Tag: NCMEC

  • Google on Child Abuse: অনলাইনে শিশুদের যৌন হেনস্থা! এবার সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবে গুগল

    Google on Child Abuse: অনলাইনে শিশুদের যৌন হেনস্থা! এবার সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবে গুগল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনলাইনে শিশুদের যৌন নিগ্রহের ‘কনটেন্ট’-এর বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু করেছে কেন্দ্র। এবার শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি অনলাইন সামগ্রী (CSAM) শনাক্ত হলে তা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে গুগলও (Google)। এতদিন এই ধরনের রিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিশিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেশন অফ চিল্ড্রেন (NCMEC)-এর সাইবার টিপলাইন (CyberTipline)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পৌঁছত। তবে কেন্দ্রে মোদি সরকারের সক্রিয়তায় এখন থেকে ভারত-সম্পর্কিত ঘটনাগুলির তথ্য সরাসরি ভারতীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে গুগল। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে তারা (Google)। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে তথ্য পৌঁছনোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনও শিশুর তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তথ্য পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট 

    মার্কিন সংস্থার (NCMEC) সাইবার টিপলাইন ১৯৯৮ সাল থেকে অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করে আসছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি তাদের প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক শিশু-শোষণ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড শনাক্ত করলে সেই তথ্য সাইবার টিপলাইন-এ রিপোর্ট করতে পারে। এরপর মার্কিন সংস্থা এনসিএমইসি (NCMEC) প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। ২০২৫ সালে সাইবার টিপলাইন-এ মোট ২ কোটি ১৩ লক্ষ রিপোর্ট জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ রিপোর্ট শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত। প্রায় ১৪ লক্ষ রিপোর্ট শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ বা যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করার ঘটনা (online enticement) নিয়ে ছিল। ৭৭ শতাংশেরও বেশি এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল যার উৎস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৭০টি দেশ ও অঞ্চলের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করে।

    কেন ভারত সরাসরি রিপোর্ট চাইছে

    ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইন অপরাধের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত রিপোর্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সরকারের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় হল—বিদেশি কোনও সংস্থার মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি ধাপ থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় তদন্তকারীদের কাছে তথ্য পৌঁছতে সময় লাগতে পারে। গুগল (Google)-এর নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হল ভারত-সম্পর্কিত শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত তথ্যকে আরও সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনশন সেন্টার (Indian Cyber Crime Coordination Centre)-এর সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। ভারতের সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনশন সেন্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামো হিসেবে কাজ করে। গুগল জানিয়েছে, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সামগ্রী শনাক্ত করা, প্রতিরোধ করা, সরিয়ে দেওয়া এবং রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখছে।

    মেটা-র পর গুগল-এর পদক্ষেপ

    গুগল-এর এই সিদ্ধান্তের আগে মেটা-ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। ফলে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে ভারতের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকারের আলোচনায় সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব-এর মতো বৃহৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত হলে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছানোর একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে।

    পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে মেটা

    ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে মেটা কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। ওই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ পুলিশকে জানানোর বিষয়ে রাজি হল মেটা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে পিটিআই জানাচ্ছে, যে সব সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সক্রিয় পদক্ষেপ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে যে কোনও আপস করা হবে না, তা-ও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রকের ওই সূত্র। এ বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে ‘ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (আইফোরসি) পরিচালিত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত পোর্টালে অভিযোগ জানাবেন। বস্তুত, এই পোর্টালটি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাও ব্যবহার করে। মেটার এক মুখপাত্র বলেন, “সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    অনলাইন শিশু-নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসর

    মার্কিন সংস্থা এনসিএমইসি-এর ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান থেকে অনলাইনে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ওই বছরে সাইবারটিপলাইন-এ পাওয়া রিপোর্টে মোট ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইল ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লক্ষ ছবি এবং ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ভিডিও ছিল। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত সামগ্রী তৈরি বা বিকৃত করার ঘটনাও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ৮২ হাজারের বেশি রিপোর্টে জেনারেটিভ এআই-এর সঙ্গে শিশুদের যৌন নির্যাতনের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল।

    ভারতীয় আইনে কঠোর শাস্তির বিধান

    ভারতে শিশুদের যৌনভাবে স্পষ্ট বা আপত্তিকর সামগ্রী তৈরি, প্রকাশ, প্রেরণ, প্রচার বা এ ধরনের কাজে শিশুদের ব্যবহার সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭বি ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের অধীনে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। গুগুল-এর সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মধ্যবর্তী রিপোর্টিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, প্রমাণের নির্ভুলতা, ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি এবং তদন্তের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। গুগল-এর এই উদ্যোগ ভারতে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য এখন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে কোনও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর তথ্য থেকে তদন্ত—এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুত ও সরাসরি করা।

     

  • Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনা এবং শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সরাসরি তথ্য জানানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে মেটা (Meta)। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।

    এতদিন মেটার পক্ষ থেকে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য উপাদানের তথ্য শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন বা এনসিএমইসিকে জানানো হত (Child Sexual Abuse Case)। পরে ওই সংস্থাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করত। নতুন ব্যবস্থায় ভারত-সংক্রান্ত এই ধরনের ঘটনাগুলি সরাসরি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছেও পাঠাবে মেটা।

    সরকারের বক্তব্য (Meta)

    এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “ভারতে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা একটি মৌলিক নীতি। এই বিষয়ে কোনও আপস করা যাবে না।”

    তবে সরকারের তরফে এই পদক্ষেপকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ওই আধিকারিকের কথায়, “শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসরকে নিরাপদ করার পথে এটি প্রথম পদক্ষেপ। এখনও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।”

    সরকারি সূত্রে খবর, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্রিয় পদক্ষেপ না নেওয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এক আধিকারিক বলেন, “যেসব সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

    মেটার সঙ্গে সরকারের এই আলোচনা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল। গত ৫ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া একাধিক বৈঠকে মেটার শীর্ষ কর্তারা সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সংস্থার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়ক আধিকারিক জোয়েল কাপলানও সেই আলোচনায় অংশ নেন।

    সরকারের দুয়ারে মেটা কর্তারা

    কাপলানের সঙ্গে ছিলেন মেটার জননীতি বিভাগের সহ-সভাপতি নীল পটস, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জননীতি বিভাগের প্রধান রাফায়েল ফ্র্যাঙ্কেল, ভারতে জননীতি বিভাগের প্রধান আমান জৈন-সহ (Meta) অন্যান্য আধিকারিক।

    এর আগে জুলাই মাসে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার আধিকারিকদের তলব করেছিল।

    ৩ জুলাই প্রকাশিত বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র নজরদারি শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান প্রচারের জন্য অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।

    অনুসন্ধানে প্রায় ১০ মাসের একটি সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি-সহ ৩৩২টি বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮৪টি বিজ্ঞাপন ভারতে দেখা গিয়েছিল। টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের দাবি, ভারতের ওই ৮৪টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৭৮টি এমন সময়ে প্রচারিত হয়েছিল, যখন জুলাই মাসেই সরকার মেটাকে এই ধরনের উপাদান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।

    বিবিসির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন নিজ উদ্যোগে বিষয়টি গ্রহণ করে। ৩ জুলাই মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এক সপ্তাহ পরে মেটার পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে জবাব দেওয়া হয়।

    কমিশনের সামনে মেটা কর্তারা

    সেই জবাব পর্যালোচনা করার পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে মেটা ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধানকে ৯ সেপ্টেম্বর কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে মেটা ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা কমিশনের সামনে হাজির হন।

    এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দিল্লি পুলিশকে অভিযোগগুলির তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে (Child Sexual Abuse Case) সুরক্ষা আইনের আওতায় মেটা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের তথ্য জানানোর আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে (Meta)।

     

LinkedIn
Share