Tag: National Song New Guidelines

  • Vande Mataram: ‘জন গণ মন’-এর আগে বাজবে ৬ স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’, উঠে দাঁড়াতে হবে, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    Vande Mataram: ‘জন গণ মন’-এর আগে বাজবে ৬ স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’, উঠে দাঁড়াতে হবে, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ৬ স্তবক বিশিষ্ট ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের পূর্ণ সংস্করণটি বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ বাজলে বা গাওয়া হলে সকলকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এবং সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে এটি জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর আগে পরিবেশন করতে হবে।

    কখন বাজানো হবে বন্দে মাতরম?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নথি অনুযায়ী, এখন থেকে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বন্দে মাতরম পরিবেশন করা হবে—

    • ● জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়
    • ● রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে
    • ● রাষ্ট্রপতির জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে ও পরে
    • ● গভর্নরের আগমন ও ভাষণের আগে ও পরে
    • ● জাতীয় কুচকাওয়াজে তেরঙ্গা বহনের সময়
    • ● সরকারি পাবলিক ইনভেস্টিচার (সম্মান প্রদান) অনুষ্ঠানে

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্ম পুরস্কারসহ রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকবেন এমন সমস্ত অসামরিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও বন্দে মাতরম বাজানো বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়াও, স্কুলের প্রার্থনা সভায় (অ্যাসেম্বলি) এই জাতীয় গান পরিবেশন করতে হবে।

    বন্দে মাতরম নিয়ে অন্যান্য নিয়ম

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১০ পাতার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—

    • ● যদি জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান একসঙ্গে বাজানো বা গাওয়া হয়, তবে আগে বন্দে মাতরম এবং পরে জন গণ মন পরিবেশন করতে হবে।
    • ● বন্দে মাতরম বাজানো বা গাওয়ার সময় দর্শক-শ্রোতাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
    • ● তবে সিনেমা হলে জাতীয় সংগীতের মতো বাধ্যতামূলকভাবে বন্দে মাতরম বাজানো হবে না।

    নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে—

    • ● “যখনই জাতীয় গানের সরকারি সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া হবে, তখন দর্শকদের সতর্ক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তবে যদি কোনও সংবাদচিত্র বা প্রামাণ্যচিত্রে গানটি চলচ্চিত্রের অংশ হিসেবে বাজানো হয়, তখন দর্শকদের দাঁড়ানো প্রত্যাশিত নয়, কারণ এতে প্রদর্শন ব্যাহত হবে এবং শৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে, যা জাতীয় গানের মর্যাদা বাড়ানোর পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।”
    • ● নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্দে মাতরমের দৈর্ঘ্য হবে ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড), যাতে সরকার নির্ধারিত ছয়টি স্তবক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ১৯৩৭ সালে বাদ দেওয়া চারটি স্তবকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    কেন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’ প্রচার উদ্যোগ

    গত বছর বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র সরকার এই জাতীয় গানকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই নির্দেশিকা রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, কারণ সম্প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। সংসদে তীব্র বিতর্ক সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার বন্দে মাতরমকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে গানটির ওপর ভিত্তি করে একাধিক ট্যাবলো প্রদর্শন করা হয়েছে।

    প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরমকে প্রথমবার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাতৃভূমির বন্দনায় গ্রহণ করা হয়। ১৯৫০ সালে গানটির প্রথম দুইটি স্তবককে ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতদিন পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ গানের পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সরকারি প্রোটোকল ছিল না—যেমনটি ‘জন গণ মন’-এর ক্ষেত্রে সুর, সময়কাল এবং গায়নের নিয়ম স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া, গানটির সম্প্রসারিত ছয় স্তবকের পূর্ণ সংস্করণ এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়নি। এই প্রথম কোনও সরকার বন্দে মাতরম গাওয়া বা বাজানোর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল বা নিয়মাবলি জারি করল।

LinkedIn
Share