Tag: National Honour (Amendment) Bill

  • National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমান করলে পেতে হবে শাস্তি। এ বার এমন আইনি বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। সংসদের বাদল অধিবেশনে তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই শুক্রবার রাজ্যসভায় ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ বা ‘বন্দে মাতরম’ বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষে তিনি বিলটি উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই বিলে জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১-এ সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই ‘বন্দে মাতরম’ গানের জন্যও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিল পেশের সময়ই নিট-ইউ জি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা।

    নতুন বিলে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?

    এই বিলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকানো, বাধা দেওয়া বা তাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, জরিমানা অথবা দু’টিরই বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বিলে। বর্তমান আইন মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-কে অসম্মান করা, গানে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মতো বিষয়ের উপর প্রযোজ্য। নতুন সংশোধনী বিলে সেই ধারার আওতা বাড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কেউ একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ফের একই অপরাধ করলে কমপক্ষে এক বছরের জেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষার জন্য এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়ার পরে ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হবে।

    বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

    এ বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি।গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি স্থির করে দিয়েছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ‘জনগণমন’-এর মতো সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময়ে সকলকে উঠে দাঁড়ানোর কথাও বলা হয় ওই নির্দেশিকায়।

    জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না

    পরে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। সূত্রের খবর, ওই দিনেই ১৯৭১ সালের আইনে সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মোদির মন্ত্রিসভা। বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডেরই বিধান আইনে রয়েছে। জাতীয় পতাকা বা সংবিধানের অবমাননার জন্যও অনুরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে, তাঁকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একই ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাঁকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা

    বিলটির বিরোধিতা করেন সিপিআই সাংসদ পি. সন্দোষ কুমার এবং জন ব্রিট্টাস। সন্দোষ কুমার বলেন, “আমি ‘বন্দে মাতরম’-কে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু এই বিলের বিরোধিতা করছি।” তাঁর অভিযোগ, এই আইন আনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই বিল আনা হয়েছে। যদিও সভার চেয়ারম্যান তাঁকে বিলের বিষয়েই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে “দেশপ্রেমকে আইনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়ার” চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে।

    রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি

    বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি পেশ হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রাজ্যসভার অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়। এর আগে দিনের প্রথমার্ধেও একই কারণে একবার অধিবেশন স্থগিত হয়েছিল। অন্যদিকে, লোকসভাতেও নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখালে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

    প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার নিট ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি বিরোধীদের শর্ত ছাড়াই আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাবও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিবেচনা করবে। উল্লেখ্য, নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বাদল অধিবেশনের টানা পঞ্চম দিনও সংসদের দুই কক্ষেই অচলাবস্থা বজায় থাকল। বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সংসদে আলোচনা ব্যহত হচ্ছে।

LinkedIn
Share