Tag: Norway Chess 2026

  • Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দাবাড়ু হিসেবে ধরা হয়। নরওয়ে চেস ২০২৬-এর অষ্টম রাউন্ডে কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) হারিয়ে এক বিরল কৃতিত্বের মালিক হলেন ২০ বছরের এই ভারতীয়।

    একই প্রতিযোগিতায় কার্লসেনকে দুবার মাত!

    এর আগে, ২৭ মে টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি নিয়ে কার্লসেনকে পরাজিত করেছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। বুধবার অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়েও একই কীর্তি গড়ে তিনি কার্যত ইতিহাস সৃষ্টি করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের নরওয়ে চেসেও তিনি কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত ১৯ বছরে ক্লাসিক্যাল দাবায় কোনও খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে কার্লসেনকে দু’বার হারাতে পারেননি। সর্বশেষ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ভারতেরই কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand), যিনি ২০০৭ সালের লিনারেস আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় নরওয়েজিয়ান মহাতারকাকে দু’বার পরাজিত করেছিলেন।

    ‘কার্লসেনকে হারানো নয়, ম্যাচ জেতাটাই গুরুত্বপূর্ণ’

    বিশ্ব দাবা মহলে এই জয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও প্রজ্ঞানন্দ নিজে কিন্তু অত্যন্ত সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, তাঁর কাছে কার্লসেনকে হারানোর চেয়ে টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “ম্যাগনাসকে হারানোর চেয়ে এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচ জেতা এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সামগ্রিক টুর্নামেন্ট ফলাফল নিয়েই বেশি ভাবছেন ভারতের এই তরুণ তারকা।

    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন কার্লসেন

    জয়ের পরেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর মতে, পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কার্লসেন। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বলেন, “কার্লসেন অত্যন্ত ভালো খেলছিলেন এবং অসাধারণভাবে ডিফেন্ড করছিলেন। অনেক খেলোয়াড় এই ধরনের চাপে ছোটখাটো পজিশনাল ভুল করে বসতেন। কিন্তু তিনি বারবার সঠিক চাল খুঁজে বের করছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটা সময় আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ম্যাচটা ড্র হতে চলেছে। এত ভালোভাবে রক্ষণ করার পর শেষ পর্যন্ত ওর এমন ভুল করা কিছুটা বিস্ময়কর ছিল।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে ম্যাচের ফলাফল যতটা না একতরফা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল মানসিক ও কৌশলগত লড়াইয়ের ফল।

    টাইম স্ক্র্যাম্বলই এখন প্রধান চিন্তা

    বর্তমান ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট প্রজ্ঞানন্দ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সময় ব্যবস্থাপনা এখনও তাঁর দুর্বলতার জায়গা। তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমি ভালো খেলছি। কিন্তু টাইম স্ক্র্যাম্বল পরিস্থিতিগুলো আমার পক্ষে যাচ্ছে না। তাই ঘড়িতে আরও সময় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব এবং গত কয়েক রাউন্ডে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই।” টুর্নামেন্টের বাকি অংশের আগে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শেষ দুই রাউন্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্রাম দিবসের পর টুর্নামেন্টের শেষ দুই রাউন্ডে নামবেন প্রজ্ঞানন্দ। নবম রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ (D Gukesh)। যদিও চলতি সপ্তাহে গুকেশ নিজের সেরা ছন্দে নেই, তবুও দুই ভারতীয় তারকার এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্তিম রাউন্ডে প্রজ্ঞানন্দের প্রতিপক্ষ জার্মানির ভিনসেন্ট কাইমার (Vincent Keymer)।

    শিরোপার দৌড়ে এখনও জোরালোভাবে রয়েছেন

    অষ্টম রাউন্ডের শেষে পয়েন্ট তালিকায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর সামনে রয়েছেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো (Wesley So), যার সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আলিরেজা ফিরুজা (Alireza Firouzja), যার ঝুলিতে ১৩ পয়েন্ট। শেষ দুই রাউন্ডে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে এখনও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় তারকার সামনে। অন্তত পডিয়াম ফিনিশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি শেষ লড়াইয়ে নামবেন।

    ভারতীয় দাবার নতুন সোনালি অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে বিশ্ব দাবায় ভারতের উত্থান অভূতপূর্ব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন এরিগাইসি, অরবিন্দ চিদম্বরমদের মতো তরুণরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন। তারই মধ্যে নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারিয়ে প্রজ্ঞানন্দ যে নজির গড়লেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় দাবার ক্রমবর্ধমান শক্তিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯ বছর আগে বিশ্বনাথন আনন্দ যে কীর্তি গড়েছিলেন, আজ সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নামও লিখিয়ে ফেললেন চেন্নাইয়ের এই বিস্ময়বালক।

LinkedIn
Share