Tag: Oman

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • India: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা ভারতের, নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিক

    India: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা ভারতের, নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত (India)। এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার উপর ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। একটি জাহাজে চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর। অন্য একটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। তবে দ্বিতীয় জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান পেতে ওমানের রাজধানী মাসকটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। একই সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। পেট্রো ডলফিন নামের জাহাজটি চালকবিহীন আকাশযানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। জাহাজটিতে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ভালথেরা অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাতে আগুন ধরে যায়।”

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাণিজ্যিক জাহাজের উপর বারবার হামলার ঘটনা ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ভারত সরকারের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়। এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর বারবার হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে আগে থেকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও অবনতির মুখে পড়তে পারে।”

    ভারতের তরফে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে সংযম দেখানোর এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ-চলাচলের অধিকার রক্ষা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার উপরও জোর দিয়েছে ভারত।

    দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনা

    রবিবার পেট্রো ডলফিন নামের বাণিজ্যিক জাহাজটিতে চালকবিহীন আকাশযানের আঘাত লাগে। ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জনের খোঁজ মিলছে না। তাঁদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    অন্যদিকে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ভালথেরায় অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় (India) নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে এই হামলার ঘটনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রুখতে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষেই সওয়াল করেছে ভারত (India)।

     

  • Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ। জাহাজটিতে পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। শনিবার ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই ঘটনার পর পাঁচ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। কুয়েতের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কাজিমাহ থ্রি’-তে ওই পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। জাহাজটি আফ্রিকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর ওমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ১০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (Hormuz Strait)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। পাশাপাশি, আরও ছ’টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ পণ্য নিয়ে ভারতে আসছে। এই ১২টি জাহাজে প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।

    জয়সওয়াল জানান, ভারতীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রক ওই জাহাজগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। নাবিকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য রাখতে ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসগুলি নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভারতের কাছে অগ্রাধিকার (Hormuz Strait) বলেও জানান তিনি।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জয়শঙ্করের

    বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি সমুদ্রপথে নতুন নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    জয়শঙ্কর বলেন, “সমুদ্রে নতুন হুমকি স্থলভাগে ইতিমধ্যেই তৈরি হওয়া সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অন্যান্য দেশের নাবিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং সংযম দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যও যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তার পরিবেশ তৈরি হবে।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

    এদিকে, ইরানের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা ছিল। এর পাশাপাশি ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো শর্তও ছিল।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান এই চুক্তি চাইছে কারণ তারা খুব খারাপভাবে হারছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যের উপর ইরানের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল বলেও (Hormuz Strait) মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলির উপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অঞ্চলের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ তেহরানের উপর চাপ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা।

    বাড়ছে সমুদ্রপথের ঝুঁকি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলিতে হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

    আমেরিকা জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা দুর্বল করা। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক পরিকাঠামোকেও টার্গেট করা হয়েছে।

    এদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও ইরান অস্বীকার করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপরও প্রভাব ফেলছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে কর্মরত।

     

  • Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Launches Fresh Strikes)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড।

    বিবৃতিতে যা জানাল আমেরিকা (Hormuz)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তরফে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিন রুম, নিখোঁজ হয়েছেন এক নাবিক। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলাগুলির জন্য জবাবদিহির পরে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হলেও, তারা তা মানেনি। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী অসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে আর হামলা চালাতে না পারে, তাই এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী!

    কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই পোস্টের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই সময়ে কোনও জাহাজকে আর ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের আরও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা, ইজরায়েল এবং যেসব আঞ্চলিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদেরই দায়ী করেছে ইরান।

    অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা

    অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার আবহেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। উত্তেজনা কমিয়ে (Hormuz) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফের শুরুর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ঘুরে গিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে বিশেষভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে (US Launches Fresh Strikes) আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আরও একবার জানিয়ে দিয়েছে (Hormuz) ওমান।

     

  • India US: ওমান উপকূলে ফের হামলা, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ! মার্কিন কূটনীতিককে তলব ভারতের

    India US: ওমান উপকূলে ফের হামলা, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ! মার্কিন কূটনীতিককে তলব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওমান উপকূলে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির (India US) উপর আমেরিকার ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক শুক্রবার আমেরিকান চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব (আমেরিকা) আমেরিকান কূটনীতিককে ডেকে পাঠান এবং এই হামলার বিষয়ে ভারতের আপত্তির কথা জানান। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর ধারাবাহিক হামলার পর নয়াদিল্লি কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে।

    আমেরিকান কূটনীতিককে তলব

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ভারত সরকার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আমেরিকান কূটনীতিককে তলব করল। এর আগে, বুধবার ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আরও একটি হামলায় তিন জন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হওয়ার পরে ভারত আমেরিকান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জেসন মিকসকে তলব করে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানায়। নিখোঁজ নাবিকদের মৃত্যুর খবর পরে পাওয়া গিয়েছে। সর্বশেষ হামলার মুখে যে বাণিজ্যিক জাহাজটি পড়েছিল, তাতে ছিলেন ২০ জন ভারতীয় নাবিক।

    আক্রান্ত এমটি জলভীর

    অন্যদিকে, ভারতীয় নৌপরিবহন দফতর (DGS) হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন জলসীমায় কর্মরত প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিকের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক তিনটি হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ৮ জুন। এমটি মারিভেক্স (MT Marivex) নামের একটি তেলবাহী জাহাজে সন্দেহজনক আঘাতের পর আগুন ধরে যায়। জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হন। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে ১০ জুন। এমটি সেট্টেবেলো (MT Settebello)-র উপর ওমান উপসাগরে হামলা হয়। জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর পরে নিশ্চিত করা হয়। তৃতীয় হামলার ঘটনা সামনে আসে বৃহস্পতিবার। ওমান উপকূলের কাছে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের মুখে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাহাজটির নাম এমটি জলভীর (MT Jalveer)। এতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। যদিও হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

    কত জন ভারতীয় নাবিক হরমুজের আশেপাশে

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পূর্ব ও পশ্চিমাংশে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে মোট ৬২২ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে শতাধিক বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন। বর্তমানে আনুমানিক তিন লক্ষেরও বেশি ভারতীয় নাবিক বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

  • Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়ে ইরানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূতেরা। অন্তত এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন।

    ট্রাম্পের দাবি (Donald Trump)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, দু’মাসের সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘না, তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নেবে না। আমাদের হাতে সব কার্ড আছে। তারা চাইলে যে কোনও সময় আমাদের ফোন করতে পারে। কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে বসে বসে অর্থহীন আলোচনা করবে না।’”

    আরাঘচির বক্তব্য

    এদিকে, আরাঘচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ ছেড়ে গিয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা, ওমান এবং রাশিয়ায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রেস টিভি জানিয়েছে, তিনি শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, তিনি পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে। তিনি এও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আন্তরিক কিনা, তা এখনও দেখা বাকি (Donald Trump)।”

    ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফর শেষে এবং রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আরাঘচি ফের পাকিস্তান সফর করতে পারেন (Pakistan)। বিদেশমন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তার প্রতিনিধিদলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গিয়েছে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে। তারা রবিবার রাতে ফের ইসলামাবাদে ফিরবে। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে যে কোনও আলোচনা ফোনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি লেখেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!!!” তাঁর আরও দাবি, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা কেউ জানে না এবং সেখানে চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা চলছে।

    হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

    বিশ্লেষকদের মতে, “সব কার্ড আমাদের হাতে” কথাটি সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অঞ্চলে ৫০,০০০-এর বেশি সেনার উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে, যারা প্রয়োজনে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত (Donald Trump)। এদিকে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা চলছে, তার কারণে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস শনিবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে তাদের অবরোধ এখনই তুলে নিতে চায় না। যদিও এটি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (Pakistan)। ট্রাম্প বলেন, “আমার দূতদের সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ ফের শুরু হবে না। আমরা এখনও সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি।”

    ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ওমানি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় যাবেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল (Donald Trump)।

     

  • PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী মোদি, কথা বললেন ৮ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে

    PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী মোদি, কথা বললেন ৮ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কথা বলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডন, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে (Peace Stability Security)। এই অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনশীল উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির পক্ষ থেকে ইজরায়েল, উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ, এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক টার্গেটে হামলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কাতারের ওপর হামলার নিন্দে করেন এবং কাতারে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন ও যত্নের জন্য আমিরকে ধন্যবাদও জানান। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার ভাই, মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা কাতারের সঙ্গে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি এবং তার (Peace Stability Security) সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার যে কোনও লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দে করি। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। এই কঠিন সময়ে কাতারে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অব্যাহত সমর্থন ও যত্নের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি।”

    কথা আরও ৭ বিশ্বনেতার সঙ্গেও

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও (PM Modi) দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন কুয়েতের যুবরাজ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ-এর সঙ্গেও। দুটি ক্ষেত্রেই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করেন। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “মহামান্য সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ওমানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের নিন্দে করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, টেকসই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাই দ্রুত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। ওমানে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি (PM Modi)।”

    হামলার তীব্র নিন্দে

    এদিনই প্রধানমন্ত্রী জর্ডনের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহের সঙ্গেও কথা (Peace Stability Security) বলেন এবং জর্ডনের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি এবং এই কঠিন সময়ে জর্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের দেখভাল করার জন্য ধন্যবাদ জানান বাদশাহকে। এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ এবং বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেন টেলিফোনে। আলোচনায় তিনি সৌদি আরব ও বাহরাইনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দে করেন। পাশাপাশি ওই দেশগুলিতে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুস্থতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে ভারতের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয় (PM Modi)।

    শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান

    প্রসঙ্গত, এই ফোনালাপগুলি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ। ১ মার্চ, রবিবার তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত সব ধরনের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান (Peace Stability Security)। ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমষ্টিগত নিরাপত্তার প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে এবং সর্বোপরি নিরীহ অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেয় বলে দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ওমানের সর্বোচ্চ সম্মান দিলেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ওমানের সর্বোচ্চ সম্মান দিলেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক

    মাধ্য্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-ওমান (Oman) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার সুলতান হাইথাম বিন তারিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) ওমানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান অর্ডার অফ ওমানে ভূষিত করলেন। জর্ডান এবং ইথিওপিয়া সহ তিন দেশে সফরের শেষ পর্যায়ে মোদি বৃহস্পতিবার ওমান পৌঁছেছেন। সেখানে ওমানের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাদ্য সঙ্গীত পরিবেশন করে বরণ করা হয় তাঁকে। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং গার্ড অফ অনার। আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত পুরষ্কারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯। ওমানে এদিন সন্ধ্যায় ভারতীয়দের একটি সভায় বিশেষ ভাষণও রাখেন।

    কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী পূরণ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) ২৯টিরও বেশি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কারের তালিকার সর্বশেষ সংযোজন হয়েছে ওমানের (Oman) এই পুরস্কার। এই সূচিতে রয়েছে ইথিওপিয়ার গ্রেট অনার নিশান অফ ইথিওপিয়া এবং কুয়েতের অর্ডার অফ মুবারক আল-কবীরের মতো সাম্প্রতিক সম্মাননা। মোদির মাস্কাট সফর ছিল বিদেশনীতির জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সফর। ভারত ও ওমানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী পূরণ হয়ছে। দুই দেশ উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং সংস্কৃতিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর এবং সুরক্ষিত করার দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে। তবে মুসলিম বিশ্বে ভারতের কাছে ওমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এই মুহূর্তে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৪০ কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা

    মঙ্গলবার, ভারত-ইথিওপিয়া অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সেই দেশ সফরে গিয়েছিলেন মোদি। ব্যতিক্রমী অবদান এবং একজন বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ, আদ্দিস আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ পুরস্কার, “ইথিওপিয়ার মহান সম্মান নিশান” প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, “বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্মানের।” প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কারটি ভারতীয় এবং ইথিওপীয় উভয়কেই উৎসর্গ করেছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করেছেন। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের পক্ষ থেকে মোদি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

  • India Oman Relation: ব্রিটেনের পরে এবার ভারত-ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    India Oman Relation: ব্রিটেনের পরে এবার ভারত-ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। শেষমেশ স্বাক্ষরিত হল ভারত-ওমান মুক্ত (India Oman Relation) বাণিজ্য চুক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় এই চুক্তি (FTA)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত ও ওমানের যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি ভারতের শিল্পজাত রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ওমানে আমদানি শুল্ক কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ শুল্ক হারে ওমানে ঢোকে। তবে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ব্যাপকভাবে ভিন্ন, এবং কিছু নির্দিষ্ট পণ্য যেমন নির্দিষ্ট ধরনের মাংস, মদ ও তামাকজাত দ্রব্যের ওপর খুব বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়।

    জিটিআরআইয়ের বক্তব্য (India Oman Relation)

    জিটিআরআই জানিয়েছে, সিইপিএ-এর আওতায় এই শুল্কগুলি বাতিল বা হ্রাস করা হলে ওমানের বাজারে ভারতীয় শিল্পজাত রফতানির প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা এক লপ্তে অনেকখানি বেড়ে যাবে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, “সিইপিএ-এর আওতায় শুল্ক বিলোপের ফলে ভারতীয় শিল্পজাত রফতানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান উন্নত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে ওমানের তুলনামূলকভাবে ছোট বাজারে পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।” বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারত ও ওমানের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) আগামী কয়েক দশক ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে (India Oman Relation) রূপ দেবে।” তিনি একে উভয় দেশের “সম্মিলিত ভবিষ্যতের নকশা” বলে অভিহিত করেন।

    ভারত–ওমান বাণিজ্যিক সম্মেলন

    মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ভারত–ওমান বাণিজ্যিক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে থাকা সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং ভারতকে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্টার্টআপগুলিকেও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, যার প্রতিধ্বনি আগামী কয়েক দশক ধরে শোনা যাবে। যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের মধ্যে নতুন আস্থা ও নতুন উদ্যম সঞ্চার করবে। এটি আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের একটি নকশা। এই চুক্তি আমাদের বাণিজ্য বাড়াবে, বিনিয়োগে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং প্রতিটি খাতে নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে (FTA)।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আজকের এই ভারত–ওমান শীর্ষ সম্মেলন ভারত–ওমান অংশীদারিত্বকে একটি নতুন দিক, নতুন গতি দেবে এবং একে নয়া উচ্চতায় পৌঁছতে সাহায্য করবে। এতে আপনাদের সকলেরই বড় ভূমিকা রয়েছে।” তিনি জানান, সাত বছর পরে ওমান সফরে এসেছেন তিনি। ব্যবসায়ী নেতাদের অংশগ্রহণ তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিতও করছে। তিনটি দেশের সফরের অংশ হিসেবে ওমানে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁর অর্থনৈতিক বক্তব্যকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং শতাব্দীপ্রাচীন সামুদ্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা ভারত–ওমান ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনারা সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী, যার ইতিহাস (India Oman Relation) শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা একে অপরের সঙ্গে সামুদ্র পথে বাণিজ্য করে আসছেন।” তিনি বলেন, “মাণ্ডভি ও মাস্কাটের মধ্যবর্তী আরব সাগর এক শক্তিশালী সেতুতে পরিণত হয়েছে। আজ আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সমুদ্রের ঢেউ রূপান্তর ঘটাতে পারে, ঋতু বদলাতে পারে, কিন্তু ভারত–ওমান বন্ধুত্ব প্রতি ঋতুতেই আরও দৃঢ় হয় এবং প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়।”

    কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দুই দেশের এই সম্পর্ক বিশ্বাস ও দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের সম্পর্ক বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, বন্ধুত্বের শক্তিতে এগিয়ে চলেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। আজ আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে (FTA)। এটি কেবল ৭০ বছর পূর্তির উদ্‌যাপন নয়, এটি এমন একটি মাইলফলক, যেখানে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।” প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ব্রিটেনেরও (India Oman Relation)।

LinkedIn
Share