Tag: Natural Gas

Natural Gas

  • Shamik Bhattacharya: একক লড়াইয়েই কলকাতা-হাওড়া দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

    Shamik Bhattacharya: একক লড়াইয়েই কলকাতা-হাওড়া দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে রাজনীতির পারদ। একদিকে যেমন পুরভোটের (Kolkata Municipal Election 2026) রণকৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলি, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে (Shamik Bhattacharya)। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের লক্ষ্যে বিজেপি যে একক শক্তিতেই লড়াই করবে, তা স্পষ্ট করে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমীকরণ থাকলেও পুরভোটে বিজেপি কোনও জোটের উপর নির্ভর করতে চাইছে না বলেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক এনডিএর শরিকদের সঙ্গে সমীকরণ, দলের অভ্যন্তরের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, বাংলার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, প্রবাসীদের বিনিয়োগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পুরভোটের লড়াই নিয়ে তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নিজের শক্তিতেই নির্বাচনে লড়াই করতে সক্ষম। তাঁর কথায়, “বিজেপি একার শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছে। কারওর দয়ায় নয়, কারওর আশীর্বাদে নয়, কোনও মতাদর্শের ডাইলিউশন করে নয়।”

    জোট নয়, নিজেদের শক্তিতেই পুরভোটে বিজেপি (Shamik Bhattacharya)

    এনডিএর কয়েকটি শরিক দল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে শমীক জানান, এনসিপি বা অন্য কোনও শরিক দল দেশের অন্য রাজ্যে কিংবা কেন্দ্রীয় স্তরে এনডিএর অংশ হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পুরভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের জন্য রাজ্য বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই যথেষ্ট বলে দাবি তাঁর।

    রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প—এই প্রচলিত কথাটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তবে সেই সম্ভাবনার রাজনীতির মধ্যেও পুরভোটে এককভাবে লড়াই করার পক্ষেই তিনি জোরালো সওয়াল করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কর্মীরা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের লড়াইয়ে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

    দলের অন্দরের ক্ষোভ নিয়ে কী বললেন শমীক?

    বিজেপির অন্দরে কয়েকজন বিধায়কের প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং মন্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জিতেন তিওয়ারি এবং অমরনাথ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধায়কদের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও বিষয়টিকে বড় ধরনের বিদ্রোহ বা সাংগঠনিক সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ শমীক।

    তাঁর মতে, কোনও ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। ফলে কোথাও কোথাও সামান্য বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি বলেই মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার কথাও জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে কোনও বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়নি।

    বাংলার খনিজ সম্পদ নিয়ে বড় সম্ভাবনার দাবি

    রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি বাংলার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শমীক (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, বহু বছর আগেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরের একাংশে বিপুল পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ ও রেয়ার আর্থের সন্ধান মিলেছিল। কিন্তু তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সেই সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি বলেই অভিযোগ তাঁর (Kolkata Municipal Election 2026)।

    ২০১৮ সালে অশোকনগরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর রানাঘাটেও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কালিম্পং ও বাঁকুড়ায় সোনার সন্ধানও চলছে বলে দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও সুজলা-সুফলা ভূপ্রকৃতিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়া সম্ভব।

    প্রবাসীদের বাংলায় বিনিয়োগের আগ্রহ

    সম্প্রতি বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শমীক। নেদারল্যান্ডসে ‘বিদেশস্থ বিজেপির বন্ধু’ সংগঠনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বহু প্রবাসী ভারতীয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমীকের দাবি, বাংলার উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।

    পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী এবং বিশ্বখ্যাত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লর্ড বাগড়ির পরিবারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলায় নতুন করে বিনিয়োগ ও কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেও মনে করছে বিজেপি।

    জিডিপি বৃদ্ধি নিয়ে মোদি সরকারের সাফল্যের দাবি

    দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জিডিপি বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো একাধিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারত কোভিড পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

    তাঁর দাবি, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে টিকা এবং বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ায় গোটা বিশ্ব বিস্মিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Shamik Bhattacharya)।

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবার এ নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকেরা (Kolkata Municipal Election 2026)।

    পুরভোটে ভোটার তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছু ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ১ জুলাই প্রকাশিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই পুরভোটের ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পুর এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আসন সংরক্ষণ, বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের ব্যবস্থাপনা, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। সেই তালিকা নিয়ে বিভিন্ন আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখার পর অক্টোবরের শেষদিকে চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ১৫ পুরসভায় নেই নির্বাচিত বোর্ড

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করেই পুর পরিষেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে হাওড়া পুরসভা। সেখানে গত ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি।

    মন্ত্রিসভা গঠনের পর হাওড়া পুরসভা-সহ পুর নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি, দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ও মিরিক, কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, হাওড়ার বালি এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা (Shamik Bhattacharya)।

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশেরই শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকা পুরসভাগুলিতে ভোট আয়োজন নিয়ে এবার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—দুই মহলেই তৎপরতা বাড়ছে। একদিকে বিজেপি একক শক্তিতে পুরভোটে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে আসন সংরক্ষণ ও ভোটগ্রহণ পরিকাঠামো প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন পুরভোটকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও (Kolkata Municipal Election 2026) উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Shamik Bhattacharya)।

     

  • India Russia Relation: ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি

    India Russia Relation: ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা। যুদ্ধ আবহ। জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফের পাশে থাকার বার্তা দিল বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া (India Russia Relation)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরোভ। জানা গিয়েছে, বর্তমান সঙ্কটে ভারতকে আরও বেশি করে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতের জেরে বর্তমানে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পণ্য আনা কার্যত বন্ধ। এর ফলে ভারত জ্বালানি ও সার আমদানিতে বিপুল সমস্যায় পড়ছে৷ ঠিক এই সময়েই ফের এগিয়ে এল রাশিয়া।

    ভারতকে আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ

    মোদি ও মানতুরোভের বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, সংযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তির আদানপ্রদান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি সমাজমাধ্যমে জানান, গত বছর ডিসেম্বরে পুতিনের সফরের সময় যে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে দুই দেশই সফল। ২০২৫ সালের শেষে ভারতে সারের জোগানও ৪০ শতাংশ বাড়ান হয়েছে। চাষিদের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বামাইড তৈরির লক্ষ্যে ভারত ও রাশিয়া দুই দেশ যৌথ ভাবে একটি প্রকল্প গড়ার কাজও শুরু করেছে। যুদ্ধ আবহে ভারতকে আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কথা বলেছে পুতিন-প্রশাসন। রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি।

    ভারতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল

    কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একে অপরকে শুধু হুমকিই নয়, হামলা-পাল্টা হামলাও চালাচ্ছে সমানে। এখনই এখনই মেটার কোনও লক্ষণ নেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এই পরিস্থিতির চাপও বাড়ছে উত্তরোত্তর হারে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত চরম সংকট দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে, আর্থিক চাপও বাড়ছে বিভিন্ন দেশে। কারণ, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে, স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়বে জিনিসপত্রে। ফলে, এই যুদ্ধের জেরে পরোক্ষে ভুক্তভোগী অনেক দেশ। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে একে একে জাহাজ আসছে ভারতে। ফলে, ভারতের পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    গুজবে কান না দেওয়ার আর্জি বিদেশমন্ত্রকের

    কিন্তু হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনতে কি টোল দিতে হচ্ছে ইরানকে? বেশ কিছু দিন ধরেই সেই নিয়ে চর্চা চলছে। জাহাজ পিছু ইরান ২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৮.৮ কোটি টাকা টোল ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর আসে সম্প্রতি। ভারতকেও চড়া টোল দিতে হচ্ছে কি না, উঠছিল প্রশ্ন। এবার সেই নিয়ে মুখ খোলে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।ভারত টোল ফি দিয়ে হরমুজ থেকে জাহাজ বের করছে কি না, বৃহস্পতিবার জানতে চাওয়া হয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে এমন কোনও আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা দিয়ে জাহাজ বের করে আনতে হচ্ছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

    রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়ল

    পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যেই মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৯০% বাড়িয়েছে ভারত। একই সময়ে মোট তেল আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের তেল আমদানিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ভারতের এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহেও পতন দেখা গিয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার তেল আমদানি কিছুটা কম ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের ছাড়ের সিদ্ধান্তের পর মার্চে আমদানি আবার বেড়েছে। এই ছাড়ের ফলে সমুদ্রে থাকা নিষিদ্ধ তেল কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

    এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলতে পারে

    এ ছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ— অ্যাঙ্গোলা (Angola), গ্যাবন (Gabon), ঘানা (Ghana) এবং কঙ্গো (Congo) থেকেও আমদানি বেড়েছে। যদিও মোট আমদানিতে তাদের অবদান এখনও কম। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোজা বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপথে সমস্যা থাকলেও ভারত কিছুটা তেল সংগ্রহ চালিয়ে যেতে পারছে।’ তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলতে পারে। পাশাপাশি ইরান এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরবরাহের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ মার্চে ৯২% কমেছে। এই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে আমেরিকা, ওমান, অ্যাঙ্গোলা, এবং নাইজেরিয়া থেকে বাড়তি আমদানির মাধ্যমে।

    নানা ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি 

    তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিনিময় ছাড়াও, মানতুরোভের এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখেছিল দিল্লি। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী যে পাঁচটি সিস্টেম আসার কথা ছিল, তার মধ্যে তিনটি চলে এলেও বাকি দু’টি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আটকে আছে। তবে মানতুরোভের আশ্বাস, কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজও নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব কমানো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি রয়েছে।

  • Natural Gas: সস্তা হচ্ছে জ্বালানি, কমবে রান্নার গ্যাসের দাম! নতুন ফর্মুলা আনছে কেন্দ্র

    Natural Gas: সস্তা হচ্ছে জ্বালানি, কমবে রান্নার গ্যাসের দাম! নতুন ফর্মুলা আনছে কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারণে নতুন ফর্মুলা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আর তার ফলে এক ধাক্কায় সিএনজি (পরিবহণ জ্বালানি) এবং পিএনজি’র (পাইপবাহিত রান্নার গ্যাস) দাম অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

    প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে জোর

    কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর ভারত। এবার দেশকে দূষণহীন জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি হিসেবে গড়তে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার। দেশে দূষণ কমানোর উপর বাড়তি জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত তথা ইলেকট্রিক যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি ব্যবহারের উপরও। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারণের ফর্মুলায় আনা হল বড়সড় বদল।

    প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারণের নতুন সীমকরণ

    প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারণের নতুন সীমকরণ ঠিক করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। এতদিন দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারণ হত আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়ার মতো গ্যাস উদ্বৃত্ত দেশের দাম অনুযায়ী। তাও বছরে দু’বার। সেক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি অর্থ ব্যয় হত গ্রাহকদের। এখন থেকে প্রত্যেক মাসে ঠিক হবে গ্যাসের দাম। পুরনো ক্ষেত্রগুলি থেকে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারিত হবে আমদানিকৃত অশোধিত তেলের দামের নিরিখে। অর্থাৎ বিশ্ব বাজারে তেলের দামের ওঠা-নামার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যও।

    দাম কমবে জ্বালানির

    বিভিন্ন সূত্র থেকে ভারত যে তেল আমদানি করে, তার দামের দশ শতাংশ হতে পারবে প্র্যাকৃতিক গ্যাসের বিক্রয় মূল্য। সেক্ষেত্রে সর্বাধিক ৬.৫ ডলার ও সর্বনিম্ন ৪ ডলার করা যাবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে ফর্মুলা প্রয়োগ করছে, তাতে খুশি সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন যে পদ্ধতিতে প্রাতৃতিক গ্যাসের দাম ঠিক হয়, তাতে ৮.৫৭ ডলার হওয়ার কথা। কিন্তু নতুন শর্তে সেই দাম হবে ৬.৫ ডলার। যা অনেকটাই স্বস্তি দেবে দেশবাসীকে। বাড়বে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারও।

    আরও পড়ুন: আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে রাজ্যপালের অনুমোদন নিতে হবে! নয়া নির্দেশিকা রাজভবনের

    কী রকম  হবে দাম

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর মন্ত্রিসভায় জানিয়েছেন, পুরানো খনি থেকে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস, যা এপিএম গ্যাস নামে পরিচিত, তা থেকে উৎপাদিত যাবতীয় জ্বালানির দাম ঠিক হবে আমদানিকৃত অশোধিত তেলের দামের নিরিখে। এই সিদ্ধান্তের পর, দিল্লিতে সিএনজির দাম প্রতি কেজি ৭৯.৫৬ টাকা থেকে ৭৩.৫৯ টাকা এবং পিএনজির দাম ৫৩.৫৯ টাকা প্রতি হাজার ঘনমিটার থেকে কমিয়ে ৪৭.৫৯ টাকা করা হবে। মুম্বাইয়ে, সিএনজি প্রতি কেজি ৮৭ টাকার পরিবর্তে ৭৯ টাকা এবং পিএনজি প্রতি ৫৪ টাকার পরিবর্তে ৪৯ টাকা প্রতি কেজি হবে।

    জ্বালানিমন্ত্রী হরদীপ পুরী ট্যুইটে দাবি করেছেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার্থেই সরকারের এই পদক্ষেপ করেছে। মন্ত্রী ট্যুইট বার্তায় লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সংশোধিত গার্হস্থ্য গ্যাস মূল্য নির্দেশিকা অনুমোদন করেছে। এর ফলে ভারতে গ্যাসের দামের উপরে আন্তর্জাতিক গ্যাসের দামের প্রভাব কমেছে। তাতে উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে।’ 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share