বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেরও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অভিযোগে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে। রেলমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য একই লক্ষ্যে কাজ করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনও বাধা থাকবে না।

    নতুন বাংলার রেল রোডম্যাপ

    বুলেট ট্রেন, মেট্রো সম্প্রসারণ, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, অমৃত ভারত স্টেশন এবং শত শত ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক উচ্চাভিলাষী রেল রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

  • Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বারবার ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক কারণে আপত্তির জেরে রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও রেলবোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘ডাবল ইঞ্জিন উন্নয়নের সূচনা’ হিসেবে তুলে ধরছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

    নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দাবি তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, নতুন রেল প্রকল্প, অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণ এবং জমি সংক্রান্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি। রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শুভেন্দুর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কখনও পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেনি। বরং জমি, অনুমোদন ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে বহু প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হলে বাংলায় রেল অবকাঠামোয় নজিরবিহীন বিনিয়োগ, নতুন রেললাইন, অমৃত ভারত স্টেশন, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

    নবান্নে রেলমন্ত্রী-রেলবোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে রেল মন্ত্রক ও রেলবোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে কালী মূর্তি উপহার দেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, জমি অধিগ্রহণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং রেল সংযোগ সম্প্রসারণ।

    ‘আগের সরকারের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন ১১ কোটি মানুষ’

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আগের সরকারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কখনও রেলের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেননি।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের রেল উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

    ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, রেলমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। তিনি জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন রেললাইন, স্টেশন উন্নয়ন, সেতু, আন্ডারপাস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রেল বাজেটে বিপুল বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে বরাদ্দ ছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,২০৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ৪০টির বেশি প্রকল্পে এনওসি দেওয়া হয়েছে

    রাজ্যে বিভিন্ন রেল প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই ৪০টিরও বেশি রেল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জেলাশাসকদের নির্দেশ দেব যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া যায়। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় রেল পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতা করা হবে।”

    ৬১টি প্রকল্পে গতি, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস

    বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলমান ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। রেলপথ ও সড়কপথের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ গড়ে তুলতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে নতুন এলাকা

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এখনও রেল সংযোগ থেকে বঞ্চিত বা সীমিত পরিষেবা পাওয়া বহু অঞ্চল সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। পর্যটন, শিল্প, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে এই প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    উন্নয়নের বার্তা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের

    নবান্নের বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, ৬১টি প্রকল্প, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস এবং ১ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের মতো ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নতুন গতি পাবে। আর সেই কারণেই নবান্নের এই বৈঠককে শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং বাংলার উন্নয়ন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার উপর।

  • Suvendu Adhikari: ওবিসি তালিকায় ‘জল’ কিনা, খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ওবিসি তালিকায় ‘জল’ কিনা, খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলেছে জমানা। বদলে গিয়েছে শাসকের চেহারাও! বদলানো হচ্ছে তৃণমূল পরিচালিত সদ্য প্রাক্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নেওয়া একের পর এক তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তও (OBC Quota Row)। তৃণমূল সুপ্রিমোকে তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই গোহারা হারিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন বিজেপির তুর্কি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে মমতার সরকারের ওবিসি-নীতি।

    ওবিসি সংরক্ষণ বাতিলের কথা ঘোষণা (Suvendu Adhikari)

    মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য চালু থাকা ওবিসি সংরক্ষণ বাতিলের কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। এবার ওবিসি তালিকায় জল মেশানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার ২৬ জন বিধায়ককে নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ি, পুরুলিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলার বিধায়কদের ডাকা হয়েছিল ওই বৈঠকে। সেখানেই তৃণমূল আমলের ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথও। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন, নতুন করে ওবিসি তালিকা তৈরি করতে হবে। আগের সরকার যেভাবে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের তালিকা তৈরি করেছিল, এবার আর তা হবে না। যেসব সম্প্রদায় প্রকৃতই এই তালিকায় থাকার দাবিদার, তারাই যেন জায়গা পায়। এই কাজে বিধায়কদের দেওয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসরণ

    প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো আগের সরকারের তৈরি ওবিসি তালিকা বাতিল করে দিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। তাই ২০১০ সালে যে ৬৬টি সম্প্রদায় ওবিসি তালিকাভুক্ত ছিল, আপাতত তারাই ওই সুবিধা পাবে। পালাবদলের সরকার (Suvendu Adhikari) নতুন করে ওবিসি তালিকা তৈরি করবে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে সমীক্ষার কাজ চলবে চার মাস ধরে। কাজ সরকারিভাবে হলেও, তদারকি করবেন বিধায়করা। এদিনের (OBC Quota Row) বৈঠকে এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

    ওবিসি তালিকায় ‘জল’!

    বাম জমানার শেষ পর্বে এবং তৃণমূল সরকারের প্রথম পর্বে ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১২ এর মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসির তালিকাভুক্ত করা হয়। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল ওবিসি তালিকায়। এই সম্প্রদায়গুলিকে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে মামলা দায়ের হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৩ সালে ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে তালিকাভুক্ত করা হয় (Suvendu Adhikari)। এর ফলে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা গিয়ে পৌঁছয় ১৭৯-তে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত (OBC Quota Row) করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই মামলা প্রত্যাহার করে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয় ৭৭টি সম্প্রদায়কে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রথমে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক, তারপর জেলাশাসক এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। শীর্ষ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে তিনি নির্দেশ দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নিরাপত্তা বলয় একই রকম বহাল থাকবে। তবে একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, যাঁদের বাস্তবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, তাঁদের জন্য অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় কেন করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের জেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মমতার নিরাপত্তায় গুরুত্ব

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, যাতায়াত এবং জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁকফোকর বা গাফিলতি যেন না থাকে, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে ভোটপর্বের পর শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় রাজ্যের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর নিরাপত্তা একই রকম বহাল থাকবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম শিথিলতা বা ওঁর প্রতি কোনো অসম্মান না হয়, তা দেখার জন্য আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। এই সম্মান ওঁর প্রাপ্য।’’

    অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট

    অন্যদিকে, একই সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, তাঁর জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রযোজ্য, ভবিষ্যতে অভিষেকের ক্ষেত্রেও সেই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয়ে ছিলেন অভিষেক। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমানো শুরু হয়। সোমবার বিকেলেই এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী নয়, পাইলট কারের সুবিধাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতদিন অভিষেকের সঙ্গে পাইলট কার চলতে দেখা গেলেও সরকারি নির্দেশের পর আর সেই সুবিধা থাকবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই তাঁর নিরাপত্তা পুনর্গঠন করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।

    শুভেন্দুর ইতিবাচক বার্তা

    ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তা বলয়ে কাটছাঁট শুরু হয়। তৃণমূল সরকারের আমলে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকত ক্যামাক স্ট্রিট এলাকা। কিন্তু সরকার বদলের পর প্রথমেই তাঁর দফতরের সামনে থেকে পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়া হয়। পরে বাড়ির সামনের নিরাপত্তাও কমানো হয়। শান্তিনিকেতনে তাঁর বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের স্ক্যানার-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম। শুধু অভিষেক নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের নিরাপত্তাতেও পরিবর্তন আসে। ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা কমানো হয়। রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়ির গলির মুখে থাকা ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে দেওয়া হয়, পরে লালবাজারের তরফেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর এই সম্মান প্রদর্শনকে ইতিবাচক বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ জারি করে তিনি যেমন সৌজন্য ও পরম্পরার বার্তা দিয়েছেন, তেমনই স্পষ্ট করেছেন যে রাজ্যে ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কোনও স্থান থাকবে না।

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কলকাতায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বদলাতে চলেছে। সূত্রের খবর আলিপুরের ভিভিআইপি গেস্ট হাউস ‘সৌজন্য’ হবে শুভেন্দুর থাকার জায়গা। একই ভাবে নবান্নতে (Nabanna Meeting) আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

    ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার (Suvendu Adhikari)

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। মূলত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা ভিভিআইপিদের থাকার জন্য এটি তৈরি করা হলেও, এখন এটিই হতে চলেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সরকারি বাসভবন। ইতিমধ্যেই ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈঠকও সেরে ফেলা হয়েছে।

    পৈতৃক ভিটে ‘শান্তিকুঞ্জ’ ও পারিবারিক মুহূর্ত

    শপথ নেওয়ার পর প্রথম রবিবারটি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কাটিয়েছেন তাঁর কাঁথির পৈতৃক বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ। ৯ মে শপথ গ্রহণের পর শনিবার রাতেই মেদিনীপুরের তিনি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। রবিবার দিনভর মা ও মাসির হাতের রান্না করা বাঙালি খাবারে আপ্যায়িত হন তিনি। মেনুতে ছিল— করলা সেদ্ধ, মোচার তরকারি থেকে শুরু করে সর্ষে ইলিশ ভাপা ও মুরগির মাংস। এরপর বিকেলেই তিনি প্রশাসনিক কাজের উদ্দেশ্যে কলকাতার পথে রওনা দেন।

    আজকের প্রশাসনিক কর্মসূচি

    নবান্নে (Nabanna Meeting) প্রথম দিন আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ব্যস্ত দিন। তাঁর সূচিতে রয়েছে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ইনিংসের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

LinkedIn
Share