Tag: P2M

  • UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিত্যদিনের ডিজিটাল লেনদেনকে সাধারণ মানুষের জন্য মাশুলমুক্ত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে নয়া কাঠামো ঘোষণা করল কেন্দ্র। নতুন নিয়মে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল দিতে হবে না। লেনদেনের অঙ্ক যতই বড় হোক, এই পরিষেবা বিনামূল্যেই থাকবে। অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনে কোনও লেনদেন মাশুল, প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল আরোপ করা যাবে না (P2P Transaction)। নয়া কাঠামোটি ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনের আওতায় চালু করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের উপর এর সরাসরি কোনও মাশুল চাপছে না।

    বন্ধু-পরিজনকে টাকা পাঠানো থাকছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (UPI)

    বন্ধু, আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনও অতিরিক্ত খরচ হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে সমস্ত লেনদেনই মাশুলমুক্ত থাকবে। অর্থের পরিমাণের উপরও কোনও সীমা ধরে মাশুল বসানো হবে না। এই ধরনের লেনদেন ইউপিআইয়ের মোট লেনদেনের পরিমাণের প্রায় ৭০ শতাংশ। লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে এর অংশ প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দোকানে পেমেন্টেও মাশুল নেই

    দোকান, ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারীকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করলেও কোনও মাশুল লাগবে না। এই ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যবসায়ী—কাউকেই বণিক ছাড়ের হার দিতে হবে না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর পরেও ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেন মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থা।

    ২ হাজার টাকার বেশি পেমেন্টে ব্যবসায়ীর উপর ০.৪ শতাংশ মাশুল

    তবে ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ বণিক ছাড়ের হার কার্যকর হবে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেও নির্ধারিত মাশুল ৩০০ টাকার বেশি হবে না।

    এই মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। এটি ব্যবসায়ীর দিকের পেমেন্ট ব্যবস্থার অংশীদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে। অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এই মাশুল সরকার বা জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন সংগ্রহ করবে না; ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী-সহ পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে তা বণ্টিত হবে।

    ছোট দোকান ও রাস্তার ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য-মাশুলের সুবিধা বহাল থাকছে। কোনও ছোট ব্যবসায়ী ইউপিআইয়ের কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করলে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী শ্রেণির আওতায় তাঁর সমস্ত লেনদেনেই শূন্য বণিক ছাড়ের হার প্রযোজ্য থাকবে। ফলে রাস্তার হকার, পাড়ার ছোট মুদিখানা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর নতুন মাশুলের চাপ পড়বে (UPI) না।

    রেল, টেলিকম, বিমা ও জ্বালানিতে আলাদা হার

    কিছু অত্যাবশ্যক পরিষেবার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশের পরিবর্তে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা হারে বণিক ছাড়ের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেল পরিষেবা, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি এবং কৃষি-উপকরণ সংক্রান্ত পেমেন্ট।

    সরকারের হিসাবে, এই ক্ষেত্রগুলি ইউপিআইয়ের ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী লেনদেনের সংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী লেনদেনের মোট মূল্যের প্রায় ৪৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

    মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারে আরও কম হার

    মিউচুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ, শেয়ারবাজারের দালাল ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বণিক ছাড়ের হার আরও কম রাখা হয়েছে। এখানে হার হবে ০.০২ শতাংশ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত মাশুল নেওয়া যাবে।

    ইউপিআই অ্যাপে গোপন মাশুলও নয়

    নতুন কাঠামোয় ইউপিআই অ্যাপগুলিকে কোনও প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যেন নতুন বণিক মাশুলের খরচ কোনওভাবেই গ্রাহকের উপর চাপিয়ে না দেন (P2P Transaction)।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ফলে মোট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ প্রভাবিত হবে। অধিকাংশ লেনদেন হয় ২ হাজার টাকার নীচে থাকবে, নয়তো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হবে বিশেষ তহবিল

    ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হবে। মোট সংগৃহীত বণিক ছাড়ের হারের ৫ শতাংশ এই তহবিলে রাখা হবে। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ইউপিআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আরও বেশি করে আনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা বিনামূল্যে রেখে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে (P2P Transaction) পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা (UPI)।

     

  • India: ভারতে ক্রমেই বাড়ছে ইউপিআইয়ের ব্যবহার, লেনদেনের পরিমাণ জানেন?

    India: ভারতে ক্রমেই বাড়ছে ইউপিআইয়ের ব্যবহার, লেনদেনের পরিমাণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (India) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় দেখা গেল একটি ট্রান্সফর্মেটিভ বছর। ২০২৫ সালে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের  (UPI) মাধ্যমে মোট ২২৮.৫ বিলিয়ন টাকা লেনদেন হয়েছে। এটি গত বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ডলাইনে’র একটি প্রতিবেদনে। জানা গিয়েছে, মোট লেনদেনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯৯.৭৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউপিআইকে ভারতের প্রধান পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ডিজিটাল পেমেন্টই ভরসা (India)

    ‘ওয়ার্ল্ডলাইনে’র বার্ষিক রিপোর্ট “ইন্ডিয়া ডিজিটাল পেমেন্টস রিপোর্ট-ইয়ার ২০২৫ ইন রিভিউ থেকে। প্রতিবেদনটিতে দেখা গিয়েছে, ভারত একটি মাইক্রো-ট্রানজ্যাকশন অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, যেখানে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে—পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে পরিবহণ ও দৈনন্দিন পরিষেবা পর্যন্ত, সব ক্ষেত্রেই। জানা গিয়েছে, ইউপিআই (UPI) লেনদেনের গড় মূল্য (ATS) কমে গিয়েছে, যা দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটায় এর ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। মোট এটিএস ৯ শতাংশ কমে ১,৩১৪ টাকায় নেমেছে, আর ব্যবসায়ী পেমেন্টের এটিএস কমে হয়েছে ৫৯২ টাকা।

    ভারতের পেমেন্ট ব্যবস্থায় আধিপত্য

    ইউপিআই এখনও ভারতের পেমেন্ট ব্যবস্থায় আধিপত্য বজায় রেখেছে, যেখানে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (P2P) এবং ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী (P2M) উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। P2M লেনদেন ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৩.৮২ বিলিয়নে পৌঁছেছে (India)। ব্যবসায়ীদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য পরিকাঠামোও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউপিআই কিউআর কোডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩১.৩৮ মিলিয়নে, এবং পিওএস টার্মিনালের সংখ্যা ১১.৪৮ মিলিয়নে পৌঁছেছে। যদিও দৈনন্দিন পেমেন্টে ইউপিআই প্রাধান্য পাচ্ছে, তবুও বড় অঙ্কের এবং অনলাইন কেনাকাটায় কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। ক্রেডিট কার্ড লেনদেন ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৬৯ বিলিয়নে পৌঁছেছে, আর ডেবিট কার্ড ব্যবহার কমেছে ২৩ শতাংশ, যা ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউপিআইতে স্থানান্তরের ইঙ্গিত দেয় (UPI)।

    ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ

    অনলাইন ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪.৫৩ ট্রিলিয়ন টাকা, যা ই-কমার্স এবং উচ্চমূল্যের কেনাকাটায় কার্ডের গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে। পুনরাবৃত্ত ডিজিটাল পেমেন্টও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ভারতের লেনদেন ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.০৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এর মোট মূল্য ১৪.৮৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা আদতে নির্দেশ করে ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি (India)। এই প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা ফি, বিমা, ইএমআই এবং সাবস্ক্রিপশন পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা “সেট অ্যান্ড ফরগেট” পেমেন্ট মডেলের উত্থান নির্দেশ করে। ওয়ার্ল্ডলাইন ইন্ডিয়ার সিইও রমেশ নরসিংহন বলেন, “ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি নতুন পরিণত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ব্যাপকতার সঙ্গে কাঠামোগত উন্নয়ন ঘটছে। ইউপিআই, কার্ড এবং পুনরাবৃত্ত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে স্পষ্ট ভূমিকা তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত সম্প্রসারিত পরিকাঠামোর দ্বারা সমর্থিত।”

LinkedIn
Share