Tag: Oil Tankers

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গালফ অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ট্যাঙ্কার ও কার্গোগুলিকে এসকর্ট করার জন্য আধ ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের শক্তি বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার ইজরায়েল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। তাই এই পদক্ষেপ।

    আসছে আরও দুই জাহাজ

    ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—কে নিরাপদে এসকর্ট করে। সোমবার আরও দুটি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’—কে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ দুটি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলিকেই সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত থেকে কোনও জাহাজ রওনা দিলে প্রায় দেড় দিন সময় লাগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছাতে, তারপর থেকেই নৌবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয়।

    ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি

    ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতি

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কথা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় ছিল জলপথের সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি জাহাজের সুরক্ষা। এরপরেই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষিত ভাবে হরমুজ পার করতে দিয়েছে ইরান। এমনকী ইরানের নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (Indian LPG Tanker)। দীর্ঘ ১০ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।

    বিশ্বশক্তির সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ

    ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটগুলিকে সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ যাতে ব্যর্থ না হয় সেই দিকে নজর রাখা।

    অপারেশন সংকল্পের অধীনে নৌবাহিনী মোতায়েন

    ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্প-এর অধীনে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাছাকাছি জলসীমায় যে কোনও হুমকির প্রতিরোধ করা। বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে হরমুজের আশে পাশে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও ভারত গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ভারতীয় জাহাজগুলি হুমকির সম্মুখীন হলে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

    ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের উপর নজরদারি

    আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সরকারি তথ্য অনুসারে, পারস্য উপসাগর এবং আশেপাশের জলসীমায় বর্তমানে কয়েক ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    সঙ্কট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল

    ভারতীয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবfলায় জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এবং ভারতীয় ক্রু বা পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উন্নত সুরক্ষা প্রোটোকল, নিয়মিত রিপোর্ট ব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ দল স্থাপন করেছে।

    ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ

    ভারত সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় দেশের নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে। এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

     

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

  • Indian Maritime security: জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ৮৫,০০০ কোটির পরিকল্পনা! দেশে তৈরি ১১২টি তেলবাহী জাহাজ কিনবে ভারত

    Indian Maritime security: জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ৮৫,০০০ কোটির পরিকল্পনা! দেশে তৈরি ১১২টি তেলবাহী জাহাজ কিনবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এবার দেশে তৈরি তেল ট্যাঙ্কার কিনতে চলেছে ভারত। ২০৪০ সালের মধ্যে ১১২টি তেল ট্যাঙ্কার কেনার জন্য প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে সরকার। বিদেশি নৌবহরের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে তেল সরবরাহ সুরক্ষিত (Indian Maritime security) করার জন্যই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “মেক ইন ইন্ডিয়া” (Make in India) উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।

    ধাপে ধাপে কেনা হবে ট্যাঙ্কার

    বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পুরনো ট্যাঙ্কার ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করে। তবে এবার এই নির্ভরতা কাটাতে এবং নিজস্ব ট্যাঙ্কার বহর গড়ে তুলতে চাইছে পেট্রোলিয়াম ও জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক। প্রথম ধাপে ৭৯টি ট্যাঙ্কার কেনা হবে, যার মধ্যে ৩০টি হবে মিডিয়াম রেঞ্জ ক্যাটেগরির। চলতি মাসেই প্রথম ধাপে ১০টি ট্যাঙ্কারের অর্ডার দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রকল্পে শুধুমাত্র ভারতে নির্মিত জাহাজকেই বিবেচনা করা হবে। তবে বিদেশি কোম্পানির সহযোগিতায় জাহাজ নির্মিত হলেও আপত্তি নেই কেন্দ্রের। ভারতের সবচেয়ে বড় দেশীয় ট্যাঙ্কার এমটি মহর্ষি পরশুরাম – যার দৈর্ঘ্য ২৩৮ মিটার ও ডেডওয়েট টনেজ ৯৩,৩৩২।

    কেন এই পদক্ষেপ

    দেশের (Indian Maritime security) অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তার অপরিশোধিত তেল শোধন ক্ষমতা ২৫০ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করতে চায়। ভারতের অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। তাই নিজস্ব ট্যাঙ্কার বহর থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নিজস্ব অয়েল ট্যাঙ্কার থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয়ভাবে তৈরি ট্যাঙ্কারের অংশীদারিত্ব ৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতই লক্ষ্য সরকারের

    ভারত চায় আগামী দিনে একটি “মেড ইন ইন্ডিয়া” নৌবহর গড়ে তুলতে। চলতি বছর বাজেটে সরকার ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক পরিবহণ খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো এবং বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনায় শুধুমাত্র তেল নয়, কয়লা, সার ও ইস্পাত পরিবহণের জন্যও জাহাজ নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশে জাহাজ নির্মাণের জন্য জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলছে সরকার। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার এইচডি হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের সঙ্গে কেরালার কোচিতে একটি নতুন জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে। এছাড়া, স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ও জাপানের এনওয়াইকে লাইনের সঙ্গেও জাহাজ নির্মাণে ভারতীয় অংশীদারিত্বে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

LinkedIn
Share