Tag: NPCI

NPCI

  • UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিত্যদিনের ডিজিটাল লেনদেনকে সাধারণ মানুষের জন্য মাশুলমুক্ত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে নয়া কাঠামো ঘোষণা করল কেন্দ্র। নতুন নিয়মে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল দিতে হবে না। লেনদেনের অঙ্ক যতই বড় হোক, এই পরিষেবা বিনামূল্যেই থাকবে। অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনে কোনও লেনদেন মাশুল, প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল আরোপ করা যাবে না (P2P Transaction)। নয়া কাঠামোটি ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনের আওতায় চালু করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের উপর এর সরাসরি কোনও মাশুল চাপছে না।

    বন্ধু-পরিজনকে টাকা পাঠানো থাকছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (UPI)

    বন্ধু, আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনও অতিরিক্ত খরচ হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে সমস্ত লেনদেনই মাশুলমুক্ত থাকবে। অর্থের পরিমাণের উপরও কোনও সীমা ধরে মাশুল বসানো হবে না। এই ধরনের লেনদেন ইউপিআইয়ের মোট লেনদেনের পরিমাণের প্রায় ৭০ শতাংশ। লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে এর অংশ প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দোকানে পেমেন্টেও মাশুল নেই

    দোকান, ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারীকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করলেও কোনও মাশুল লাগবে না। এই ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যবসায়ী—কাউকেই বণিক ছাড়ের হার দিতে হবে না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর পরেও ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেন মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থা।

    ২ হাজার টাকার বেশি পেমেন্টে ব্যবসায়ীর উপর ০.৪ শতাংশ মাশুল

    তবে ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ বণিক ছাড়ের হার কার্যকর হবে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেও নির্ধারিত মাশুল ৩০০ টাকার বেশি হবে না।

    এই মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। এটি ব্যবসায়ীর দিকের পেমেন্ট ব্যবস্থার অংশীদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে। অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এই মাশুল সরকার বা জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন সংগ্রহ করবে না; ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী-সহ পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে তা বণ্টিত হবে।

    ছোট দোকান ও রাস্তার ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য-মাশুলের সুবিধা বহাল থাকছে। কোনও ছোট ব্যবসায়ী ইউপিআইয়ের কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করলে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী শ্রেণির আওতায় তাঁর সমস্ত লেনদেনেই শূন্য বণিক ছাড়ের হার প্রযোজ্য থাকবে। ফলে রাস্তার হকার, পাড়ার ছোট মুদিখানা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর নতুন মাশুলের চাপ পড়বে (UPI) না।

    রেল, টেলিকম, বিমা ও জ্বালানিতে আলাদা হার

    কিছু অত্যাবশ্যক পরিষেবার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশের পরিবর্তে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা হারে বণিক ছাড়ের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেল পরিষেবা, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি এবং কৃষি-উপকরণ সংক্রান্ত পেমেন্ট।

    সরকারের হিসাবে, এই ক্ষেত্রগুলি ইউপিআইয়ের ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী লেনদেনের সংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী লেনদেনের মোট মূল্যের প্রায় ৪৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

    মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারে আরও কম হার

    মিউচুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ, শেয়ারবাজারের দালাল ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বণিক ছাড়ের হার আরও কম রাখা হয়েছে। এখানে হার হবে ০.০২ শতাংশ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত মাশুল নেওয়া যাবে।

    ইউপিআই অ্যাপে গোপন মাশুলও নয়

    নতুন কাঠামোয় ইউপিআই অ্যাপগুলিকে কোনও প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যেন নতুন বণিক মাশুলের খরচ কোনওভাবেই গ্রাহকের উপর চাপিয়ে না দেন (P2P Transaction)।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ফলে মোট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ প্রভাবিত হবে। অধিকাংশ লেনদেন হয় ২ হাজার টাকার নীচে থাকবে, নয়তো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হবে বিশেষ তহবিল

    ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হবে। মোট সংগৃহীত বণিক ছাড়ের হারের ৫ শতাংশ এই তহবিলে রাখা হবে। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ইউপিআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আরও বেশি করে আনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা বিনামূল্যে রেখে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে (P2P Transaction) পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা (UPI)।

     

  • UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ইউপিআই (UPI)। ২০১৬ সালের ২৫ অগাস্ট ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালে পূর্ণ করল দশ বছর। এক দশকের মধ্যেই ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে (PM Modi)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে যেখানে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ  লেনদেন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১৩ হাজার গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই বিপুল সম্প্রসারণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

    ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন (UPI)

    শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যও গত দশ বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ছিল মাত্র ০.০৭ লাখ  কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের আর্থিক মূল্যে চার হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি তাৎক্ষণিক ও পারস্পরিক সংযুক্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র প্রয়োগের সাহায্যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ইউপিআই অর্থপ্রদানের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দোকানে কেনাকাটা, পরিষেবার মূল্য মেটানো, ব্যক্তিগতভাবে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে নগদ অর্থের উপর নির্ভরতা কমেছে এবং দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কী বলছে অর্থমন্ত্রক

    অর্থমন্ত্রকের দাবি, ইউপিআই শুধু শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে সহজ করেনি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বৃহত্তর মানুষের অংশগ্রহণের পথও আরও প্রশস্ত হয়েছে। ইউপিআইয়ের (UPI) সাফল্য এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল অর্থপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই কার্যকর রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপে এর ব্যবহার চালু হয়েছে। ফলে ভারতের তৈরি এই ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ক্রমশ পক্ষ্ম বিস্তার করছে (PM Modi)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা

    বিশ্বব্যাপী ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউপিআইকে লেনদেনের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে ভারতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের বিস্তার এবং ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি দেশীয় ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

    অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য

    আকাশবাণীর এক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে (UPI) জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইউপিআইয়ের লেনদেনের পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার সময় যে ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের, দশ বছর পরে সেটিই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআইয়ের সাফল্যের অন্যতম কারণ হল এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারছেন। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীর কাছে এই ব্যবস্থা পৌঁছে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও দ্রুত বেড়েছে (PM Modi)।

    ডিজিটাল লেনদেন

    ইউপিআইয়ের (UPI) বিস্তার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে দূরে থাকা বহু মানুষ এখন মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা, খুচরো বিক্রি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবহার বাড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতে, ইউপিআইয়ের ব্যাপক পরিসর, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন এটি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ইউপিআইয়ের উত্থান

    দশ বছর আগে যে ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখন দেশের আর্থিক লেনদেনের অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা থেকে আর্থিক মূল্য, ব্যবহারকারীর পরিধি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের (UPI) উত্থান উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়লে ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, দশ বছরে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুধু একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ১ কোটি ৭৮ লাখ লেনদেন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছে যাওয়া সেই (PM Modi) পরিবর্তনেরই পরিসংখ্যানগত প্রমাণ। আর ৩১৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বার্ষিক লেনদেনের মূল্য দেখিয়ে ইউপিআই ইতিমধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে (UPI)।

     

  • UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনি ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করেন? তাহলে এই খবর আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। সংসদে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই (UPI) লেনদেনে চার্জ বসানোর আইনি ক্ষমতা পেতে পারে সরকার। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা কাটার কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেমন চলছে, তেমনই ইউপিআই (UPI) পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে। গুগল পে (Google Pay), ফোনপে (PhonePe), পেটিএম (Paytm) বা অন্য কোনও UPI অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনও ট্রানজেকশন ফি দিতে হবে না। Taxation and Other Laws (Amendment) Bill, 2026- এর মাধ্যমে এই আইনি পরিবর্তনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি Payment and Settlement Systems Act, 2007-এ সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। তাহলে কি ইউপিআই-তে (UPI) চার্জ আসছে? কার কাছ থেকে নেওয়া হবে? সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর কতটা প্রভাব পড়বে? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়।

    কাল থেকেই ইউপিআই (UPI) পেমেন্টে টাকা কাটা শুরু হবে?

    এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে উত্তর হল- না। বিল পাস হলেও আগামিকাল থেকে বা এখনই ইউপিআই (UPI) লেনদেনে কোনও চার্জ চালু হচ্ছে না। এই বিল শুধুমাত্র সরকারকে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে চার্জ চালুর আইনি ক্ষমতা দেবে। ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত ইউপিআই দিয়ে আগের মতোই বিনামূল্যে টাকা পাঠানো ও পেমেন্ট করা যাবে।

    টাকা দেবে কারা?

    সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইউপিআই (UPI)-তে কোনও ফি চালু হলেও তা সরাসরি গ্রাহকদের উপর চাপানো হবে না। প্রস্তাবিত এই চার্জের নাম এমডিআর (Merchant Discount Rate)। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই চার্জ প্রযোজ্য হবে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, দোকানদার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বড় সংস্থাগুলি ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করলে তাদের উপর এই চার্জ বসতে পারে। আপনি যদি ইউপিআই (UPI) দিয়ে বাজারের জিনিস কেনেন, বিদ্যুতের বিল দেন, রেস্তরাঁয় টাকা মেটান বা ক্যাব বুক করেন- তাহলে সাধারণ গ্রাহক হিসেবে সরাসরি কোনও চার্জ দেওয়ার কথা নয়।

    হঠাৎ কেন এমডিআর চালু?

    কেন্দ্রের যুক্তি, ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যাঙ্ক ও ফিনটেক সংস্থাগুলিকে নিয়মিত পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ইউপিআই (UPI) লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ থেকে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সংস্থাগুলির কোনও সরাসরি আয় নেই। ফলে ভবিষ্যতে পরিষেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি আনার জন্য এমডিআর (Merchant Discount Rate)-এর মতো চার্জের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) কী বললেন?

    ইউপিআই (UPI)-তে চার্জ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, ইউপিআই সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) স্পষ্ট করে বলেন, এমডিআর (MDR) শুধুমাত্র মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নয়। তিনি আরও জানান, ইউপিআই এবং Services Steering Committee, যার নেতৃত্বে রয়েছে এনপিসিআই (NPCI), এখনও এমডিআর চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    ইউপিআই-তে কত শতাংশ চার্জ বসতে পারে?

    এই মুহূর্তে সরকার কোনও নির্দিষ্ট এমডিআর হার ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে বড় ব্যবসায়ীদের উপর ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর বসানো হতে পারে। যেসব মার্চেন্টের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ১.৫ কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। আরেকটি প্রস্তাবে লেনদেনের অঙ্কের বদলে ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ চার্জের একটি সীমাও বেঁধে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

    কার উপর পড়বে সবচেয়ে বেশি প্রভাব?

    যদি ভবিষ্যতে ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু হয়, তাহলে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। ছোট দোকানদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপ কম রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রেও মার্চেন্টদের এমডিআর (Merchant Discount Rate) দিতে হয়। ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত প্রায় ১.৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ থাকতে পারে। ডেবিট কার্ডে তুলনামূলক কম চার্জ নেওয়া হয়।

    তাহলে ইউপিআই ব্যবহারকারীদের এখন কী চিন্তা করা উচিত?

    না, এখনই নয়। ইউপিআই (UPI) এখনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যের পরিষেবা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও ট্রানজেকশন চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে যদি এমডিআর চালু হয়ও, তার বোঝা মূলত মার্চেন্টদের উপর পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং, আপাতত নিশ্চিন্তে ইউপিআই ব্যবহার করুন। চার্জ চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

  • UPI in Greece: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতের ইউপিআই-এর দাপট, এবার গ্রিসেও চালু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা

    UPI in Greece: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতের ইউপিআই-এর দাপট, এবার গ্রিসেও চালু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিশ্বজোড়া বিস্তার অব্যাহত। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন দেশ গ্রিস। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই। ফলে গ্রিসে বেড়াতে বা কাজের সূত্রে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট করা আরও সহজ হবে। ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইউপিআই-এর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে এটি আরও একটি বড় পদক্ষেপ। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উপস্থিতিতে ইউরোব্যাঙ্ক এবং এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড (এনআইপিএল)-এর অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই গ্রিসে ইউপিআই পরিষেবা চালুর ঘোষণা আসে।

    কী জানালেন পীযূষ গোয়েল?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পীযূষ গোয়েল জানান, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ব্যবহারকারীরা দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচলিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট পদ্ধতির তুলনায় লেনদেনের খরচও কমবে। এর মাধ্যমে ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা যে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, সেটিও আরও একবার স্পষ্ট হল।

    ইউপিআই কী?

    ইউপিআই বা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস হল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)-এর তৈরি একটি রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সরাসরি এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। কিউআর কোড স্ক্যান করে, মোবাইল নম্বর বা ইউপিআই আইডির মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অর্থপ্রদান সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলির অন্যতম হল ইউপিআই।

    গ্রিসে ভারতীয়দের কী সুবিধা হবে?

    বিদেশে ভ্রমণের সময় সাধারণত নগদ অর্থ বহন, বিমানবন্দরে মুদ্রা বিনিময়, বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার কিংবা আন্তর্জাতিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়। গ্রিসে ইউপিআই চালু হওয়ায় সেই ঝামেলা অনেকটাই কমবে। যেখানে ইউপিআই গ্রহণ করা হবে, সেখানে যোগ্য ভারতীয় ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোন থেকেই কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে এবং দোকান, ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় বিল মেটানো হবে আরও সহজ।

    বিশ্বের ১০টি দেশে পৌঁছল ইউপিআই

    গত কয়েক বছরে ভারতের ইউপিআই দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই পরিষেবার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। গ্রিস যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যবস্থায় ইউপিআই এখন বিশ্বের মোট ১০টি দেশে উপলব্ধ। এই দেশগুলি হল— সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, মরিশাস, নেপাল, ভুটান, কাতার, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া ও (সব শেষে) গ্রিস। ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

  • NPCI: এবার সন্তানদেরও দেওয়া যাবে ডিজিটাল পকেটমানি! এসে গেল এনপিসিআই-এর নতুন ‘ইউপিআই সার্কেল’ ফিচার, জেনে নিন পদ্ধতি

    NPCI: এবার সন্তানদেরও দেওয়া যাবে ডিজিটাল পকেটমানি! এসে গেল এনপিসিআই-এর নতুন ‘ইউপিআই সার্কেল’ ফিচার, জেনে নিন পদ্ধতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুদি দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং—ভারতের সর্বত্রই এখন ক্যাশলেস বা নগদহীন লেনদেনের জয়জয়কার। এই ডিজিটাল বিপ্লবে এবার যুক্ত হতে চলেছে বাড়ির ছোট সদস্যরাও। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) একটি অত্যন্ত অভিনব ফিচার নিয়ে এসেছে, যার মাধ্যমে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা পাঠাতে পারবেন।

    দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই বিশেষ ফিচার (NPCI)

    ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (NPCI) নতুন সংযোজন—’ইউপিআই সার্কেল’ (UPI Circle)। অনেক বাবা-মা সন্তানদের ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা দিতে চাইলেও, নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ বা অত্যন্ত সংবেদনশীল ইউপিআই পিন (UPI PIN) শেয়ার করার বিষয়ে দ্বিধাবোধ করেন। অভিভাবকদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই বিশেষ ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে, যা পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে খরচের ওপর সম্পূর্ণ নজরদারি রাখার সুযোগ দেবে।

    ‘ইউপিআই সার্কেল’ আসলে কী?

    ‘ইউপিআই সার্কেল’ হল এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একজন প্রাথমিক ইউপিআই অ্যাকাউন্টধারী (Primary User) অন্য কোনও বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সেকেন্ডারি ইউজারকে (Secondary User) তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন করার অনুমতি দিতে পারেন। এই সেকেন্ডারি ইউজার হতে পারেন আপনার সন্তান, জীবনসঙ্গী কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রাথমিক ব্যবহারকারীকে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা ইউপিআই পিন কারো সঙ্গে শেয়ার করতে হয় না। উল্টে, সন্তান বা পরিবারের সদস্য কত টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবে, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা (Spending Limit) নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। ফলে খরচের ওপর অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ থাকে ষোলআনা।

    কীভাবে কাজ করে এই ফিচার?

    ইউপিআই (NPCI) সার্কেল ব্যবহার করার জন্য প্রাথমিক ব্যবহারকারীকে প্রথমে তাঁর ইউপিআই অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে ‘সেকেন্ডারি ইউজার’ হিসেবে যুক্ত করতে হবে। এরপর ওই সেকেন্ডারি ইউজার সীমিত আকারে পেমেন্ট করার অধিকার পাবেন। এই ফিচারটি মূলত দুটি ভিন্ন মোড বা পদ্ধতিতে কাজ করে:

    ১. ম্যানুয়াল অ্যাপ্রুভাল মোড (অনুমোদন সাপেক্ষ পদ্ধতি)

    এই পদ্ধতিতে সেকেন্ডারি ইউজার (যেমন আপনার সন্তান) কোনও পেমেন্ট বা লেনদেন শুরু করলেই, তা সম্পন্ন হওয়ার আগে প্রাথমিক ব্যবহারকারীর (অভিভাবক) অনুমতির প্রয়োজন হবে। সন্তান লেনদেনের অনুরোধ পাঠালে তৎক্ষণাৎ অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসবে। অভিভাবক সেই পেমেন্ট অনুমোদন করলেই টাকা কাটবে, অন্যথায় নয়। যে সমস্ত অভিভাবকরা সন্তানের প্রতিটি খরচের নিখুঁত হিসাব রাখতে চান, তাঁদের জন্য এই মোডটি অত্যন্ত কার্যকরী।

    ২. অটোমেটিক অ্যাপ্রুভাল মোড (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি)

    এই পদ্ধতিতে অভিভাবকরা আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট খরচের সীমা বা লিমিট সেট করে দিতে পারেন। সেকেন্ডারি ইউজারের খরচের পরিমাণ যদি সেই নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে, তবে লেনদেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সফল হবে; প্রতিবার আলাদা করে অভিভাবকের অনুমতির (NPCI) প্রয়োজন পড়বে না।

    উদাহরণস্বরূপ

    অভিভাবক যদি সন্তানের জন্য মাসে সর্বাধিক ২,০০০ টাকা খরচের সীমা বা লিমিট নির্ধারণ করে দেন, তবে সন্তান সেই সীমার মধ্যে ছোটখাটো প্রয়োজনীয় পেমেন্ট নিজেই করে নিতে পারবে।

    সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘ইউপিআই সার্কেল’-এর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল লেনদেনের স্বাধীনতা পাচ্ছে, তেমনই খরচের রাশ এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকছে অভিভাবকদের হাতেই।

LinkedIn
Share