Tag: Netanyahu

Netanyahu

  • Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল (Israel Election Results) ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে (Netanyahu) পারেনি। এদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা এবং তাদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি দল মিলিয়ে পেতে পারে ১৯টি আসন, যা তাদের সরকার গঠনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

    নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগে তাই দু’টি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু কি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন? নাকি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করবে? শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইজরায়েলের রাজনীতি, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উপর।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে নেতানিয়াহুর জোট (Israel Election Results)

    প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলির জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে তারা আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বর্তমান জোটের বাইরে অন্য কোনও দলের সমর্থন আদায় করা নেতানিয়াহুর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিল দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনের ফল বলছে, এই দলগুলির সম্মিলিত শক্তি দিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্য দলগুলির সমর্থন পাওয়া অথবা নতুন কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছনো ছাড়া তাঁর সামনে বিকল্প সীমিত।

    তবে সরকার গঠনের দৌড় থেকে নেতানিয়াহু এখনই ছিটকে গিয়েছেন, এমনটা বলা যায় না। তিনি আরও বিস্তৃত জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, বিরোধী শিবিরের কোনও অংশের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পারেন অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলাকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (Israel Election Results)।

    বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলি যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তা হলে তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই সুযোগে নেতানিয়াহু নতুন করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন।

    আরব দলগুলির সমর্থনে কি বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব?

    নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১২টি আসন এবং রা’আম পেতে পারে সাতটি আসন। সব মিলিয়ে ১৯টি আসন তাদের হাতে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

    বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ১৯টি আসন যোগ হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ, এই দলগুলি একযোগে সমর্থন দিলে ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। কিন্তু সংখ্যার এই সমীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়।

    বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাঁদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে সমঝোতা করতে হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব নাগরিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিরোধী সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারাও নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন আটকানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকার গঠনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট (Israel Election Results)।

    তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেই যে আরব দলগুলি সরকারে যোগ দেবে, তা নয়। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও সংসদে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে। এই ধরনের সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর নির্ভর করতে হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি?

    এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের হিসাব জটিল হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আরব দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছুক বিরোধী নেতাদের উপরও চাপ বেড়েছে।

    আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বিরোধীদের কাছে এই দলগুলির সমর্থন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি এবং আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সেই সম্ভাবনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে (Netanyahu)।

    ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলি কি তাঁকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হতে পারবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্যের কারণে বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে (Israel Election Results)?

    কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

    নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অন্য কোনও নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। অর্থাৎ, সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন চললেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    আলোচনার মাধ্যমে কোনও কার্যকর জোট তৈরি করা সম্ভব না হলে ইজরায়েলে ফের সাধারণ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

    কোন তিনটি সম্ভাবনা সামনে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির আরব দলগুলির সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফের নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে (Netanyahu)।

    তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোন রাজনৈতিক শিবির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারছে। ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যেই (Israel Election Results)।

     

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলে ২৬তম নেসেট (সংসদ) নির্বাচনের (Israel Election 2026) দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি বিরোধীদের হাত ধরে আসবে নতুন সরকার—এই প্রশ্নের মধ্যেই উঠে আসছে ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্কের (India Israel Relation) ভবিষ্যৎ। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ইজরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটের গঠন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কি বদল আসবে?

    ভারতের কাছে ইজরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী দেশ। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষার উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের মধ্যে জোট-আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড়সড় পরিবর্তন আসবে, এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।

    অটুট থাকবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাস। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা বলেন, “কে নির্বাচিত হবেন, তা-নির্বিশেষে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের সামান্যতম পরিবর্তনও হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাক, তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত ইজরায়েলি দূতাবাস। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের মেয়াদের উপর নির্ভরশীল নয়।

    মোদি-নেতানিয়াহু সম্পর্কের পর ভবিষ্যৎ সমীকরণ কী?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। তবে ইজরায়েলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক পোলার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারত ও ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিই থাকবে সহযোগিতার মূল ভিত্তি

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উৎপাদন, জল ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন সরকার পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলের অবস্থান কীভাবে নির্ধারণ করে, সেদিকেও নজর রাখবে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয় বা পরাজয় দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ইজরায়েলে নির্বাচনী লড়াই

    ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নেতা নেতানিয়াহু আরও একবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তাঁর লিকুদ পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী সহযোগী দলগুলিকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইজরায়েলের ভোটের আগে ফের এক বার ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হয়ে প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্প। আজ, মঙ্গলবার ইজরায়েলে নির্বাচন রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইজরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে সে দেশে।

    ইজরায়েলি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে এতে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা (Mishelle Sirota) ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগেই জানান, ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ভারতকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে একটি দৃঢ় ও অভিন্ন ঐক্যমত্য বা ‘ক্রস-পার্টি কনসেনসাস’ রয়েছে। তাই জরায়েলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক বা যে নেতাই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একাধিকবার সরকার এবং জোটের পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। বর্তমানে ভারত ও ইজরায়েলের এই অংশীদারিত্ব শুধু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছে।

  • Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পরেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘নায়ক’ বলে প্রশংসা করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। শনিবার টেলিফোনে পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য (Israel Independence Day) আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু। স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের কাছে একজন নায়ক।”

    নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ (Netanyahu)

    এর পরেই তিনি মচ্ছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর কথায়, স্বাধীনতা দিবসে মশাল প্রজ্বলন ইজরায়েলের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানগুলির একটি। তিনি বলেন, “সাধারণত এই সম্মান ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সমস্ত নাগরিক আপনাকে আপন করে নেবেন।”

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটে নজিরবিহীন ঘটনা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। হামলার জেরে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। এর পরেই বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

    হামলার পরেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও।

    ঠিক কী ঘটেছিল

    ফোনে নেতানিয়াহু মচ্ছরের কাছে জানতে চান, ঠিক কী ঘটেছিল। জবাবে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সহ-পাইলট নমাজ আদায়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। আচমকাই মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন (Netanyahu) তিনি।

    মচ্ছর বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, বিমানে কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তার পর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিমানে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে ককপিটে থাকা অন্য ব্যক্তিই আমাকে আক্রমণ করছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে আঘাতের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি তিনি। একবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী তা বন্ধ করে দেন।

    এর পর নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন মচ্ছর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে যদি শেষ লড়াইটুকুও না থাকে, তাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই। আমার যা শক্তি ছিল, সবটুকু দিয়ে (Netanyahu) দরজা খুলে ফেলি।”

    পাইলটের মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি (Israel Independence Day) অভিভূত।”

    নেতানিয়াহুর সমবেদনা

    নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমার এবং আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনার স্ত্রীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আমি জানি, আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি বিভিন্ন দেশের মানুষের বৃহত্তর পরিবারেরও অংশ। যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।”

    এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আহত পাইলট (Israel Independence Day), যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা মিলে “৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন (Netanyahu)।”

     

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের কাছ থেকে ইজরায়েল অভূতপূর্ব সমর্থন পায়।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্সের (JD Vance Ally Claim) ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’’ মন্তব্যের জবাবে এমনই দাবি করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, আমেরিকা ছাড়াও ইজরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার রয়েছে। ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে। যেমন, ভারত নামে একটি ছোট দেশ, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। আর সেখান থেকে আমরা বিপুল সমর্থন পাই।’’

    নেতানিয়াহুর ভারত-প্রশস্তি (Netanyahu)

    তিনি জানান, ফেসবুকে ভারতীয় ইউজারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সমর্থন দেখতে পান। তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘‘ব্যক্তিগত বন্ধু’’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এবং ভারতকে ‘‘বিশ্বশক্তি’’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স বলেছিলেন, ‘ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’।

    ভান্সের দাবি

    সাংবাদিক সম্মেলনে ভান্স দাবি করেছিলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই বর্তমানে এমন বিশ্বনেতা, যিনি ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি এও জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইজরায়েলের ব্যবহৃত অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, করেছে অর্থায়নও। ভান্সের প্রতি সম্মান জানিয়েই নেতানিয়াহু (Netanyahu) বলেন, ‘‘আমি তাঁকে সম্মান করি, কিন্তু তাঁর মূল্যায়নের প্রতিটি বিষয়ে আমি একমত নই।’’

    ইজরায়েলের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর 

    নেতানিয়াহুর দাবি, বিশ্বের বহু দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইয়ের মতো ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “সামরিক উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতারা নিয়মিত ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ইরান-ইস্যু এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যদিও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সময়ে সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়, তবুও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (JD Vance Ally Claim) এখনও ইজরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এর পাশাপাশি ভারত-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে নেতানিয়াহুর (Netanyahu) ইজরায়েল।

     

  • S Jaishankar: ভারত-ইজরায়েল দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী, জেরুজালেমে জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: ভারত-ইজরায়েল দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী, জেরুজালেমে জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগেই ইজরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Netanyahu) সঙ্গে টেলিফোনে কথাও হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। মোদির পরে এবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বার্তা দিলেন, দুই দেশের মধ্যে সংযোগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার।

    নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক (S Jaishankar)

    মঙ্গলবার সন্ধেয় জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেখানেই আলোচনা হয় প্রযুক্তি, অর্থনীতি, দক্ষতা ও প্রতিভা, সংযোগ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে। নেতানিয়াহু-জয়শঙ্করের এই বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আত্মবিশ্বাসী ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক রাজনীতি এবং গাজা-সহ একাধিক বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে ভারত ও ইজরায়েলের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে (S Jaishankar)।

    বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সারের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক

    নেতানিয়াহুর পাশাপাশি দু’দিনের এই ইজরায়েল সফরে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সারের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বন্ডি বিচে চলা ইহুদিদের হানুকা উৎসবে গুলি বর্ষণ এবং তার জেরে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দেও করেছেন জয়শঙ্কর। তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত এবং ইজরায়েল দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক জোট হয়ে লড়াই করবে দুই দেশই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শীঘ্রই ভারতে আসতে পারেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। দু’দিনের এই ইজরায়েল সফরে জয়শঙ্কর দেখা করবেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগর সঙ্গেও। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ভারত সফর করে গিয়েছেন (Netanyahu) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য

    এদিনের বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই সমর্থন করে না ভারত। এ বিষয়ে ভারত ও ইজরায়েল দুই দেশই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। বন্ডি বিচে হানুকা উৎসব চলাকালীন যে জঙ্গি হামলা হয়েছে, তা নিয়ে গভীরভাবে শোকাহত ভারত। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দে করি।” মনে রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে যে নরসংহার চলেছে, তাতে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন ইহুদির। হামলা চালিয়েছিল দুই বন্দুকবাজ (S Jaishankar)। এদের একজন আবার জন্মসূত্রে ভারতীয়। তার নাম সাজিদ আক্রম। আর এক আততায়ী নবিদ আক্রম তারই ছেলে। সে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বাবা-ছেলের এই কীর্তিতে অবাক হায়দরাবাদে থাকা সাজিদের আত্মীয়-পরিজনেরা।

    সাজিদ বৃত্তান্ত

    সাজিদ জন্মসূত্রে ভারতীয়। তবে কাজের খোঁজে বছর আঠাশ আগে সে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। তেলঙ্গনা পুলিশ জানিয়েছে, সাজিদ যখন ভারতে ছিল, তখন তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনও অভিযোগ ওঠেনি। ভারত থেকেই বিকম পাশ করার পর ১৯৯৮ সালে পড়ুয়া ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যায়  (Netanyahu)সে। সেখানেই বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করে সাজিদ। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। এই ছেলেও ছিল ওই দুই বন্দুকবাজের তালিকায়। সূত্রের খবর, অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে ক্রমশ যোগাযোগ কমতে থাকে সাজিদের। দূরত্ব তৈরি হয় তার পরিবারের সঙ্গেও। ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যেও যোগ দেয়নি সাজিদ কিংবা তার ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী। ২০২২ সালে কোনও এক বিশেষ প্রয়োজনে একবার ভারতে এসেছিল সাজিদ। তার পর আর ভারতমুখো হয়নি সে কিংবা তার পরিবার। তবে সাজিদের কাছে ছিল ভারতীয় পাসপোর্ট। যদিও তার ছেলে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। সম্প্রতি পিতা-পুত্র ফিলিপিন্স ঘুরে এসেছিল বলেও খবর (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্করের ইজরায়েল সফর

    এহেন আবহে জয়শঙ্করের ইজরায়েল সফর এবং পরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। বৈঠক শেষে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, তাঁর ইজরায়েল সফরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি ভারতের যে সমর্থন রয়েছে, তাও আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার ইজরায়েল সফর করেছেন জয়শঙ্কর। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “আমাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বোঝাপড়ার ফলে আজ ইজরায়েলে ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তাঁদের কিছু সমস্যা আছে, যেগুলির প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। আশা করি, আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই দিকটিকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।” বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনা প্রসঙ্গেও সেই সময় জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “আমাদের কৌশলগত সহযোগিতার কথা বিবেচনা করলেও, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক (Netanyahu) বিষয়গুলিতে মতবিনিময় অত্যন্ত মূল্যবান। এমন কিছু বহুপাক্ষিক উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলিতে আমাদের উভয় দেশেরই গভীর আগ্রহ রয়েছে (S Jaishankar)।”

  • PM Modi: মোদিকে ফোন নেতানিয়াহুর, দীর্ঘক্ষণ কথা দুই রাষ্ট্রনেতার, কী আলোচনা হল?

    PM Modi: মোদিকে ফোন নেতানিয়াহুর, দীর্ঘক্ষণ কথা দুই রাষ্ট্রনেতার, কী আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ফোনালাপ হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Netanyahu)। অক্টোবর মাসের পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কথা হল। সেই সময় নেতানিয়াহু ব্যস্ত ছিলেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। ওই বৈঠক চলাকালীনই তিনি ফোনে কথা বলেছিলেন মোদির সঙ্গে। এবারের ফোনালাপ হল এমন একটা সময়ে, যখন ইজরায়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    মোদিকে ফোন (PM Modi)

    বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী মোদি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে ফের একবার সমর্থন জানিয়েছেন, যার মধ্যে গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নও রয়েছে।” বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় রাষ্ট্রনেতাই ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং পারস্পরিক স্বার্থে এই সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “দুই নেতা সন্ত্রাসবাদের কঠোর নিন্দা করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে তাঁদের জিরো টলারেন্স নীতির অবস্থান ফের নিশ্চিত করেছেন।” এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই নেতা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে রাজিও হয়েছেন।

    খুব শীঘ্রই সাক্ষাৎ!

    এদিকে, নেতানিয়াহুর দফতর ফের জানিয়েছে, দুই রাষ্ট্রপ্রধান খুব শীঘ্রই সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনিক আলোচনার সময়টি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে (PM Modi)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রসংঘের দূত মাইক ওয়াল্ট্জ আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি গাজায় শান্তি পরিকল্পনার অগ্রগতির বিষয়ে দ্রুত ঘোষণার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামোর আওতায় ওয়াশিংটন হামাসকে পুনর্গঠিত হতে দেবে না।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রসংঘের দূতের বক্তব্য

    ওয়াল্টজ বলেন, “আমরা এখন সেই অনুমোদন পেয়েছি। আমার মনে হয় আমরা শীঘ্রই সেই ঘোষণার কথা শুনতে পাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন পিস বোর্ডের মাধ্যমে। এর মূল উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্যালেস্তাইন কর্তৃপক্ষ, যাঁরা গাজায় জল, গ্যাস, নিকাশি এবং অন্যান্য মৌলিক সেবাগুলি ফের চালু করবে। এর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য একটি অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং তার পরে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীও (Netanyahu)।” তিনি এও বলেন, “আমি যা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, হামাসকে সরতেই হবে (PM Modi)।”

    নেতানিয়াহুর বক্তব্য

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, তিনি চলতি মাসের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং দাবি করেন যে গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় ঘনিয়ে এসেছে। পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ নিয়েও আলোচনা চলছে।চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ইজরায়েল এবং হামাস গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে রাজি হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি, ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি এবং প্যালেস্তাইনি বন্দিদের মুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সোমবার ইজরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু দেশের ব্যাপারে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে বলেন, ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা ইহুদি-বিরোধী মনোভাব সত্ত্বেও বহু দেশ এবং নেতার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, নজিরবিহীন সমর্থন ইজরায়েল পেয়ে  যাচ্ছে (PM Modi)।

    ‘৪০-স্বাক্ষর বিতর্ক’

    ‘৪০-স্বাক্ষর বিতর্ক’ নামে পরিচিত (Netanyahu) এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর সরকারের নীতির কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইজরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন দিক থেকে তাকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার কথা। উল্লেখ্য যে, ‘৪০-স্বাক্ষর বিতর্ক’ এমন একটি সংসদীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীকে মাসে একবার কনেসেটের (ইজরায়েলের পার্লামেন্ট) সামনে হাজির হতে বাধ্য করতে পারে। তিনি বলেন, “আরও কিছু বিশ্বশক্তি আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আমি প্রায়ই আমার বহুদিনের বন্ধু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলি। আমাদের শীঘ্রই সাক্ষাৎ করার কথা হয়েছে, এবং আমি আপনাদের বলতে চাই, ভারত, দেড়শো কোটি মানুষের বিশাল দেশ। তারাও আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।”

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক বহু পুরানো। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে। বিদেশনীতি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক শান্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশ একে অন্যকে সমর্থন ও সাহায্য করেছে। ২০১৭ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন নেতানিয়াহু। সেই সময় (Netanyahu) দুই রাষ্ট্রনেতা দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ আরও একবার প্রমাণ করল যে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক শুধুই আনুষ্ঠানিক নয়, কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।

  • Delhi Blast: বিশ্বকে চমকাতে ভারতের বুকে বিস্ফোরণ! নেপথ্যে কি সেই আমেরিকার হাত?

    Delhi Blast: বিশ্বকে চমকাতে ভারতের বুকে বিস্ফোরণ! নেপথ্যে কি সেই আমেরিকার হাত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব শীঘ্রই ভারত (Delhi Blast) সফরে আসার কথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Delhi Red Fort Explosion)। নতুন বছরের প্রথম দিকেই নয়াদিল্লি আসার কথা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরও। ভারতের এই দুই বন্ধু রাষ্ট্রনেতার সফরের ঠিক আগে আগেই খোদ দিল্লির বুকে জঙ্গিদের এই বিস্ফোরণ ঠিক কীসের ইঙ্গিত, উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির হাতে একে একে ধরা পড়ছে মডিউলের মাস্টারমাইন্ডরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় জঙ্গিরা।

    উদ্ধার বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক (Delhi Red Fort Explosion)

    সোমবার সকালেই দিল্লির উপকণ্ঠে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি দল হরিয়ানার ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এর ঠিক পরেই সোমবারই সন্ধ্যায় জঙ্গিদের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দিল্লি। এই দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট। সূত্রের দাবি, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় ভবিষ্যতের সিরিয়াল বিস্ফোরণ করার ছক ফাঁস হয়ে যায়। সেই কারণেই জঙ্গিরা তড়িঘড়ি করে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি হরিয়ানার। সেটি তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালে। কেনা হয়েছিল জনৈক মহম্মদ সলমনের নামে।

    সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না!

    ফি বারই জঙ্গি হামলার পরে বামেরা একটি তত্ত্ব বাজারে ছড়িয়ে দেন, সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না এবং দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের টাকার জন্য সন্ত্রাসের কাজে লাগানো হয়, এই জাতীয় নানা তত্ত্ব। কিন্তু গত কয়েকদিনে তদন্তকারীরা ফরিদাবাদ জঙ্গি মডিউলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, দুই কাশ্মীরি চিকিৎসক ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ আদিল রাথেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদের বাসিন্দা শাকিলের সহযোগী মহিলা চিকিৎসক-শিক্ষক তথা জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা ব্রিগেড ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর ভারতীয় শাখার প্রধান শাহিন শাহিদকে। উঠে আসে আরও এক চিকিৎসক মহম্মদ উমরের নাম। সে ছিল পলাতক। সে-ই হল এই আত্মঘাতী জঙ্গি উমর। তদন্তকারীদের অনুমান, সঙ্গীরা গ্রেফতার হতেই উমর ভয় পেয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় লালকেল্লার কাছে (Delhi Red Fort Explosion)। এ থেকে স্পষ্ট যে, এরা তিনজনেই উচ্চ শিক্ষিত, পেশায় চিকিৎসক। এই বিস্ফোরণের পেছনেই বা কারা? এই জঙ্গিরা তো হাতের পুতুল। জেনে নেওয়া যাক, তাদের Delhi Blast) টিকিটা কোথায় বাঁধা।

    পুতিন-নেতানিয়াহু

    বছর শেষ হওয়ার আগেই ভারতে সফরে আসার কথা পুতিনের। আসার কথা নেতানিয়াহুরও। ইজরায়েলকে দুর্বল করতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে ইসলামাবাদ ওই কৌশল বাস্তবায়িত করতে পদক্ষেপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনির বারবার ভারতকে পরমাণু আক্রমণের হুমকি দিয়ে আসছেন। এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইজরায়েল ও ভারত নিজেদের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে তৎপর বলে মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর, চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইজরায়েল থেকে নয়াদিল্লিতে আসার কথা ইহুদি নেতানিয়াহুর। এই সফরে সন্ত্রাস দমনে ভারতের সঙ্গে তাঁর একাধিক অত্যাধুনিক সামরিক সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভারতের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ

    এদিকে, ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট পুতিনও ভারত সফরের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। ক্রেমলিন সূত্রে খবর, এই সফরটি (Delhi Blast) সম্ভবত এই ডিসেম্বরেই হতে চলেছে। এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ করে তুলতে যথেষ্ট উদ্যোগী পুতিনও। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের অগাস্ট মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মস্কো সফরে গিয়েছিলেন। তখনই পুতিনের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বরের ৫ থেকে ৬ তারিখের মধ্যে তিনি নয়াদিল্লি আসবেন বলে অনুমান। ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাংহাই সামিটেও মুখোমুখি হয়েছিলেন পুতিন। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনাও হয় (Delhi Red Fort Explosion)। উল্লেখ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনায় ভারতের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    পড়শি দেশে পুতুল সরকার

    পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ, ভারতের এই দুই পড়শি দেশেই পুতুল সরকার বসিয়েছে আমেরিকা। বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস কিংবা পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের সুতো রয়েছে আমেরিকার হাতে। ভারতেও পুতুল সরকার বানাতে চায় আমেরিকা। এশিয়া মহাদেশ কিংবা তামাম বিশ্বে ভারত বিশ্বশক্তি হয়ে উঠুক, এটা কখনওই চায়নি আমেরিকা। সেই কারণেই গত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হারাতে কোমর কষে নেমে পড়েছিল মার্কিন প্রশাসন। যদিও, তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভারতের শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণেই কোনওভাবেই আমেরিকা কব্জা করতে পারছে না এশিয়ার এই শক্তিধর দেশটিকে। তার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে চলতি বছর (Delhi Blast) অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ হীরে, সোনা ও তেল আমদানি করেছে ভারত। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসেই রাশিয়ার হীরে রফতানি বেড়ে হয়েছে ৩১.৩ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। নানা সময় ভারত প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বার্তা দিয়েছে যে, আমেরিকার কথায় ভারতের বৈদেশিক নীতি ঠিক হবে না (Delhi Red Fort Explosion)। নয়াদিল্লি তার বিদেশ নীতি ঠিক করবে ভারতবাসীর ভালো-মন্দের কথা ভেবেই। এখানেই উঠছে সেই অমোঘ প্রশ্ন, রাশিয়া এবং ইজরায়েলের রাষ্ট্রনেতাদের সফরের আগে আমেরিকার মদতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের দিয়ে এই সিরিয়াল বিস্ফোরণের ছক কষা হয়নি তো?

    সন্ত্রাসের ইন্সট্রুমেন্ট

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে সব সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তান হচ্ছে সন্ত্রাসের একটা ইন্সট্রুমেন্ট। আর তাকে পরিচালনা করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ভারতের (Delhi Blast) অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সূত্রের খবর, দিল্লি বিস্ফোরণে যে গাড়িটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটির মালিক দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক ওমর মহম্মদ। অর্থাৎ গাড়িটি হাতবদল হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় দুই চিকিৎসক-জঙ্গিকে। তাতেই ঘাবড়ে গিয়েই উমর তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Delhi Red Fort Explosion)।

    আমেরিকা এবং আমেরিকা

    সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ছিল সিরিয়াল বিস্ফোরণ হওয়ার কথা। কিন্তু ষড়যন্ত্রের অন্যতম দুই চাঁই ধরা পড়ে যেতেই তাড়াতাড়ি ঘটিয়ে দেওয়া হয় বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে যে পাকভূম ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পাকিস্তান সন্ত্রাসের একটা টুল মাত্র। এই টুল ব্যবহার করে কে? উত্তরটিও সকলেরই জানা! আমেরিকা। সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে আমেরিকা। ইসলামাবাদের সেনাপ্রধান আসিফ মুনির আমেরিকায় গিয়ে ভারতকে হুমকি দিচ্ছেন। পাকিস্তানের এই সেনাপ্রধানের সঙ্গে ভোজ সেরেছেন মিস্টার প্রেসিডেন্ট! আমেরিকা তো বটেই, বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসেও যা বিরলতম ঘটনা বলেই দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এঁদের একটা বড় অংশেরই দাবি, এর আগে কোনও দেশের সেনা প্রধানের সম্মানে ভোজের আয়োজন করেননি আমেরিকার কোনও প্রেসিডেন্ট, যা করে দেখিয়েছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ট্রাম্পই আবার ভারতের (Delhi Blast) প্রধানমন্ত্রীকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করছিলেন। বন্ধুর বুকে ছুরি মারতেই কি আস্তিনে লুকানো বাঘনখ বের করছে আমেরিকা? চিনের পাশাপাশি ভারতও যাতে এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দেশ হয়ে আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হতে না পারে, তাই কি নয়াদিল্লিকে এভাবে অস্থির করে তুলতে চাইছে সিআইএ? কোটি টাকার এই প্রশ্নটাই এখন ঘোরাফেরা করছে ভারতের রাজনীতির আকাশে (Delhi Red Fort Explosion)।

LinkedIn
Share