Tag: Operation Sindoor

  • Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একাধিক এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে নির্মাণকাজের চিহ্ন। নতুন ইট ও নতুন দেওয়াল দিয়ে ফের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা এবং মুজফফরাবাদে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। এবার সেখানেই নতুন করে নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

    লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের ছবি (Operation Sindoor)

    প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রথম ভিডিয়োটি লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের বলে দাবি করা হয়েছে। এই শিবিরটি জঙ্গিদের থাকার জন্য ব্যবহৃত (POK) হত। অপারেশন সিঁদুরের সময় শিবিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    দ্বিতীয় যে ছবি সামনে এসেছে, সেটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের সাইদা বিলাল শিবিরের। এই ঘাঁটিটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুরের সময় এখানেও হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। এখন সেখানেও নতুন ইট দিয়ে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণের ছবি দেখা যাচ্ছে।

    ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের গড়ে তোলার চেষ্টা?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টেও ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলির উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে এই জঙ্গি পরিকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল।

    তবে নতুন করে নির্মাণের ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে ফের জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে কি না। নতুন দেওয়াল এবং ইটের কাঠামো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তন’

    গত মাসে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে শুধু সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি, প্রতিবেশী দেশের গভীরে থাকা জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়েছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর। নারাভানে বলেন, জঙ্গিদের যারা মদত দেয়, তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ভারতীয় পদক্ষেপ থেকে তাদেরও রেহাই নেই—এই বার্তাই ওই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উরি এবং পুলওয়ামার হামলার পরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নারাভানে বলেন, “এর আগে যখনই এই ধরনের হামলা হয়েছে—উরির পর কিংবা পুলওয়ামার পর বালাকোটে হামলার সময়—আমরা মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করতাম।”

    সির ক্রিকে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়েও মন্তব্য

    সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘অপারেশন আবাবিল’ চালানোর খবর নিয়েও প্রশ্ন করা (Operation Sindoor) হয়েছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে। নারাভানে জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ হয়ে থাকে। তবে ওই অভিযান সম্পর্কে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও বার্তা নারাভানের

    ভারত-চিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের (POK) সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

    তিনি জানান, এটি দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার আলোচনা। অর্থাৎ এই বৈঠক প্রথমবারের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই (Operation Sindoor) আলোচনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি—ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।

     

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করেরিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে (SRCC) ফিরে নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভরা গ্লাসে’র উদাহরণ স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার সন্ধ্যায় এসআরসিসির শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০১৩ সালের সেই বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বরাবর সম্ভাবনার দিকটি দেখেছেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই কলেজে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মোদি। হাতে এক গ্লাস জল তুলে তিনি বলেছিলেন, আশাবাদীরা সেটিকে অর্ধেক ভরা এবং হতাশাবাদীরা অর্ধেক খালি বলবেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা—গ্লাসটি অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ। শনিবার সেই প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি গ্লাসটিকে পুরো ভরা হিসেবে দেখি—অর্ধেক জল এবং অর্ধেক বাতাস।’’ তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের সেই বক্তব্যের প্রভাব এখনও অনুভব করা যায়। সেই সময় বিজেপি বিরোধী আসনে ছিল এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তা সত্ত্বেও তিনি ওই কলেজের মঞ্চকে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্য ব্যবহার করেননি বলেও জানান। তাঁর কথায়, যা বলেছিলেন, তা বিশ্বাস থেকেই বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সেই পথেই এগিয়েছেন।

    উন্নয়নের গতি এখন অনেক বেশি’ (PM Modi)

    শনিবারের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ২০১৩ সালের ভারত এবং বর্তমান ভারতের তুলনা। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত।

    ২০১৩ সালের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকত সীমান্তে সেনা নিহত হওয়া, ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়। দেশের সর্বত্র ‘পলিসি প্যারালাইসিসে’র আলোচনা ছিল এবং ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এর বিপরীতে বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় এই পরিসংখ্যান ভারতের শক্তি স্পষ্ট করে।’’

    তাঁর দাবি, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভে’র মধ্যে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমান পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। গাড়ি বিক্রি, নির্মাণ, উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদির বক্তব্য, ভারত শুধু বাড়ছে না, দ্রুত গতিতেও এগিয়ে চলেছে।

    তবে প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘নাখোশ ফুফাজি’ বা সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক দিক দেখতে অভ্যস্ত মানুষ হিসেবে কটাক্ষ করেন (PM Modi)।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বার্তা

    দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন সন্ত্রাসবাদ শেষ পর্যায়ে। তারা যদি সাহস দেখায়, তাহলে সেনাবাহিনী ভিতরে ঢুকে তাদের শেষ করে দেয়।’’ সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মোদির বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ তথা মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, বক্তৃতাটি এতটাই বিরক্তিকর ছিল যে ‘‘পেঁয়াজও কেঁদে ফেলত’’।

    কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় শুধু ২০১৩ এবং ২০৪৭ সালের কথা বলেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেননি।

    ১৩ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসআরসিসিতে মোদি

    ২০১৩ সালে এসআরসিসিতে মোদি এসেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তখন গুজরাটে তাঁর চতুর্থ দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কয়েক সপ্তাহ কেটেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল।

    ১৩ বছর পর শনিবার তিনি সেই এসআরসিসিতে ফিরলেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। আগামী মাসে গুজরাট ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়ের দায়িত্ব মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে (PM Modi)।

    ২০১৩ সালের এসআরসিসি বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘এমার্জিং বিজনেস মডেলস ইন দ্য গ্লোবাল সিনারিও (Emerging Business Models in the Global Scenario)’। তবে সেই বক্তৃতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সেটি কার্যত একটি শাসন-ভাবনার ঘোষণাপত্র হয়ে উঠেছিল।

    তখন মোদি বলেছিলেন, সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের অনেকে দেশের যুবসমাজকে শুধু ‘নতুন প্রজন্মের ভোটার’ হিসেবে দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতকে বোঝানো যে দেশের যুবসমাজ আসলে ‘নতুন যুগের শক্তি’।

    ঘটনাচক্রে শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। এদিনই ওই কলেজে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে গুজরাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছিলেন, কোনও ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য রফতানি করতে গেলে ডলার ও পাউন্ড নিয়ে আসেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বিদেশে গেলে তিনি একটি গোটা প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।

    এর আগে (SRCC) এপ্রিল মাসে নিজের বাসভবনে এসআরসিসির পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শতবর্ষ উপলক্ষে (PM Modi) একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

     

  • Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)। অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশপথে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুদ্ধকালীন অসামান্য নেতৃত্ব ও পরিষেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বিশিষ্ট (Ram Temple Trust) পরিষেবা সম্মান  ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’।

    যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চমানের পরিষেবার জন্য এই পদক দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে মাত্র ১০ বার এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ফলে জিতেন্দ্রর এই স্বীকৃতি তাঁর সামরিক জীবনের বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)

    জিতেন্দ্রর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভোপথপুরায়। অযোধ্যা থেকে সড়কপথে তাঁর গ্রামের দূরত্ব প্রায় তিন ঘণ্টা। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা জিতেন্দ্রর বাবা ছিলেন অধ্যাপক। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি অবসর নেন। এরপরই শ্রীরামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

    রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশাল মন্দির চত্বরের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব সামলাতে তাঁর দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে হল নির্বাচন প্রক্রিয়া?

    রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের ৬ জুলাই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে। প্রতিরক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    ১১ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড চূড়ান্ত করা হয়। ১৪ জুলাই শিল্পপতি সমীর পাণ্ডাকে কমিটির সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাজ সামলানোর জন্য তাঁর নেতৃত্বে একটি দলও গঠন করা হয়। ১৮ জুলাই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মোট ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনগুলি যাচাই ও মূল্যায়নের পর ১,৫৮০ জন আবেদনকারীকে যোগ্য ও উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয় (Jeetendra Mishra)।

    ৩ থেকে ৬ অগাস্ট যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ১০৮ জনের সঙ্গে অনলাইনে পারস্পরিক আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। এই ১০৮ জন ছিলেন যোগ্য ও উপযুক্ত আবেদনকারীদের শীর্ষ ৭ শতাংশের মধ্যে। এরপর ১১ ও ১২ আগস্ট অযোধ্যায় শ্রীরাম মন্দিরের গ্রিন হাউসে ১৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়।

    সার্চ কমিটির রিপোর্ট

    অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর সার্চ কমিটি ৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। একই সঙ্গে রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক পদের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেলের সুপারিশ করা হয়।

    এই পুরো প্রক্রিয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্রর নিয়োগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

    সামরিক জীবনে অর্জিত কৌশলগত পরিচালন দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে মন্দির চত্বরের প্রতিদিনের বিপুল (Ram Temple Trust) কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণ সামলানোর ক্ষেত্রে জিতেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে (Jeetendra Mishra) পারেন বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

  • Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় দিল্লিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান একটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল! হরিয়ানার সিরসার আকাশে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও সবচেয়ে তীব্র’ পাল্টা হামলা চালায় ভারত। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে ডিসকভারির (Discovery) দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’-এ এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিতিন গোখলে। ১৫ অগাস্ট রাত ৯টায় তথ্যচিত্রটি প্রকাশিত হয়।

    দিল্লিকে লক্ষ্য করেই কি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র?

    তথ্যচিত্রে নিতিন গোখলে বলেন, “রাত প্রায় ১টা ৩০ বা ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান একটি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেটির লক্ষ্য ছিল দিল্লি। হরিয়ানার সিরসার কাছে সেটিকে আটকানো হয়।” এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ১০ মে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ডিপো, বিমানবন্দর এবং সামরিক ছাউনিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট এবং অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রকাশ্যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য দিল্লি ছিল বলে জানায়নি। ১০ মে সকালে সিরসার একটি মাঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিরসায় মোতায়েন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি ইউনিট ‘বারাক-৮’ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Barak-8 surface-to-air missile) ব্যবহার করে ওই হামলা নিষ্ক্রিয় করেছিল।

    সিরসার হামলাই বদলে দেয় ভারতের কৌশল

    গোখলের দাবি, ভারতের রাজধানীকে লক্ষ্য করে এই হামলা ভারতকে ‘চূড়ান্ত পাল্টা আঘাত’ চালানোর সংকেত দেয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড়সড় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতীয় বায়ুসেনাকে। তাঁর কথায়, “এ বার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বায়ুসেনাকে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার।” এর পরেই পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশন সিঁদুরের এই পর্যায়কে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ভারতের প্রথম বড় আকারের আঘাতগুলির অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে।

    একের পর এক পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা

    প্রথম দফায় পাকিস্তানের রফিকি, সুক্কুর, রহিম ইয়ার খান এবং নূর খান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় সারগোধা, ভোলারি এবং জাকোবাবাদকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের মোট ১১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে তথ্যচিত্রে। এয়ার মার্শাল অবদেশ ভারতী বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল আঘাতকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত রাখা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আমরা চাইলে তোমাদের যেখানে খুশি আঘাত করতে পারি এবং এর কোনও জবাব তোমাদের কাছে নেই।”

    তথ্যচিত্রে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষদিকে আজারবাইজানের লাচিনে পাকিস্তান-তুরস্ক-আজারবাইজান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মোস হামলায় রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

    ‘১,২০০ কিলোমিটার ফ্রন্ট, ২০০ কিলোমিটার ভিতরে’

    ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং তথ্যচিত্রে বলেন, “আমরা প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে এবং তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি।” তাঁর দাবি, ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগিয়েছিল এবং “আমাদের সমস্ত অস্ত্র সঠিক জায়গায় পৌঁছেছিল।” এই হামলায় যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ‘ব্রহ্মোস-এ’ ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos-A) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এপি সিং বলেন, “ব্রহ্মোসের আক্রমণের গতি অত্যন্ত বেশি। ফলে সেটিকে আটকানোর সম্ভাবনা কম। অন্য কম গতির অস্ত্রের তুলনায় এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষমতাও অনেক বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র।”

    পাকিস্তানের তরফেই প্রথম আসে যুদ্ধবিরতির আবেদন

    ভারতের পাল্টা হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয় বলে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। নিতিন গোখলের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে জানান, পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে চাইছে।ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। বরং পাকিস্তানের ডিজিএমওকে নির্ধারিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়।

    অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাঁকে জানানো হয় যে পাকিস্তানের ডিজিএমও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। বিদেশ মন্ত্রকও তাঁকে জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে দুই দেশের হটলাইনে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। রাজীব ঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেই সমস্যা মেরামত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথা হয়।

    ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর, এ বার তো থামুন’

    রাজীব ঘাই জানান, প্রথা অনুযায়ী যিনি ফোন করার অনুরোধ করেন, তিনিই প্রথম কথা বলেন। ফলে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা প্রথমে কথা শুরু করেন। ঘাইয়ের দাবি, পাকিস্তানের ডিজিএমও খুব দ্রুতই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এত ব্রহ্মোস মিসাইল দিয়ে আঘাত করেছেন, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। আমরা এখানেই এটা থামাতে পারি।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল জানান, পাকিস্তান বারবার যুদ্ধবিরতির আবেদন করার পর ভারত সেই অনুরোধ মেনে নেয়। ডোভালের কথায়, “ওরা যখন অনুরোধ করল এবং বারবার বলল, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে, আপনারা যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন, এ বার যুদ্ধবিরতি হোক’, তখন আমরা তাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছিলাম। আমরাও খুব স্পষ্ট ছিলাম যে এই সংঘাতকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” শেষ পর্যন্ত ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধ করতে সম্মত হয়।

    ভারতের বার্তা—সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না

    অপারেশন সিঁদুর শেষ হলেও ভারতের তরফে যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, “ভারতের উদারতা বা ভারতের বেশি সহনশীলতাকে আমাদের দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। ভারত ঝুঁকি নিতে পারে, ভারত কঠিন আঘাত হানতে পারে, তার পরিণতি যা-ই হোক না কেন।” অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ডিসকভারির এই তথ্যচিত্রে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ১০ মে-র রাতের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি প্রতিরোধমূলক অভিযান ছিল না; বরং তার পরেই ভারত পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীর পাল্টা আঘাত হানে।

  • Former Rafale Pilot: অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কটাক্ষ, চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন ফরাসি পাইলট

    Former Rafale Pilot: অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কটাক্ষ, চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন ফরাসি পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নৌসেনার প্রাক্তন পাইলট পিয়ের-অঁরি শুয়ে (Pierre-Henri Chuet)-কে চিনের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। পিয়ের-অঁরি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) রাফাল যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। পিয়ের-অঁরি সেই সময় দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান বায়ুসেনার চিনা নির্মিত ‘জে-১০সি’ ও ‘জেএফ-১৭’ যুদ্ধবিমান এবং ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘‘রাফাল-কিলার’’ প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ভারত ও ফ্রান্স— দুই দেশই তাঁর সেই দাবি খারিজ করে দেয়।

    কী অভিযোগ উঠেছে পিয়ের-অঁরির বিরুদ্ধে?

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘‘ল্য কানার অনশেনে’’ (Le Canard Enchaîné) এবং মিডিয়াপার্ট (Mediapart)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, পিয়ের-অঁরি চিনের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছিলেন। দ্বৈত ফরাসি-কানাডীয় নাগরিক পিয়ের-অঁরি ২০২১ সাল পর্যন্ত ফরাসি নৌবাহিনীর নৌ-বিমান শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ফ্রান্সের একমাত্র বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’ (Charles de Gaulle) থেকে সুপার এতেনদার এবং রাফাল-এম (Rafale M) যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেছেন। অভিযোগ, তিনি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০১৯ সালের অগাস্টে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অন্তত দু’বার চিন সফর করেন। সেই সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিমান প্রশিক্ষণ সংস্থা টেস্ট ফ্লাইং অ্যাকাডেমি অফ সাউথ আফ্রিকা (TFASA)-র মাধ্যমে চিনা সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

    কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল?

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রথম সফরে বিমানবাহী রণতরীতে অবতরণের প্রযুক্তি (Carrier Landing Technology) নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় সফরে আরও বিস্তৃতভাবে বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা, নৌবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ, ল্যান্ডিং সিগন্যাল অফিসারদের (LSO) ভূমিকা, ‘ই-২সি’ হকআই নজরদারি বিমান এবং সিরিয়ায় পশ্চিমা সামরিক অভিযানের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিসিআই (DGSI) ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে পিয়ের-অঁরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালায়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়া, জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি শক্তির কাছে তা সরবরাহ করার মতো একাধিক অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে মুক্ত রয়েছেন।

    কী বলছেন পিয়ের-অঁরি?

    পিয়ের-অঁরি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি মাত্র দু’টি তিন দিনের সেমিনার পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “২০১৯ সালের সফরটি ভালোভাবে শেষ হয়নি। এরপর আর কখনও চিনে যাইনি।”

    ২০২৩ সাল থেকেই নজরে ছিলেন

    পিয়ের-অঁরির বিরুদ্ধে চিনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে। পরে ২০২৫ সালেও বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য পারিজ়িয়াঁ (Le Parisien)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রক ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্যারিসের প্রসিকিউটরদের কাছে অভিযোগ পাঠায়। এরপরই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়।

    অপারেশন সিঁদুরে কী বলেছিলেন তিনি?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর নিয়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন পিয়ের-অঁরি। ১০ মে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের একটি জে-১০সি যুদ্ধবিমান পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতীয় একটি রাফাল ভূপাতিত করেছে। যদিও সেই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। পরবর্তী ভিডিওগুলিতে তিনি জে-১০সি ও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশংসা করে সেগুলিকে ‘‘রাফাল-কিলার’’  বলে উল্লেখ করেন।

    ভারত ও দাসো অ্যাভিয়েশনের জবাব

    ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশন (Dassault Aviation)-এর প্রধান নির্বাহী এরিক ট্রাপিয়ে পাকিস্তানের দাবি সরাসরি খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় রাফাল ধ্বংস হওয়ার দাবি সঠিক নয়। ভারতও সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করলেও, বারবার জানিয়েছে যে হারানো বিমানগুলির মধ্যে কোনও রাফাল ছিল না। এছাড়া ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য পাঁচ মাসের একটি ব্রিজ সাপোর্ট প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করে। সেই নথি থেকেই ইঙ্গিত মেলে যে, ফ্রান্স থেকে কেনা সবকটি ৩৬টি রাফালই ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে রয়েছে।

    পশ্চিমী দেশগুলির উদ্বেগ বাড়ছে

    পিয়ের-অঁরি একমাত্র নন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রাক্তন এফ-৩৫ পাইলটকেও চিনা সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) নেটো এবং অন্যান্য পশ্চিমী দেশের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে সংবেদনশীল সামরিক দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এখনও দোষী সাব্যস্ত নন পিয়ের-অঁরি

    ফরাসি আইনে কাউকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা মানেই তিনি দোষী— এমন নয়।  এর অর্থ, তদন্তকারী বিচারকের মতে মামলাটি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এখন তদন্তের ভিত্তিতে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন, এই মামলা আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হবে কি না।

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনকে (Jantar Mantar Protest) কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য, গুজব এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুলিশের দাবি, এ কাজে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ৪৮০টিরও বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) সক্রিয় ছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই একই অ্যাকাউন্টগুলি সক্রিয় ছিল বলেও দাবি দিল্লি পুলিশের (Delhi Police)।

    ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট 

    বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে চলা আন্দোলনের (Jantar Mantar Protest) সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গুজব, ভুয়ো পোস্ট এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়াচ্ছে।  পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত ৪৮০টিরও বেশি পাকিস্তান-ভিত্তিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও ছিল সক্রিয়

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) দাবি, এই একই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনও সক্রিয় ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময়ের মতো এবারও উদ্দেশ্য একটাই- ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা।

    ছাত্রদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা!

    পুলিশের দাবি, ভুয়ো পোস্ট, সম্পাদিত ভিডিও এবং নাম-পরিচয়হীন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের তথ্য বা ভিডিও দেখে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য ছাত্রদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)।

    গুজব ছড়াবেন না, তথ্য যাচাই

    সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) আবেদন, সামাজিক মাধ্যমে কোনও তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। পুলিশের বার্তা, ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়াবেন না এবং সমাজবিরোধী শক্তিকে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেবেন না।

    শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে

    দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, এবং সেই অধিকারকে তারা সম্মান করে। তবে একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, শান্তি বজায় রাখা এবং যাচাই করা তথ্যের উপর ভরসা করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি।

  • Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    সুশান্ত দাস

    ভবিষ্যতের যুদ্ধ যে ড্রোনকেন্দ্রিক হতে চলেছে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার সেনার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন অপারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ (Baaz Battalions)। এই নতুন ইউনিটের মূল কাজ হবে দীর্ঘক্ষণ আকাশপথে নজরদারি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ, লইটারিং মিউনিশন পরিচালনা এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা (Indian Army Drone Warfare)। সদ্যপ্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু স্থলসেনাই নয়, আকাশে থাকা মানববিহীন ড্রোনও যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

    কেন আলাদা ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’?

    এতদিন ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ইনফ্যান্ট্রি, আর্টিলারি বা অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে ছোট ড্রোন ডিটাচমেন্ট যুক্ত থাকত। তাদের প্রধান কাজ ছিল নজরদারি, শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আর্টিলারিকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ড্রোনের ব্যবহার এখন অনেক বেশি বিস্তৃত।

    বর্তমানে ড্রোনের মাধ্যমে—

    • ● শত্রুপক্ষের গভীরে নজরদারি চালানো যায়।
    • ● ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ও আর্টিলারি ধ্বংসে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে (সুইসাইড ড্রোন) হিসেবে সরাসরি আঘাত হানা যায়।
    • ● একসঙ্গে বহু ড্রোন ব্যবহার করে সোয়ার্ম অ্যাটাক (Swarm Attack) চালানো যায়।
    • ● হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন (Battle Damage Assessment) করা সম্ভব।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত ও ব্যাহত করা যায়।

    এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের জন্যই শুধুমাত্র ড্রোন অপারেশনের উদ্দেশ্যে পৃথক, বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং স্বাধীন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

    কী কাজ করবে বাজ ব্যাটালিয়ন?

    সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই কাজ করবে।

    এই ইউনিটগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স ও রিকনেস্যান্স (ISR) পরিচালনা।
    • ● দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি।
    • ● নির্ভুল ড্রোন হামলা।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন পরিচালনা।
    • ● আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযান।
    • ● আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—উভয় ধরনের অভিযানে পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা।

    প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এক ধরনের নয়, বরং একাধিক শ্রেণির মানববিহীন আকাশযান (UAV) মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ‘অশ্বিনী’ প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

    অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সেনার অশ্বিনী (Ashini) প্রকল্প থাকতেই আবার নতুন ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রয়োজন কেন? আসলে দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য এক নয়। অশ্বিনী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের কাছে ছোট আকারের ট্যাকটিক্যাল ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি মূলত সীমিত দূরত্বে নজরদারি, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়।

    অন্যদিকে, বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশেষায়িত ড্রোন যুদ্ধ ইউনিট। এগুলির কাজ শুধুমাত্র নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘপাল্লার অপারেশন, নির্ভুল হামলা, লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনাই হবে মূল লক্ষ্য। সহজভাবে বললে, অশ্বিনী যেখানে সামনের সারির সেনাদের হাতে ‘চোখ’ তুলে দেয়, সেখানে Baaz Battalions ভারতীয় সেনার পূর্ণাঙ্গ ড্রোন যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের সাম্প্রতিক প্রবণতা ভারতীয় সেনাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের অন্যতম নির্ণায়ক অস্ত্র। সেই কারণেই ড্রোনকে শুধুমাত্র নজরদারির মাধ্যম হিসেবে না দেখে, গোয়েন্দা অভিযান, নির্ভুল আঘাত, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গঠন সেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক রূপান্তরেরই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

LinkedIn
Share