Tag: Odisha

Odisha

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • ABVP: ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান এবিভিপির

    ABVP: ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনী পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ করতে ভারতের বেসরকারি শিল্পক্ষেত্র ও উদ্যোক্তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। ওড়িশার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত সংগঠনের তিন দিনব্যাপী জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ (NEC) বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শিক্ষার সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের সমন্বয় না ঘটলে গবেষণার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়— এই মূল বার্তাটিই উঠে এসেছে এবিভিপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা থেকে।

    জিডিপির ১ শতাংশেরও কম খরচ গবেষণায় (ABVP)

    এবিভিপি-র (ABVP) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ডক্টর বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বৈঠকে ভারতের বর্তমান গবেষণা ব্যবস্থার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারত তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) ১ শতাংশেরও কম অংশ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে ব্যয় করে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যেমন— ইসরো (ISRO), ডিআরডিও (DRDO) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইআইটি বা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে। বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে ধরে রাখতে হলে এই ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অবদান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।”

    উদীয়মান প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজন

    এবিভিপির (ABVP) পক্ষ থেকে ভারতীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশের তরুণ প্রতিভাদের কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যৌথ অংশীদারিত্বের (Industry-Academia Partnership) মডেল তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সমসাময়িক এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলি হল-

    • ● কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও কোয়ান্টাম টেকনোলজি।
    • ● সাইবার নিরাপত্তা (Cybersecurity) এবং বায়োটেকনোলজি।
    • ● পরিবেশবান্ধব বা পরিচ্ছন্ন শক্তি (Clean Energy)।

    এবিভিপি সংগঠনের মতে, এই উদীয়মান খাতগুলিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং গবেষণা খাতে ভারতের সামগ্রিক জাতীয় ব্যয় বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।

    ডিগ্রি অর্জনের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশ গঠন

    ডক্টর সোলাঙ্কি তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এবিভিপি (ABVP) সব সময়ই বিশ্বাস করে যে শিক্ষা মানে কেবল মাত্র একটি ডিগ্রি অর্জন বা চাকরি পাওয়া নয়; শিক্ষা হল দেশ গঠন এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “শিল্পক্ষেত্রের সম্পদ ও পরিকাঠামোর সঙ্গে যদি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মেধা ও দক্ষতার সঠিক মেলবন্ধন ঘটানো যায়, তবে তা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার জাতীয় সংকল্পকে এক অভূতপূর্ব গতি প্রদান করবে। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনুঘটক নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বের এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”

    জাতীয় নিরাপত্তা ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ব্যাপক মন্থন

    ভুবনেশ্বরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই তিন দিনের জাতীয় বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ৫০০ জন ছাত্রনেতা, শিক্ষাবিদ ও প্রতিনিধি অংশ নেন। গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারিত্ব ছাড়াও এই সম্মেলনে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-র বাস্তবায়ন, ত্রি-ভাষা নীতি, ক্যাম্পাস স্তরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালনা, নারী নিরাপত্তা এবং ‘আর্বান নকশাল’ বা শহুরে মাওবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়ে গভীর আলোচনা (NEC) হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির উপস্থিতিতে একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের আবহ তৈরি হয়েছিল, যা আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রসার ঘটাতে ছাত্র সমাজকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদী এবিভিপি (ABVP) নেতৃত্ব।

  • Maoist Attack Plot: ওড়িশায় মাওবাদী হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র

    Maoist Attack Plot: ওড়িশায় মাওবাদী হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও দমনে ফের মিলল বড় ধরনের সাফল্য। ওডিশার (Odisha) কন্ধমাল জেলায় একটি বড় মাওবাদী হামলার (Maoist Attack Plot) পরিকল্পনা ভেস্তে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। ডারিংবাড়ি থানার অধীনে একটি বনাঞ্চলের গোপন গুহা থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক।

    নকশালবিরোধী অভিযান (Maoist Attack Plot)

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ফোর্স (DVF) যৌথভাবে পাকরি, বাবুটি, জামাবাড়ি এবং মাতাবাড়ি গ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকায় নকশালবিরোধী অভিযান শুরু করে। ৩০ মার্চ তল্লাশি অভিযানের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা মাতাবাড়ি গ্রামের কাছে একটি গোপন গুহা আবিষ্কার করেন, যেখানে মাওবাদীরা অস্ত্র ও লজিস্টিক সামগ্রী মজুত করত।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র। এগুলি হল— একটি এসএলআর রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, দুটি ১২-বোর বন্দুক, দুটি এসবিজিএল (SBGL) রাইফেল এবং একটি দেশি অস্ত্র। এর সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭৯ রাউন্ড গুলিও। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১০টি এসবিজিএল গ্রেনেড, ৩০টি ইলেকট্রিক ডিটোনেটর এবং কিছু বিস্ফোরক পদার্থ (কোডেক্স)। এই মজুত ভান্ডারই ইঙ্গিত দেয় মাওবাদীরা বড় ধরনের কোনও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি ওয়াকি-টকি, তিনটি সোলার প্যানেল, দুটি টর্চলাইট, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, বাসনপত্র এবং মাওবাদী পুস্তিকা। পুলিশের সন্দেহ, এই মজুত করা সামগ্রী নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।

    চলছে জোরদার তল্লাশি অভিযান

    বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর আশপাশের বনাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি অভিযান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ন’জন মাওবাদী, যার মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং সাতজন মহিলা—এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। মাওবাদী নেত্রী শীলা, যিনি (Odisha) এই অঞ্চলে সক্রিয় বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁর মাথার দাম ২৭ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে (Maoist Attack Plot)। কান্ধামালের পুলিশ সুপার হরিশ বিশি জানান, রাইকিয়া এবং ডারিংবাড়ির সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে বড় পরিসরে মাওবাদীবিরোধী অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “এই অভিযানে আমরা ২৮টি দল মোতায়েন করেছি। গোপন অস্ত্রভান্ডারের তথ্যের ভিত্তিতে এসওজি এবং ডিভিএফে যৌথ দল তল্লাশি চালিয়ে মাতাবাড়ি গ্রামের কাছে বড়সড় মাওবাদী অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার করেছে।”

    পুলিশ কর্তার বক্তব্য

    পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানান, ওডিশা প্রায় মাওবাদী-মুক্ত অবস্থার দিকে এগোচ্ছে।  এডিজি (নকশালবিরোধী অভিযান) সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই আটটি জেলাকে মাওবাদী-মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে পরিস্থিতির (Maoist Attack Plot)।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ২৭ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ১২০ জন আত্মসমর্পণ করেছে, গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জনকে। তবে তিনি দীর্ঘদিনের এই সংঘর্ষের গুরুত্ব স্বীকার করে জানান, নকশালবিরোধী অভিযানে ২৩৯ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর মাওবাদী হিংসার বলি হয়েছেন ৩৫৯ জন সাধারণ মানুষ।

    লক্ষ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি আমরা

    তিনি বলেন, “এই অগ্রগতি নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের ফল। আমরা লক্ষ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি। এখন হাতেগোণা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে।” পুলিশের এই কর্তা ওই মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান (Odisha)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবশিষ্ট মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘন বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা ওডিশার দীর্ঘদিনের মাওবাদী বিদ্রোহ দমনে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে নির্দেশ করছে এবং রাজ্যকে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে (Maoist Attack Plot)।

     

  • Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জন কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন ছত্তিশগড়ের শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও (Maoist Papa Rao)। এমনই খবর জানালেন ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্যের চালানো লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাও-মুক্ত ছত্তিশগড় (Maoist Papa Rao)

    রাও অস্ত্র সমর্পণ করায় প্রযুক্তিগতভাবে ও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ওই স্তরের এমনকি তার চেয়েও নিচু স্তরের কোনও নকশাল কর্মী আর সক্রিয় নেই রাজ্যে। অন্তত এমনই জানালেন শর্মা। গত দু’দশকে দক্ষিণ বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূলচক্রী ছিলেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। ২০১০ সালে তৎকালীন দান্তেওয়াড়া (বর্তমানে সুকমা) জেলার তাদমেতলা হামলারও ষড়যন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৭৬ জন জওয়ান। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে সক্রিয় রাও বস্তার অঞ্চলে তাঁর এক ডজনের বেশি সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন শর্মা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও। মঙ্গলবার পাপা অস্ত্রসমর্পণ করায় ছত্তিশগড়ে আর কোনও নকশাল কর্মী সক্রিয় নেই। শুধু তাই নয়, মাও দমনে ‘শাহি’ ডেডলাইন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই রাজ্য হয়ে গেল সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত (Chhattisgarh)।

    মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট

    শর্মা বলেন, “রাওয়ের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়ে নকশালের উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়ে গেল। ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মুক্ত হবে।” তিনি জানান, পাপা রাও প্রায় ২৫ বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু সংঘর্ষে জড়িত থাকলেও প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রাজ্য সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লাখ টাকা। শর্মা বলেন, “রাওয়ের মানসিকতা এখন বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম (Maoist Papa Rao)। তখনই তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।” তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আরও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তার ডিভিশন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির কিছু অংশে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (DKSZC) মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হত। গত দু’দশকে বহু মারাত্মক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শর্মা বলেন, “বর্তমানে পার্টি ও এরিয়া কমিটি স্তরের মাওবাদীরা ছত্তিশগড়ে আর সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত নন এবং তাঁরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।” তিনি বলেন, “তাঁরা অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন এবং ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাও-সদস্য মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি বা তেলঙ্গনায় সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

    মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা

    এদিকে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৫ জন মাওবাদী সক্রিয় (Chhattisgarh) রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তারা প্রসাদ বাহিনিপতির এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড়া জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ জন নকশাল সক্রিয় রয়েছে।” কেন্দ্রের সিকিউরিটি-রিলেটেড এক্সপেন্ডিচার প্রকল্প অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু কান্ধামাল জেলাকেই মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৌধ, বালাঙ্গির, কালাহান্ডি, বারগড়, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর, নুয়াপাড়া এবং রায়গড়—এই আটটি জেলাকে ‘লেগেসি’ ও ‘থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড় সীমান্ত অঞ্চলে একটি ছোট নকশাল গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য সব জেলা এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করছেন, সেই মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য/রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে (Maoist Papa Rao)।

    আত্মসমর্পণের বহর

    ২০২৪ সাল থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ জন মাওবাদী ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য পুলিশ সতর্ক করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না, তাঁরা সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুবিধাও পাবেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য সুক্রু এবং রাজ্যের আরও দুই মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। প্রতিবেশী ছত্তিশগড় থেকে আসা আরও ১২ জন মাওবাদী ওড়িশায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। অ্যান্টি-নকশাল অপারেশনের এডিজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “কিছু নকশাল এখনও আত্মসমর্পণ না করায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা (Chhattisgarh) ৩১ মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব (Maoist Papa Rao)।”

     

  • Rajya Sabha Results 2026: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কার, ১১-র মধ্যে ৯টিতে জয়ী এনডিএ প্রার্থীরা

    Rajya Sabha Results 2026: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কার, ১১-র মধ্যে ৯টিতে জয়ী এনডিএ প্রার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে (Rajya Sabha Results 2026) প্রত্যাশামতোই সফল বিজেপি-সহ এনডিএ প্রার্থীরা। ২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড় মোড় এনে দিল। ক্রস-ভোটিং এবং বহু বিধায়কের অনুপস্থিতিও লক্ষ্যনীয়। এনডিএ ১১টির মধ্যে ৯টি আসন জয়লাভ (NDA Wins in Rajya Sabha) করে। অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দল মাত্র একটি করে আসন জিততে সক্ষম হয়েছে, যা বিরোধী জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের মোট ১০ টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭ টি আসন শূন্য হয়েছে৷ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান থাকায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৬ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন ৷ বাকি যে ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন, তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্যই সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছিল ভোটগ্রহণ ৷ বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পর্ব চলে ৷ গণনা শুরু হয় বিকেল ৫টা থেকে ৷ এদিনের প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জন বিহারের, ৪ জন ওড়িশার এবং ২ জন হরিয়ানার৷

    রাজ্যভিত্তিক ফলাফল

    বিহার: ৫টির মধ্যে ৫টি আসনই এনডিএর দখলে

    বিহারে নাটকীয় লড়াইয়ে এনডিএ সবকটি ৫টি আসন জিতে নেয়। বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং কৌশলগত ভোট ব্যবস্থাপনা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বিজয়ীরা:

    • নিতিন নবীন (বিজেপি)
    • শিভেশ রাম (বিজেপি)
    • নীতিশ কুমার (জনতা দল ইউনাইটেড)
    • রামনাথ ঠাকুর (জনতা দল ইউনাইটেড)
    • উপেন্দ্র কুশওয়াহা (আরএলএসএম)

    আরজেডির প্রার্থী অমরেন্দ্র ধারি সিং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় পরাজিত হন।

    ওড়িশা: বিজেপির উত্থান, একটি আসন ধরে রাখল বিজেডি

    ৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩টি আসনে জয় পায়, আর বিজেডি একটি আসন ধরে রাখে।

    বিজয়ীরা:

    • মনমোহন সামাল (বিজেপি)
    • সুজিত কুমার (বিজেপি)
    • দিলীপ রায় (স্বতন্ত্র, বিজেপি সমর্থিত)
    • সন্তরুপ্ত মিশ্র (বিজেডি)

    এখানে কংগ্রেস ও বিজেডির বেশ কয়েকজন বিধায়কের ক্রস-ভোটিং বিজেপির পক্ষে ফল ঘুরিয়ে দেয়।

    হরিয়ানা: বিতর্কের মাঝে ভাগাভাগি ফল

    হরিয়ানায় ভোট গণনা নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রায় ৬ ঘণ্টা দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত একটি আসন বিজেপি এবং একটি কংগ্রেস পায়।

    বিজয়ীরা:

    • সঞ্জয় ভাটিয়া (বিজেপি)
    • করমবীর বৌধ (কংগ্রেস)

    ক্রস-ভোটিং- ওড়িশা, হরিয়ানায় বিতর্ক

    এই নির্বাচনে (Rajya Sabha Results 2026) কয়েকটি বড় বিষয় ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা নিয়েছে— বিহারে কংগ্রেস ও আরজেডির একাধিক বিধায়ক ভোট দেননি। ওডিশায় অন্তত ১১ জন বিধায়ক ক্রস-ভোটিং করেন। হরিয়ানায় ভোটের বৈধতা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাজ্যসভা নির্বাচনে এ বার ‘ক্রস ভোটিং’-এর সাক্ষী হয়েছে ওড়িশা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যে চারটি আসনে ভোট ছিল। তার মধ্যে তিনটিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। একটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দলের প্রার্থী। বিজেডি এবং কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ক বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে সে রাজ্যের দু’টি রাজ্যসভা আসনে বিজেপি প্রার্থীদের (NDA Wins in Rajya Sabha) জয় নিশ্চিত ছিল। আর একটি আসন থেকে নিজেদের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠানো নিশ্চিত ছিল নবীনের দল বিজেডি-র। গোল বেধেছিল চতুর্থ আসন নিয়ে। এই আসনে বিজেপির জয় আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছিল বিজেডি। দুই দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই চতুর্থ আসনে প্রার্থী করেছিল ওড়়িশার বিশিষ্ট চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকে। অন্য দিকে, চতুর্থ আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শিল্পপতি দিলীপ রায়কে। ওই আসনে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটে দত্তেশ্বরকে হারিয়ে জিতেছেন দিলীপ। ওড়িশার চারটির পাশাপাশি বিহারের ছ’টি এবং হরিয়ানার দু’টি রাজ্যসভা আসনেও ভোট হয়েছে সোমবার। হরিয়ানায় ভোটপর্ব শেষের পরে অনিয়মের অভিযোগ দুই কংগ্রস বিধায়কের ভোট বাতিলের দাবি তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির অনিল ভিজের ভোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে কংগ্রেসের তরফে।

    বাকি ২৬ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা

    রাজ্যসভার ৩৭ সাংসদের (Rajya Sabha Results 2026) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী এপ্রিল মাসে৷ এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশা৷ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যে সাংসদরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা হলেন বিজেপির সাত সাংসদ, কংগ্রেস পাঁচ, তৃণমূল কংগ্রেসের চার, ডিএমকে তিন এবং শিবসেনা, আরপিআই (এ), এনসিপি, এনসিপি (এসপি), এআইএডিএমকে, পিএমকে, ইউপিপিএল একজন করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ আসনের মেয়াদ শেষ হয়েছিল৷ তার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের চারপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ৷ বিজেপির তরফে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন একজন৷

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীরা: রামদাস আথাওয়ালে, বিনোদ তাওড়ে, শরদ পাওয়ার, রামরাও ওয়াদকুতে, মায়া ইভনাতে, জ্যোতি ওয়াঘমারে, পার্থ পাওয়ার, অভিষেক মনু সিংভি, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী, কোয়েল মল্লিক, রাহুল সিন‍্‍হা, জোগেন মোহন তেরশ, গোওয়ালা প্রমোদ বরো, ভেম নরেন্দ্র রেড্ডি, এম থাম্বুদাঁস, তিম্বুরা, তিম্বুরা সিনহা, রবীন্দ্রন এম ক্রিস্টোফার তিলক, এল কে সুদেশ, লক্ষ্মী ভার্মা, ফুলো দেবী নেতাম, অনুরাগ শর্মা৷

  • Love jihad: ওড়িশায় লাভ জিহাদ! সাবিরের অনলাইন ফাঁদে নাবালিকা, বাংলাদেশে অপহৃত মেয়েকে ফিরিয়ে আনার আকুতি মায়ের

    Love jihad: ওড়িশায় লাভ জিহাদ! সাবিরের অনলাইন ফাঁদে নাবালিকা, বাংলাদেশে অপহৃত মেয়েকে ফিরিয়ে আনার আকুতি মায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) পুরী জেলার এক মা তাঁর মেয়েকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারটি এই ঘটনাকে “লাভ জিহাদ” (Love jihad) বলে অভিহিত করেছে এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মেয়ের উদ্ধার চেয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। মুসলিম যুবক কীভাবে নিজের পরিচয় গোপন রেখে প্রমের ফাঁদে ফেলে বিবাহের নামে অন্যত্র নিয়ে চলে যায় তার আরও একটি ঘটনার প্রমাণ মেলায় শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে।

    অনলাইন যোগাযোগ (Love jihad)

    অভিযোগকারী মা জানিয়েছেন, সাবির নামে এক যুবক নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিয়ে অনলাইনে তাঁর মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে। ধীরে ধীরে আবেগপ্রবণ কথাবার্তার মাধ্যমে সে ১৬ বছর বয়সি ওই নাবালিকাকে পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণা (Love jihad) করে সম্পর্কের জালে জড়ায়। এরপর প্রেম এবং বিয়ের কথা বলে পালিয়ে যায় অন্যত্র।

    নিখোঁজ ও প্রাথমিক খোঁজ

    মেয়েটি ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। পরিবার পুরী (Odisha) পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেছে। তদন্তের এক পর্যায়ে জানা গিয়েছে মেয়েটি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে রয়েছে। মা পুলিশের সাহায্যে সেখানে গেলেও অভিযুক্ত সাবির মেয়েটিকে নিয়ে সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে যায়। মায়ের সাফ দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাচার (Love jihad) করা হয়েছে মেয়েকে এবং বর্তমানে সে বাংলাদেশে বন্দি অবস্থায় রয়েছে। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য ওড়িশা ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।

    সীমান্ত পার ও নির্যাতন

    নিখোঁজ মেয়ের মা অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে তাঁর মেয়েকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। মেয়েটি মাঝেমধ্যে ফোনে যোগাযোগ করতে পারে এবং জানিয়েছে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (Love jihad) চালানো হচ্ছে। তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মেয়ের সঙ্গে শেষবার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল মায়ের।

    পুলিশের পদক্ষেপ

    পুরীর (Odisha) পুলিশ সুপার প্রতীক সিং জানিয়েছেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং সংশ্লিষ্ট হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। মেয়েটিকে নিরাপদে (Love jihad) ফিরিয়ে আনতে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • Union Budget 2026: দেশের চার রাজ্যে পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর গড়ার প্রস্তাব নির্মলার

    Union Budget 2026: দেশের চার রাজ্যে পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর গড়ার প্রস্তাব নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার সংসদে পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026)। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরালায় পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর (Rare Earth Corridors) গঠনের প্রস্তাব দেন। এর লক্ষ্য হল, রেয়ার আর্থ উপাদান ও স্থায়ী চুম্বকের খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনে ভারতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা জোরদার করা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকার লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেবে, যাতে খনন ও পরিশোধন থেকে শুরু করে গবেষণা এবং উচ্চমানের উৎপাদন পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলকে উন্নত করা যায়। এই খাতগুলি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও ইলেকট্রিক মোবিলিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম (Union Budget 2026)

    বাজেট ভাষণে সীতারামন বলেন, “এই বাজেটে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমের বরাদ্দ ২২,৯৯৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০,০০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আইএসএম ২.০, রেয়ার আর্থ করিডর এবং পৃথক কেমিক্যাল পার্কের মতো নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।” এই প্রস্তাবটি (Union Budget 2026) ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চালু হওয়া রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট স্কিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সরকারের মতে, নতুন করিডরগুলি বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের বদলে খনন, প্রক্রিয়াকরণ, উদ্ভাবন ও উৎপাদনকে একসূত্রে যুক্ত করে সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে সহায়তার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। রেয়ার আর্থ উপাদান মোট ১৭টি খনিজের একটি গোষ্ঠী, যা ইলেকট্রিক যানবাহনের মোটর, বায়ু টারবাইন, স্মার্টফোন, সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চ-নির্ভুল ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনের একটি বড় অংশ আমদানি করে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রগুলি বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    চিনের আধিপত্য

    বিশ্বব্যাপী রেয়ার আর্থ উৎপাদন ও পরিশোধন ক্ষমতায় (Union Budget 2026) চিনের আধিপত্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানিতে কড়াকড়ি করেছে। এর ফলে ভারত-সহ বিভিন্ন উৎপাদননির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে (Rare Earth Corridors)। প্রস্তাবিত করিডরগুলির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত স্বনির্ভরতা গড়ে তোলা, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং ভূ-রাজনৈতিক ও সরবরাহ শৃঙ্খলজনিত ধাক্কা থেকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হবে বলেই আশা। চিহ্নিত চারটি রাজ্যের মধ্যে তামিলনাড়ু ও কেরালায় বিস্তৃত উপকূলীয় খনিজ ভান্ডার রয়েছে, বিশেষত মনাজাইটসমৃদ্ধ বালু, যেখানে রেয়ার আর্থ উপাদান মেলে। বাজেটের এই প্রস্তাব বিনিয়োগ প্রবাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প সম্প্রসারণে সম্ভাব্য প্রভাবের দিক থেকে নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত হবে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে।

    ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ মডেল

    একটি বৃহত্তর শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল কৌশলের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাজ্যগুলিকে সহায়তা দিতে একটি চ্যালেঞ্জ-ভিত্তিক প্রকল্প ঘোষণাও করেছেন, যার আওতায় তিনটি বিশেষায়িত রাসায়নিক পার্ক স্থাপন করা হবে। এই পার্কগুলি ক্লাস্টারভিত্তিক, ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ মডেলে গড়ে তোলা হবে, যার লক্ষ্য দেশীয় রাসায়নিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি-নির্ভরতা আরও কমানো (Union Budget 2026)। রেয়ার আর্থ করিডর ও রাসায়নিক পার্ক—এই দুই উদ্যোগ একত্রে মূলধনী পণ্য উৎপাদন জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে, এমন একটা সময়ে যখন কৌশলগত খনিজের জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। এই বাজেট প্রস্তাব আগামী দশকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উন্নত উৎপাদনের ক্ষেত্রে (Rare Earth Corridors) ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বনির্ভর কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায় স্পষ্ট করে (Union Budget 2026)।

     

  • Odisha: ওড়িশার বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা বিশ্বব্যাঙ্কের

    Odisha: ওড়িশার বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা বিশ্বব্যাঙ্কের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশা (Odisha) সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করল বিশ্বব্যাঙ্ক। বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank) গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা ভুবনেশ্বরের লোকসেবা ভবনে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওড়িশা সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন মুখ্যসচিব শ্রীমতী অনু গর্গ, উন্নয়ন কমিশনার শ্রী ডিকে সিং এবং বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা।

    বৈঠকে আলোচ্য বিষয় (Odisha)

    আলোচনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মজবুত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, সামাজিক খাতে ফল উন্নত করা এবং স্থিতিস্থাপক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ও সংস্কারমূলক নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য হল পরিকাঠামো, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME), কৃষি, সংশ্লিষ্ট খাত এবং পর্যটনে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বিশেষত যুবক ও মহিলাদের জন্য। তিনি বলেন, “ওড়িশার ব্যবসাবান্ধব সংস্কারের ফলে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে, যা সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (CMIE) প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী অন্ধ্রপ্রদেশের পরে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।”

    ভূয়সী প্রশংসা

    অজয় বঙ্গা ওড়িশার সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন বিশ্বব্যাঙ্ক গ্রুপ ভারত কৌশলগত পরিকল্পনা ভুবনেশ্বরের সেন্ট্রাল টুল রুম অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (CTTC)-এর মতো সফল মডেলগুলির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে, যা আইটিআইগুলি উন্নত করার জন্য ভারতের ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জাতীয় উদ্যোগের অংশ (World Bank)। বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট প্রযুক্তিগত সহায়তা, নীতি-পরামর্শ পরিষেবা এবং আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে ওড়িশাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতির কথা ফের একবার মনে করিয়ে দেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। উভয় পক্ষ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যেমন পরিকাঠামো উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা ওড়িশার উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধানে সম্মত হন।

    রাজ্যের রোডম্যাপ

    মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের রোডম্যাপ “ওড়িশা ভিশন ২০৩৬ ও ২০৪৭: বিকশিত ভারতের জন্য বিকশিত ওড়িশা” শেয়ার করেন এবং উভয় পক্ষ এই কাঠামোয় সহযোগিতা আরও গভীর করার যৌথ অঙ্গীকার করেন (World Bank)। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানান, ওড়িশা উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রাজ্যের নিট রাজ্য ঘরোয়া উৎপাদন (NSDP) ২০২৩–২৪ সালে ৬.৯৯ লাখ কোটি টাকা থেকে ২০২৪–২৫ সালে আনুমানিক ৭.৯০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ১৩.০৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সংসদে পেশ করা ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬-এর উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মাথাপিছু এনএসডিপি বেড়ে ১,৬৮,৯৬৬ টাকায় পৌঁছেছে, যা আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ওড়িশার (Odisha) স্থিতিশীল অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের কর্মদক্ষতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কৃষি ওড়িশার উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যটি দেশের শীর্ষ তিনটি সূর্যমুখী উৎপাদনকারী রাজ্যের মধ্যে অন্যতম।” তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন, জানান যে ব্যাঙ্ক আমানত বেড়ে ৫.৮৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা রাজ্যজুড়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগকে শক্তিশালী করছে (World Bank)। মাঝি বলেন, “ওড়িশার (Odisha) আর্থিক অবস্থান এখনও শক্তিশালী রয়েছে, যার ফলে পরিকাঠামো, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে ধারাবাহিক বিনিয়োগ সম্ভব হচ্ছে।” তিনি বলেন, “শিক্ষা ও দারিদ্র্য হ্রাসে অগ্রগতি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উচ্চতর আয়, মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং সকল নাগরিকের জন্য বিস্তৃত সুযোগে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Odisha)।

     

  • Odisha: ওড়িশার রেডহাখোল-এ ১০,০০০ বছরের প্রাচীন জনপদের হদিশ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেমেছে এএসআই

    Odisha: ওড়িশার রেডহাখোল-এ ১০,০০০ বছরের প্রাচীন জনপদের হদিশ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেমেছে এএসআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) সম্বলপুর জেলার রেডহাখোলে মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা প্রায় ১০,০০০ বছরের পুরনো (10000 Year Old City) এক প্রাচীন মানব বসতির সন্ধান মিলেছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI) ইতিমধ্যে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছে। সুপ্রাচীন কালের পাথরের খোদাই করা নিদর্শন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উদ্ধার হয়েছে। এই বিরাট ধ্বংসাবশেষের সঠিক উৎস ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারণের জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ এএসআই একটি বিস্তৃত সমীক্ষা অভিযান শুরু করেছে।

    আগামী প্রায় দু’মাস ধরে চলবে অনুসন্ধান (Odisha)

    সম্বলপুরের রাইরাখোল (Odisha) এলাকার ভীমা মণ্ডলী, রাইলা, ল্যান্ডিমাল এবং লোহাপানকা পঞ্চায়েত-সহ ছাতাডগা ও ব্রহ্মাণীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মোট ৪২টি স্থানে প্রাগৈতিহাসিক শৈলচিত্র ও প্রত্নবস্তুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই পাথুরে খোদাইগুলিতে মূলত বিভিন্ন পশুপাখির প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে, যা আদিম মানুষের শৈল্পিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে অনুমান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পকর্মগুলি অন্তত ১০,০০০ বছরের পুরোনো (10000 Year Old City)।

    এই আবিষ্কারগুলি নিয়ে নিবিড় গবেষণার লক্ষ্যে এএসআই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ঐতিহাসিক ‘ভীমা মণ্ডলী’ গুহায় কাজ শুরু করেছে। একটি বিশেষজ্ঞ দল আগামী প্রায় দুই মাস এখানে থেকে নিবিড় সমীক্ষা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।

    ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে

    এই সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন এএসআইয়ের সুপারিনটেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট ডিবি গড়নায়ক এবং তাঁর ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। প্রাচীন এই ঐতিহ্যের সঠিক সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    ডিবি গড়নায়ক বলেছেন, “আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই জরিপ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। এএসআই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিবদ্ধ করবে। এই অনুসন্ধান সফল হলে অঞ্চলটি বিশ্ব মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলি পাহাড় ও বনাঞ্চল-সহ (Odisha) একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন, “সমীক্ষাটি (10000 Year Old City) শেষ হতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে কাজ শেষ হতে অন্তত দু’মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।”

  • Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও-দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গত মাসেই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামারাজুতে নিহত হয়েছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা মাডবী হিডমা। তার ঠিক এক মাসের মধ্যেই ওড়িশার (Odisha) কন্ধমলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে (Maoist Encounter) নিহত হলেন আরও এক মাওবাদী শীর্ষনেতা গণেশ উইকে। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা আগে মালকানগিরিতে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এটা আমাদের বাহিনীর জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। মাও নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। গণেশের মৃত্যুতে মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।’’

    রাতভর চলে এনকাউন্টার

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার (Odisha) কন্ধমল জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের (Maoist Encounter) একটি দলকে ঘিরে ফেলে বিএসএফ এবং সিআরএফ জওয়ানরা। এরপর শুরু হয় ধুন্ধুমার গুলির লড়াই। তাতেই মৃত্যু হয় মোট চার জন মাওবাদীর। এই চার জনের একজন হলেন মাও সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য গণেশ উইকে। নিহত বাকি তিন জনের মধ্যে দু’জন মহিলা সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার চেন্দুর মণ্ডলের পুল্লেমালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন গণেশ উইকে। যদিও মাওবাদী সদস্যদের কাছে গণেশ পাক্কা হনুমন্তু, রাজেশ তিওয়ারি, চামরু এবং রুপা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গণেশের মাথার দাম ছিল এক কোটি দশ লক্ষ টাকা। হিডমার মৃত্যুর পর গণেশের খোঁজেও তল্লাশি চলছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে কন্ধমলের বেলঘর থানায় খবর আসে ওই জেলার গুম্মার জঙ্গলে একদল মাওবাদী জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষনেতাও আছেন। সেই খবর পেয়েই রাতে অভিযানে যায় পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ দল। রাতভর তল্লাশি অভিযান চলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। ওডিশার ডিজিপি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া জানান, প্রথম এনকাউন্টার হয় বেলঘর থানা এলাকার গুম্মার জঙ্গলে। বুধবার রাতে ওই জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন মাওবাদীদের দুই সদস্য। তাঁরা সংগঠনের ছত্তিসগড়ের সদস্য ছিলেন। জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে থ্রিনটথ্রি রাইফেল ও ইনসাস রাইফেল, প্রচুর কার্তুজ। দ্বিতীয় এনকাউন্টার হয় বৃহস্পতিবার ভোররাতে।

    সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা

    ঝিরাম ঘাঁটি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত গণেশ প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (ডিকেএসজেডসি)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তথাকথিত ‘রেড করিডোর’-এর বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইউনিটগুলির মধ্যে মূল সেতুবন্ধন ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, পূর্বঘাটে মাওবাদী (Maoist Encounter) সংগঠন বিস্তারের ‘মস্তিষ্ক’ ছিলেন উইকে। বর্তমানে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র তিনজন সদস্য অবশিষ্ট ছিলেন—গণেশ উইকে (ওড়িশা), মল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংঘম (ছত্তীসগঢ়) এবং আনন্দা ওরফে তুফান (ঝাড়খণ্ড)। এই অভিযানের ফলে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার কেন্দ্রের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হল বলে মনে করছে প্রশাসন। চলতি বছরেই একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ এবং নভেম্বরে কমান্ডার মাডভি হিডমার নিহত হওয়ার পর এবার গণেশ উইকের মৃত্যু সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা।

LinkedIn
Share