Tag: ncpi

ncpi

  • Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই (21 July)। ১৯৯৩ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী। বাম জমানার সেই (Suvendu Adhikari) নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসেই ওই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার, যে সরকারের চালিকা শক্তি ছিলেন মমতা স্বয়ং। টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মমতা। তার পরেও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত রিপোর্ট। প্রশ্ন হল, কেন দিনের আলো দেখেনি সেই রিপোর্ট? কেনই বা রাখা হয়েছিল ফাইল বন্দি করে? শেষমেশ সোমবার, ৩৩তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে সেই রহস্যের কুয়াশা কাটল। সৌজন্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। নিয়ম মেনে রাজ্য বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের সেই বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এনেছেন, যা তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে।

    মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি (Suvendu Adhikari)

    বিধানসভায় তদন্ত রিপোর্টটি পড়ে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কোনওরকম উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই সেদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। যদিও মণীশ গুপ্তকে ওপর থেকে কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কমিশন জানতে পারেনি। রিপোর্টের সূত্র ধরে শুভেন্দু আরও জানান, মেয়ো রোড, রেড রোড এবং ডোরিনা ক্রসিং— যেখানে যেখানে পুলিশের বন্দুক থেকে গুলি ছুটেছিল, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। কারণ, সেই জায়গাগুলি রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকে অনেকটাই দূরে। বিক্ষোভকারীরা মহাকরণ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে, প্রশাসনের এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। অথচ, পুলিশের গুলিতে যুবকদের যে মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনও যথার্থতা বা আইনি বৈধতা কমিশন খুঁজে পায়নি। এমনকি মহাকরণ থেকেও এই সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি।

    প্রধান সাক্ষী মমতাকেই ডাকেনি কমিশন!

    এই রিপোর্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হল সাক্ষীদের তালিকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সৌগত রায়, মদন মিত্র এবং তৎকালীন পুলিশ কর্তা-সহ মোট ৪৪ জনকে তলব করেছিল কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, যে মমতার নেতৃত্বে সেদিন মহাকরণ অভিযান হয়েছিল এবং যিনি নিজেকে এই ঘটনার প্রধান সাক্ষী বলে দাবি করেন, তাঁকেই শুনানির জন্য ডাকেনি কমিশন! এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলে দিয়েছিলেন তাঁকে যেন না ডাকা হয়। আসলে আইন অনুযায়ী এই তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশনই মনে করে না।” এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পঙ্কজবাবু এই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, যাঁর নির্দেশে যুবকদের বুকে গুলি চলেছিল, সেই মণীশ গুপ্তকে মমতা নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী করেছেন। তাই এই কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং প্রহসন মাত্র (Suvendu Adhikari)।

    ক্ষমতার লোভ ও বিপুল সম্পত্তি

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু (21 July) করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতা পাওয়া তো বটেই, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরে বেড়ানো এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া— সবই হয়েছে এই দিনটিকে পুঁজি করেই। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের আসল সত্যিটা কী ছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আজও জানতে পারেনি।” শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল সরকার প্রতি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের নামে বিশাল তোড়জোড় এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটালেও, আদতে শহিদদের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার কোনও মানসিকতাই তাদের ছিল না। নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য মণীশ গুপ্ত ফেঁসে যেতে পারেন, এই ভয়েই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে ফাইল বন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন। শহিদদের আবেগকে স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়েছে।

    তৃণমূলের ত্রিমুখী ভাঙন

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ। ক’দিন আগেই লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, মণীশ গুপ্তকে আড়াল করতেই ২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাই প্রকৃত বিচার চেয়ে তিনি রিপোর্টটি জনসমক্ষে আনার অনুরোধ জানান। কাকলির সেই পত্র পাওয়ার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিলেন। এর ফলে মঙ্গলবার, একুশে জুলাইয়ের দিন বাংলায় নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যেতে চলেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। এবার আর এক ছাতার তলায় নয়, তৃণমূলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠী পৃথকভাবে এই দিনটি পালন করবে। কালীঘাট শিবিরের কর্মসূচি পালিত হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর কর্মসূচি পালিত হবে ধর্মতলায়, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এবং দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানাবেন লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা, যাঁরা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই পার্টিতে (Suvendu Adhikari)।

    এর ঠিক আগের দিন সোমবার বিকেলে তথ্যপ্রমাণ সহ এই রিপোর্ট আমজনতার দরবারে পেশ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা ১৫ বছর সরকারে ছিলেন, তাঁরা এই সুপারিশ কতটা কার্যকর করেছেন আর কতটা ধামাচাপা দিয়েছেন, তা এবার বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই রিপোর্ট (21 July) প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও খানিক উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক দু’দিন আগে দেশের রাজনীতিতে ঘটল বড় ধরনের পালাবদল। লোকসভার স্পিকার (Lok Sabha Speaker) ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় লোকসভা সাংসদের একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় (Shiv Sena UBT) যোগদানের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে লোকসভায় শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

    শক্তি বাড়ল এনডিএর (Lok Sabha Speaker)

    লোকসভা সচিবালয়ের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টাদশ লোকসভায় বিভিন্ন দলের সংশোধিত অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) থেকে ওই ছয় সাংসদের দলবদলের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর শক্তিও আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্যও লোকসভায় পৃথক আসন বিন্যাসের অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার। বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যদিও ওই দলভুক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৈঠকে আমন্ত্রণ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের 

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরকারের ডাকা সর্বদলীয় ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই আরও কিছু রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা আরও বেড়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদের শিন্ডে শিবিরে যোগদানের ফলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলেই শুরু হয়েছে জল্পনা (Lok Sabha Speaker)।

    বিল পাসে আশাবাদী সরকার

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এবং মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে আশাবাদী। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমের সমর্থন মিলতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এই ধরনের সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভায় মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

    ‘অন্যায়’ আবদার তৃণমূল-উদ্ধব ঠাকরের দলের

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস জোট ভেঙে টিভিকে-কে সমর্থন করার পর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমও লোকসভায় কংগ্রেসের থেকে আলাদা আসন বিন্যাসের আবেদন করেছে। যদিও স্পিকার এখনও এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে তা অনুমোদিত হতে পারে বলেই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই দলই তাদের বিদ্রোহী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (Shiv Sena UBT) সদস্যসংখ্যা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান লঙ্ঘন না করায় স্পিকারের পক্ষে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার সম্ভাবনা খুবই কম (Lok Sabha Speaker)।

     

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাব ঘিরে সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। তদন্তকারীদের আতশ কাচের তলায় একাধিক রাজনৈতিক নেতা। এমন (Ritabrata Banerjee) পরিস্থিতিতেই সই জালিয়াতি বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল (TMC)। অন্তত, রাজনৈতিক মহলের দাবি তো তেমনই।

    কোর্ট পেপারে সই (Ritabrata Banerjee)

    সূত্রের খবর, সোমবার নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত গোপন বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেককে একটি কোর্ট পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বলা ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, গোটা বৈঠকের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সই সংক্রান্ত কোনও ধরনের বিতর্ক এড়াতেই এই নজিরবিহীন ব্যবস্থা। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের ওই বৈঠকে কলকাতা পুরসভার ৬০ থেকে ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। হাজির ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক জাভেদ খান, জুঁই বিশ্বাস, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতানেত্রী। ঋতব্রতর পাশাপাশি কিছু বিধায়কও অংশ নেন সোম-সন্ধ্যার ওই বৈঠকে।

    নেপথ্য কথন

    প্রসঙ্গত, সই জালিয়াতি বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভায় পাঠানোকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, যে রেজ্যুলিউশন বুকে ৭০ জন বিধায়কের সই দেখানো হয়েছিল, সেখানে কয়েকজন বিধায়ক বাস্তবে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের স্বাক্ষর ছিল। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রতর দাবি, ওই রেজ্যুলিউশন বুকে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তাঁরা স্পিকারের কাছেও এ ব্যাপারে অভিযোগ জানান। এরপরেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে, এবং (Ritabrata Banerjee) যার অনিবার্য পরিণতিতে কার্যত দুটুকরো হয়ে যায় তৃণমূল- একটি ঋতব্রত শিবির এবং অন্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

    নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের নয়া কর্মসমিতির তালিকা

    এদিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও সাংগঠনিক কর্তৃত্বের বার্তা দিতে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের পরিমার্জিত কর্মসমিতির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা। কালীঘাট সূত্রে খবর, নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর গত ৫ জুন কালীঘাটে দলের নয়া কর্মসমিতি গঠন করেছিলেন মমতা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলত্যাগী নেতাদের অবস্থান বদলের পর সেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে বলেই অনুমান। নতুন কর্মসমিতি থেকে বাদ পড়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া একাধিক নেতা। যুব সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি সায়নী ঘোষ এবং মহিলা সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি মালা রায় বর্তমানে (TMC) ঋতব্রত শিবির-ঘনিষ্ঠ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত। একই কারণে নয়া তালিকায় ঠাঁই হয়নি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদেরও।

    পৃথক কর্মসমিতি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরেরও 

    অন্যদিকে, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরও নিজেদের পৃথক কর্মসমিতি ঘোষণা করেছে (Ritabrata Banerjee)। সেখানে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ঋতব্রত, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সহ-সভাপতি করা হয়েছে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে সই জালিয়াতি বিতর্কের তদন্ত, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব— এই দুইয়ের জেরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুঙ্গে। তৃণমূলের যুযুধান মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের উপুর্যপরি কর্মসমিতি গঠন (TMC) অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করতে পারে (Ritabrata Banerjee) বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

     

  • TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    সুশান্ত দাস

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ যখন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে চলেছে বলে স্পষ্ট করে দিলেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কী বলেছেন ঋতব্রত?

    সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজস্ব বিষয় এবং তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এনসিপিআই-এর সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একীভূত হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। “লোকসভার ২০ জন সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। আমাদের গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এমন কোনও ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কদের এনসিপিআই-এ মিশে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থন রয়েছে,” দাবি করেন ঋতব্রত।

    বিদ্রোহী শিবিরে দুটি আলাদা রাজনৈতিক মেরু

    ঋতব্রতর এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম গোষ্ঠীতে রয়েছেন সেই বিদ্রোহী সাংসদরা, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র কাছাকাছি বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি গড়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই শিবির আপাতত নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখে বিধানসভার ভেতরে শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী শিবিরের মধ্যেও ঐক্য নেই। বরং ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কেন এনসিপিআইতে অনীহা ঋতব্রতর?

    কোনও রাজনৈতিক দলের একীভূতকরণ (মার্জার) বৈধ হতে গেলে সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভায় সেই দলের আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও কাকলি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজ্যেও এনডিএকে সমর্থন করে, তাহলে তিনি বিরোধী দলনেতার পদ হারাবেন। কারণ সেক্ষেত্রে তাঁর গোষ্ঠী শাসক জোটের অংশ হয়ে যাবে।

    ঋতব্রতরা এনডিএ-তে গেলে কী হবে?

    আবার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দলকে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার জন্য আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়। বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি করা ৬৫ সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে যদি তাঁর গোষ্ঠী এনডিএ-তে যোগ দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে ১০ শতাংশেরও কম বিধায়ক থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে শাসক দলের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করবে।

    ৬৫ বিধায়কের সমর্থনের দাবি

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেছেন যে, তাঁদের গোষ্ঠীর পাশে বর্তমানে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদিও সেই বিধায়কদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে। সেই চিঠিতে সমর্থনকারী বিধায়কদের বিষয়ে তথ্য রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। “আমরা স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছি। সেই নামগুলি যদি প্রকাশ্যে আসে, তাহলে তা বিধানসভার বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের সামিল হবে,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে যে তৃণমূলের আরও বহু বিধায়ক গোপনে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

    সাংসদদের এনসিপিআই-এ যোগদান

    রবিবার দিল্লিতে নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা সংসদে পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানান এবং নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। এরপর বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে তাঁদের গোষ্ঠী এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে এনসিপিআই। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঋতব্রতদের নিয়ে ভাবছেন না বিদ্রোহী সাংসদরা

    ঋতব্রত, তথা বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠীর মুখ কাকলি সাফ জানিয়ে দেন, ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর “কোনও সম্পর্ক নেই”। বারাসতের সাংসদ বলেন, “ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। ও বিধানসভায় আছে, আর আমি সংসদে। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন একাই এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলাম। এখন আরও ১৯ জন আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে বাংলার জন্য কাজ করব।”

    দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিদ্রোহী নেতা

    এই রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জোরালো হয় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ, যার মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপই তাঁদের পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে কাজ করার ইঙ্গিত বহন করে।

    তৃণমূলের সামনে দীর্ঘ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে দলের সাংসদদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার পথে হাঁটছে, অন্যদিকে বিধায়কদের একটি অংশ রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের এই পৃথক রাজনৈতিক পথ ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, বিধানসভায় অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ— সবকিছুর উপরই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান, স্পিকারের ভূমিকা এবং এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক বিস্তার—এই তিনটি বিষয়ই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

  • TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং বিস্ময়কর ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এক অতি-অপরিচিত রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আসন বিন্যাস এবং নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পরই এই গোষ্ঠী এনডিএ (NDA) জোটে যোগদানের ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় স্তরেও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কে এই এনসিপিআই?

    বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা হওয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) নামটি রবিবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অজানাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ সদস্যই এই দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনকি ত্রিপুরার একাধিক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনওদিন এই দলের নামও শোনেননি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দলটি নিবন্ধিত হলেও এটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয় এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের কোনও স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়নি। দলের সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। অর্থাৎ বিভিন্ন মহলে প্রচারিত ধারণার বিপরীতে, দলটির মূল ভিত্তি ত্রিপুরা নয়, পশ্চিমবঙ্গেই।

    মাত্র ৮২২ ভোট থেকে লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    এনসিপিআই-এর অতীত নির্বাচনী রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলি পান ২৮৬ ভোট এবং চাওমনু কেন্দ্রের প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ পুরো দল মিলিয়ে মোট ভোট ছিল মাত্র ৮২২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘এনসিপিএন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমিশনের নিজস্ব কোডিং ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় দলের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নামের পরিবর্তে আলাদা কোড ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূলের ১৯-২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ায় কার্যত রাতারাতি লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এনসিপিআই। একইসঙ্গে এনডিএ-র অভ্যন্তরেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

    কেন বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেন না বিদ্রোহীরা?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি ও কৌশলগত হিসাব। ভারতের দশম তফশিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনও আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে দলত্যাগ নয়, বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা এই দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে নতুন দল গঠন করলে এই সুরক্ষা পাওয়া যেত না। ফলে একটি বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়া ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ।

    এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বড় কৌশল

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই-এর মতো কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নেতৃত্বহীন একটি দলকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। যদি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপি বা অন্য কোনও বড় এনডিএ শরিক দলে যোগ দিতেন, তাহলে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনেই কাজ করতে হত। কিন্তু এনসিপিআই-এর ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থেই পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা বজায় রেখেই তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে এনডিএ-র অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। এক কথায় আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।

    তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

    এই বিদ্রোহের প্রভাব শুধু দিল্লির সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, কলকাতাকেন্দ্রিক এক বৃহৎ গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদি বিধায়করাও একই পথে হাঁটেন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে। অন্যদিকে এনডিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    ‘‘তৃণমূল’’ নাম ও প্রতীক নিয়ে নতুন লড়াই?

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি হবে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তাই ভবিষ্যতে ‘‘তৃণমূল’’ নাম, প্রতীক এবং সংগঠনের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে শিবসেনা, এনসিপি-সহ একাধিক দলের ক্ষেত্রে প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দেখা গেছে। সেই নজির অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ সংঘাত দেখা দিতে পারে।

    জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

    যদি এই পরিস্থিতি বাস্তবে পূর্ণতা পায়, তাহলে এটি স্বাধীন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দলীয় ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচনে মাত্র ৮২২ ভোট পাওয়া একটি দল হঠাৎ করেই লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে— এমন নজির ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রায় অদেখা। একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র, বিরোধী জোট রাজনীতি এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— এই সাংসদদের পদক্ষেপের পর কি তৃণমূলের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন, নাকি দলটি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে?

  • Digital Currency: ‘মুদ্রা’ লেনদেনে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে চলেছে ভারত, তৈরি হচ্ছে ইতিহাস

    Digital Currency: ‘মুদ্রা’ লেনদেনে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে চলেছে ভারত, তৈরি হচ্ছে ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মুদ্রা লেনদেনের ব্যাপারে আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। যা বদলে দেবে লেনদেন ব্যবস্থার ইতিহাস। সমগ্র বিশ্ব যখন ডিজিটাল যুগে চলছে, ঠিক তখন এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতও মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। খুব শীঘ্র সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে চালু হতে চলেছে ডিজিটাল কারেন্সি (Digital Currency)। গত বছরই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফ থেকে এই বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে কিছু নির্ধারিত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই সুবিধা পাওয়াও যাচ্ছে। এর মধ্যে HDFC BANK, ICICI BANK, BANK OF BARODA প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

    কী এই ডিজিটাল কারেন্সি (Digital Currency)?

    ডিজিটাল কারেন্সি বা ‘ডিজিটাল মুদ্রা’ হল ভারতীয় মুদ্রারই একটি ডিজিটাল রূপ। যাকে ইলেকট্রনিক মুদ্রাও বলা যেতে পারে। এই মুদ্রা দিয়ে সাধারণ মুদ্রার মতোই অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে লেনদেন করা যায়। বর্তমানে এই ডিজিটাল মুদ্রা সংক্রান্ত বিষয়টি পরীক্ষামূলক অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যতে সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল কারেন্সি (Digital Currency) ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। আর এই মুদ্রাগুলি সম্পূর্ণ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দ্বারা স্বীকৃত। এই মুদ্রার নিজস্ব একটি নাম দেওয়া হয়েছে। সেটি হল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি বা CBDC। এর মূল্য সাধারণ মুদ্রার সমান।

    ডিজিটাল মুদ্রার (Digital Currency) সুবিধা ও বৈশিষ্ট্যগুলি কী?

    এই ডিজিটাল মুদ্রাগুলির বিশেষ কিছু সুবিধা আছে। যেমন-

    ১) এই মুদ্রাগুলি অনলাইন এবং অফলাইন দুটি মাধ্যমেই ব্যবহার করা যেতে পারে।
    ২) সাধারণ ব্যবহৃত মুদ্রা বা নোটগুলি অনেক সময় ছিঁড়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই মুদ্রাগুলি ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ এটি একটি ইলেকট্রনিক সংস্করণ। 
    ৩) এই ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency) ব্যবহার করার জন্য কোনও আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না, আপনার ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এই মুদ্রা লেনদেন সম্ভব।
    ৪) ডিজিটাল মুদ্রাগুলির ব্যাঙ্কের সাথে কোনও সম্পর্ক থাকছে না। এটি সরাসরি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাথে যুক্ত থাকবে।

    এখনও পর্যন্ত কোন কোন ব্যাঙ্কে এই ডিজিটাল মুদ্রার সুবিধা আছে?

    গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ১ লা নভেম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে এই ডিজিটাল কারেন্সির সূচনা করা হয় এবং একটি পরীক্ষামূলক ভাবে দেশের ন’টি ব্যাঙ্ক এই পাইলট পরিকল্পনার সাথে যুক্ত হয়। যেমন-স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, IDFC First Bank ও HSBC ব্যাঙ্ক।

    কীভাবে ব্যবহার করা হয় এই ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency)?

    ১) ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের পাইলট প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী ব্যাঙ্কগুলিতে অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। সেই ব্যাঙ্কগুলি তাদের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রার অ্যাপ চালু করেছে।
    ২) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটিকে এই ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency) আক্সসেস করার জন্য উপযোগী হতে হবে।
    ৩) আপনার অ্যাকাউন্ট যদি ডিজিটাল মুদ্রার জন্য যোগ্য হয়, তাহলে সরাসরি ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা অ্যাপের মাধ্যমে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

    ডিজিটাল মুদ্রার (Digital Currency) সাথে কি UPI এর কোনও মিল আছে?

    ডিজিটাল মুদ্রার সঙ্গে ইউপিআই-এর কোনও গঠনমূলক সম্পর্ক নেই, এই দুটির মধ্যে রয়েছে অসংখ্য পার্থক্য। যেমন ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency) সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, অপরদিকে ইউপিআই ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ডিজিটাল মুদ্রা অনলাইন এবং অফলাইন দুটি মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ইউপিআই অনলাইন ছাড়া অফলাইনে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ডিজিটাল কারেন্সি আপনার জমা টাকার একটি ইলেকট্রনিক সংস্করণ যা একটি অ্যাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, অপরদিকে UPI একটি রিয়েল টাইম পেমেন্ট সিস্টেম।

    ভারতীয় ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Currency) এবং তার প্রতীক

    ডিজিটাল মুদ্রাকে দুটি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে-টাকা এবং পয়সা। এদের নিজস্ব ডিজিটাল প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে, টাকার জন্য e₹ আর পয়সার জন্য eप। 
    ডিজিটাল মুদ্রার (Digital Currency) টাকার ব্যবহৃত ফ্রিকোয়েন্সিগুলি হল- e₹2 , e₹5 , e₹10 , e₹20 , e₹50 , e₹100 , e₹200 , e₹500, e₹2,000 এবং পয়সার ক্ষেত্রে 50eप।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share