Tag: netaji subhas Chandra bose

netaji subhas Chandra bose

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনী (Howrah Municipal Corporation) বিল ধ্বনিভোটে পাশ হওয়ার পাশাপাশি অসমের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক সেবাকেন্দ্র চালুর কথাও জানানো হয়েছে (West Bengal Assembly)। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য শর্তসাপেক্ষে মাসিক ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

    পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল (Howrah Municipal Corporation)

    মঙ্গলবার বিধানসভায় পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। আলোচনার পর ধ্বনিভোটে দু’টি বিলই পাশ হয়ে যায়। বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিধি বা নিয়ম সরিয়ে কোনও বিল পাশ করানো হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ নির্বাচন কমিশন করবে বলেও জানান তিনি। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দু’টি সর্বদলীয় বৈঠকও হবে। প্রথম বৈঠক হবে খসড়া প্রকাশের আগে এবং দ্বিতীয়টি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে।

    মানবিক সরকার

    অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বন্যায় ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসমে বহু বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অসমের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে অসমের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয় (Howrah Municipal Corporation)। প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    প্রাক্তন বিধায়কদের পাশেও সরকার

    সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন বহু প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ককে তিনি দেখেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু রায় এবং বাসন্তীর প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের মতো বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।” সেই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর পাশাপাশি বিধায়কদের কাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে সেবাকেন্দ্র চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    চালু হচ্ছে সেবাকেন্দ্র!

    তবে এই সেবাকেন্দ্র চালু করতে ইচ্ছুক বিধায়কদের জন্য দু’টি শর্তের কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র”। পাশাপাশি কেন্দ্রের ভিতরে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দু’টি শর্ত পূরণ করলে (West Bengal Assembly) সংশ্লিষ্ট বিধায়করা সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে (Howrah Municipal Corporation) অনুদান পাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম (Netaji Bose Ashes Tokyo) ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নেতাজির কন্যা অনিতা বি পাফ এই আবেদনটি করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এএম সিংভি আদালতকে জানান, নেতাজির কন্যা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে তাঁর বাবার দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” (Supreme Court)

    সিংভি বলেন, “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” তাঁর বক্তব্য, এর আগে শীর্ষ আদালত নেতাজির উত্তরাধিকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এবার তাঁর কন্যা সরাসরি আদালতে এসেছেন। সওয়াল-জবাবের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করে আদালত। গত মার্চেই নেতাজির গ্র্যান্ড নেফিউ (নাতি-ভাইপো) আশিস রায় তাঁর দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নেতাজির উত্তরাধিকারী যদি তাঁর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আদালতের সামনে আসতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছিল, “আমরা তাঁর আবেগকে সম্মান করি এবং তাঁর আবেগকে আইনি পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব (Supreme Court)।”

    সিংভির সওয়াল

    সেই শুনানির সময় সিংভি আদালতকে জানিয়েছিলেন, সুভাষচন্দ্র বসুর কন্যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি ওই আবেদন সমর্থন করছেন। তবে বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এর আগে একই ধরনের একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং সেগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “এই বিষয়টি আর কতবার আদালতের সামনে আসবে?” সিংভি জবাব দেন, এবারের বিষয়টি আগের আবেদনের মতো নয়। তখন বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, “পরোক্ষভাবে হোক বা সরাসরি… এই আবেদন আবার কেন আসছে? প্রথমত, চিতাভস্ম কোথায় রয়েছে? তার প্রমাণ কী?” এর জবাবে সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা, যাঁর বয়স ৮৪ বছর এবং যিনি সেই সময় আদালতের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভারতে দায়িত্ব পালন করা প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানই জাপানের রেনকোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত নেতাজির চিতাভস্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন (Netaji Bose Ashes Tokyo)।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রথমত, আমরা জানতে চাই নেতাজির পরিবারের কতজন সদস্য জীবিত রয়েছেন। নেতাজি নিঃসন্দেহে এই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আমাদের অনেকেই তাঁর সামনে মাথা নত করি।” সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র সন্তান অনিতা এবং তিনিই একমাত্র উত্তরাধিকারী। তিনি বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, তিনি এই মামলার আবেদনকারী নন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরাধিকারীকে আমাদের সামনে আসতে দিন… উত্তরাধিকারী যদি চিতাভস্ম আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আমাদের সামনে আসতে হবে।” বেঞ্চের অবস্থান দেখে সিংভি আশিস রায়ের দায়ের করা আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। তিনি জানান, নেতাজির কন্যা নিজে পরবর্তী সময়ে আবেদন করবেন। এরপর আদালত আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

    রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়ে আসছে। সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই (Netaji Bose Ashes Tokyo) বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এবার নেতাজির কন্যার সরাসরি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

     

  • Netaji Jayanti 2026: আজও গায়ে কাঁটা দেয় ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনি, ১২৯ তম জন্মদিনে নেতাজির নানান কথা

    Netaji Jayanti 2026: আজও গায়ে কাঁটা দেয় ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনি, ১২৯ তম জন্মদিনে নেতাজির নানান কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২৩ জানুয়ারি। মহান দেশপ্রেমিক, বাঙলার বীর সন্তান সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯ তম জন্মদিন। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নেতাজি জয়ন্তী। ভারতীয় যুব সমাজের কাছে আদর্শ তিনি। “কদম কদম বাড়ায়ে যা…” আজও শত কোটি ভারতবাসীর অনুপ্রেরণা। সুভাষচন্দ্র বসু থেকে নেতাজি উপাধি নিয়ে আপামর দেশবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে নানা কাহিনী। তাঁর কথা স্মরণ করেই আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে পরাক্রম দিবস।

    শিশু সুভাষ ও শিক্ষাজীবন

    ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বেলা ১২টা বেজে ১০ মিনিটে ওড়িশার কটকে জন্ম হয়েছিল ভারতের বীর সন্তান সুভাষচন্দ্র বসুর। বাবা জানকীনাথ বসু ও মা প্রভাবতী দেবী। জানকীনাথ বসু একজন প্রসিদ্ধ আইনজীবী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সুভাষ পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। অন্যান্য ভাই-বোনেদের মতো সুভাষকে প্রথমে কটকের প্রোটেস্ট্যান্ট ইউরোপীয়ান স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। স্কুলেই ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিন পালন করে সাহেবদের বিষনজরে পড়েন তিনি। এরপর বারো বছর বয়সে তিনি কটকের র‌্যাভেনশা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশোনা করেন। কলেজ জীবন থেকে দেশের জন্য লড়াই করার ইচ্ছা জাগে সুভাষের মনে।

    দেশের জন্য চাকরি ত্যাগ

    ১৯২০ সালে নেতাজি ইংল্যান্ডে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করেনস। কিন্তু ভারতীয় স্বতন্ত্রতা সংঘর্ষে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। সিভিল সার্ভিস ছেড়ে দেওয়ার পরে দেশকে ইংরেজদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নেতাজিকে অত্যন্ত বিচলিত, মর্মাহত করে।

    স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ

    অসহযোগ আন্দোলনের সময়, জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের হরিপুরা অধিবেশনে কংগ্রেসের বাম গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ সমর্থনে তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের ত্রিপুরী অধিবেশনে গান্ধীজি মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সিতারামাইয়াকে ২০৩ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সভাপতির নির্বাচিত হন তিনি।

    কংগ্রেস ত্যাগ

    তরুণ সুভাষের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। তাঁর হাত ধরেই সুভাষ প্রথম প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এমনকী দেশবন্ধুর স্ত্রী বাসন্তী দেবীও সুভাষকে খুবই স্নেহ করতেন এবং সুভাষ তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকতেন। দেশবন্ধুর মতোই স্বরাজ অর্থাৎ পূর্ণ স্বাধীনতার সমর্থক ছিলেন নেতাজি। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন চরমপন্থীর নায়ক। তাই তাঁর চরমপন্থী চিন্তাধারার সঙ্গে কংগ্রেসের নরমপন্থীদের মতবিরোধ হয়। এমনকী কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে নরমপন্থীরা বিক্ষুব্ধ হলে সুভাষ অসন্তুষ্ট হয়ে কংগ্রেস ত্যাগ করেন। এরপরই নেতাজির হাত ধরে তৈরি হয় “ফরওয়ার্ড ব্লক’। নতুন দলের হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য দেশবাসীকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সুভাষচন্দ্র বসু।

    দেশ ত্যাগ- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই

    কিন্তু স্বাধীন ভারত গড়ার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই ব্রিটিশ পুলিশের সতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে ১৯৪১ সালে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে ছদ্মবেশ ধারণ করে আফগানিস্তানের কাবুল হয়ে জার্মানিতে যান এবং জার্মানির বার্লিনে একনায়কতন্ত্রের প্রতীক হিটলারের সঙ্গে দেখা করে সাহায্য প্রার্থনা করেন। যদিও এখানে তাঁর উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় ডুবো জাহাজে করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসেন জাপানে। জাপান সরকারের সাহায্যে এবং রাসবিহারী বসুর সহায়তায় সুভাষচন্দ্র বসু গঠন করেন আজাদ হিন্দ ফৌজ। ভারতকে ইংরেজের হাত থেকে মুক্ত করতে নেতাজি ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর ‘আজাদ হিন্দ সরকার’-এর প্রতিষ্ঠা করার সময়ই ‘আজাদ হিন্দ সেনা’ গঠন করেন। এরপর সুভাষচন্দ্র বসু নিজের সেনা নিয়ে ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই বর্মা (বর্তমান মায়ানমার) পৌঁছান। এখানে নেতাজি তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ বলেছিলেন।

    নেতাজির অন্তর্ধান

    ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট তাইপেইতে একটি বিমান দুর্ঘটনার পরই নেতাজির আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই নেতাজির নিখোঁজ নিয়ে একাধিক রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। মৃত্যু, অন্তর্ধান নাকি অন্য কিছু? আজও নেতাজির মৃত্যু কিংবা অন্তর্ধান নিয়ে নানান বিতর্ক রয়েছে। আসলে কোনও বিশেষ আদর্শের জন্য একজন মৃত্যুবরণ করতে পারেন। কিন্তু সেই আদর্শের মৃত্যু হয় না। সেই আদর্শ একজনের মৃত্যুর পর হাজার জনের মধ্যে ছড়িয়ে যায়।’

  • Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলনের ৮২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর তিনি জম্মুর রাম বিহার এলাকার জেডিএ পার্কে তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ফ্ল্যাগ পয়েন্ট’-এর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে এলজি সিনহা বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রদত্ত “জয় হিন্দ” স্লোগান আজও জাতীয় বীরত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এই স্লোগান একসময় আজাদ হিন্দ ফৌজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং আজও ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয়কে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সব স্তরের সদস্যরা দৈনন্দিন অভিবাদনে ‘জয় হিন্দ’ ব্যবহার করেন।

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত ঘোষণা করেন এবং দেশবাসীর সামনে স্বাধীনতার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সিনহা বলেন, “নেতাজির দেশপ্রেম ও সাহস ছিল তুলনাহীন। ঐক্যের ভিত্তিতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বার্তা তিনি দেশবাসীকে দিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, স্বরাজের পক্ষে অবস্থান, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্পায়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশে নেতাজির চিন্তাভাবনাই আজকের আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইতিহাসে প্রাপ্য মর্যাদা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মনোজ সিনহা। তিনি বলেন, “অতীতে নেতাজি ও স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে মোদির উদ্যোগে গুজরাটের কেভাডিয়ায় স্থাপিত সর্দার প্যাটেলের বিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি আজ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা জম্মুকে ভারতের জাতীয় ঐক্য ও অবিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জম্মুর মানুষের দৃঢ় মনোবল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পূর্ণ একীকরণের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের দাবিতে জম্মু অঞ্চলের মানুষের ত্যাগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা বলেন, “আমাদের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ঐক্য বজায় রেখেই আমাদের যৌথ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।” তিনি প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বর নিয়মিতভাবে নেতাজিকে স্মরণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান। এই উপলক্ষে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

    অনুষ্ঠানে বিধায়ক শ্যাম লাল শর্মা ও অরবিন্দ গুপ্ত, হাউজিং ও আরবান ডেভেলপমেন্ট দফতরের কমিশনার-সচিব মানদীপ কৌর, ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার, আইজিপি ভীম সেন তুতি, ডিআইজি শিব কুমার শর্মা, ডেপুটি কমিশনার রাকেশ মিনহাস, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দেবাংশ যাদব, জেডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান রুপেশ কুমার-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পদ্মশ্রী অধ্যাপক বিশ্বমূর্তি শাস্ত্রী, পদ্মশ্রী ডিএসপি বর্মা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

LinkedIn
Share