Tag: Nandigram

Nandigram

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

  • Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে  (Nandigram By Poll)  হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে (Rejinagar By Poll) শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মঙ্গলবার হলদিয়ায় হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের দায়িত্ব আমার। এখানকার সকলের মাথায় ছাদ, হাতে কাজ, পেটে ভাত আমার অঙ্গীকার। আমি পূরণ করবই।” জয় যে নিশ্চিত তা বুঝিয়ে শুভেন্দু বললেন, “আমি ভোট করাতে জানি, এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব কেউ ভাবতে পারছেন না।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বললেন, “ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে দিয়ে এসেছি।”

    মনোনয়ন জমা, জানকীনাথ মন্দিরে পুজো

    মঙ্গলবার বিশাল মিছিল ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান তিনি। তার আগে এদিন সকালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিখ্যাত জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রথম অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হাসি রানি রথ। তিনি বলেন, “প্রথম অনুভূতি বলতে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আমার সমস্ত কর্মী, বিজেপির কর্মীরা এবং সংগঠনকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ ভালোবাসা এবং বড়দের জানাই প্রণাম। দল আমাকে প্রার্থী করেছে, কিন্তু এখানকার সংগঠন আমার সঙ্গে রয়েছে। আমি সবার সহযোগিতা চাইব, যাতে নন্দীগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।” মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের সঙ্গে আছেন, আমাদের সঙ্গে আছেন। শুধু আমার সঙ্গে নয়, নন্দীগ্রামবাসীর সঙ্গে শুভেন্দু বাবু যে আছেন, সেটাই আজ সবার সবচেয়ে বড় পাওনা।”

    হাসিরানি রথ নতুন মুখ নয়

    গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি কেন্দ্র থেকে জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রাখেন এবং নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরও একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। ফলে দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে আগে থেকেই বিজেপির অন্দরে জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকেই টিকিট দিল দল। হাসিরানি রথ হলেন বিজেপির প্রয়াত নেতা এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এর আগে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পরিবারের অভিভাবক। তিনি কোনও দায়িত্ব দিলে তা গ্রহণ করবেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।

    ১ লক্ষের বেশি ভোটে জয় লাভের আশা

    চন্দ্রনাথ রথকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁকে গাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এবার সেই পরিবারের হাসিরানি রথকেই ভোটের ময়দানে নামাল বিজেপি। তবে রাজনৈতিক মাঠে হাসি রানি রথ মোটেও নতুন মুখ নন। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।  ভোটে জয়ের মার্জিন কত হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে হাসিরানি জানান, সংগঠনের সঙ্গে বসে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দলের মূল লক্ষ্য যে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জয়লাভ করা, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

    রেজিনগরের প্রার্থী নির্বাচনেও চমক

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের বিজেপির পরিচিতি মুখ শাখারভ সরকার। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। কয়েকমাস আগেই বহরমপুরে রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়েও তাঁর নাম নিয়ে বিতর্ক চলেছিল। উপনির্বাচনে প্রার্থী করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাখারভ। বর্তমান রাজ্য বিজেপির পরিচিত মুখ তিনি। শাখারভ বহুদিনের বিজেপি কর্মী। তিনি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এখন তাঁকে বিজেপি রেজিনগরে প্রার্থী করল। তাঁকেই কঠিন আসনে জয় ছিনিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। আর নয়া চ্যালেঞ্জ পেয়ে প্রত্যয়ী শাখারভ। তিনি বিশ্বাসী, ‘এবারের নির্বাচনে রেজিনগরের মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের জন্য তৈরি। ব্রিজ চাই ও কলেজ চাই। ডেভেলপমেন্ট চাই। সেই সংকল্প নিয়েই রেজিনগরের মানুষ ভোটদান করবেন। এখানকার মানুষ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন।’ হুমায়ুন কবীরের হোম গ্রাউন্ডে, তাঁরই ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়াই। হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও, এই কেন্দ্রে লড়াই কঠিন হবে, বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের। এখন দেখার রেজিনগরের মানুষ কাকে বেছে নেন।

  • Bengal BJP: রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল, মিডিয়া-আইটি-সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে নতুন দায়িত্ব

    Bengal BJP: রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল, মিডিয়া-আইটি-সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে নতুন দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে (Bengal BJP) সাংগঠনিক রদবদল। দলের মিডিয়া বিভাগ, আইটি সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে (Social Media Team) কনভেনার, কো-কনভেনার ও মুখপাত্র স্তরে একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অনুমোদনে এই রদবদল চূড়ান্ত হয়েছে।

    কে, কোন দায়িত্বে (Bengal BJP)

    মিডিয়া বিভাগে কনভেনার করা হয়েছে অনুপম ঘোষকে। কো-কনভেনার হয়েছেন পার্থসারথী চৌধুরী ও চন্দ্রশেখর ভুটিয়া। আইটি বিভাগে কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয় মল্লিক। কো-কনভেনার করা হয়েছে রত্নেশ সিং, রাম্যাজ্যোতি সরকার, শুভজিৎ কর্মকার এবং সব্যসাচী রায়কে। সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে কনভেনার হয়েছেন উপমন্যু ভট্টাচার্য। কো-কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতম ভট্টাচার্য ও ক্যামেলিয়া সান্যাল। দলের চিফ স্পোকসপার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবজিৎ সরকারকে। স্পোকসপার্সন হিসেবে রয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, সায়ন্তন বোস, কেয়া ঘোষ, প্রণয় রায়, ডা. তন্ময় মুখার্জি, সপ্তর্ষী চৌধুরী, ওফেলিয়া সিনহা, অঙ্কণ দত্ত, মেঘা সেন রায়, ডা. নিখিল প্রসূন সিং এবং শমীক দাশগুপ্ত।

    উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটকে সামনে রেখে বাংলায় বিজেপি ২৭০ সদস্যের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে। সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি রাজ্য কমিটিতে একাধিক নতুন মুখকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (Bengal BJP)।

    উপনির্বাচন, নির্বাচন

    আগামী মাসের প্রথম দিকেই রয়েছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। পুজোর পরেই হওয়ার কথা কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচনও। তার আগে রীতিমত টিম গুছিয়ে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে পদ্ম শিবির। সেই কারণেই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে সংগঠনে। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ তুর্কিদের।

    ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে (Social Media Team) বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথম সরকার গড়েছে বিজেপি। তার পরেই হতে চলেছে দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন এবং একাধিক পুরসভার নির্বাচন (Bengal BJP)।

     

  • Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলেও জানিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এর মধ্যেই দলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী বাছাই সম্মিলিতভাবে হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি।”

    এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না মমতা (Nandigram Bypoll)

    ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে জেতেন। আর এটা ভালো দেখায় না, তাই না যে এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকায় হেরেছেন এবং নিজের বুথেও হেরেছেন?”

    তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটান।

    এর পরেই ঋতব্রত বলেন, “আমরাও চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় আসুন।” ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে দলের অধিকাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। দলের এই ভাঙনের জন্য তাঁরা মমতার ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে মমতার পাশ থেকে সরে যান তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদও। যদিও বিদ্রোহী বিধায়কেরা বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁদের মূল আপত্তি মমতাকে নিয়ে নয়, অভিষেককে ঘিরে (Nandigram Bypoll)।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য

    বছর একাত্তরের মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে কখনও সাধারণ নির্বাচনে জেতেননি।” তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা হেরে গেলেও, রাজ্যে তৃণমূল জয়ী হয় এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার পান মমতা।

    আখরুজ্জামান এও বলেন, “এখন যেহেতু উপনির্বাচন হচ্ছে, আমরা বলেছি, নন্দীগ্রামে আসুন। আমরা কোনও প্রার্থী দেব না। জিতে বিধানসভায় আসুন এবং উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন হতে চলেছে।

    নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের পরেই রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি শূন্য হয় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছিলেন। হুমায়ুন কবির নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন এবং ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

    এদিকে, বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে (Mamata Banerjee) কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন (Nandigram Bypoll) পদ্ম নেতারা।

     

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • Suvendu Adhikari: বিজয় শোভাযাত্রা শুভেন্দুর, রাস্তার ধারে জনতার ঢল! ভবানীপুর রাখলেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বিজয় শোভাযাত্রা শুভেন্দুর, রাস্তার ধারে জনতার ঢল! ভবানীপুর রাখলেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান শুভেন্দু। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই বুধবার শপথ নিলেন তিনি। বিকেলে ভবানীপুরেই রোড শো করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে দেখার জন্য রাস্তার দু’ধারে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভবানীপুরের রাস্তায় পুষ্পবৃষ্টিতে তাঁকে স্বাগত জানান সাধারণ জনতা। বুধবার বিকেলে চেতলা লক গেট এলাকা থেকে শুরু হয় শুভেন্দুর বিজয় শোভাযাত্রা। শেষ হয় হাজরা মোড়ে। ভবানীপুরের ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড প্রদক্ষিণ করেন তিনি।

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন নন্দীগ্রামে

    এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজনৈতিকভাবে বড় চমক দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক পদে ফেরেন মমতা এবং তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার পুরোনো আসন ভবানীপুর থেকেও লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ নেন শুভেন্দু এবং দুই কেন্দ্রেই জয়লাভ করেন। এবারে নন্দীগ্রামে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের পবিত্র কর। শুভেন্দু ভবানীপুর আসন ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।

    ভবানীপুরে ভোটারদের ধন্যবাদ শুভেন্দুর

    ভবানীপুর জয়ের পরে এ বার সেখানকার ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে রোড শো-ও করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে সুসজ্জিত গাড়িতে করে রোড শো করেন তিনি। এ বারের নির্বাচনে শুরুর থেকেই গোটা রাজ্যের নজর ছিল ভবানীপুরে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন শুভেন্দু। জয়ের বিষয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। শেষে ১৫,১০৫ ভোটে মমতাকে পরাস্ত করে শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। বিজেপি সূত্রে খবর, ভবানীপুরে জয়ের পরই এই রোড শো করার কথা স্থির করে ফেলেছিলেন শুভেন্দু।

    কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন শুভেন্দু

    এদিন শপথ গ্রহণের আগেই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পথ অনুসরণ করে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, এদিন বিধানসভায় বিধায়ক পদে শপথ নিতে বিজেপি বিধায়কদের অনেকেই বাসে করে আসেন। ভবিষ্যতে মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এর আগে বুধবার সকালে বিধানসভায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ আগেই হয়ে গিয়েছিল। বুধবার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে বিধায়ক পদে শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভা চত্বরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু। তার পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ঘরে যান তিনি। সেখানে পুজো দেন। শুভেন্দুর পর শপথ নেন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরা। তার পর অন্য বিধায়কদের শপথগ্রহণ শুরু হয়।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত করার পর তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি এক অবিস্মরণীয় নাম। তবে ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রটি কেবল একটি নির্বাচনী ক্ষেত্র নয়, বরং হয়ে উঠেছিল মর্যাদার লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত রণাঙ্গন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের (Nandigram) মানুষ আমায় বিশ্বাস করেছেন, আমি তাঁদের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করব না।”

    জয়ের নেপথ্যে জনগণের রায় (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বক্তব্যে বারংবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হওয়ার আবেগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জয় কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি নন্দীগ্রামের (Nandigram) আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জয়। ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত তত্ত্বে ভূমি পুত্রের জয় হয়েছে। জনগণের জনাদেশ সেই ভাবাবেগকেই সিলমোহর দিয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। তবে আমার আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ তাকে কামড়ায় না। তাই আইন কেউ হাতে নেবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বহিরাগত শক্তির আক্রমণ রুখে দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ যে আস্থা তাঁর ওপর রেখেছেন, তার প্রতি তিনি চিরকাল দায়বদ্ধ থাকবেন।

    গণতন্ত্র ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) ফলাফল ঘোষণা নিয়ে ভোট গণনার দিন যে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর চাউর হলেও, শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জয়ী হয়েছিলেন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শাসকদলের পক্ষ থেকে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আস্থার কথাকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের শংসাপত্রই শেষ কথা এবং কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা আইনি চাপের কাছে মাথা আমরা নত করব না। ২০১১ সালের পরিবর্তনেও আমি ছিলাম, আর এবারের আসল পরিবর্তনেও আমিই রয়েছি।”

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে আগামীর লক্ষ্য

    নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের (Nandigram) প্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের কথাই বলেননি, বরং সমগ্র বাংলার বিরোধী রাজনীতির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষণে বলেন, “আগামী ১ বছরের মধ্যে রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন। মোদির গ্যারান্টি, অমিত শাহর ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে সময় মতো পূরণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দায়বদ্ধ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইন মেনে প্রত্যেকটি পুরনো মামলা পুনরায় চালু করবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গুন্ডাবাহিনীকে মোকাবিলা করার দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে।”

    উন্নয়নের রাজনীতি

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না, এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্য়মন্ত্রী বলবেন না।’’ ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বারবার অভয় দিয়েছেন যে, জয়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সর্বদা তাঁদের পাশে থাকবেন। নন্দীগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

    কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে পরাজিত করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃসাধ্য ছিল। শুভেন্দুর মতে, এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর মানুষের সাথে মিশে থাকা এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার ফল।

    বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নন্দীগ্রাম (Nandigram) জয়ের পরবর্তী অবস্থান কেবল বিজয়োল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর মার্জিত অথচ কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনগুলোতে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন। নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’ আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে এবং তাঁর এই জয় আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সোপান হিসেবে কাজ করবে।

  • West Bengal elections 2026: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র দাখিল শুভেন্দুর, সঙ্গে ছিলেন দিলীপ-ধর্মেন্দ্রও

    West Bengal elections 2026: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র দাখিল শুভেন্দুর, সঙ্গে ছিলেন দিলীপ-ধর্মেন্দ্রও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র (West Bengal elections 2026) জমা দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার শুভেন্দু যখন মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও ছিলেন তাঁদের সঙ্গে।

    মনোনয়নপত্র জমা শুভেন্দুর (West Bengal elections 2026)

    হলদিয়ার মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, এদিন রোড শোয়ে জনসমাগম এবং আবেগ দেখে মনে হয়েছে, ভোটাররা তাঁকে এখনই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘‘ধর্মেন্দ্রজি রোড-শো দেখে বলছিলেন, ‘ইস বার তিন গুণ হোগা।’ আসলে মানুষ চাইছেন এখনই গিয়ে ইভিএমের বোতাম টিপে দেন। মনে হচ্ছে যেন আগামিকালই ভোট। মানুষ আর এক মুহূর্তও অপশাসন চাইছেন না।’’ শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক। একুশের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘২০২১ সালে ভোটের পাটিগণিতের হিসেবে নন্দীগ্রাম কঠিন ছিল। তখন নন্দীগ্রামে ৬৪ হাজার মুসলিম ভোট ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ভুল বুঝিয়েছিলেন। তিনি সিএএ-কে এনআরসি বলেছিলেন। এখন মুসলিমরা বুঝে গিয়েছেন। তাঁরা এ-ও বুঝে গিয়েছেন, মোদিজি আছেন। অতএব (Suvendu Adhikari) সুশাসন-সুরক্ষা তাঁরা পাবেন। মুসলিমরা ওদের (তৃণমূলের) চক্করে আর পড়ছেন না। আর হিন্দুরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই নন্দীগ্রাম জয় এখন আরও সহজ (West Bengal elections 2026)।’’

    ‘ভবানীপুরেও লড়াই কঠিন নয়’

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি শুভেন্দু এবার লড়ছেন কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। শুভেন্দু বলেন, “ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইও আমার কাছে কঠিন নয়। এসআইআরের পরে ভবানীপুর তো বিজেপিই হয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, ‘‘আমি জেতার পরে ভবানীপুরে বিজেপি এই প্রখমবার জিতবে, এমনটা নয়। ২০১৪ সালে যখন মোদিজি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন (Suvendu Adhikari) দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায় প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন ভবানীপুর বিধানভায় বিজেপির লিড ছিল ২ হাজার। ওখানে অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ভোটারদের ভর করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে জিততেন। এসআইআরের পর আর সেটা আর সম্ভব নয় (West Bengal elections 2026)।’’

     

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর আগেই নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুর! তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের দিকে তির শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর আগেই নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুর! তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের দিকে তির শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে (Nandigram) একটি মন্দিরে রামচন্দ্রের মূর্তি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি শাসক দল এবং প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। ঘটনাকে তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের অপকর্ম বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় মন্দিরে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীদের আক্রমণে রামচন্দ্রের মূর্তিকে অপমান করা হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া (Suvendu Adhikari)

    মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং জনসভায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যের তুষ্টিকরণ রাজনীতির কারণেই দুষ্কৃতীরা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে।” আগামী ২৭ মার্চ রাম নবমী তাই এলাকায় হিন্দুদের আতঙ্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু।

    প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছেন, “বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে গড়িমসি করছে। হুঁশিয়ারি দিচ্ছি  দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিজেপি। জেহাদিরা রামের মূর্তি ভেঙেছে, যেটা রাম নবমীর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। রাজ্য সরকার হিন্দুদের বিরুদ্ধে। হিন্দু উৎসবের আগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে কিছু সমাজবিরোধী সব সময় এই ধরনের কাজ করে। এমনকি মুসলিমরাও আমাদের মিছিলে থাকেন, তাঁরা এসব করেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভোটব্যাঙ্কের জন্য কিছু গুন্ডা তৈরি করেছেন, তারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।”

    শাসক দলের অবস্থান

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনও প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে দমনের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীকের অবমাননার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলছে।

  • Nandigram Samabay Election: নন্দীগ্রামে সমবায় ভোটে বিজেপি ঝড়ে উড়ে গেল তৃণমূল, কর্মীদের অভিনন্দন শুভেন্দুর

    Nandigram Samabay Election: নন্দীগ্রামে সমবায় ভোটে বিজেপি ঝড়ে উড়ে গেল তৃণমূল, কর্মীদের অভিনন্দন শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (Nandigram Samabay Election)। প্রতিনিয়ত চলছে তার প্রস্তুতি। তার প্রায় চার মাস আগে, নন্দীগ্রামে গাংড়া সমবায় নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূলকে ‘কুপোকাত’ করল বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিধানসভা নির্বাচনী কেন্দ্রে ৯টি আসনেই জয়ী বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এই সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের পরিচালন সমিতির নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল। রবিবার এই সমবায়ের ফল ঘোষণার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, সমবায়ের ফল বেরনোর পরই তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর লাঠি চালায় পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    পুলিশের হুমকি

    রবিবার, কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ওই সমবায় সমিতির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া হয়। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য তৎপর ছিলেন খোদ নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করেন। জমায়েত সরাতে ধমক দিতেও দেখা যায় নন্দীগ্রাম থানার আইসি-কে। আঙুল উঁচিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে আসা একজনকে তিনি বলেন, “চুপচাপ ভোট করতে দিন। ডিস্টার্ব করবেন, বারোটা বাজিয়ে দেব। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করতে দিন।”

    জয়ী বিজেপিই

    নন্দীগ্রামে গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল এবং বিজেপি। সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল ২ আসনে। রবিবার ফল ঘোষণার পর দেখা গেল, রাজ্যের শাসক দল একটিও আসনে জিততে পারেনি। ৯-০ আসনে এগিয়ে বিজেপি। জানা গিয়েছে, মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫৪৩ জন এবং ভোটদান করেছেন ৪৩৮ জন। ফল ঘোষণার পরই আবির খেলায় মেতে ওঠেন নেতা থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকরা। জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বিজয় মিছিল বের হয়। দলীয় পতাকা হাতে জয়ের স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা।

    অভিনন্দন শুভেন্দুর

    সমবায় নির্বাচনে জয়ী সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন নন্দীগ্রামের বিধাযক শুভেন্দু অধিকারী। সমবায় ভোটে জয়ের পর বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাথ পাল বলেন, “এই জয় শুভেন্দু অধিকারীর জয়। নন্দীগ্রামের মানুষের জয়। এই জয় আমাদের নিশ্চিত ছিল। তবে এই জয়ে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ আরও বাড়ল।”

LinkedIn
Share