Tag: Navy Chief

Navy Chief

  • Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। কিন্তু পাকিস্তানের অনুরোধে অভিযান থেকে বিরত ছিল তারা। বুধবার এমনই দাবি করলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। মুম্বইয়ে নৌসেনার সংবর্ধনা কর্মসূচিতে বুধবার অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) সিঁদুর অভিযানের সময় অসাধারণ অবদানের জন্য দুই অফিসারকে সেবা পদক প্রদান করেন। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা আঘাত হানায় আর মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিলাম।’’

    পাকিস্তানের অনুরোধে আক্রমণ থেকে বিরত

    নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন, ২০২৫ সালের ৭-১০ মে সিঁদুর (Operation Sindoor) অভিযান চলাকালীন ভারতীয় নৌসেনা আগাগোড়া আগ্রাসী অবস্থান বজায় রেখেছিল। তিনি বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদূরের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঘাত হানার মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল। ইসলামাবাদ আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করার অনুরোধ করেছিল।’’ তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আক্রমণ থেকে বিরত থাকা হয়।

    ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা এবং তাদের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও দাবি করেন অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi)। পহেলগাঁওতে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হানার পর পাল্টা পাকিস্তানের বুকে পর পর জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ কার্যত কুপোকাত হয়েছিল পাকিস্তান। অভিযানের সময় মে মাসের সেই রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান যখন একের পর এক পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন ভারতীয় নৌসেনার আগ্রাসী অবস্থানে কার্যত নিজেদের উপকূল প্রান্ত বাঁচাতে মরিয়া ছিল পাকিস্তান।

    ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান

    অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন,‘‘অপারেশন সিঁদুরের সময় ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপের মোতায়েনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ পাকিস্তান নৌবাহিনীকে তাদের বন্দরের কাছাকাছি বা মাকরান উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য করেছিল।’’ একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’, এখনও শেষ হয়নি। তিনি সাফ বলেন, এই অপারেশন এখনও চলছে। ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠীর কথায়, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে কারণ যুদ্ধের পর বহু বাণিজ্যিক জাহাজ পাকিস্তানে ভ্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানগামী জাহাজের বীমা খরচও বেড়ে গিয়েছিল।

    পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি

    শুধু অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) প্রসঙ্গেই নয়, অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুরের পাশাপাশি, বছরভর পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে।’’ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হানাদারি, পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তিনি। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সমুদ্র এখন আর গৌণ নয়, বরং প্রধান কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে—এমনটাই জানান ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান। তিনি বলেন, ভারতীয় নৌসেনার অপারেশনাল দক্ষতা গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অভিযানে প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) আরও জানান, পশ্চিম উপকূলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে নৌবাহিনী তাদের প্রস্তুতি ও শক্তি প্রদর্শন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভাঙন ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, এবং এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র এখন প্রথম সারির সংঘর্ষক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, প্রায় ১,৯০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে এবং প্রতিদিনের জাহাজ চলাচল ১৩০ থেকে কমে মাত্র ৬–৭টিতে নেমে এসেছে।

    হরমুজ পাহারায় নৌসেনা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) জানান, হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতীয় নৌসেনা সক্রিয় রয়েছে। তারা জাহাজ পাহারা দিচ্ছে। ভারত সরকারের একাধিক উদ্যোগে নৌসেনা সহায়তা করছে। ভারতমুখী জাহাজগুলিকে রক্ষাকবচ দিতে ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’ চালু করেছে নৌসেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যার পুরোটাই নির্ভর করছে ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষতার উপর।

    বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে দেশগুলির উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতে এসেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। ভারত-ইরান সম্পর্কের খাতিরেই হরমুজ থেকে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে অনুমতি মিলেছে। তবে শুধু জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জরুরি অবস্থার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। দিনকয়েক আগেই উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজগুলিকে এসকর্ট করার জন্য দুটি টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। এখন, ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য শুধু এলপিজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনও মোতায়েনের জন্য পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি থাকা।

  • Agnipath Scheme: অগ্নিপথ প্রকল্প আরও অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল, বললেন নৌসেনা প্রধান

    Agnipath Scheme: অগ্নিপথ প্রকল্প আরও অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল, বললেন নৌসেনা প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগ্নিপথ (Agnipath Scheme) প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করলেন নৌসেনা প্রধান আর হরি কুমার (R Hari Kumar)। তিনি বলেন, “অগ্নিপথ একটি অসাধারণ প্রকল্প। বহু আলোচনা এবং গবেষণা পর আনা হয়েছে এই প্রকল্প।” তিনি বলেন, “এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২০ সালে। দুবছর পর বাস্তবায়িত করা হয় প্রকল্পটিকে।” তিনি আরও বলেন, “এটি একটি দুর্দান্ত প্রকল্প। বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি। অনেক বছর আগে বাস্তবায়িত করা উচিত ছিল।” 

    আরও পড়ুন: সেনায় ৪ বছর দিক যুবারা, “অগ্নিপথ” প্রকল্পের ঘোষণা রাজনাথের

    অ্যাডমিরাল কুমার বলেন, “কার্গিল পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্টে একটি সুপারিশ রয়েছে যে সশস্ত্র বাহিনীর সেনা জওয়ানদের বয়স কম হওয়া উচিৎ। সেই সময়ে গড় বয়স ছিল ৩২ বছর। সুপারিশে বলা হয়েছিল, এই বয়স হওয়া উচিৎ ২৫-২৬ – এর মধ্যে। তারপর থেকেই কীভাবে সশস্ত্র বাহিনীতে সেনাদের গড় বয়স কমিয়ে আনা যায় সেই নিয়ে পর্যালোচনা চলছিল। বিকল্প খোঁজা হচ্ছিল। এই নিয়ে বহু আলোচনা, বিতর্কের পর আনা হয়েছে এই প্রকল্প।”  

    গত ১৪ জুন অগ্নিপথ প্রকল্পের ঘোষণা করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই প্রকল্পের অধীনে চার বছরের জন্য সেনাতে লোক নিয়োগ করা হবে। এই চার বছরের কাজের মধ্যে চাকরি প্রার্থীদের প্রথম ছয় মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নিয়োগের প্রথম কিস্তিতে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন শাখায় ৪৫,০০০ এর বেশি নিয়োগ হবে। সরকারি তরফে তাঁদের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বেতন বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও চিকিৎসা, বিমা সহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবেন তাঁরা। 

    আরও পড়ুন: অগ্নিবীরদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত নয়! রয়েছে নানা সুযোগ

    চার বছর পর এই সৈন্যদের মধ্যে ২৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে কাজে বহাল রাখা হবে। তাঁরা ক্যাডারে নিযুক্ত হয়ে আরও ১৫ বছর নন-অফিসার পদে চাকরি করতে পারবেন।জানা গিয়েছে, চার বছরের মেয়াদে চাকরি চলে যাওয়ার আনুমানিক ৩০ দিনের মধ্যে ২৫ শতাংশ সেনাকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হবে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার নয়া তারিখ ধরে তাঁদের নিয়োগ করা হবে। সেই তারিখের ভিত্তিতেই বেতন এবং পেনশন পাবেন সেনারা। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

     
     
LinkedIn
Share