Tag: National Testing Agency

National Testing Agency

  • Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নির্দেশের পর পরীক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখতে চালু করা হচ্ছে চার স্তরের যাচাই ব্যবস্থা, যাতে ভুলের সম্ভাবনা আরও কমানো যায়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আধিকারিকদের পরীক্ষার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেন।

    ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ

    নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এনটিএ-তে ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। সংস্থার আরও নিয়োগ ও নতুন কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করতে এনটিএ ইতিমধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার নেতৃত্বের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিনান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, জেনারেল ম্যানেজার (টেস্ট সিকিউরিটি) এবং জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সাইকোমেট্রিক্স)-এর মতো পদ। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, সাইকোমেট্রিক্স এবং প্রশ্নপত্র তৈরির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডোমেন বিশেষজ্ঞদের এনটিএ-তে যুক্ত করা হচ্ছে।

    বহু কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত

    জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হল এনটিএ থেকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এনটিএ-র পরীক্ষার টিমে ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে এনটিএ-তে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অফিস স্থানান্তর

    এনটিএ-র অফিসও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ অগাস্ট এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে হওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জেরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরই এই সংস্কারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।

    চারটি স্তরে যাচাই

    এছাড়া পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে চারটি স্তরের যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র যাতে নির্ভুল হয়, তা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে চার স্তরের স্ক্রুটিনি। বর্তমানে এনটিএ-তে একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষাসচিব এবং স্কুল শিক্ষা সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কাজের পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থায় ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায়ও একাধিক কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এনটিএ-কে কনফিডেনসিয়াল অপারেশন (CONOPS) আর্কিটেকচার সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষ, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন এয়ার গ্যাপ সিস্টেম এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মোবাইল-সহ অন্যান্য ডিভাইস নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কখনও প্রশ্নে ভুল। দু’বার করে একই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফলত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে এবার বড় পরিবর্তনের পথে পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাঁর মন্ত্রক জানিয়েছে, এনটিএ-র কাজের ধারায় আমূল পরিবর্তন করা হবে।

    সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রহ্লাদ যোশী এনটিএ-কে পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অডিট করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা আরও শক্তিশালী করা।

    সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং নিরাপত্তার ফাঁকফোকর রুখতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু’বছরের জন্য একটি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির মিন্টো রোডে এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়, ওখলার আঞ্চলিক অফিস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের স্ট্রং রুম, সার্ভার রুম, গুদাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনও ধরনের জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।

  • NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক একাধিক প্রশ্নের পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থায় (এনটিএ) বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল (NTA) কেন্দ্র। সংস্থার পরীক্ষা পরিচালনা এবং গোপনীয় কার্যক্রমে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০-এর বেশি কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ অগাস্ট শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এনটিএর পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব, এনটিএ কর্তা-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ (NTA)

    বৈঠকে জানানো হয়, যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবে এনটিএর ৫০-এর বেশি কর্মীকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার পেশাদার নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১০টি নতুন উচ্চপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, প্রধান অর্থ আধিকারিক, এবং প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিকও। এনটিএর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি ক্ষেত্র থেকেও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, মনোবৈজ্ঞানিক পরিমিতি এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানো হবে। পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার পরিচালনা ও নিরাপত্তায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—বৈঠকের নির্দেশনায় এমনই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।

    বড়সড় সংস্কার

    এনটিএর গোপন কার্যক্রমের কাঠামোয়ও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বড়সড় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন কক্ষের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বহিরাগত নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার ব্যবস্থা ব্যবহার এবং সংবেদনশীল পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিন যন্ত্র জমা রাখার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা। এর লক্ষ্য, পরীক্ষার গোপনীয় প্রক্রিয়ায় অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। এছাড়াও এনটিএর সমস্ত পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ত্রুটি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এনটিএকে (NTA) ঘিরে পরীক্ষা পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল। নতুন পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত এনটিএর সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংশোধনমূলক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংস্থাকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NTA)।

     

  • Exam Reform Task Force: প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদির বড় সিদ্ধান্ত, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স, প্যানেলে আর কারা?

    Exam Reform Task Force: প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদির বড় সিদ্ধান্ত, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স, প্যানেলে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস রুখে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছেন। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধার প্রকল্পের অন্যতম রূপকার নন্দন নিলেকানিকে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যেই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ করেছে। তবে শুধুমাত্র শাস্তি নয়, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফেরানো যায়।

    নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের রূপরেখা

    ১৯৫৫ সালের ২ জুন কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে জন্ম নন্দন নিলেকানির। পরিবারের আদি বাড়ি কর্নাটকের সিরসিতে। বেঙ্গালুরুর বিশপ কটন বয়েজ স্কুল এবং ধারওয়াড়ের সেন্ট জোসেফস্ হাই স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি বম্বে থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করেন। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিলেকানি আধার ডিজিটাল পরিচয় প্রকল্পের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত। এবার তাঁর নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থীদের ডিজিটাল যাচাই এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করার সুপারিশ করবে।

    মহাকাশ প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা নিয়ে এস সোমনাথ

    ১৯৬৩ সালে কেরলের আলাপ্পুঝা জেলার থুরাভুরে জন্ম এস সোমনাথের। তিনি কোল্লামের টিকেএম কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি) থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম.টেক সম্পন্ন করেন। পরে আইআইটি মাদ্রাজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান ও মহাকাশ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞ এই মহাকাশ বিজ্ঞানী বৃহৎ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জটিল প্রকল্প পরিচালনায় বিশেষ দক্ষ।

    নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করবেন তপন কুমার ডেকা

    অসমের বরপেটা জেলার সারথেবাড়িতে ১৯৬৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম তপন কুমার ডেকার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৮ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) ডিরেক্টর ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ দমন, ২৬/১১ মুম্বই হামলার তদন্ত, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা অভিযানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

    আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটির প্রযুক্তিগত পরামর্শ

    চেন্নাইয়ে ১৯৬৮ সালে জন্ম ভি কামাকোটির। তিনি শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিই এবং আইআইটি মাদ্রাজ থেকে এমএস (রিসার্চ) ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। কম্পিউটার আর্কিটেকচার, তথ্য নিরাপত্তা এবং ভিএলএসআই ডিজাইনের বিশেষজ্ঞ কামাকোটি জাতীয় স্তরের মাইক্রোপ্রসেসর উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের গঠিত এআই টাস্ক ফোর্সেরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

    শিক্ষা নীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে অনিতা কারওয়াল

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষে ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন অনিতা কারওয়াল। গুজরাত ক্যাডারের এই আইএএস অফিসারের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ৩৬ বছরেরও বেশি। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি সিবিএসই-র চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিব হিসেবে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে অমৃত লাল মীনা

    ১৯৬৫ সালে রাজস্থানে জন্ম অমৃত লাল মীনার। ১৯৮৯ ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিহারে প্রায় ২৫ বছর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৪-২৫ সালে বিহারের মুখ্যসচিব এবং ২০২২-২৪ সালে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের সচিব ছিলেন। প্রশাসন, সমন্বয় এবং বৃহৎ পরিসরের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা পরীক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।

    কী করবে এই টাস্ক ফোর্স?

    কেন্দ্রের গঠিত এই বহুমুখী বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করবে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষা পরিচালনা, পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করার সুপারিশ করবে এই টাস্ক ফোর্স। একই সঙ্গে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র কাঠামোগত সংস্কার এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী সমাধানের রূপরেখাও তৈরি করবে কমিটি। কেন্দ্রের দাবি, এই টাস্ক ফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে দেশের উচ্চঝুঁকির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একাধিক সংস্কার কার্যকর করা হবে।

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • NEET ReTest: কংগ্রেসের র‍্যালির ট্র্যাফিকে আটকে নিট পরীক্ষায় বসতে পারলেন না ৩ ছাত্রী, বেঙ্গালুরুতে তীব্র বিতর্ক

    NEET ReTest: কংগ্রেসের র‍্যালির ট্র্যাফিকে আটকে নিট পরীক্ষায় বসতে পারলেন না ৩ ছাত্রী, বেঙ্গালুরুতে তীব্র বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক সমাবেশের (Congress Rally) জেরে তীব্র যানজট। সেই জটে আটকে পড়ে মাত্র দু’মিনিট দেরিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোয় নিট ইউজি ২০২৬ রি-টেস্টে (NEET ReTest) বসতে পারলেন না তিন ছাত্রী। বেঙ্গালুরুর আরসি গভর্নমেন্ট কলেজ (RC Government College) পরীক্ষাকেন্দ্রের ঘটনা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবক মহলেও।

    পরীক্ষায় বসতে পারলেন না ৩ ছাত্রী (NEET ReTest)

    রবিবার নিটের রি-টেস্টের জন্য পরীক্ষার্থীদের দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে বলা হয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী, ঠিক দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মেন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই তিন ছাত্রী ১টা ৩২ মিনিটে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন। তাই তাঁদের আর পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে শেষবারের মতো ঘোষণা করা হয় যে ঠিক ১টা ৩০ মিনিটে গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবুও যানজটের কারণে ওই তিন ছাত্রী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি। পরীক্ষা মিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিন ছাত্রী মরিয়া হয়ে মেন গেটের রেলিং টপকে কেন্দ্রের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁরা ক্যাম্পাসে ঢুকেও পড়েন। কিন্তু ততক্ষণে পরীক্ষা হলের গেট সিল করে দেওয়া হয়েছিল। নিটের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর কোনও পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই তাঁদের ফিরে যেতে হয়।

    কংগ্রেসের র‍্যালির কারণে ব্যাপক ট্র্যাফিক জ্যাম

    ওই ছাত্রীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, তাঁরা যথেষ্ট সময় হাতে নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু শহরে কংগ্রেসের র‍্যালির কারণে ব্যাপক ট্র্যাফিক জ্যাম হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। শুধু আরসি গভর্নমেন্ট কলেজ নয়, বেঙ্গালুরুর মল্লেশ্বরম এলাকার এমইএস পিইউ কলেজ (MES PU College) পরীক্ষাকেন্দ্রেও বহু পরীক্ষার্থী শেষ মুহূর্তে পৌঁছন। জ্যামে আটকে পড়ায় অনেকেই কার্যত দৌড়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন। ফলে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে।

    কংগ্রেসকে তোপ বিজেপির

    ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন  বেঙ্গালুরু দক্ষিণের বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। তাঁর অভিযোগ, হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তখন কংগ্রেসের উচিত ছিল অন্য কোনও দিন র‍্যালির আয়োজন করা (NEET ReTest)। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি দিন বেছে নিয়েছে, যেদিন নিট রি-টেস্ট হচ্ছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে (Congress Rally) এবং বহু পরীক্ষার্থী আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছেন। তিনি পরীক্ষক সংস্থাকে ধন্যবাদও জানান। কারণ কয়েকটি কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছনো ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তেজস্বী সূর্য বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাবই।”

    বিমানবন্দরে ঠায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী

    এদিকে, এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পদক্ষেপও চর্চায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছলেও, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হননি (NEET ReTest)। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাজনিত কারণে রাস্তায় বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ও সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করা হয়। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তাই তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট বিমানবন্দরেই ঠায় বসে থাকেন। দুপুর ২টো নাগাদ, যখন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়েছে, তখনই তিনি বিমানবন্দর ছাড়েন। উল্লেখ্য, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষে দিল্লিতে ফিরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

    নিট রি-টেস্ট

    প্রসঙ্গত, নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা হয়েছিল গত ৩ মে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। সেই কারণেই এদিন আয়োজন করা হয়েছিল রি-টেস্টের। দেশের ৫৫১টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয় (NEET ReTest)। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনটিএ একাধিক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। পরীক্ষাকক্ষে সিসিটিভির নজরদারি, ইসিআইএল এবং বিইএলের সরবরাহ করা জ্যামার, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি, প্রত্যেক (Congress Rally) পরীক্ষা কক্ষে দু’জন করে ইনভিজিলেটর এবং অতিরিক্ত তদারকি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছিল (NEET ReTest)।

     

  • NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জিজ্ঞাসাবাদ ও পর্যালোচনা বৈঠকের জন্য তলব করা হল এনটিএর (NTA) চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার জোশী এবং শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের। ২১ মে ওই বৈঠকে তাঁদের হাজির থাকতে বলেছে সংসদের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন (NEET UG 2026) এডুকেশন, উইমেন, চিলড্রেন, ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস। জানা গিয়েছে, দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় প্যানেল পূর্ববর্তী জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার বিতর্কের পর গঠিত কে রাধাকৃষ্ণণ (K Radhakrishnan) কমিটির সুপারিশ করা সংস্কারগুলির বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে। শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশীকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিতর্ক-সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষা সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতেই তলব করা হয়েছে তাঁকে।

    বৈঠকে গুরুত্ব কোন কোন বিষয়ে (NEET UG 2026)

    ওই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে এনটিএর জবাবদিহি ব্যবস্থা, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ওপর জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত সংস্কার। ৩ মে নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা নিয়েছিল এনটিএ (NTA)। নাম নথিভুক্ত করেছিলেন প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার পরপরই অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় এনটিএ। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেন, ওই পরীক্ষাটি ফের নেওয়া হবে ২১ জুন। তিনি এও জানান, আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা হবে কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা যাতে বাড়ে এবং অসদুপায়ের সম্ভাবনা কমে, তাই এই ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, নিট বিতর্ক ছাড়াও কমিটি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)  ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করবে। বৈঠকে অংশ নেবেন আইআইটি মাদ্রাজ-সহ আরও কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

    কারা থাকবেন বৈঠকে

    আর একটি বৈঠকে কমিটি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউটের আধিকারিকদের সঙ্গে সংরক্ষণ নীতি, শিক্ষকের শূন্যপদ এবং ন্যাশনাল এডুকেশন পলিশি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়াও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংস্কার, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের কার্যকারিতা এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত সুপারিশগুলিও পর্যালোচনা করা হবে (NEET UG 2026)। নিট ইউজি ২০২৬ বিতর্কের জেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রভাবিত হওয়ায়, সংসদীয় পর্যালোচনায় এনটিএর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে চলেছে। আগামী দিনের আলোচনা ও সংস্কার প্রস্তাবগুলি ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা (NTA), স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে (NEET UG 2026)।

     

  • NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতারের পর এবার তদন্তের কেন্দ্রে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক (CBI Probe) সংবাদ মাধ্যমে জানান (NEET Paper Leak), প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী পুরো কমিটি এবং এনটিএর শীর্ষ আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও কয়েকজন গ্রেফতার হতে পারেন। প্রসঙ্গত, শনিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে। অভিযোগ, মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন তিনি।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের জাল (NEET Paper Leak)

    মণীষা ছিলেন এনটিএর নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ। কাজ করতেন প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটিতে। তদন্তকারীদের মতে, এর ফলে তিনি বোটানি ও জুলজি বিভাগের গোপনে রাখা প্রশ্নপত্র দেখার অধিকার পান। এর একদিন আগেই তদন্তকারী সংস্থা অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নিকে গ্রেফতার করে। তাঁকে তদন্তকারীরা এই কেলেঙ্কারির ‘মূল চক্রী’ বলে উল্লেখ করেন। অন্য এক আধিকারিক বলেন, “প্রশ্নফাঁসের তদন্তে এই প্রথম আমরা এনটিএর ভেতর থেকেই ফাঁসের উৎস খুঁজে পেয়েছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে মেসেজিং গ্রুপে পিডিএফ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত পরীক্ষার্থী এর সুবিধা পেয়ে থাকতে পারে। আমরা তাদের সবাইকে চিহ্নিত করব। তবে প্রথমে আমরা প্রশ্নফাঁসের উৎস ও তাদের সহযোগীদের খুঁজছি (NEET Paper Leak)।”

    বিশেষ কোচিং ক্লাস করিয়েছিলেন মান্ধারে!

    সিবিআইয়ের মতে, এপ্রিল মাসে মান্ধারে তাঁর পুণের বাড়িতে কিছু নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বিশেষ কোচিং ক্লাস করাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি বোটানি ও জুলজির প্রশ্ন বলে দিতেন, যেগুলির অনেকটাই পরে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় এসেছিল (CBI Probe)।তদন্তকারীরা জানান, ছাত্রছাত্রীদের তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন সহ-অভিযুক্ত মণীষা ওয়াঘমারে। তিনি পুণের একটি বিউটি পার্লারের মালিক। এই সপ্তাহের শুরুতেই গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা জানিয়েছে, “ক্লাস চলাকালীন মান্ধারে বোটানি ও জুলজির বিভিন্ন প্রশ্ন ব্যাখ্যা করতেন। ছাত্রছাত্রীদের সেগুলি খাতায় লিখে রাখতে ও বইয়ে চিহ্নিত করে রাখতে বলতেন। এই প্রশ্নগুলির অধিকাংশই নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায় (NEET Paper Leak)।”

    প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট!

    আধিকারিকরা জানান, তদন্তে এনটিএর ভেতর থেকে বের হওয়া প্রশ্নফাঁসের দু’টি আলাদা সেটের সন্ধান মিলেছে—একটি হাতে লেখা, অন্যটি টাইপ করা। তদন্তকারীদের দাবি, কুলকার্নি রসায়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন, আর মান্ধারে করেছিলেন জীববিজ্ঞানের অংশ। অভিযোগ, কুলকার্নিও তাঁর পুণের বাড়িতে বিশেষ ক্লাস নিতেন। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর লিখে নিতেন, যেগুলি পরে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ‘হুবহু মিলে যায়’। শনিবার সিবিআই কুলকার্নি ও ওয়াঘমারেকে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ বিশেষ আদালতে হাজির করে, আবেদন জানায় ১৪ দিনের হেফাজতের। সংস্থা তাঁদের ‘সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য’ বলে দাবি করে। আদালত দু’জনকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠায়। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ৩ মে-র পরীক্ষার পর প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট করে দেয়। তদন্তকারীরা এও খতিয়ে দেখছেন, কুলকার্নি ও মান্ধারের আগেও কেউ কোনও প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না।

    মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়েছিল প্রশ্ন

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ৫০০-৬০০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি পিডিএফ টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছিল। নাসিকের শুভম খৈরনার এই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন গুরগাঁওয়ের যশ যাদবের কাছে। যশ সেটি জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল ওরফে মাঙ্গিলাল খাটিকের কাছে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রায় ১৫০টি প্রশ্ন ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলবে (NEET Paper Leak)। গত ২৪ ঘণ্টায় ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, মোবাইল ফোন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ৫ রাজ্য থেকে গ্রেফতার

    এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্য থেকে সব মিলিয়ে মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন পুণের মান্ধারে, কুলকার্নি ও ওয়াঘমারে, আহিল্যানগরের ধনঞ্জয় লোকহান্ডা,  নাসিকের খৈরনার, জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল ও দীনেশ বিওয়াল, এবং গুরগাঁওয়ের যশ। সিবিআই জানিয়েছে, “এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার তদন্তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” প্রতি বছর ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির (CBI Probe) প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি দেন। প্রশ্নফাঁসের পর ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২১ জুন ফের (NEET Paper Leak) পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে সরকার।

     

  • NEET UG 2026: নিট ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, জানুন বিশদে

    NEET UG 2026: নিট ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট ইউজি ২০২৬ (NEET UG 2026)-এর কথিত প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৩ মে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) পরিচালিত এই পরীক্ষায় বসেছিলেন ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী। “লিক-প্রুফ” পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এনটিএ এমন একটি “গেস পেপার” রুখতে পারেনি, যার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের (Sikar Coaching Hub) অনেক মিল ছিল। পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই হোয়াটস অ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে বিক্রি হচ্ছিল ওই গেস পেপার।

    “গেস পেপারে”ই কারিকুরি! (NEET UG 2026)

    কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয় তখন, যখন একটি হাতে লেখা “গেস পেপারে”র সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের বিশেষ করে বায়োলজি ও কেমিস্ট্রির অংশের উল্লেখযোগ্য মিল দেখা যায়। প্রায় ৪১০টি প্রশ্ন-সহ একটি নোট, যার মধ্যে ২৮১টি প্রশ্নের সেট ছিল, তা হোয়াটস অ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং কোচিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে রাজস্থানের সিকার ও উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। সিবিআই তদন্তভার নেওয়ার আগে রাজস্থান পুলিশের এসওজি (SOG) দেখতে পায়, আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে গেস পেপারের ১২০–১৪০টি প্রশ্ন হুবহু এক। প্রায় ১৩৫টি প্রশ্ন মিলে যাওয়ায় মোট ৭২০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬০০ নম্বর নিশ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ প্রতিটি প্রশ্নের মান ৪ নম্বর।

    কীভাবে ছড়াল প্রশ্নপত্র?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে ছড়াল প্রশ্নপত্র? জানা গিয়েছে, “প্রাইভেট মাফিয়া” (Private Mafia) নামের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে সদস্যপদ পেতে ৫,০০০ টাকা নেওয়া হত (NEET UG 2026)। সদস্যদের প্রশ্নপত্র শেয়ার করতে না বলা হলেও, সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভরকেন্দ্র হতে পারে মহারাষ্ট্রের নাসিক। পরে নাসিক পুলিশ শুবহম খৈরনার নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাকে তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। কে এই শুবহম খৈরনার? জানা গিয়েছে, সে ভোপালের এক বিএএমএসের ছাত্র। পুণে থেকে প্রশ্নপত্র জোগাড় করে হার্ড কপি থেকে হোয়াটসঅ্যাপে সফট কপি ছড়ায়। ১০ লাখে প্রশ্ন কিনে সে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। সে গুরগাঁও-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্নপত্র পাঠায়। সেখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে (NEET UG 2026)। প্রসঙ্গত, রাজস্থানের সিকার (যা এখন “মিনি-কোটা” নামে পরিচিত) এই কাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে অসংখ্য নিট/জেইই (NEET/JEE) কোচিং সেন্টার, পিজি ও হস্টেল রয়েছে।

    এনটিএর ডিরেক্টরের দাবি

    তদন্তে জানা গিয়েছে, এমবিবিএস কাউন্সেলর রাকেশ মাণ্ডাওয়ারিয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি করতেন ৩০,০০০ টাকায়। বিভিন্ন কোচিং নেটওয়ার্ক ও দালালরা এতে জড়িত ছিল। ২০২৪ সালের নিটে রেজাল্টেও সন্দেহের (Sikar Coaching Hub) কেন্দ্রে ছিল সিকার। ২০২৪ সালে ৬৫০-এর বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়ার মধ্যে বিপুল সংখ্যক ছিল সিকার থেকে। ১৪৯ জন পরীক্ষার্থী ৭০০-এর বেশি নম্বর পেয়েছিল। এক ছাত্র পেয়েছিল পুরোপুরি ৭২০ নম্বরই। ১২ মে এনটিএ নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করে। জানিয়ে দেয়, ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে (NEET UG 2026)।এনটিএর ডিরেক্টর অভিষেক সিং বলেন, “সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়নি।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে কিছু প্রশ্ন আগে থেকেই সার্কুলেটিং গেস পেপারে ছিল, যা পরীক্ষার বৈধতাই নষ্ট করেছে।

    গুচ্ছের প্রশ্ন

    এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ফেডারেল অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোশিয়েশন। তাদের দাবি, এটিএকে পুনর্গঠন করতে হবে বা বদলে দিতে হবে, বিচারপতির তত্ত্বাবধানে নিতে হবে ফের পরীক্ষা, চালু করতে হবে কম্পিউটার-বেসড টেস্ট এবং প্রয়োগ করতে হবে ডিজিটাল লকিং সিস্টেম (NEET UG 2026)। প্রশ্ন হল, কীভাবে বাইলে এল প্রশ্নপত্র? ভেতরের কেউ জড়িত ছিল কি? প্রিন্টিং পর্যায় থেকেই কি ফাঁস হয়? কেন এখনও সিবিটি চালু করা হয়নি? কবে বন্ধ হবে প্রশ্নফাঁস–বাতিল–পুনঃপরীক্ষার চক্র (Sikar Coaching Hub)?

     

  • NEET UG Exam Cancelled: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা বাতিল, ফের বসতে হবে পরীক্ষায়

    NEET UG Exam Cancelled: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা বাতিল, ফের বসতে হবে পরীক্ষায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কলঙ্কিত হয়েছিল নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা (NEET UG Exam Cancelled)। ৩ মে হওয়া ওই পরীক্ষাই বাতিল করে দেওয়া হল মঙ্গলবার (CBI Probe)। উল্লেখ্য, স্নাতক স্তরের মেডিকেল কোর্সে ভর্তি হতে নেওয়া হয় এই পরীক্ষা। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমান পরীক্ষাপদ্ধতি বহাল রাখা সম্ভব নয়। তারা এও জানিয়েছে, ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং নয়া তারিখ ঘোষণা করা হবে খুব শীঘ্রই। জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম প্রবেশিকা পরীক্ষা।

    ‘গেস পেপার’ (NEET UG Exam Cancelled)

    ৩ মে পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল কিনা, তা জানতে রাজস্থানে তদন্ত করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ। তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি হাতে লেখা প্রশ্নপত্র, যেটিকে ‘গেস পেপার’ বলা হচ্ছিল (শেষ মুহূর্তের অনুশীলনের জন্য তৈরি কোয়েশ্চানব্যাঙ্ক), তার সঙ্গে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়া গিয়েছে। প্রকৃত পরীক্ষায় আসা প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন, যার মান ৬০০ নম্বর (মোট ৭২০ নম্বরের পরীক্ষা), সেই হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায়। এই প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার দু’ থেকে তিনদিন আগে ছড়িয়ে পড়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রশ্নপত্র রাজস্থানের সীকর জেলা থেকেই ফাঁস হয়েছে। রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ ইতিমধ্যেই সীকর জেলা থেকে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করেছে। জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মণীশ নামে এক ব্যক্তিকে। অনুমান, সে-ই এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ‘মূলচক্রী’।

    পরীক্ষাকে ঘিরে ‘অনিয়মের অভিযোগ’

    রবিবারই এনটিএ জানিয়েছিল, তারা রাজস্থান পুলিশের তদন্ত সম্পর্কে অবগত, পরীক্ষাকে ঘিরে ‘অনিয়মের অভিযোগ’ সম্পর্কেও তারা জানে। তাদের দাবি, পরীক্ষার কয়েকদিন পর তারাই প্রথম ‘অসৎ উপায়’ সম্পর্কে জানতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে। সেই বিবৃতি জারির দু’দিন পরে মঙ্গলবার, পুরো পরীক্ষাই বাতিল করে দিল এনটিএ। তাদের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, পরীক্ষাপদ্ধতি সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে ওই সংস্থা জানিয়েছে, সমস্ত প্রমাণ বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, এই পরীক্ষা বহাল রাখা সম্ভব নয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জাতীয় স্তরের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল (CBI Probe)।

    ফের ওই পরীক্ষা হবে

    কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলাটির তদন্তের ভার তুলে দিয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। পরীক্ষার (NEET UG Exam Cancelled) আগে কীভাবে এই তথাকথিত ‘গেস পেপার’ ছড়িয়ে পড়ল, এর পেছনে কোনও সংগঠিত দুর্নীতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করবে সিবিআই। এনটিএ  জানিয়েছে, তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি, তথ্য সরবরাহ করবে। কেবলমাত্র রাজস্থানেই নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে এখনও পর্যন্ত ৪৫ জনেরও বেশি জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ‘গেস পেপার’টি সম্ভবত ছাপাখানা থেকে বেরিয়েছিল, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ত্রুটির ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের একটি সংস্করণ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট, ছাপার সময়ই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকতে পারে (CBI Probe)। এনটিএ জানিয়েছে, ফের ওই পরীক্ষা হবে, শীঘ্রই সরকারি মাধ্যমে জানানো হবে নতুন তারিখ।

    কী বলছে সংস্থা?

    সংস্থাটি স্বীকার করেছে, ফের পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অসুবিধা হবে। কিন্তু তাদের মতে, একটি কম্প্রোমাইজড পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় ক্ষতির কারণ হত, নষ্ট করত পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা (NEET UG Exam Cancelled)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ফের আবেদন করতে হবে না। আগের সমস্ত তথ্য ব্যবহার করা হবে। রেজিস্ট্রেশন তথ্য ও প্রার্থীর বিবরণ বহাল থাকবে। আগের পরীক্ষাকেন্দ্রেই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত কোনও ফি নেওয়া হবে না। জমা দেওয়া ফি ফেরত দেওয়া হবে। নতুন করে পরীক্ষার আগে দেওয়া হবে নয়া অ্যাডমিট কার্ড (CBI Probe)। পরীক্ষার্থীদের শুধুমাত্র এনটিএর ঘোষণার ওপরই নির্ভর করতে বলা হয়েছে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর। শিক্ষার্থীদের ফের প্রস্তুত হতে হবে পরীক্ষার জন্য।

    পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    পরীক্ষা বাতিলের এই ঘটনা আবারও ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিট দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সরাসরি লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ন্যায্য সুযোগকে প্রভাবিত করে (NEET UG Exam Cancelled)। প্রসঙ্গত, পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থায় অসৎ উপায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দেখাতে চেয়েছেন এবং পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

     

  • UGC NET: নেট পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা! ওএমআর-এ নয়, পরীক্ষা হবে কম্পিউটারে

    UGC NET: নেট পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা! ওএমআর-এ নয়, পরীক্ষা হবে কম্পিউটারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউজিসি নেট-সহ (UGC NET) স্থগিত পরীক্ষাগুলির নতুন দিন ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষার ধরনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হয়েছিল ওএমআর শিটে। এনটিএ জানিয়েছে, এ বার পরীক্ষা হবে কম্পিউটারে অর্থাৎ কম্পিউটার বেসড্‌ টেস্ট (CBT)। শুক্রবার রাতেই জাতীয়স্তরের একাধিক পরীক্ষার (NET Exam) নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা।

    কবে কবে পরীক্ষা

    ইউজিসি-নেট (UGC NET) পরীক্ষা হবে আগামী ২১ জুলাই থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্দিষ্ট দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। একইভাবে সিএসআইআর-নেট পরীক্ষা হবে আগামী ২৫-২৭ জুলাইয়ের মধ্যে। ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চার বছরের স্পেশাল কোর্স করার প্রবেশিকা (ইন্টিগ্রেটেড টিচার এডুকেশন প্রোগ্রাম বা আইটিইপি) ন্যাশনাল কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (এনসিইটি)। স্নাতকোত্তর আয়ুষ প্রবেশিকা (এআইএপিজিইটি) পরীক্ষার সূচিতে অবশ্য কোনও বদল আনা হয়নি। পূর্ব নির্ধারিত ৬ জুলাইয়েই হবে এই পরীক্ষা। 

    পরীক্ষার নয়া ধরন

    গত বছর পর্যন্ত ইউজিসি নেট (UGC NET) পরীক্ষা নেওয়া হত কম্পিউটারে। কম্পিউটারের পর্দায় প্রশ্ন আসত। প্রত্যেক প্রশ্নের জন্য চারটি উত্তর দেওয়া থাকত। সেখানেই চারটি উত্তরের মধ্যে একটি বেছে নিতে হত। এবারের পরীক্ষায় ওই পদ্ধতি বদলে ওএমআর শিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রশ্নফাঁসের জেরে আবার পুরনো পদ্ধতিতে ফিরল এনটিএ। বিস্তারিত তথ্যের জন্য www.nta.ac.in – এ পরীক্ষার্থীদের নজর রাখতে বলা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: “সরকার সব রকম আলোচনার জন্য প্রস্তুত” নিট বিতর্কে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

    কেন ফের পরীক্ষা

    যাঁরা গবেষণামূলক পড়াশোনা করতে চান বা যাঁরা কলেজে অধ্যাপনা করতে চান, তাঁদের কাছে ইউজিসি নেট (UGC NET) পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের জুন মাসের ইউজিসি নেটের প্রশ্ন ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠতেই সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা (NET Exam) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। ১৮ জুন পরীক্ষা ছিল। নয় লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার একদিন পরেই ১৯ জুন ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষা বাতিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার থেকেই প্রথম শিক্ষামন্ত্রককে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রক। দেশের বিভিন্ন প্রবেশিকা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে নতুন পরীক্ষা আইন কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share