Tag: NDRF

NDRF

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

    নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)

    ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’

    ‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

    ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা

    বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

    প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।

    তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।

    নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক

    নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।

    ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

    সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান

    রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।

     

  • Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর পুনরুজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে নতুন বিশেষ উদ্ধারকারী ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini) গঠন এবং অগ্নিবীরদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের জোড়া ঘোষণা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো হচ্ছে এনসিসি (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রাবস্থা থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের পাঠ ছড়িয়ে দিতে এনসিসি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার আমাদের রাজ্যের স্কুল ও কলেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এনসিসি তুলে দিয়েছিল। আর তার বদলে শুরু করেছিল জয়হিন্দ বাহিনী। অত্যন্ত খারাপ মানসিকতা ও সংকীর্ণ ভাবনা নিয়ে ওই কাজটা করা হয়েছিল। অথচ এনসিসিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্ভেজাল রাষ্ট্রপ্রেম তৈরি হয়। আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে চিঠি লিখব।”

    তিনি জানান, এনসিসি চালুর জন্য নির্দিষ্ট সামরিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চিঠি পাঠানো হবে।

    অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজ্য সুরক্ষায় প্রাক্তন সেনাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “রাজ্যের প্রতিটি স্কুল-কলেজে যাতে এনসিসির কাজকর্ম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এর পাশাপাশি আমরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি – পুলিশ, দমকলবাহিনী, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অগ্নিবীরদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরেই নামছে ‘অর্জুন বাহিনী’

    তারাতলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের নীল নকশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ ও বিপর্যয় সামলাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের তো এত বড় শহর, এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এত বছর ধরে, এখানে আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার যে কোনও রকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে। সেই কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করবে।” তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি নিজে এই বাহিনীর সূচনা ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন।

    এই বাহিনীর জন্য ইতিমধ্যেই আধুনিক ভবন, ক্যাম্পাসের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মতো উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনো জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা জানার হাই-টেক ক্যামেরা, বিশেষ উদ্ধারকারী গাড়ি এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম-সহ উন্নতমানের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

    সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে সাময়িক ২০০ জওয়ান মোতায়েন

    অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দিতে দিতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে উদ্ধারকাজের শূন্যতা মেটাতে রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এনলিস্ট করা হয়েছে। এই দলের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে এবং ৫০ জন দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কাকদ্বীপে মোতায়েন থাকবেন।

    আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই অর্থ সঠিকভাবে খরচই করেনি। আমরা সেই ফান্ড ব্যবহার করে নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করছি। তারাতলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এনডিআরএফ যেভাবে ২২ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে, তা একটা বিরাট অর্জন। কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও সেখানে প্রশংসনীয় ছিল। এর আগে আমফানের সময় আপনারা দেখেছেন, একটানা তিন দিন ধরে কলকাতার রাস্তা থেকে (Arjun Bahini) উপড়ে পড়া গাছই সরাতে পারেনি তখনকার প্রশাসন। শেষে ওড়িশার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলকে এনে শহর পরিষ্কার করাতে হয়েছিল।”

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা

    রাজ্যের আর্থিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর মতো সংস্থা স্বাবলম্বী ভারতের প্রতীক। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি লখনউয়ে তৈরি হওয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলায়ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, “আমরা তো একসময় রাজ্য হিসেবে পুরোপুরি ‘নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই কেবল ভাতা-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির নেতৃত্বে ভারত এখন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হচ্ছে।”

    তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, নতুন এই প্রশাসনিক রূপরেখায় কোনো অনভিজ্ঞ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিন মাস থেকে এক বছরের কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত (Arjun Bahini) করা হবে না।

     

  • Bridge Collapsed: খরস্রোতা নদীতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেতু, জলের তোড়ে ভেসে গেলেন পর্যটকরা

    Bridge Collapsed: খরস্রোতা নদীতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেতু, জলের তোড়ে ভেসে গেলেন পর্যটকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খরস্রোতা নদীর ওপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পায়ে চলার সেতু (Bridge Collapsed)। রবিবার দুপুরের ওই ঘটনায় সেতু থেকে ইন্দ্রায়ণী নদীতে পড়ে যান প্রায় ২০ জন। পুলিশ সূত্রে খবর, ৬ পর্যটকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও খোঁজ মেলেনি ১০-১৫ জনের। তাঁরা জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। মহারাষ্ট্রের পুণের (Pune) ঘটনা।

    ভাঙল খরস্রোতা ইন্দ্রায়ণী নদীর ব্রিজ (Bridge Collapsed)

    পুণের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় থানা এলাকার কুন্দমালা গ্রামের সৌন্দর্য চোখ জুড়ানো। এখান দিয়েই কুলু কুলু শব্দে বয়ে চলেছে খরস্রোতা ইন্দ্রায়ণী নদী। এই নদীর ওপর পায়ে চলার পুরানো সেতুটি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। বিভিন্ন ছুটিছাটায় এবং সপ্তাহ শেষের ছুটিতে পর্যটকরা ভিড় করেন নদীর ধারে এবং সেতুর ওপর। এদিনও বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিলেন সেতুতে। নদীর পাড়েও ঘোরাঘুরি করছিলেন অনেকে। দুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেতু। সেতু ভেঙে যাঁরা তলিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের সিংহভাগই পর্যটক বলেই আশঙ্কা। স্থানীয় সূত্রের খবর, সেতুর নীচে আটকে রয়েছেন দুই মহিলা। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে স্থানীয় থানার পুলিশকর্মীদের একটি দল। পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দলও। নদীতে তলিয়ে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    জরাজীর্ণ সেতু

    এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। অনেক আগেই এই সেতুর ওপর দিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। তবে বর্ষকালে নদীর জল বাড়লে বাড়ে সৌন্দর্যও। ইন্দ্রায়ণীর সেই সৌন্দর্য দেখতেই সেতুতে ভিড় করেন পর্যটকরা। অনুমান, জলের তোড়েই ভেঙে গিয়েছে জীর্ণ সেতুটি। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ৬ জনকে নদী থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে জারি রয়েছে তল্লাশি (Bridge Collapsed)।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, গত দুদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল ওই এলাকায়। এদিন বৃষ্টি খানিক ধরতেই পর্যটকরা চলে যান সেতুর ওপরে। সেতুটি যে জীর্ণ, সেখানে না যাওয়াই ভালো বলে পর্যটকদের সতর্ক করেছিলেন (Pune) স্থানীয়দের অনেকেই। তার পরেও সেতুতে ওঠেন তাঁরা। খানিক পরেই ঘটে বিপত্তি (Bridge Collapsed)।

  • Cyclone Dana: ‘দানা’র দাপটে উত্তাল দিঘা-মন্দারমণি, ভোর-রাত থেকেই নাগাড়ে বৃষ্টি কলকাতায়

    Cyclone Dana: ‘দানা’র দাপটে উত্তাল দিঘা-মন্দারমণি, ভোর-রাত থেকেই নাগাড়ে বৃষ্টি কলকাতায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-র (Cyclone Dana) প্রভাবে সকাল থেকেই কলকাতার আকাশজুড়ে কালো মেঘ। চলছে মুষলধারে বৃষ্টি (Rainfall in Kolkata)। মাঝেমাঝেই ঝোড়ো হাওয়া বইছে। রাতভর ঝড়-বৃষ্টির প্রকোপ বেশি না হলেও শুক্রের সকাল থেকেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শহরে। ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-র পিছনের দিকের অংশ এখন স্থলভাগে প্রবেশ করছে। ভূভাগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমে শক্তি হারাতে শুরু করেছে ‘দানা’ (Cyclone Dana)। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বদিকের বাইরের যে ‘ব্যান্ড’ রয়েছে, তার প্রভাবে সকাল থেকেই কলকাতা সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে (Heavy Rainfall Alert)। 

    ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি

    শুক্রবার ভোররাত থেকেই কলকাতা সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাতেই লাগাতার ভারী বৃষ্টি (Heavy Rainfall Alert) হচ্ছে। আলিপুর হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, এই বৃষ্টি দিনভর চলবে। আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের একটি বা দুটি অংশে প্রবল ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এছাড়া কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় জারি অতিভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা (Heavy Rainfall Alert)। পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় জারি ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা। আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে (Cyclone Dana)। পূর্ব মেদিনীপুরে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, সাগরদ্বীপ এবং সুন্দরবনে সর্বোচ্চ ১০০ কিমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাকি অংশে সর্বোচ্চ ৯০ কিমি এবং উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও বাঁকুড়ায় ৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    আরও পড়ুন: ওড়িশায় ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালাচ্ছে দানা, রাস্তাঘাট জনমানবশূন্য

    দীঘা-মন্দারমণিতে ‘দানা’-র দাপট (Cyclone Dana)

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ‘দানা’-র। স্থলভাগে প্রবেশ করার সময় এর গতিবেগ ছিল ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Dana)  কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। বহু জায়গায় গাছপালা ভেঙে গিয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে মন্দারমণির নিচু জমিতে ঢুকে পড়েছে নোনা জল। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সমুদ্রের রুদ্র রূপ দেখা যায়। তবে, আজ ভোর থেকে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এখনও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। রাতে ২টো নাগাদ বেড়ে গিয়েছিল সমুদ্রের জলস্তর। যার জেরে গার্ডওয়াল টপকে চলে আসে ঢেউ। বেশকিছু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। তার মোকাবিলায় নেমে পড়েছে এনডিআরএফের টিম। বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ঝড়ের (Cyclone Dana) দাপট রয়েছে বকখালিতেও।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Cyclone Dana: আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’! দিঘা-ওড়িশায় যুদ্ধ জিততে প্রস্তুত এনডিআরএফ

    Cyclone Dana: আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’! দিঘা-ওড়িশায় যুদ্ধ জিততে প্রস্তুত এনডিআরএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার ভিতরকণিকা পার্ক এবং ধামরা বন্দরের মাঝে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ (Cyclone Dana)। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যেই শতাধিক কিলোমিটার বেগে স্থলভাগে ঢুকে পড়বে ‘দানা’। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ওড়িশায় ‘দানা’ যতটা প্রভাব ফেলবে, অনেকটা তার কাছাকাছি প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা লাগোয়া পূর্ব মেদিনীপুরেও। ঝড়-জলে বিপর্যস্ত হতে পারে এই জেলার বিস্তীর্ণ অংশের জনজীবন। ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে বিপদগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধারে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এনডিআরএফ-এর (NDRF Team) ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল মোহসেন শাহেদি বৃহস্পতিবার জানান যে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশায় ২০টি এবং পশ্চিমবঙ্গে ১৭টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। 

    ওড়িশায় সক্রিয়তা

    দানার (Cyclone Dana) হানা মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে ওড়িশা প্রশাসন। মনে করা হচ্ছে ওড়িশার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ দানার প্রকোপের মুখে পড়তে পারেন। তার মধ্যে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে তিন লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। বাকিদেরও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর কাজ চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওড়িশার বিজেপি সরকার ১৪টি জেলায় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৫১টি দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF Team) ২০টি দল এবং দমকল বাহিনীর ১৭৮টি দল মোতায়েন করেছে। এনডিআরএফ-এর ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল শাহেদি বলেন, “এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে বেশি পড়বে। ওড়িশার ভদ্রক জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে হচ্ছে। ওড়িশার ১০টি উপকূলবর্তী জেলা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হবে। এর মধ্যে আক্রান্ত এলাকা থেকে ১.৭ লক্ষের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।”

    আরও পড়ুন: ‘দানা’র দাপটে লণ্ডভণ্ড হতে পারে ওড়িশার তিন জেলা, কোথায়, কত বেগে বইবে ঝড়?

    সতর্কতা পূর্ব মেদিনীপুরে

    ঝড়-জলে বিপর্যস্ত হতে পারে বাংলার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ অংশের জনজীবন। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অতি ভারী বৃষ্টি হবে সেখানে। উঠতে পারে প্রবল ঝড়ও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছে প্রশাসন। সমুদ্রের ধারেকাছে ঘেষতে দেওয়া হচ্ছে না সাধারণ মানুষকে। সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে দিঘা এবং সংলগ্ন এলাকায় কাজে নেমে পড়েছে এনডিআরএফও। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF Team) জুড়ি মেলা ভার। এবার তারাই সহায় দিঘা, মন্দারমনির স্থানীয় বাসিন্দাদের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Cyclone Dana: আয়লার মতো দাপট হবে সাইক্লোন ‘দানা’র! ল্যান্ডফল বৃহস্পতিবার? প্রস্তুত এনডিআরএফ

    Cyclone Dana: আয়লার মতো দাপট হবে সাইক্লোন ‘দানা’র! ল্যান্ডফল বৃহস্পতিবার? প্রস্তুত এনডিআরএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীপুজোর আগেই আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা। চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। আর এই ঘুর্ণিঝড় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ওড়িশা ও বাংলার উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Dana) সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা-বাংলার কাছে পৌঁছবে ‘দানা’। তবে বুধবার থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকবে উপকূলে। ঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবুও, সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে তৎপর নবান্ন। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ডানা নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক বসেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের ক্যাবিনেট সেক্রেটারি রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন সোমবার। ঘূর্ণিঝড় ও তার প্রভাব নিয়ে কেন্দ্রের জাতীয় বিপর্যয় ম্যানেজমেন্ট কমিটির এই বৈঠক হয়।

    প্রস্তুতির তথ্য তলব কেন্দ্রের (Cyclone Dana)

    এই ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Dana) নিয়ে রাজ্যের তরফে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট নেয় কেন্দ্র। রবিবার মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করা হয়। সেখানেই জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের ওপর থাকা ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এই নিম্নচাপ অঞ্চল সাগরের ওপর দিয়ে ক্রমেই পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। ফলে, ২২ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকালে সেই নিম্নচাপ অঞ্চল শক্তিবৃদ্ধি করে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ঠিক এর পরের দিন, অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর, বুধবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

    আয়লার আতঙ্ক!

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে বইতে পারে ঝড়। ফলে, সমুদ্র উত্তাল হবে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে আয়লা ঘূর্ণিঝড়েরও গতিবেগ ছিল ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। তাই আবারও ঝড়ের (Cyclone Dana) প্রভাবে সব তছনছ হয়ে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ‘দানা’ ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে ত্রস্ত সুন্দরবনের উপকূল এলাকা।  সোমবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মৎস্য দফতরের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সব মৎস্যজীবী ট্রলারকে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। একটানা তিন দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে, সঙ্গে ঝড়। পূর্বাভাসে এমনটাই বলা হয়েছে। বাড়তে পারে সমুদ্র ও নদীর জলস্তর।

    আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে ঘুর্ণিঝড় ‘দানা’, কোন দেশ দিয়েছে এই নাম? কীভাবে হয় নামকরণ?

    মাইকিং করে সতর্ক!

    জেলার সুন্দরবন উপকূলে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী সাগর, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, পাথরপ্রতিমা ও রায়দিঘি এলাকায় মাইক নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাকদ্বীপ মহকুমার সাগর, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা ও নামখানা ব্লকে সাইক্লোন (Cyclone Dana) সেন্টার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মাইকিং করে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেন। আর যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়াও উপকূল তীরবর্তী এলাকার মানুষদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে মাইকিং এর মাধ্যমে। বাঁধের কাছে বসবাসকারী বাসিন্দাদের ধীরে ধীরে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্স, এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফকে (NDRF) সতর্ক করে সমস্ত রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে সুন্দরবনের উপকূল এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েন করা হতে পারে ওই বিশেষ বাহিনী।

    খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

    ব্লক প্রশাসন এবং পঞ্চায়েতগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের দফতরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেচ দফতরের আধিকারিক এবং কর্মীরা বাঁধের ওপর নজরদারি চালাবে। কোথাও কোনও বাঁধে (Cyclone Dana) সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত মেরামত করা হবে বলে সেচ দফতরের নির্দেশ। পঞ্চায়েত এবং ব্লক অফিসগুলিতে শুকনো খাবার, পানীয় জলের পাউচ এবং ত্রিপল মজুদ করা হচ্ছে। উপকূল এলাকায় নজরদারি চালাতে বিডিও অফিসগুলোতেও একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সব থেকে ক্ষতি কোথায় হবে?

    হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুর্ণিঝড়ের (Cyclone Dana) ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমার। ‘দানা’ সম্পর্কে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষিণ ভারতে মুষলধারে বৃষ্টি হতে পারে। এই ঘূর্ণিঝড়টি ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের হিসেব বলছে, আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত ঘনীভূত হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে আসছে। আগামিকাল মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির প্রবল সম্ভবনা। এই নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসবে ওড়িশা উপকূলের দিকে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Flood Relief: বন্যার জন্য মমতা দায়ী করেছিলেন কেন্দ্রকে, বৈরিতা ভুলে মোদিই দিলেন ৪৬৮ কোটি টাকা!

    Flood Relief: বন্যার জন্য মমতা দায়ী করেছিলেন কেন্দ্রকে, বৈরিতা ভুলে মোদিই দিলেন ৪৬৮ কোটি টাকা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্যায় বিধ্বস্ত (Flood Relief) উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে বারবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র এবং ডিভিসিকে দোষারোপ করছেন। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের বন্যায় ৪৬৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Amit Shah) তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যে বন্যার জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি দল পাঠানো হবে। সেই কেন্দ্রীয় দল যে রিপোর্ট দেবে, তার উপর ভিত্তি করে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় অতিরিক্ত সাহায্যের অনুমোদনও দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রের সাহায্য

    বন্যা মোকাবিলায় (Flood Relief) মঙ্গলবার রাজ্যকে ৪৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আরও ১৩টি রাজ্যকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৪টি রাজ্যের জন্য ৫৮৫৮.৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের কথা এক্স হ্যান্ডলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। কেন্দ্র যে রাজ্যগুলির পাশে রয়েছে, সেকথা জানান তিনি। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল সেন্ট্রাল টিম (আইএমসিটি) বিভিন্ন রাজ্যে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আইএমসিটি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাবে। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রক্রিয়া মেনে এনডিআরএফ থেকে আরও আর্থিক সাহায্য করা হবে। চলতি বছরে ২১টি রাজ্যকে সবমিলিয়ে ১৪ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

    দোষারোপের পালা

    রাজ্যে বন্যার (Flood Relief) জন্য ডিভিসিকে তোপ দেগে কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সাহায্যেরও আবেদন জানান তিনি। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছর বর্ষায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা, ধসের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে এই রাজ্যগুলি। সে কারণেই অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। আর্থিক সাহায্য ছাড়াও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, সেনা, বায়ুসেনার দল পাঠানো হয়েছে। আগে বহুবার কেন্দ্রের উপর আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তবে সবসময়ই রাজ্যের দোষারোপকে উপেক্ষা করেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ। 

  • Tripura Flood: ত্রিপুরার ভয়াবহ বন্যা, ১৯ জনের মৃত্যু, নামছে ধস, গৃহহীন ৬৫ হাজার

    Tripura Flood: ত্রিপুরার ভয়াবহ বন্যা, ১৯ জনের মৃত্যু, নামছে ধস, গৃহহীন ৬৫ হাজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা বৃষ্টিতে ত্রিপুরার (Tripura Flood) একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু এলাকা প্লাবিত। লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গত চার দিনে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ জনের। বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টিতে ধস নেমে একই সঙ্গে দুই পরিবারের সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মহিলা এবং শিশুও রয়েছে। সরকারের উদ্যোগে কয়েকশো ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। আর বৃষ্টি না থামার কারণে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজ্যবাসী।

    বন্ধ ট্রেন পরিষেবা (Tripura Flood)

    গত চার দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে ত্রিপুরায় (Tripura Flood)। এর ফলে একাধিক নদীর জল বেড়ে গিয়েছে। ধলাই, খোয়াই, দক্ষিণ ত্রিপুরা, পশ্চিম ত্রিপুরা, উত্তর ত্রিপুরা এবং উনকোটির মতো রাজ্যের ছ’টি জেলায় নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যার কারণে রাজ্যে ট্রেন পরিষেবা আপাতত বন্ধ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত স্কুল, কলেজ। একাধিক জেলায় টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এরমধ্যে সব থেকে আতঙ্কের বিষয় হল, বৃষ্টি থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে। আটটি জেলায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। ২২ অগাস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ত্রিপুরার বগাফায় ৪৯৩.৬ মিমি, সেপাহিজলার  সোনামুরায় ২৯৩.৪ মিমি, আগরতলায় ২৩৩ মিমি এবং গোমাইপুরে ১৫৫ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম ভেসে গিয়েছে। অধিকাংশ চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। যার ফলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ভারী, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যায় ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। দুইজন নিখোঁজ হয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় ২০৩২টি স্থানে ধসের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে এনডিআরএফ (NDRF) কর্মীদের উদ্যোগে ১৭৮৯টি ধস কবলিত এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে। অন্যান্য স্থানে পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। সবমিলিয়ে ত্রিপুরায় বন্যার কারণে প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষ বিপর্যস্ত।

    আরও পড়ুন: সন্দীপ, চার চিকিৎসক-পড়ুয়া কি সত্যি বলছেন? আজ হবে পলিগ্রাফ টেস্ট

    সাড়ে চারশোর বেশি ত্রাণশিবির

    বন্যা কবলিত (Tripura Flood) এলাকার মানুষদের খাবার, ত্রাণসামগ্রী পৌঁচ্ছে দেওয়ার জন্য সবরকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের নানা প্রান্তে সাড়ে চারশোর বেশি ত্রাণশিবির গড়ে তোলা হয়েছে। রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে ত্রিপুরায়। বন্যা বিপর্যস্ত এলাকায় খাবার এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে বায়ুসেনা। ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা চিহ্নিত করে সেনার কপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই আগরতলায় পৌঁছেছে আরও বাহিনী। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ত্রিপুরার গোমতী জেলা। এ ছাড়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা, উনকোটিতেও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share