মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন, এমনই অভিমত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আত্মবিশ্বাসী মেজাজ রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু। সরকার বদালতেই বিধানসভার অন্দরে ফিরে এল ‘সৌজন্যের’ ছবি। নতুন মুখ্যমন্ত্ররী জন্য তৃণমূল বিধায়কদের তরফে শুভেচ্ছার বন্যা। একদিকে কাউকে যেমন অধিবেশনের সময় শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেল, তেমনই কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলেন। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষকে দীর্ঘক্ষণ দেখা গেল তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে গল্প করতে।
সৌজন্যের ছবি বিধানসভায়
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন। সৌজন্য হয়েছে। কিন্তু কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা এখনই বলতে চাননি তিনি। শুভেন্দুর এ কথাতেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চাপানউতোর। শুভেন্দুর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকেই অনেকে বলতে শুরু করেছেন দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েই উবে গিয়েছিল সৌজন্যের আবহ। তাঁর অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনেই কী তাহলে স্বাভাবিক ছন্দে কেটেছিল তাল? প্রশ্ন ঘুরছে। সঙ্গে আবার সেই সময় বিধানসভার অন্দরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি! কিন্তু সেই ছবিতে ইতি! বর্তমানে ছবিটা এক্কেবারে আলাদা।
শুভেন্দুর জন্য মনোহরা আনলেন হুমায়ুন!
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সিতাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া শপথগ্রহণের আগে পর্যন্ত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেই বসেছিলেন। খোদ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন। সুজাপুরের সাবিনা ইয়াসমিনও আবার শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানান। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সৌজন্যে তো আবার অন্য মাত্রাই দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তিনি মনোহরা নিয়ে এসেছিলেন বলে খবর। সব মিলিয়ে বিধানসভার অন্দরের সৌজন্যপূর্ণ আবহ নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়।
প্রধানমন্ত্রী মোদিই অনুপ্রেরণা, বার্তা শুভেন্দুর
স্বচ্ছ প্রশাসন ও উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই পরিচালিত হবে। মোদিকে ‘বিশ্বনেতা’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের পথপ্রদর্শক। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে তিনি যে নাগরিক সচেতনতা তৈরি করেছেন, আমরা তা এগিয়ে নিয়ে যাব।’’ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভিআইপি সংস্কৃতি কালচার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভায় কোনও লুকোছাপা থাকবে না। সরকার পুরোপুরি বিধানসভার প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।’’ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে বাড়তি নিরাপত্তার বহর ও গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অতিরিক্ত গাড়ির প্রয়োজন নেই। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তায় আমরাও শামিল।’’তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এবার প্রকৃত অর্থেই জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার দেখতে পাবেন সবাই।’’
