Tag: Online Scam

  • Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি সংসদ অধিবেশনেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিস্তৃত বিল আনা হতে পারে। এই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ‘ডিপফেক’-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে স্পষ্টভাবে জানায়, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে আইনে সংজ্ঞায়িত করতে হবে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা ‘ডিপফেক’ ও অন্যান্য নতুন ধরনের অনলাইন অপরাধ মোকাবিলায়ও আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয় আদালত।

    কী বলল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ?

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত যদি প্রাথমিকভাবে শক্ত প্রমাণ পায়, তাহলে তদন্ত চলাকালীন তাঁর সম্পত্তি বা আর্থিক সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা তদন্তকারী সংস্থার থাকা উচিত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তির অপব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এই ধরনের নতুন সাইবার অপরাধকে আইনের আওতায় আনতে এবং স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

    কেন্দ্র কী জানাল আদালতে?

    সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিল তৈরি করছে। সেই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং এ ধরনের অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলার জন্য বিস্তৃত আইনি ব্যবস্থা রাখা হবে। আদালতে তিনি বলেন, “একটি খসড়া বিল তৈরি হচ্ছে। সেখানে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ডিপফেক-সহ এই ধরনের সমস্ত অপরাধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

    ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে

    অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণি আদালতকে জানান, একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) বর্তমানে বিদ্যমান আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরি করছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন আইন চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২০টি বড় ডিজিটাল প্রতারণার মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। অন্য মামলাগুলির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখা।

    বুধবার নির্দেশ দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট

    মঙ্গলবারের শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, এই মামলায় বুধবার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হবে।

    কেন শুরু হয়েছিল এই মামলার শুনানি?

    গত বছর দেশজুড়ে বেড়ে চলা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) প্রতারণার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই ধরনের প্রতারণায় জালিয়াতরা নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, ইডি বা আদালতের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদেরই বেশি টার্গেট করা হয়। এর আগের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিচারকদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়ো আদালতের নির্দেশ তৈরি করা শুধু প্রতারণা নয়, এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালতের মর্যাদা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

    কী হতে পারে নতুন আইনে?

    প্রস্তাবিত বিলে সম্ভাব্যভাবে যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হতে পারে- ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি। ‘ডিপফেক’ (Deepfake) তৈরি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি শাস্তি। নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার স্পষ্ট সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান। গুরুতর মামলায় তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা। সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিচার আরও দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য নতুন আইনি কাঠামো।

  • Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল অ্যারেস্টের (Digital Arrest) নামে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের আজীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণার মামলায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী কারণ প্রমাণ করতে পারলেই জামিনের আবেদন বিবেচনা করা হবে। আদালতের মতে, এই প্রতারণা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলির একটি।

    জামিনের আবেদন খারিজ

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করে। অভিযুক্তের দাবি ছিল, তিনি শুধু মূল অভিযুক্তকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করেছিলেন এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। তবে আদালতের মতে, তিনি প্রতারণা চক্রের একজন সক্রিয় সহযোগী। তাই তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়।

    ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ’

    শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণা মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতারকরা ভয় দেখিয়ে প্রবীণদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।

    নিম্ন আদালতগুলিকেও বার্তা

    সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) শুধু নিজের অবস্থানই স্পষ্ট করেনি, পাশাপাশি দেশের সব হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতকেও কড়া বার্তা দিয়েছে। আদালতের মতে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) সংক্রান্ত মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

    গত শুক্রবারও একই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। আদালতের মতে, এই ধরনের অপরাধকে ডাকাতি বা লুঠের মতোই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

    সিবিআই তদন্ত ও সমন্বয়ের নির্দেশ

    ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে গত বছর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিশেষ করে প্রবীণদের লক্ষ্য করে হওয়া প্রতারণার তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলারও নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৩,০০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

LinkedIn
Share