Tag: Operation Sindoor

  • India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হল ভারত ও পোল্যান্ড। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পোল্যান্ডের (India Poland) প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে জোর দেওয়া হয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২০২৪ সালে মোদির পোল্যান্ড সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়। গত ৪৫ বছরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটিই ছিল প্রথম পোল্যান্ড সফর। বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা হয়ে উঠেছে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ড ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। দেশটি তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

    ‘চমৎকার’ আলোচনা (India Poland)

    টাস্কের সঙ্গে আলোচনাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পোল্যান্ড স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় আধিকারিকরা।

    টাস্কের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আজ আমরা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি। এই সমস্ত কৌশলগত ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের জন্য আমরা পোল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে টাস্ক বলেন, “রাজনৈতিক হুমকি সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সচেতন। খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব স্বাধীন হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তাও আমরা বুঝি, যাতে পোল্যান্ড ও ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভর হতে পারে।”

    কী বললেন মোদি

    মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের সময়ে ভারত এবং পোল্যান্ড, দুই দেশই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “গত বছর পোল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঐতিহাসিকভাবে এক লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আর, গত ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তি পোল্যান্ডে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং প্রকৌশলজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রেল, পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত উৎপাদন শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে ভারত।

    টাস্কের সঙ্গে প্রায় ১০০টি পোলিশ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে এই প্রতিনিধিদল গুরুত্ব দেবে বলেও জানান মোদি।

    নয়া অংশীদারিত্ব

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং পোল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ নয়া অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘প্রারম্ভিক উদ্যোগ সেতু’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পোল্যান্ডের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত দু’টি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবে। প্রতিরক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধশিল্প, খনি, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই এই সম্মেলনগুলির লক্ষ্য। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। পোল্যান্ডে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে (India Poland)।

    টাস্ক বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত বা এমন কোনও ঐতিহাসিক সমস্যা নেই, যা তাদের বিভক্ত করতে পারে। সেই কারণেই উভয় দেশ সহজেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘আশার আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

    টাস্কের বক্তব্য

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে টাস্ক বলেন, “সম্প্রতি আমাদের ড্রোনগুলি অত্যন্ত কার্যকর ছিল। আমি নিশ্চিত, উপগ্রহ ও ড্রোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংকটের সময় আমাদের দেশগুলিকে সাহায্য করেছে।”

    গত বছর কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত পোলিশ ড্রোনের দিকেই টাস্ক ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পোল্যান্ডের ডব্লিউবি গোষ্ঠী ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ১০০টি ‘ওয়ারমেট’ আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহ করেছিল। চলতি বছরের গোড়ায় পোল্যান্ডের আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও তিনটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের কারণে পোল্যান্ডের নিজস্ব মজুত কমেছে। সেই মজুত পূরণ করতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আগ্রহী ওয়ারশ। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে পোল্যান্ডের কয়েকটি সংস্থার উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তিও চূড়ান্ত করছে নয়াদিল্লি এবং ওয়ারশ।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ গোপনীয় তথ্যের পারস্পরিক সুরক্ষা ও আদানপ্রদান নিয়ে একটি চুক্তি তৈরির কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার ভিত্তিতে এই চুক্তি গড়ে উঠবে বলেই আশা।

    যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারস্পরিক আস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা জরুরি বলেও জানান তিনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে একটি সংলাপ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত একটি পৃথক আলোচনা চালু করতেও সম্মত হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ এবং জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার অতিরিক্ত কাঠামো তৈরি (India Poland) করেছে বলেও জানান জর্জ।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতের করণীয়

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে যাবে।” রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে পোল্যান্ড ‘অত্যন্ত প্রশংসা’ করেছে বলে জানান জর্জ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে মোদি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানের’ দিকে এগোনোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রফতানি এবং পরস্পরের উপর আক্রমণ না করার সম্ভাবনা নিয়েও ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ভাগ করে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব

    দুই দেশের নেতাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জামনগর ও কোলহাপুরের রাজপরিবার হাজার হাজার পোলিশ শিশু ও পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে সরিয়ে আনতেও পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনই পড়ুয়া।

    প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং বাণিজ্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারত-পোল্যান্ড সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এখন বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে (India Poland) বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানের (India Slams Pakistan) তীব্র সমালোচনা করল নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থাকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে পাকিস্তানকে।

    শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের (UN) সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গহলৌত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীর প্রভাব, সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি।

    পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব নিয়ে সরব ভারত (India Slams Pakistan)

    গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে দ্বিচারিতা বলে অভিহিত করেন গহলৌত। তাঁর অভিযোগ, যে দেশের রাজধানীকে নিজেদের নাগরিকদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হয়, সেই দেশের সরকারের মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা মানায় না।

    পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব বোঝাতে সে দেশের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর প্রসঙ্গও তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার বদলালেও প্রকৃত ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে গৃহীত ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। তাঁকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আজীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীর ফলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতাও সীমিত হয়েছে।

    এই সংশোধনীর উল্লেখ করে গহলৌত দাবি করেন, পাকিস্তানে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

    সংঘর্ষ থামাতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা শরিফের

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শরিফের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়োচিত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।

    প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে কাশ্মীর সমস্যার কথাও তোলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়াকে ভবিষ্যতে ২০২৫ সালের মতো সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন (India Slams Pakistan)।

    শরিফের এই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে গহলৌত জানান, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাবে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন ভারতীয় প্রতিনিধি। রাওয়ালাকোটে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিতর্কিত ১২টি শরণার্থী আসনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানকার আইনসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন গহলৌত। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে ভারত পিছপা হবে না।

    এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখ করা হয়। ওই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোকে নিশানা করেছিল ভারত। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়।

    গহলৌত সতর্ক করে জানান, পাকিস্তানের তরফে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের উপরও পড়বে। পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বোঝাপড়াও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

    ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রসঙ্গ তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। ওই হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

    গহলৌত মনে করিয়ে দেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের সামরিক অ্যাকাডেমির কাছেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি।

    ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের মন্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত। গহলৌতের অভিযোগ, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগের ইতিহাস বিবেচনা করলে সে দেশের সরকারের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (UN) মিথ্যা তথ্য প্রচার ও দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, একই অভিযোগ বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতারণার নীতি পাকিস্তান কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দুই দেশের এই জবাব-পাল্টা জবাবের মধ্যে দিয়ে আরও একবার সামনে এল কাশ্মীর, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানগত বিরোধ (India Slams Pakistan)।

     

  • S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন, সরাসরি জবাব জয়শঙ্করের

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইকের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। শুক্রবার লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তির সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল ‘গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’। বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে এটিকে মূলত ‘শুধুমাত্র বক্তব্যের বিবরণী’ হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক বৈঠকের শেষদিকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, “আপনাদের সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে?” এর পরেই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    নির্মম সত্যের মুখোমুখি পাক সাংবাদিক!

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ—নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি ওই পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন। খুব স্পষ্টভাবেই আপনার জবাব পেয়ে গিয়েছেন।” আসলে, গতকাল ভারতীয় সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?” শাহবাজের কাছে এর কোনও জবাব ছিল না, তিনি সেখান থেকে চলে যান। আজ ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু জয়শঙ্করের কাছ থেকে নির্মম সত্যের মুখোমুখি হন তিনি।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

    সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একইসঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও ধরনের সহায়তা বন্ধ করার জন্যও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন।

    এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালায়। ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের পরিকাঠামো, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক পরিকাঠামো নয়।

    নয়াদিল্লি আরও দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকারের প্রয়োগ। এই হামলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চেও উঠে এসেছে।

    ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নিয়ে ভারতের দাবি

    পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর যোগ থাকার দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই টিআরএফ-কে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

    ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকা টিআরএফ-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির একটি রিপোর্টেও টিআরএফ এবং পহেলগাঁও হামলার মধ্যে যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্যও ভারত নিয়মিত ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদ্যোগ নিয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নিয়েও পাকিস্তানকে ঘিরে চাপ

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের উৎস বন্ধ করাও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন রোধের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

    ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর নজরদারিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং অর্থপাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না করার কারণে পাকিস্তান একাধিকবার এফএটিএফ-এর ‘গ্রে লিস্টে’ ছিল। সর্বশেষ পর্যায়ে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান বর্ধিত নজরদারির আওতায় ছিল।

    এই সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন চিহ্নিত ও বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর পথ আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য ছিল, এফএটিএফ-এর নজরদারির ফলে পাকিস্তানকে একাধিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের সরব জয়শঙ্কর

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক টানাপড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক করে তোলা উচিত নয়।

    নিউইয়র্ক সফরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকও করছেন জয়শঙ্কর। শনিবার সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁর শুক্রবারের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংবাদিক বৈঠকের তাৎক্ষণিক উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান—সবকটি বিষয়ই এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে।

  • Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ১৬ মাস পরেও সারগোধায় পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) মুশাফ ঘাঁটির রানওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মেরামতির কাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে রানওয়ের একটি অংশে ফের খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ভানতুর উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের সংযোগস্থলে একটি স্পষ্ট কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। আশপাশের অ্যাসফল্টের তুলনায় ওই জায়গার রং ও গঠন আলাদা। এর ফলে সেখানে নতুন করে খনন বা রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাজের জায়গার কাছে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ের যে দুটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে এটি একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগের মেরামতির অংশেই ফের কাজ

    সারগোধায় অবস্থিত মুশাফ বিমানঘাঁটি লাহোর থেকে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং অমৃতসরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যে অংশটি আগে মেরামত করা হয়েছিল, সেটিই ফের খুঁড়ে নিচের স্তর বা সাবগ্রেড পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, পাকিস্তান ওই অংশে শুধু নতুন করে অ্যাসফল্টের প্রলেপ দিচ্ছে না, বরং আরও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ করছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে এই খননের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রানওয়ের নিচে বসে যাওয়া, অসমতল হয়ে যাওয়া, উপরের স্তরে ক্ষতি কিংবা আগের মেরামতির নীচে কোনও সমস্যা—এর মধ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

    উপগ্রহচিত্রে রানওয়ে মেরামতির  ছবি

    ছবিতে রানওয়ের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে সংস্কারের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুলনামূলক গাঢ় ও মসৃণ পৃষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, আবার অন্য একটি অংশে মেরামতির কাজ এখনও চলছে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর উপগ্রহচিত্রে ওই হামলাস্থলটি মেরামত হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছবিতে একই জায়গায় ফের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ উপগ্রহচিত্র অবশ্য রানওয়ের বর্তমান মেরামতির সুনির্দিষ্ট কারণ বা কাজের পূর্ণ পরিধি নিশ্চিত করে না।

    রানওয়ের দুটি জায়গায় আঘাত

    ২০২৫ সালের ১০ মে-র উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির প্রায় ৩,২০০ মিটার দীর্ঘ মূল রানওয়ের উপর দুটি পৃথক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, রানওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি গর্তটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৮-৯ মিটার এবং গভীরতা ৪-৫ মিটার। আঘাতের জায়গার চারপাশে অ্যাসফল্ট ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কিছু স্থলযানও দেখা গিয়েছিল। রানওয়ের একই অংশে প্রায় ৬৬০ মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি আঘাতের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। মুশাফ ঘাঁটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে গর্তের আকার ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ মাত্র; সরকারি ভাবে অস্ত্রটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

    এক বছরেরও বেশি সময় পর ফের সংস্কার

    সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র থেকে মুশাফ ঘাঁটির ওই অংশে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার পর একবার মেরামত করা অংশে এক বছরেরও বেশি সময় পরে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে। ভারতীয় সামরিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোও ছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় সরগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই ড্রোনগুলির মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা খুঁজে বের করা।

    ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল।

  • Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একাধিক এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে নির্মাণকাজের চিহ্ন। নতুন ইট ও নতুন দেওয়াল দিয়ে ফের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা এবং মুজফফরাবাদে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। এবার সেখানেই নতুন করে নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

    লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের ছবি (Operation Sindoor)

    প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রথম ভিডিয়োটি লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের বলে দাবি করা হয়েছে। এই শিবিরটি জঙ্গিদের থাকার জন্য ব্যবহৃত (POK) হত। অপারেশন সিঁদুরের সময় শিবিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    দ্বিতীয় যে ছবি সামনে এসেছে, সেটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের সাইদা বিলাল শিবিরের। এই ঘাঁটিটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুরের সময় এখানেও হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। এখন সেখানেও নতুন ইট দিয়ে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণের ছবি দেখা যাচ্ছে।

    ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের গড়ে তোলার চেষ্টা?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টেও ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলির উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে এই জঙ্গি পরিকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল।

    তবে নতুন করে নির্মাণের ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে ফের জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে কি না। নতুন দেওয়াল এবং ইটের কাঠামো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    ‘অপারেশন সিঁদুরে ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তন’

    গত মাসে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে শুধু সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি, প্রতিবেশী দেশের গভীরে থাকা জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়েছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর। নারাভানে বলেন, জঙ্গিদের যারা মদত দেয়, তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ভারতীয় পদক্ষেপ থেকে তাদেরও রেহাই নেই—এই বার্তাই ওই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উরি এবং পুলওয়ামার হামলার পরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নারাভানে বলেন, “এর আগে যখনই এই ধরনের হামলা হয়েছে—উরির পর কিংবা পুলওয়ামার পর বালাকোটে হামলার সময়—আমরা মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করতাম।”

    সির ক্রিকে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়েও মন্তব্য

    সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘অপারেশন আবাবিল’ চালানোর খবর নিয়েও প্রশ্ন করা (Operation Sindoor) হয়েছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে। নারাভানে জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ হয়ে থাকে। তবে ওই অভিযান সম্পর্কে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও বার্তা নারাভানের

    ভারত-চিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের (POK) সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

    তিনি জানান, এটি দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার আলোচনা। অর্থাৎ এই বৈঠক প্রথমবারের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই (Operation Sindoor) আলোচনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি—ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।

     

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করে। রিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে (SRCC) ফিরে নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভরা গ্লাসে’র উদাহরণ স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার সন্ধ্যায় এসআরসিসির শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০১৩ সালের সেই বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বরাবর সম্ভাবনার দিকটি দেখেছেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই কলেজে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মোদি। হাতে এক গ্লাস জল তুলে তিনি বলেছিলেন, আশাবাদীরা সেটিকে অর্ধেক ভরা এবং হতাশাবাদীরা অর্ধেক খালি বলবেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা—গ্লাসটি অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ। শনিবার সেই প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি গ্লাসটিকে পুরো ভরা হিসেবে দেখি—অর্ধেক জল এবং অর্ধেক বাতাস।’’ তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের সেই বক্তব্যের প্রভাব এখনও অনুভব করা যায়। সেই সময় বিজেপি বিরোধী আসনে ছিল এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তা সত্ত্বেও তিনি ওই কলেজের মঞ্চকে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্য ব্যবহার করেননি বলেও জানান। তাঁর কথায়, যা বলেছিলেন, তা বিশ্বাস থেকেই বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সেই পথেই এগিয়েছেন।

    ‘উন্নয়নের গতি এখন অনেক বেশি’ (PM Modi)

    শনিবারের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ২০১৩ সালের ভারত এবং বর্তমান ভারতের তুলনা। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত।

    ২০১৩ সালের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকত সীমান্তে সেনা নিহত হওয়া, ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়। দেশের সর্বত্র ‘পলিসি প্যারালাইসিসে’র আলোচনা ছিল এবং ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এর বিপরীতে বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় এই পরিসংখ্যান ভারতের শক্তি স্পষ্ট করে।’’

    তাঁর দাবি, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভে’র মধ্যে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমান পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। গাড়ি বিক্রি, নির্মাণ, উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদির বক্তব্য, ভারত শুধু বাড়ছে না, দ্রুত গতিতেও এগিয়ে চলেছে।

    তবে প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘নাখোশ ফুফাজি’ বা সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক দিক দেখতে অভ্যস্ত মানুষ হিসেবে কটাক্ষ করেন (PM Modi)।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বার্তা

    দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন সন্ত্রাসবাদ শেষ পর্যায়ে। তারা যদি সাহস দেখায়, তাহলে সেনাবাহিনী ভিতরে ঢুকে তাদের শেষ করে দেয়।’’ সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মোদির বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ তথা মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, বক্তৃতাটি এতটাই বিরক্তিকর ছিল যে ‘‘পেঁয়াজও কেঁদে ফেলত’’।

    কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় শুধু ২০১৩ এবং ২০৪৭ সালের কথা বলেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেননি।

    ১৩ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসআরসিসিতে মোদি

    ২০১৩ সালে এসআরসিসিতে মোদি এসেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তখন গুজরাটে তাঁর চতুর্থ দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কয়েক সপ্তাহ কেটেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল।

    ১৩ বছর পর শনিবার তিনি সেই এসআরসিসিতে ফিরলেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। আগামী মাসে গুজরাট ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়ের দায়িত্ব মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে (PM Modi)।

    ২০১৩ সালের এসআরসিসি বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘এমার্জিং বিজনেস মডেলস ইন দ্য গ্লোবাল সিনারিও (Emerging Business Models in the Global Scenario)’। তবে সেই বক্তৃতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সেটি কার্যত একটি শাসন-ভাবনার ঘোষণাপত্র হয়ে উঠেছিল।

    তখন মোদি বলেছিলেন, সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের অনেকে দেশের যুবসমাজকে শুধু ‘নতুন প্রজন্মের ভোটার’ হিসেবে দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতকে বোঝানো যে দেশের যুবসমাজ আসলে ‘নতুন যুগের শক্তি’।

    ঘটনাচক্রে শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। এদিনই ওই কলেজে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে গুজরাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছিলেন, কোনও ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য রফতানি করতে গেলে ডলার ও পাউন্ড নিয়ে আসেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বিদেশে গেলে তিনি একটি গোটা প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।

    এর আগে (SRCC) এপ্রিল মাসে নিজের বাসভবনে এসআরসিসির পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শতবর্ষ উপলক্ষে (PM Modi) একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

     

  • Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)। অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশপথে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুদ্ধকালীন অসামান্য নেতৃত্ব ও পরিষেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বিশিষ্ট (Ram Temple Trust) পরিষেবা সম্মান  ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’।

    যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চমানের পরিষেবার জন্য এই পদক দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে মাত্র ১০ বার এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ফলে জিতেন্দ্রর এই স্বীকৃতি তাঁর সামরিক জীবনের বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)

    জিতেন্দ্রর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভোপথপুরায়। অযোধ্যা থেকে সড়কপথে তাঁর গ্রামের দূরত্ব প্রায় তিন ঘণ্টা। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা জিতেন্দ্রর বাবা ছিলেন অধ্যাপক। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি অবসর নেন। এরপরই শ্রীরামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

    রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশাল মন্দির চত্বরের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব সামলাতে তাঁর দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে হল নির্বাচন প্রক্রিয়া?

    রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের ৬ জুলাই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে। প্রতিরক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    ১১ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড চূড়ান্ত করা হয়। ১৪ জুলাই শিল্পপতি সমীর পাণ্ডাকে কমিটির সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাজ সামলানোর জন্য তাঁর নেতৃত্বে একটি দলও গঠন করা হয়। ১৮ জুলাই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মোট ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনগুলি যাচাই ও মূল্যায়নের পর ১,৫৮০ জন আবেদনকারীকে যোগ্য ও উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয় (Jeetendra Mishra)।

    ৩ থেকে ৬ অগাস্ট যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ১০৮ জনের সঙ্গে অনলাইনে পারস্পরিক আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। এই ১০৮ জন ছিলেন যোগ্য ও উপযুক্ত আবেদনকারীদের শীর্ষ ৭ শতাংশের মধ্যে। এরপর ১১ ও ১২ আগস্ট অযোধ্যায় শ্রীরাম মন্দিরের গ্রিন হাউসে ১৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়।

    সার্চ কমিটির রিপোর্ট

    অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর সার্চ কমিটি ৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। একই সঙ্গে রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক পদের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেলের সুপারিশ করা হয়।

    এই পুরো প্রক্রিয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্রর নিয়োগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

    সামরিক জীবনে অর্জিত কৌশলগত পরিচালন দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে মন্দির চত্বরের প্রতিদিনের বিপুল (Ram Temple Trust) কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণ সামলানোর ক্ষেত্রে জিতেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে (Jeetendra Mishra) পারেন বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

  • Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় দিল্লিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান একটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল! হরিয়ানার সিরসার আকাশে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও সবচেয়ে তীব্র’ পাল্টা হামলা চালায় ভারত। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে ডিসকভারির (Discovery) দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’-এ এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিতিন গোখলে। ১৫ অগাস্ট রাত ৯টায় তথ্যচিত্রটি প্রকাশিত হয়।

    দিল্লিকে লক্ষ্য করেই কি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র?

    তথ্যচিত্রে নিতিন গোখলে বলেন, “রাত প্রায় ১টা ৩০ বা ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান একটি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেটির লক্ষ্য ছিল দিল্লি। হরিয়ানার সিরসার কাছে সেটিকে আটকানো হয়।” এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ১০ মে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ডিপো, বিমানবন্দর এবং সামরিক ছাউনিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট এবং অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রকাশ্যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য দিল্লি ছিল বলে জানায়নি। ১০ মে সকালে সিরসার একটি মাঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিরসায় মোতায়েন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি ইউনিট ‘বারাক-৮’ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Barak-8 surface-to-air missile) ব্যবহার করে ওই হামলা নিষ্ক্রিয় করেছিল।

    সিরসার হামলাই বদলে দেয় ভারতের কৌশল

    গোখলের দাবি, ভারতের রাজধানীকে লক্ষ্য করে এই হামলা ভারতকে ‘চূড়ান্ত পাল্টা আঘাত’ চালানোর সংকেত দেয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড়সড় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতীয় বায়ুসেনাকে। তাঁর কথায়, “এ বার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বায়ুসেনাকে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার।” এর পরেই পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশন সিঁদুরের এই পর্যায়কে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ভারতের প্রথম বড় আকারের আঘাতগুলির অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে।

    একের পর এক পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা

    প্রথম দফায় পাকিস্তানের রফিকি, সুক্কুর, রহিম ইয়ার খান এবং নূর খান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় সারগোধা, ভোলারি এবং জাকোবাবাদকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের মোট ১১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে তথ্যচিত্রে। এয়ার মার্শাল অবদেশ ভারতী বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল আঘাতকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত রাখা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আমরা চাইলে তোমাদের যেখানে খুশি আঘাত করতে পারি এবং এর কোনও জবাব তোমাদের কাছে নেই।”

    তথ্যচিত্রে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষদিকে আজারবাইজানের লাচিনে পাকিস্তান-তুরস্ক-আজারবাইজান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মোস হামলায় রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

    ‘১,২০০ কিলোমিটার ফ্রন্ট, ২০০ কিলোমিটার ভিতরে’

    ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং তথ্যচিত্রে বলেন, “আমরা প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে এবং তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি।” তাঁর দাবি, ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগিয়েছিল এবং “আমাদের সমস্ত অস্ত্র সঠিক জায়গায় পৌঁছেছিল।” এই হামলায় যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ‘ব্রহ্মোস-এ’ ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos-A) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এপি সিং বলেন, “ব্রহ্মোসের আক্রমণের গতি অত্যন্ত বেশি। ফলে সেটিকে আটকানোর সম্ভাবনা কম। অন্য কম গতির অস্ত্রের তুলনায় এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষমতাও অনেক বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র।”

    পাকিস্তানের তরফেই প্রথম আসে যুদ্ধবিরতির আবেদন

    ভারতের পাল্টা হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয় বলে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। নিতিন গোখলের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে জানান, পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে চাইছে।ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। বরং পাকিস্তানের ডিজিএমওকে নির্ধারিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়।

    অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাঁকে জানানো হয় যে পাকিস্তানের ডিজিএমও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। বিদেশ মন্ত্রকও তাঁকে জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে দুই দেশের হটলাইনে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। রাজীব ঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেই সমস্যা মেরামত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথা হয়।

    ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর, এ বার তো থামুন’

    রাজীব ঘাই জানান, প্রথা অনুযায়ী যিনি ফোন করার অনুরোধ করেন, তিনিই প্রথম কথা বলেন। ফলে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা প্রথমে কথা শুরু করেন। ঘাইয়ের দাবি, পাকিস্তানের ডিজিএমও খুব দ্রুতই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এত ব্রহ্মোস মিসাইল দিয়ে আঘাত করেছেন, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। আমরা এখানেই এটা থামাতে পারি।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল জানান, পাকিস্তান বারবার যুদ্ধবিরতির আবেদন করার পর ভারত সেই অনুরোধ মেনে নেয়। ডোভালের কথায়, “ওরা যখন অনুরোধ করল এবং বারবার বলল, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে, আপনারা যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন, এ বার যুদ্ধবিরতি হোক’, তখন আমরা তাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছিলাম। আমরাও খুব স্পষ্ট ছিলাম যে এই সংঘাতকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” শেষ পর্যন্ত ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধ করতে সম্মত হয়।

    ভারতের বার্তা—সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না

    অপারেশন সিঁদুর শেষ হলেও ভারতের তরফে যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, “ভারতের উদারতা বা ভারতের বেশি সহনশীলতাকে আমাদের দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। ভারত ঝুঁকি নিতে পারে, ভারত কঠিন আঘাত হানতে পারে, তার পরিণতি যা-ই হোক না কেন।” অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ডিসকভারির এই তথ্যচিত্রে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ১০ মে-র রাতের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি প্রতিরোধমূলক অভিযান ছিল না; বরং তার পরেই ভারত পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীর পাল্টা আঘাত হানে।

LinkedIn
Share