Tag: NHRC

NHRC

  • Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনা এবং শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সরাসরি তথ্য জানানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে মেটা (Meta)। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।

    এতদিন মেটার পক্ষ থেকে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য উপাদানের তথ্য শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন বা এনসিএমইসিকে জানানো হত (Child Sexual Abuse Case)। পরে ওই সংস্থাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করত। নতুন ব্যবস্থায় ভারত-সংক্রান্ত এই ধরনের ঘটনাগুলি সরাসরি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছেও পাঠাবে মেটা।

    সরকারের বক্তব্য (Meta)

    এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “ভারতে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা একটি মৌলিক নীতি। এই বিষয়ে কোনও আপস করা যাবে না।”

    তবে সরকারের তরফে এই পদক্ষেপকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ওই আধিকারিকের কথায়, “শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসরকে নিরাপদ করার পথে এটি প্রথম পদক্ষেপ। এখনও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।”

    সরকারি সূত্রে খবর, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্রিয় পদক্ষেপ না নেওয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এক আধিকারিক বলেন, “যেসব সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

    মেটার সঙ্গে সরকারের এই আলোচনা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল। গত ৫ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া একাধিক বৈঠকে মেটার শীর্ষ কর্তারা সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সংস্থার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়ক আধিকারিক জোয়েল কাপলানও সেই আলোচনায় অংশ নেন।

    সরকারের দুয়ারে মেটা কর্তারা

    কাপলানের সঙ্গে ছিলেন মেটার জননীতি বিভাগের সহ-সভাপতি নীল পটস, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জননীতি বিভাগের প্রধান রাফায়েল ফ্র্যাঙ্কেল, ভারতে জননীতি বিভাগের প্রধান আমান জৈন-সহ (Meta) অন্যান্য আধিকারিক।

    এর আগে জুলাই মাসে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার আধিকারিকদের তলব করেছিল।

    ৩ জুলাই প্রকাশিত বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র নজরদারি শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান প্রচারের জন্য অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।

    অনুসন্ধানে প্রায় ১০ মাসের একটি সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি-সহ ৩৩২টি বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮৪টি বিজ্ঞাপন ভারতে দেখা গিয়েছিল। টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের দাবি, ভারতের ওই ৮৪টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৭৮টি এমন সময়ে প্রচারিত হয়েছিল, যখন জুলাই মাসেই সরকার মেটাকে এই ধরনের উপাদান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।

    বিবিসির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন নিজ উদ্যোগে বিষয়টি গ্রহণ করে। ৩ জুলাই মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এক সপ্তাহ পরে মেটার পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে জবাব দেওয়া হয়।

    কমিশনের সামনে মেটা কর্তারা

    সেই জবাব পর্যালোচনা করার পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে মেটা ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধানকে ৯ সেপ্টেম্বর কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে মেটা ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা কমিশনের সামনে হাজির হন।

    এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দিল্লি পুলিশকে অভিযোগগুলির তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে (Child Sexual Abuse Case) সুরক্ষা আইনের আওতায় মেটা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের তথ্য জানানোর আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে (Meta)।

     

  • NCPCR Summons Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী নিয়ে প্রচার! মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের তলব এনসিপিসিআর-এর

    NCPCR Summons Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী নিয়ে প্রচার! মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের তলব এনসিপিসিআর-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণের সামগ্রী (Child Sexual Exploitation and Abuse Material বা CSEAM) প্রচার এবং তা কেনাবেচার পথ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্তে এবার মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের তলব করল জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মেটা ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং প্রধানকে কমিশনের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু পেইড বিজ্ঞাপনের উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) গ্রহণ করে এনসিপিসিআর (NCPCR Summons Meta )। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ৩ জুলাই ২০২৬ মেটা প্ল্যাটফর্মস, ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল কমিশন। মেটার পক্ষ থেকে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সেই নোটিসের জবাব দেওয়া হয়। তবে মেটার জবাব পর্যালোচনা করার পর এনসিপিসিআর মনে করেছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং এর পিছনের পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিবিসির অনুসন্ধানে কী অভিযোগ?

    বিবিসি আই-এর অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে কিছু পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞাপনগুলিতে ‘রেপ ভিডিও’ এবং ‘চাইল্ড ভিডিও’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, বিজ্ঞাপনগুলিতে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের ইনস্টাগ্রামের বাইরে টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে ওই ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী অর্থের বিনিময়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি কিছু সামগ্রীর দাম মাত্র ৯৯ টাকা থেকেও শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এগুলি শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির আপলোড করা সাধারণ পোস্ট ছিল না। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পেইড বিজ্ঞাপন। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনগুলি ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা এবং কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ব্যবহারকারীদের সামনে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    মেটার কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

    বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সেগুলি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু একটি অভিযোগযুক্ত বিজ্ঞাপন বিবিসির পক্ষ থেকে ইনস্টাগ্রামের নজরে আনার পরও পরদিন প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছিল যে বিজ্ঞাপনটি তাদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’ লঙ্ঘন করেনি। এর ফলে মেটার স্বয়ংক্রিয় মডারেশন ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত নিষিদ্ধ সামগ্রী কীভাবে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ফাঁক গলে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছতে পারে, তা নিয়েই তদন্তকারীদের আগ্রহ। এনসিপিসিআর (NCPCR)-এর তদন্তে তাই খতিয়ে দেখা হতে পারে—কীভাবে ওই বিজ্ঞাপনগুলি অনুমোদিত হয়েছিল, মেটার কোন কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল, কোনও সতর্কবার্তা বা রিপোর্ট তৈরি হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পর সংস্থাটি কী পদক্ষেপ নিয়েছিল।

    মেটার কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চাইবে কমিশন

    এনসিপিসিআর (NCPCR)-এর সামনে মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের হাজিরার সময় বিজ্ঞাপনগুলির উৎস, মডারেশন প্রক্রিয়া, সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিবিসির অনুসন্ধানের পর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় শুধু নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। যে নেটওয়ার্ক, নির্দিষ্ট শব্দ, বিজ্ঞাপন এবং ব্যবহারকারীর আচরণকে কাজে লাগিয়ে শিশু যৌন শোষণের সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, সেগুলিও শনাক্ত করা জরুরি।

    দিল্লি পুলিশকেও তদন্তের নির্দেশ

    একই অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-ও পদক্ষেপ করেছে। ইনস্টাগ্রামের পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী প্রচারের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিশেষ করে, মেটা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা পসকো (POCSO) আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রতিবেদনগুলির ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি গ্রহণ করে। পাশাপাশি ৬ জুলাই তারিখের একটি অভিযোগও কমিশনের কাছে জমা পড়েছিল। এরপর ৮ জুলাই দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে একই অভিযোগকে ঘিরে এখন দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা পৃথকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এনসিপিসিআর মূলত অভিযোগের সত্যতা, মেটার ভূমিকা এবং সংস্থার জবাব পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-এর নির্দেশে দিল্লি পুলিশও এই বিষয়ে তদন্ত করবে।

    তদন্তের মুখে মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    এই ঘটনা ফের বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বিশ্বের অন্যতম বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থাকে। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী এবং বিশাল বিজ্ঞাপন পরিকাঠামোর কারণে অপরাধী চক্রগুলি সেই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যদি নিষিদ্ধ সামগ্রী বা তার লিঙ্ক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং মেটা বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির দায় সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

     

     

     

     

  • Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

    শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

    মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

    সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

    মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

    মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

    ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

    ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

    রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

  • Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ-সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week) উদ্বেগের। ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার!

    ভারতে ধর্মীয় অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ২০১১ সালের বিধিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধন আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার গঙ্গোহ এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সোহেলকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এবং সন্ত্রাসবাদ দমন শাখার যৌথ দল। অভিযোগ, তিনি অযোধ্যার রাম মন্দিরকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

    গরু জবাইয়ের চেষ্টা ভন্ডুল

    উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার সারধানা এলাকায় গরু জবাইয়ের একটি চেষ্টাও ভন্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় মনীশ, দিলশাদ ও সারতাজ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কুইন্টাল গোমাংস, একটি গরু এবং জবাই করার বিভিন্ন সরঞ্জাম। হায়দরাবাদের সমাজকর্মী এএস সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তেলঙ্গানা সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আগাপে অনাথ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী সংক্রমণে আক্রান্ত অনাথ শিশুদের পরিচয় অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

    বিতর্কের মূলে কী

    কর্নাটকের প্রবেশিকা পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পবিত্র জেনেউ ও কালাভা খুলে ঢোকার নির্দেশকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল পরীক্ষার নিয়ম নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সমতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন। এদিকে, একটি বহুজাতিক রাসায়নিক ও প্লাস্টিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মুম্বই শাখায় কর্মরত বহু প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সাংগঠনিক পরিবর্তনের আড়ালে ভারতীয় হিন্দু পেশাজীবীদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামি লিগের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রামের মূর্তি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে (Hindus Under Attack)।

     

  • NHRC: মুর্শিদাবাদ হিংসা, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাবে দল, ঘোষণা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    NHRC: মুর্শিদাবাদ হিংসা, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাবে দল, ঘোষণা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায় মুর্শিদাবাদে। জেলার সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে। হিন্দু হওয়ার জন্য বহু উদ্বাস্তু পরিবারকে জেলাও ছাড়তে হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে সে চিত্র ধরা পড়েছে আগেই। এবার মুর্শিদাবাদে (NHRC) হিংসার ঘটনায় এবার আসরে নামল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। মঙ্গলবার তারা জানাল, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মুর্শিদাবাদে টিম পাঠানো হচ্ছে।

    কী বলছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)

    প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে (NHRC) হিংসার ঘটনা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার ভিত্তিতেই তদন্তকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়, “ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মুর্শিদাবাদে টিম পাঠাতে কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল(তদন্ত)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই টিম মুর্শিদাবাদে পৌঁছে ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করবে।” প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যের একাধিক ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তখনও একাধিক কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল বা জাতীয় কমিশনের প্রতিনিধিদের আসতে দেখা গিয়েছে। এবার মুর্শিদাবাদ হিংসাতেও আসছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

    কমিশনে অভিযোগ জানায় অগ্নি সমাজ (Agni Samaj) নামের একটি সংগঠন

    সূত্রের খবর, অগ্নি সমাজ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের তরফে একটা অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের কাছে। এরপরেই মুর্শিদাবাদে আসার কথা জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে। মনে করা হচ্ছে শীঘ্রই আসবে তাদের টিম। অগ্নি সমাজ নামের ওই সংগঠনের তরফে কমিশনে অভিযোগ জমা দেওয়া হয় গত ১৩ এপ্রিল। পরবর্তীকালে ১৫ এপ্রিল অর্থাৎ মঙ্গলবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে। এরপরেই তারা জানায়, মুর্শিদাবাদ হিংসার বিষয়ে তারা অভিযোগ পেয়েছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াকফ আইনের বিরোধিতার নামে কীভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, হিন্দুদেরকে লক্ষ্য বানানো হয়েছে। অগ্নি সমাজের চিঠিতে (NHRC) হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের হত্যার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

  • NHRC: নবান্ন অভিযান-বন‍্ধে পুলিশি অত্যাচার, পুলিশ কমিশনারকে নোটিশ মানবাধিকার কমিশনের

    NHRC: নবান্ন অভিযান-বন‍্ধে পুলিশি অত্যাচার, পুলিশ কমিশনারকে নোটিশ মানবাধিকার কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথমে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজে’র নবান্ন অভিযান কর্মসূচিতে ও পরের দিন বিজেপির ১২ ঘণ্টা বাংলা বনধে পুলিশি অত্যাচার (Police Atrocities)। এই জোড়া অত্যাচারের প্রতিবাদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার পুলিশ (Kolkata Police) কমিশনার বিনীত গোয়েলকে নোটিশ পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। নোটিশ পাওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেই রিপোর্ট মানবাধিকার কমিশনের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন সৌমিত্র। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন আরও পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।

    কী লেখা হয়েছে চিঠিতে? (Saumitra Khan)

    চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত একটি হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ, খুনের ঘটনায় গোটা দেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় প্রতিবাদের পাশাপাশি ন্যায় বিচারের দাবিও জানানো হচ্ছে। এই কাণ্ডের ফলে রাজ্য সরকারের আসল চেহারা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। মহিলা মুখ্যমন্ত্রী চালিত এক রাজ্যে মহিলারা যে সুরক্ষিত নন, তাও প্রকাশ্যে এসেছে।’ চিঠিতে বিষ্ণুপুরের সাংসদ (Saumitra Khan) লিখেছেন, ‘আরজি করের ঘটনার প্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের জন্য গত ২৭ অগাস্ট বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তরফে নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক যোগসূত্র ছাড়া সকলে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে হাঁটছিলেন। পুলিশের (Kolkata Police) তরফে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়। আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।’

    সৌমিত্রদের অভিযোগ

    সৌমিত্রদের (Saumitra Khan) অভিযোগ অনুযায়ী, নবান্ন অভিযানে ২০০ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ (Kolkata Police) তাঁদের ওপর যে নির্যাতন করেছে, তা নৃশংস, নিষ্ঠুর। এতে তাঁদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। মানুষের অধিকারের প্রতি পুলিশের যে অশ্রদ্ধা, নবান্ন অভিযানের ছাত্র সমাজের বিরুদ্ধে পুলিশের অত্যাচারই তার প্রমাণ।

    আরও পড়ুন: মিলে গেল মোদির গ্যারান্টি, বাংলায় দুর্নীতির টাকা ফেরত দিতে শুরু করল ইডি

    কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তা গুরুতর। সুপ্রিম কোর্টও পর্যবেক্ষণে এটা জানিয়েছে। পুলিশ (Kolkata Police) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে (NHRC) ব্যর্থ হয়েছে। তাই কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: কাঠগড়ায় প্রশাসন! দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    RG Kar Incident: কাঠগড়ায় প্রশাসন! দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Incident) তরুণী ডাক্তারের নশংস খুনের ঘটনায় এবার রাজ্যের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে নোটিস পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। মঙ্গলবার কমিশনের (NHRC on RG Kar) তরফে একথা জানানো হয়।

    কী বলল কমিশন

    এদিন মানবাধিকার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Incident) রহস্যজনক পরিস্থিতিতে এক জুনিয়র মহিলা ডাক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করছে কমিশন। ধর্ষণ এবং হত্যার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং পুলিশের ডিজিকে নোটিস জারি করে, দু’সপ্তাহের মধ্যে বিশদ রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে কমিশন (NHRC on RG Kar)। কমিশন আরও জানায়, বিভিন্ন মিডিয়ায় এই খুন নিয়ে যা রিপোর্ট উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতেই জানা গিয়েছে, হাসপাতালের সেমিনার হলে একজন জুনিয়র মহিলা ডাক্তারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৯ অগাস্ট। জানা গিয়েছে, নিহতের শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে ঘটনার সময়ে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।

    কমিশনের পর্যবেক্ষণ

    কমিশনের পর্যবেক্ষণ, মিডিয়া রিপোর্টের বিষয়বস্তু যদি সত্য হয়, তবে আক্রান্তের মানবাধিকার ভয়াবহ ভাবে লঙ্ঘন হয়েছে। তাই দ্রুত এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করা হল। সেই রিপোর্ট জানাতে হবে তদন্তের কাজ কতদূর এগিয়েছে, পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না হয় সেটা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের তরফে কী করা হয়েছে সেটাও জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন (NHRC on RG Kar) আশা করছে যে মৃতার পরিবারকে কোনও সাহায্য করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে৷

    উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Incident) জরুরি বিভাগে চারতলার সেমিনার হল থেকে শুক্রবার সকালে ডাক্তারির পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয় ৷ প্রথমে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে ধর্ষণ করে খুনের মামলা রুজু হয়৷ এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ সোমবারই এই ঘটনা পর্যবেক্ষণে কলকাতায় আসে জাতীয় মহিলা কমিশনের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল ৷ মঙ্গলবার তারা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যায় ৷ 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sandeshkhali Incident:সন্দেশখালিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ডিজি-মুখ্যসচিবের রিপোর্ট তলব কমিশনের

    Sandeshkhali Incident:সন্দেশখালিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ডিজি-মুখ্যসচিবের রিপোর্ট তলব কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali Incident) মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছিল। সাফ জানানো হল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) রিপোর্টে। সন্দেশখালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এক ডজন সুপারিশও করেছে কমিশন। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য কী কী পদক্ষেপ করেছে, দু’সপ্তাহের মধ্যে তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে। রিপোর্টে কমিশন জানিয়েছে, সন্দেশখালির ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

    এক ডজন সুপারিশ কমিশনের (Sandeshkhali Incident)

    সন্দেশখালিকাণ্ডে ২১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ১২ দফা সুপারিশ করেছেন কমিশনের দলের সদস্যরা। এই সুপারিশগুলির মধ্যে রয়েছে, আইনের শাসন সম্পর্কে সন্দেশখালিবাসীর (Sandeshkhali Incident) আস্থা ফিরিয়ে আনা, যাঁরা যৌন অপরাধের শিকার, তাঁদের কাউন্সেলিং করানো, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাও। তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তার বাহিনী যে জমি দখল করেছে, সেই জমিও প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সন্দেশখালি এলাকা থেকে গত কয়েক বছরে যেসব মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে, তাদের উদ্ধারে তদন্ত চালানোর কথাও বলা হয়েছে সুপারিশে। এই এক ডজন সুপারিশের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে, দু’মাসের মধ্যে তা জানাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

    কেলেঙ্কারিতে যুক্ত শাহজাহানের ভাইও!

    এদিকে, সরকারি অর্থ তছরুপ এবং মহিলাদের যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগির ও সঙ্গী শিবপ্রসাদ হাজরার বিরুদ্ধে (Sandeshkhali Incident)। সন্দেশখালিতে তদন্তে গিয়ে এমনই অভিযোগ পেয়েছেন ইডির আধিকারিকরা। তাঁদের সেই বয়ানের ভিত্তিতেই ইডির বিশেষ আদালতে এমনতর দাবি করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার আলমগির, শিবপ্রসাদ এবং জনৈক দিদার মোল্লাকে আদালতে হাজির করানো হয়। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের ইডি হেফাজত দিয়েছেন বিচারক। এদিন আদালতে ইডির তরফে বলা হয়, জমি দখলের টাকা পাচার করতে শাহজাহানের সংস্থা থেকে কোটি কোটি টাকা গিয়েছে আলমগির, শিবু এবং দিদারের অ্যাকাউন্টে। তারা সেই টাকা কীভাবে রোজগার করেছে, তা জানতে সন্দেশখালির বেশ কিছু বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা।

    আরও পড়ুুন: “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে আমি দায়বদ্ধ”, সাক্ষাৎকারে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রসঙ্গত, তৎকালীন তৃণমূল নেতা শাহজাহানের (ইডির হাতে গ্রেফতার হতেই কলঙ্ক মুছতে তড়িঘড়ি তাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল) বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডির কর্তারা। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু হতেই সন্দেশখালি থেকে বের হচ্ছে একের পর কেলেঙ্কারির কেউটে (Sandeshkhali Incident)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Sandeshkhali: আজ ফের সন্দেশখালিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

    Sandeshkhali: আজ ফের সন্দেশখালিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কথা বলবেন গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে। গতকাল শুক্রবারের পর শনিবারেও সন্দেশখালিতে যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সম্প্রতি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্দেশখালি। তৃণমূলের অত্যাচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন। একাধিক বার অগ্নি সংযগের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। বিজেপি বার বার মানুষের মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে ব্যাপক ভাবে সরব হয়েছে।

    নিপীড়িতদের বক্তব্য শুনবে কমিশন (Sandeshkhali)

    গতকাল শুক্রবার মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) গিয়েছিলেন। শুনেছেন নিপীড়িত মহিলাদের বক্তব্য। আজ শনিবার ফের একবার সকাল ১১ টায় একটি লঞ্চে চেপে সন্দেশখালির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। মানুষের মানবাধিকার নিয়ে কমিশন যে উদ্বিগ্ন, তা স্পষ্ট। এর আগেও সেখানে গিয়েছিল জাতীয় তফশিলি কমিশনের প্রতিনিধি দল। যদিও তাঁদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। একই ভাবে এলাকার মহিলাদের অভিযোগের কথা শুনে গিয়েছিল জাতীয় মহিলা কমিশন। নির্যাতিতা মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মা। এই অত্যাচার, নিপীড়ন, গণধর্ষণ ও সেই সঙ্গে প্রশাসনের আইনের শাসন না থাকায় জাতীয় তফশিলি কমিশন এবং জাতীয় মাহিলা কমিশন – উভয়পক্ষ রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করেছে। একই ভাবে আবার রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশন এলাকা পরিদর্শনে যায়। এই দলে ছিলেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস। পরামর্শদাতা ছিলেন সুদেষ্ণা রায় সহ মোট ছয়জনের প্রতিনিধি। তাঁরাও গ্রামে ঘুরে ঘুরে এলাকা পরিদর্শন করেন। ইতিমধ্যে আবার সন্দেশখালিতে জাতীয় আদিবাসী কমিশনের যাওয়ার কথা জানা গিয়েছে।

    ৫ জানুয়ারি থেকেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি

    তৃণমূল নেতাদের অত্যাচারের কারণে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্দেশখালি। গত ৫ জানুয়ারি থেকেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি (Sandeshkhali)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি, রেশন দুর্নীতি মামলায় শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে যায়। এরপর এলাকার দুষ্কৃতীরা তদন্তকারী অফিসারদের উপর আক্রমণ করে। আর এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক হন শেখ শাহজাহান। এরপর এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, বাড়ির বউদের পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়ে অত্যাচারের কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে পথে নামেন গ্রামবাসীরা। ইতিমধ্যে হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Sandeshkhali Incident: সন্দেশখালিকাণ্ডে মুখ্যসচিব ও ডিজিকে নোটিশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    Sandeshkhali Incident: সন্দেশখালিকাণ্ডে মুখ্যসচিব ও ডিজিকে নোটিশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্দেশখালি (Sandeshkhali Incident) নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি-কে নোটিশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গত ৫ জানুয়ারি থেকে খবরের শিরোনামে সন্দেশখালি। এখনও বিভিন্ন জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। এদিকে, যাঁর বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল ইডি, সেই শাহজাহান শেখ এখনও অধরা। এ প্রসঙ্গে উদ্বিগ্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এবার গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে সন্দেশখালিতে বিশেষ দল পাঠাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

    নোটিশে কী বলেছে কমিশন

    ইতিমধ্যেই জাতীয় মহিলা, শিশু ও তফসিলি কমিশনের প্রতিনিধি দল সন্দেশখালি (Sandeshkhali Incident) ঘুরে গিয়েছে। এ বার সেখানে যাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলও। সেই সঙ্গে সন্দেশখালিতে যে সব অভিযোগ উঠেছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যের মুখ্যসচিব ভগবতীপ্রসাদ গোপালিক এবং ডিজি রাজীব কুমারকে নোটিশও ধরিয়েছে কমিশন। রাজ্যের দুই শীর্ষ কর্তার থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে। সন্দেশখালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশন নোটিসে জানিয়েছে, সন্দেশখালিতে এক রাজনৈতিক নেতার আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা গ্রামবাসীরা আক্রান্ত হচ্ছে, মহিলারা যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছে। মহিলা, শিশু থেকে বয়স্করা নানাভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছে। অসামাজিক এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ স্থানীয় প্রশাসন। মহিলা, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য সন্দেশখালি বিপজ্জনক বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কী জানতে চাওয়া হয়েছে

    কমিশন জানিয়েছে, দুই কর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সন্দেশখালিকাণ্ডে (Sandeshkhali Incident) তারা এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করেছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কী কী করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্দেশখালি ঘুরে দেখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশনের এক সদস্যের নেতৃত্বে শীঘ্রই একটি প্রতিনিধি দল সন্দেশখালি যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কবে সেই দল রাজ্যে আসবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি। বুধবারই সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তপসিলি উপজাতি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অনন্ত নায়েক। বৃহস্পতিবারই তিনি সন্দেশখালি যাবেন। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share