Tag: Nepal Disaster Reason

  • Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে বিশাল একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই নেপালের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash Floods) হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বুধবারের এই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এই ভয়াবহ বন্যায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভারতীয়কে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই ভয়াবহ বন্যা!

    বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি ‘আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা হিমবাহ ধসের ঘটনা হতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহের একটি অংশ প্রায় পরিষ্কারভাবে মূল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়া বরফের সেই বিশাল অংশ প্রায় ৪,০০০ ফুট নিচে উপত্যকার তলায় আছড়ে পড়ে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির ভূতত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল শুগার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হিমবাহের ওই অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার উল্লম্ব দূরত্ব অতিক্রম করে উপত্যকায় পড়ে। প্রচণ্ড অভিঘাতে বরফ কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়ে জল, বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করে। শুগারের কথায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে “যেন একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে”—ভেঙে যাওয়া হিমবাহের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।

    কীভাবে বরফের ধস ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হল?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতা থেকে বিশাল বরফের খণ্ড নীচে পড়ায় প্রচুর সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সাইমন কুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচণ্ড আঘাতে বরফ গুঁড়িয়ে গিয়ে দ্রুতগতির জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হতে পারে। এই স্রোত উপত্যকা দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে লহেন্দে খোলা বা নদীতে গিয়ে পড়ে। পরে তা ভোটেকোশি নদী হয়ে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। আচমকা নেমে আসা সেই স্রোতে বসতি, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আরও একটি বন্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, লহেন্দে খোলার উজানে এখনও একটি বড় বাধা আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস?

    বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বুধবার ভোরে ওই অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে ভূমিকম্পের সঙ্গে হিমবাহ ধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বরফ-পাথরের ধস -এর ফলও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও একটি কারণকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

    উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিআইএমওডি (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১৪ মাসে লহেন্দে খোলা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত বছরের একটি আকস্মিক বন্যার সঙ্গে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের জল উপচে পড়ার সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শশ্বত সান্যালের মতে, নেপালের দিকের একটি হিমবাহ থেকে বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ার পর আচমকা সেই বাধা ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয় এবং আকস্মিক জলস্রোতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    এখনও কতজন ভারতীয় নিখোঁজ?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে আটকে রয়েছেন তামিলনাড়ুর ৩৭ জন, পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন, কেরলের ৩৩ জন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ৬১ জন বাসিন্দা। ত্রিশূলী নদীর উপর নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ৭৩ জন ভারতীয়ও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই রাজ্যের ৩২ জন বাসিন্দার সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁদের নাম-ঠিকানাও প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকার ছ’জন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার তিন বাসিন্দার এখনও খোঁজ নেই। কলকাতার চার বাসিন্দাও এই ৩২ জনের তালিকায় রয়েছেন।

    উদ্ধারকাজে বড় বাধা

    ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, শ্রমিক এবং তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা চালালেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ এবং এখনও অস্থিতিশীল পাহাড়ি পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বিপর্যয় ফের প্রমাণ করে দিল—পাহাড়ের অনেক উপরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নীচের জনপদে জল, বরফ ও পাথরের ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ তৈরি করতে পারে।

LinkedIn
Share