Tag: NEW TOWN

NEW TOWN

  • Suvendu Adhikari: পঞ্চায়েতে ৭১৯০ পদে নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিউটাউনে তৈরি হবে নয়া ভবন

    Suvendu Adhikari: পঞ্চায়েতে ৭১৯০ পদে নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিউটাউনে তৈরি হবে নয়া ভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ প্রশাসনে কর্মী সঙ্কট মেটাতে বড়সড় নিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে মোট ৭১৯০ জন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মূলত পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারের ঘাটতি মেটাতেই এই নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনে পাঁচ একর জমির উপর নতুন পঞ্চায়েত ভবন তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    বুধবার সল্টলেকের প্রশাসনিক ভবনে (Panchayat Staff Recruitment) পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাজকর্ম নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক-সহ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। বিভিন্ন জেলাশাসক এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে।

    বিপুল নিয়োগ (Suvendu Adhikari)

    বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোট ৭১৯০ জনকে নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “৭১৯০ জন নিয়োগ পাবেন। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুজোর পর বিধানসভার অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল পাশ করানো হবে। মূলত ইঞ্জিনিয়ারের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতেই এই নিয়োগ।”

    পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্মে অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়েও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পঞ্চায়েত প্রধান বা উপপ্রধানের পদত্যাগের কারণে যেসব জায়গায় প্রশাসনিক কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে ওই সব জায়গায় প্রশাসকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

    পঞ্চায়েত দফতরের পরিকাঠামো উন্নয়নেও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনে পাঁচ একর জমির উপর গড়ে তোলা হবে নতুন পঞ্চায়েত ভবন। প্রস্তাবিত বিধানসভা ও প্রশাসনিক ভবনের কাছেই এই নির্মাণকাজ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দফতরের কাজকর্মে মন্ত্রী ও আধিকারিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ, শান্তনু প্রামাণিক এবং (Suvendu Adhikari) আধিকারিক পি উলাগানাথনের কাজে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগ

    এদিন পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, “আমরা বেশিদিন দায়িত্বে আসিনি। আগে অনেক অনিয়ম হয়েছে। ৯৮ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিরোধীরা ক্ষমতায় ছিল। আসল কাজ হয় গ্রামে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যাঁদের কাজের নথি ছিল, তাঁদের আধার সংযুক্তিকরণের সময় প্রায় ৩১ লাখ নাম বাদ পড়েছে।”

    গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের হিসাবও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজ্য সরকার দ্রুত কাজ করছে। তাঁর দাবি, ২২ কোটি শ্রমদিবস তৈরি এবং ২২ হাজার কোটি টাকার কাজের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে ১২০০ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৬৫ লাখ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ কর্মদিবস তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

    নতুন সরকারের কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের (Panchayat Staff Recruitment) অগ্রগতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নতুন সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ২২ লাখ মানুষকে কাজ দিচ্ছে। আমাদের হাতে সময় কম। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আবেদন, ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজ্যে ফিরে এসে সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজের সুযোগ গ্রহণ (Suvendu Adhikari) করুন। গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি এবং পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে বলেও বৈঠক শেষে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানিকতলার কেশব ভবন থেকে নিউ টাউনের নবনির্মিত কেশব স্মৃতি ভবনে আরএসএসের কার্যালয় স্থানান্তরকে বাংলায় হিন্দু সমাজ ও চেতনার জাগরণের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করলেন সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল (Hosabale)। শনিবার নতুন কার্যালয়ের (Keshav Smriti Bhavan) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ভবন নির্মাণকে কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর জাগরণের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন কার্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হোসেবল বলেন, “কার্যালয় বসবাসের জায়গা নয়। সংঘের প্রচারকরা কার্যকর্তাদের বাড়িতে থাকবেন।” তাঁর বক্তব্য, কোনও ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে না। সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনযাপন, আচরণ, নিষ্ঠা ও আদর্শই সেই ভবনকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্রে পরিণত করে। সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য তুলে ধরতে তামিলনাড়ুর একটি ঘটনার উল্লেখ করেন হোসেবল। তিনি জানান, বোমা হামলায় তামিলনাড়ুতে সংঘের একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজ্য সরকার সেটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্বয়ংসেবকরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা আগের চেয়ে বড় একটি ভবন নির্মাণ করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় সাংগঠনিক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

    কেশব রাও দীক্ষিতের স্মৃতিতে নতুন ভবন (Keshav Smriti Bhavan)

    মানিকতলার পুরনো কেশব ভবনটি নির্মিত হয়েছিল আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিতে। নিউ টাউনের নতুন ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রবীণ সংঘ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিতের স্মরণে। সাংগঠনিক কাজের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন এবং এই রাজ্যেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

    অনুষ্ঠানে কেশব রাও দীক্ষিত এবং পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা প্রয়াত সংঘ প্রচারক শ্যামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করেন হোসবালে। তিনি বলেন, তাঁদের জীবন এবং কাজ আজও সংঘের স্বয়ংসেবকদের অনুপ্রাণিত করে। কোনও পদ বা দায়িত্বের কারণে নয়, বরং সংগঠন ও সমাজের প্রতি আজীবন নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেই তাঁরা মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

    সংঘের সাংগঠনিক সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন সরকার্যবাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে সংঘের শাখা, স্বয়ংসেবক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সামাজিক উদ্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। সাংগঠনিক কাজের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। তবে কার্যালয় নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    প্রত্যাশা নয়, লক্ষ্য সমাজসেবা

    হোসেবল বলেন, সংঘের কোনও প্রচারক পদ, স্বীকৃতি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাংগঠনিক কাজে যোগ দেন না। তাঁর কথায়, “একজন স্বয়ংসেবক বা প্রচারক কখনও ভাবেন না, তিনি কোন দায়িত্ব বা পদ পাবেন। তিনি এই ভাবনা নিয়েই কাজ করেন যে, তিনি কয়েক দিন থাকুন বা না থাকুন, দেশের উন্নতি হওয়া উচিত।”

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারকদের পাঠানোর ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রচারকরা নিজেদের কর্মস্থলকেই কর্মভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই তাঁরা সমাজের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।

    সংঘের কার্যালয়গুলি সম্পর্কে হোসবালে বলেন, সেগুলিকে কেবল প্রচারকদের আবাসস্থল হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কার্যালয় শুধু প্রচারকদের বসবাসের জন্য নয়। এটি (Keshav Smriti Bhavan) কাজের জায়গা।”

    তিনি জানান, সেখানে কর্মরত স্বয়ংসেবকদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও সাধনার মাধ্যমেই একটি কার্যালয় অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘের কার্যালয়গুলির ইতিহাস সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং স্বয়ংসেবকদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, “কোনও কার্যালয় বা ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণা দেয় না। সেখানে যাঁরা থাকেন, কাজ করেন এবং আসেন, সেই স্বয়ংসেবক ও কার্যকর্তারাই ভবনটিকে শক্তি ও প্রাণশক্তি জোগান।”

    সংঘের কাজের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা

    আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা ও নিষ্ঠা বলে মন্তব্য করেন হোসবালে। তিনি জানান, সংগঠনের স্বয়ংসেবকরা কোনও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেন।

    “তন সমর্পিত, মন সমর্পিত অউর ইয়ে জীবন সমর্পিত”—অর্থাৎ মাতৃভূমির জন্য শরীর, মন ও জীবন উৎসর্গ করার আদর্শই সংঘের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকরা গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

    হোসেবলের বক্তব্য, স্বয়ংসেবকদের অবদান কেবল কার্যালয় নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের নিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজসেবা, সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে।

    গত এক শতাব্দীতে সংঘের দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বীকার করেন, এখনও বহু সমস্যা ও প্রতিকূলতা রয়েছে। তাঁর কথায়, “সব প্রশ্নের সমাধান হয়নি এবং সব সমস্যাও দূর হয়ে যায়নি। এখনও নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকট রয়েছে (Keshav Smriti Bhavan)।”

    তবে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করলে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোসেবলের কথায়, “সংকল্প যত বড় হয়, সমস্যা তত ছোট হয়ে যায় (Hosabale)।”

    বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, কেশব স্মৃতি ভবনকে এমন একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে, যা স্বয়ংসেবক ও সমাজকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করবে। ডাঃ হেডগেওয়ার এবং কয়েক প্রজন্মের নিবেদিতপ্রাণ স্বয়ংসেবকদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী শতাব্দীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংঘের কাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার উপর গুরুত্ব দেন।

    রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান অনুষ্ঠানে হোসেবল

    এদিন কলকাতার আলিপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে রাম-শরদ কোঠারি স্মৃতি সংঘ আয়োজিত ‘রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান ২০২৬’ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন দত্তাত্রেয় হোসেবলে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কলকাতার বাসিন্দা দুই ভাই রামকুমার ও শরদকুমার কোঠারি ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় রামমন্দির আন্দোলনের সময় নিহত হন। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাজের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

    এবারের অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ার বিদ্যাসাগর শিশু শিক্ষা নিকেতনের (Hosabale) প্রধান শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র হেমব্রম, ওড়িশার পরিবেশকর্মী রমেশচন্দ্র মিশ্র এবং ঝাড়খণ্ডের ধ্যান ফাউন্ডেশনকে সমাজে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় (Keshav Smriti Bhavan)।

     

  • Gautam Adani: নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতালের শিলান্যাস, বাংলায় আরও বিনিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গৌতম আদানি

    Gautam Adani: নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতালের শিলান্যাস, বাংলায় আরও বিনিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গৌতম আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার মেগা হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দিরে’র শিলান্যাস করলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি (Gautam Adani)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এই প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এ দিন একাধিক বৈঠক ও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। শিল্প, বিদ্যুৎ, বন্দর, সড়ক, পর্যটন এবং ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে বলে (Mega Hospital) নবান্ন সূত্রে খবর।

    নিউটাউনের ৫১.৭৫ একর জমির উপর গড়ে উঠছে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোটি। প্রকল্পটির প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১,০০০ শয্যার হাসপাতালের কথা থাকলেও, পরে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ২,০০০ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, আদানি গোষ্ঠী লিখিতভাবে ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১,০০০ শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ১,০০০ শয্যা বাণিজ্যিক পরিষেবার আওতায় থাকবে।

    ‘আদানি আরোগ্য মন্দির প্রকল্পে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। নবান্ন সূত্রের হিসাবেও প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্মাণপর্বে আরও প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা লগ্নি করার কথাও উঠে এসেছে।

    আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্যও শয্যা (Gautam Adani)

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট শয্যা। ২,০০০ শয্যার অর্ধেক বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম খরচে চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা হাসপাতালটিতে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও শোনা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তুলতে আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের (Mayo Clinic) সঙ্গে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার প্রস্তাব রয়েছে। নবান্ন-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য, অত্যাধুনিক সুপার-স্পেশ্যালিটি পরিষেবা, রোবোটিক সার্জারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মতো পরিকাঠামোও প্রকল্পের অংশ হতে পারে।

    রাজ্য সরকারের তরফেও এই প্রকল্পে একাধিক আর্থিক ছাড় দেওয়ার কথা জানা গিয়েছে। নবান্নের হিসাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ছাড় বাবদ প্রায় ১,৯৬৭ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দেওয়ার খবর মিলেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও গবেষণা এবং চিকিৎসা-পর্যটন মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪,০৮৫ কোটি টাকার আর্থিক সুফল পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া (Gautam Adani) হয়েছে।

    হাসপাতালের পর শিল্প-বিনিয়োগে নজর

    হাসপাতালের শিলান্যাসের পর গৌতম আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা। সরকারি অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’-তে এই বৈঠকে বাংলায় নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের বিষয়গুলি সেখানে উঠে আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

    এর আগে একটি অভিজাত হোটেলে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও আদানির বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার এবং কুমোরটুলি ঘাটের পুনর্নির্মাণ। রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারে আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা ভবনটি পরিদর্শনও করেছেন। সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয়ের কথাও উঠে এসেছে।

    বন্দর-বিদ্যুতেও লগ্নির সম্ভাবনা আদানির

    বন্দরের ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য আগ্রহ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে অতীতে আদানি গোষ্ঠীর নাম সামনে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন দরপত্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে তাজপুরের পরিবর্তে পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবারে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য সরকার এগোচ্ছে। সেই প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠী নতুন করে আগ্রহ দেখাতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বিনিয়োগের কাঠামো, অনুমোদন এবং অন্যান্য শর্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Gautam Adani)।

    বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে জল্পনা রয়েছে। পুরুলিয়ার সাঁওতালডিতে ১,৬০০ মেগাওয়াটের একটি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের কথা নবান্ন সূত্রে জানা গেলেও, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে বলেই খবর। সাঁওতালডিতে ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের নথিতে ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া এগোনোর প্রমাণ মিলেছে (Mega Hospital)।

    কলকাতায় রিং রোড প্রকল্পে আদানি অংশগ্রহণ নিয়ে জোর চর্চা

    কলকাতাকে ঘিরে প্রস্তাবিত রিং রোড প্রকল্পেও আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও চর্চা চলছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতার যানজট কমানো এবং শহরতলি ও সংলগ্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য রিং রোডের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পে আদানিদের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলেই খবর। উত্তরবঙ্গেও পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আদানি গোষ্ঠী সমীক্ষা করেছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। দেউচা-পাচামি কয়লা ব্লক এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউটাউনের যে জমিতে হাসপাতালটি তৈরি হচ্ছে, সেই জমিই আগে আদানি গোষ্ঠীকে ডেটা সেন্টার প্রকল্পের জন্য দেওয়া হয়েছিল। নবান্ন সূত্রের খবর, ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই জমির ব্যবহার পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে সংস্থা (Gautam Adani)।

    আইসিসি-র মঞ্চেও গৌতম আদানি

    এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে আইসিসির  বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা গৌতম আদানির। তাজ বেঙ্গলের ক্রিস্টাল হলে শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজ্যের সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক উঠে আসবে। রাজ্য শিল্প দফতরের তরফে লজিস্টিকস হাব, এনার্জি বা বিদ্যুৎ এবং হেলথ সিটি নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে হাসপাতাল প্রকল্পের বাইরে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সে বিষয়ে এ দিনের শিল্পমহলের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কালীঘাটে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু

    এদিন সকালে স্ত্রী প্রীতিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে যান আদানি। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ মন্দিরে পৌঁছে তিনি পুজো দেন। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার ছবি পোস্ট করেন আদানি। সেখানে বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানান তিনি। ভবিষ্যৎ কর্মসূচির জন্য আশীর্বাদ চাওয়ার কথাও ছিল তাঁর পোস্টে।

    বুধবার কলকাতায় পৌঁছনোর পর (Mega Hospital) বৃহস্পতিবার আদানির কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্প। তবে দিনের বাকি কর্মসূচি দেখাচ্ছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি বাংলায় আরও বৃহত্তর শিল্প ও পরিকাঠামোগত বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, বন্দর, সড়ক, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য—একাধিক ক্ষেত্রে আদানির লগ্নির প্রস্তাবগুলি কতদূর বাস্তবায়িত হয়, এখন তা-ই দেখার (Gautam Adani)।

     

  • NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০১৪। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর রাজ্যে প্রথম তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ঘটনার এক যুগ পর পশ্চিমবঙ্গে থানা পেল এনআইএ। সপ্তাহখানেক আগেই ক্যাবিনেট বৈঠকে থানা (NIA Police Station) তৈরির ছাড়পত্র মেলে। এবার তৈরি হল এনআইএ থানা। এবার থেকে আর রাজ্যের অন্য কোনও সাধারণ বা স্থানীয় থানার পরিকাঠামোর উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে । বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউটাউনের এনবিসিসি স্কোয়ারে এনআইএ-র নিজস্ব থানা কাজ শুরু করবে।

    এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি

    সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই একটি মাত্র থানার এক্তিয়ারেই থাকবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ, রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্তের প্রয়োজনে এই নির্দিষ্ট থানাতেই এফআইআর দায়ের বা মামলা রুজু করতে পারবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) বা ২০২৩ সালের ৪৬ নম্বর আইনের অধীনে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই আইনের ২(১)(ইউ) ধারায় রাজ্য সরকারকে যেকোনও স্থানকে থানা হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই থানার অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। নবান্নের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির নম্বর হল ১৯৭৫-পিএল/পিবি/৪পি-০২/২০২৬।

    কোথায় হয়েছে এনআইয়ের থানা

    সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের এনআইএ আইনের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট অপরাধগুলির তদন্তের জন্যই মূলত এই থানা কাজ করবে। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া থ্রি-তে অবস্থিত এনবিসিসি স্কোয়ারের ১৬ তলায় এই থানার আনুষ্ঠানিক ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে থানার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি পুলিশ স্টেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’। তার ঠিক পাশেই এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা হিসেবে ‘সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য থানার মতোই এই থানাতেও ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবলের মতো পোস্ট থাকে। এ রাজ্যে কোনও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা থাকলে, তা তদন্ত করা হবে এই থানা থেকে। রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে বেলডাঙার অশান্তির মামলা, মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক মামলার তদন্ত করছে এনআইএ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের মামলাতেও একাধিকবার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। সম্প্রতি রাজ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে থানা তৈরির বিষয়টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি অমিত শাহও রাজ্য সফরে এসে এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    এনআইয়ের নিজস্ব থানার সুবিধা

    তৃণমূল সরকারের আমলেই থানা খুলতে চেয়েছিল এনআইএ। তবে বিভিন্ন সমস্যায় সেই থানা খোলা যায়নি বলে দাবি। তবে ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনমাসের মধ্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্যে খোলা হবে এনআইএ থানা। সেই সিদ্ধান্তের পরই খুলে গেল থানা। এতদিন রাজ্যে এনআইএ-র নিজস্ব কোনও পূর্ণাঙ্গ থানা ছিল না। ফলে তদন্তের প্রয়োজনে তাদের নানা আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতার মুখে পড়তে হত। কোথাও তল্লাশি চালানো, কাউকে গ্রেফতার করা বা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাগুলির উপর নির্ভর করতে হত। অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়াতেও অহেতুক সময় নষ্ট হত বলে অভিযোগ ছিল। নতুন এই থানা চালু হওয়ার ফলে সেই পরিকাঠামোগত সমস্যা আর থাকবে না। এখন থেকে সরাসরি নিজেদের থানাতেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এনআইএ আধিকারিকরা।

    তৈরি হবে এনআইএ আদালত-ও

    শুধু থানা নয় এনআইএ আদালতও তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেই কাজ হবে বলে জানা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরি হবে। কোথায় হবে আদালত, তা ঠিক করবে কলকাতা হাইকোর্ট। এই আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ মামলাগুলিরই শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে মামলাগুলির আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে দেশজুড়ে এনআইএ-এর মামলাগুলোর জন‍্য সুনির্দিষ্ট ও পৃথক আদালত গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিচারভবনে মুখ্য বিচারকের এজলাসের উপর এনআইএ-এর আদালতের দায়িত্ব দিয়েছে রেখেছে হাইকোর্ট। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় তাদের মামলার সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। এবার পৃথক থানা তৈরি হয়ে গেল। এবার আদালত গঠন হলে মামলার কাজ দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এনআইএ সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, দেশদ্রোহিতা, জালনোট কারবার বা বিস্ফোরক আইনের মতো গুরুতর এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধের তদন্ত করে থাকে। নিজস্ব থানা না থাকায় অনেক সময় ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়া বা লকআপে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হত। এখন নিউটাউনের এই ঠিকানাই হবে রাজ্যে এনআইএ-র মূল কন্ট্রোল রুম। এখান থেকেই গোটা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তদন্তের কাজে গতি আসবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখাও অনেক বেশি সহজ হবে।

  • Larsen & Toubro: বাংলায় ৪,৫০০ কোটির বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা এলঅ্যান্ডটির, আসছে ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার পার্কে ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    Larsen & Toubro: বাংলায় ৪,৫০০ কোটির বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা এলঅ্যান্ডটির, আসছে ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার পার্কে ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে আগামী কয়েক বছরে ৪,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিকাঠামো সংস্থা লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। সংস্থার (Larsen Toubro) চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর এসএন সুব্রহ্মণ্যম জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে (West Bengal Data Centres) বৈঠক করে একাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন এলঅ্যান্ডটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন বোর্ড সদস্য দীপ কিশোর সেন। কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) এক অনুষ্ঠানে এই খবর জানান তিনি।

    এলঅ্যান্ডটির লগ্নির পরিকল্পনা (Larsen Toubro)

    সেন বলেন, “আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। তবে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকে একাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।” বর্তমানে নিউ টাউনের সিলিকন ভ্যালিতে এলটিআই মাইন্ডট্রির সফটওয়্যার পার্কের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষের পথে। পর্যায়ক্রমে আরও দু’টি ধাপে কাজ হবে। পুরো প্রকল্পে মোট প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা লগ্নি করা হবে, কর্মসংস্থান হবে হাজার পঁচিশেক মানুষের। সেন বলেন, “প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষ। খুব শীঘ্রই এর উদ্বোধন হওয়ার কথা।” কলকাতায় একটি টিয়ার-৩ ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে এলঅ্যান্ডটি। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ৫ থেকে ১০ একর জমি চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টারে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সেন বলেন, “আমরা ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টিয়ার-৩ ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে আগ্রহী। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ৫ থেকে ১০ একর জমি চেয়েছি।”

    বিনিয়োগ করবে এরাও…

    তিনি আরও জানান, অতীতে এলঅ্যান্ডটি পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার এবং এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এবার রাজ্যে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায় সংস্থাটি (Larsen Toubro)। অন্যদিকে, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সিইও নবনীত নারায়ণ জানান, সংস্থার ৬,০০০ কোটি টাকার ফেনল-অ্যাসিটোন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুর্গাপুজোর আগেই এই প্রকল্প চালু করার কথা (West Bengal Data Centres)। তিনি বলেন, “রাজ্যে বর্তমান পরিবেশ আমাদের আরও বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছে। আমরা পুজোর আগেই প্রকল্পটি চালু করে দেশ তথা বাংলাকে উৎসর্গ করতে চাই।” এদিকে, রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে বার্জার পেইন্টস। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সিইও অভিজিৎ রায় জানান, পানাগড়ে তাঁদের গ্রিনফিল্ড প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ পূর্বঘোষিত ৩৫০-৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটিরও বেশি করা হতে পারে। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের শিল্পনীতি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছি। এটি ঘোষণা হলেই আমরা বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে চাই।” পিয়ারলেস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়ন্ত রায় জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রিয়েল এস্টেট খাতে পশ্চিমবঙ্গে মোট ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে (Larsen Toubro)। এর মধ্যে রয়েছে পিয়ারলেস হাসপাতালে নতুন অনকোলজি সেন্টার, বারাসাত হাসপাতালের সম্প্রসারণ এবং নিউ টাউনে রিয়েল এস্টেট প্রকল্প (West Bengal Data Centres)।

     

LinkedIn
Share