মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস কার্যালয়ে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা (TCS) এবং ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগকে ঘিরে তদন্তে নয়া মোড়। এই ঘটনায় পুলিশের জমা দেওয়া অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠল প্রাক্তন সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) নেতা ইমতিয়াজ জলিলের। মূল অভিযুক্ত নিদা খান (Nashik Controversy) পুলিশের গ্রেফতারি এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ানোর সময় তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে জলিলের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে মহারাষ্ট্রে এআইএমআইএমের রাজ্য সভাপতি।
কী বলছে পুলিশ (TCS)
পুলিশের দাবি, নিদাকে আত্মগোপনে থাকতে সাহায্য করার ঘটনায় জলিলের ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে এই মামলার ১১ জন অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বয়ানও নথিভুক্ত করেছে তদন্তকারী দল।
নাসিক পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার সন্দীপ মিটকে জানিয়েছেন, “সম্ভাজিনগরের প্রাক্তন এআইএমআইএম সাংসদকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিদা খান যখন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন, তখন তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করার ঘটনায় জলিলের ভূমিকা সামনে এসেছে। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে।”
এদিকে, শিবসেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য সঞ্জয় শিরসাটও এই ঘটনায় জলিলকে নিশানা করেছেন। ৬ নভেম্বর এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “ইমতিয়াজ জলিল এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। নাসিক পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে জেলে যেতে হবে। সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং পুলিশও সেই অনুযায়ী তদন্ত চালাচ্ছে। জলিলের ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড এবং কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে পাওয়া তথ্যের মিল রয়েছে।”
জলিলের নির্দেশেই সব কিছু!
শিরসাটের আরও অভিযোগ, “দলের এক পুরপিতা আসলে এই ঘটনায় কেবল দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। বিষয়টি একদিনে ঘটেনি। নিদা আত্মীয়দের সঙ্গে এখানে ৩৫ দিন ছিলেন। জলিলের নির্দেশেই সব কিছু হয়েছে।”
অন্যদিকে, এক নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, নাসিকের অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক অমিত খরকারের এজলাসে এই অভিযোগপত্র পেশ করা হয়েছে। দেওলালি ক্যাম্প থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্রে জলিলের নাম অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে। আদালতে তাঁকে হাজির হতে বলা হলেও তিনি হাজির হননি। বিচারকের তরফে সমন জারি হলে তাঁকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে অথবা জামিনের আবেদন করতে হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী এগোবে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নিদাকে যখন পুলিশ খুঁজছিল, তখন মহারাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত সম্ভাজিনগরে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এআইএমআইএমের স্থানীয় পুরপিতা মতিন প্যাটেল। নাসিক থেকে ওই শহরের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। প্যাটেল নরেগাঁও এলাকার জনপ্রতিনিধি। এর আগেও নিদাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ।
এই সূত্র ধরেই ইমতিয়াজের সঙ্গে মতিন প্যাটেলের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় জলিলকে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ৮ অগাস্ট মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেওয়া হয়। যে ফ্ল্যাটে নিদা আত্মগোপন করেছিলেন, সেটির মালিক হানিফ খানকেও এই মামলায় অভিযুক্ত (TCS) করা হয়েছে।
মহিলা কর্মীদের নির্যাতন
টিসিএসের নাসিক শাখায় মহিলা কর্মীদের নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শ্লীলতাহানি এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত মোট ন’টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে নাসিকের মুম্বই নাকা থানায় এবং একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে দেওলালি ক্যাম্প থানায়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকেই ওই কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছিল বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আট মহিলা কর্মী প্রকাশ্যে এসে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই (Nashik Controversy) বিশেষ তদন্তকারী দল এই মামলায় দু’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে ইমতিয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গোটা ঘটনায় নতুন করে চর্চা শুরু (TCS) হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।
