Tag: Pahalgam Terror Attack

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানের (India Slams Pakistan) তীব্র সমালোচনা করল নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থাকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে পাকিস্তানকে।

    শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের (UN) সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গহলৌত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীর প্রভাব, সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি।

    পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব নিয়ে সরব ভারত (India Slams Pakistan)

    গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে দ্বিচারিতা বলে অভিহিত করেন গহলৌত। তাঁর অভিযোগ, যে দেশের রাজধানীকে নিজেদের নাগরিকদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হয়, সেই দেশের সরকারের মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা মানায় না।

    পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব বোঝাতে সে দেশের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর প্রসঙ্গও তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার বদলালেও প্রকৃত ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে গৃহীত ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। তাঁকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আজীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীর ফলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতাও সীমিত হয়েছে।

    এই সংশোধনীর উল্লেখ করে গহলৌত দাবি করেন, পাকিস্তানে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

    সংঘর্ষ থামাতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা শরিফের

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শরিফের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়োচিত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।

    প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে কাশ্মীর সমস্যার কথাও তোলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়াকে ভবিষ্যতে ২০২৫ সালের মতো সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন (India Slams Pakistan)।

    শরিফের এই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে গহলৌত জানান, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাবে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন ভারতীয় প্রতিনিধি। রাওয়ালাকোটে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিতর্কিত ১২টি শরণার্থী আসনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানকার আইনসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন গহলৌত। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে ভারত পিছপা হবে না।

    এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখ করা হয়। ওই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোকে নিশানা করেছিল ভারত। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়।

    গহলৌত সতর্ক করে জানান, পাকিস্তানের তরফে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের উপরও পড়বে। পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বোঝাপড়াও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

    ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রসঙ্গ তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। ওই হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

    গহলৌত মনে করিয়ে দেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের সামরিক অ্যাকাডেমির কাছেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি।

    ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের মন্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত। গহলৌতের অভিযোগ, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগের ইতিহাস বিবেচনা করলে সে দেশের সরকারের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (UN) মিথ্যা তথ্য প্রচার ও দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, একই অভিযোগ বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতারণার নীতি পাকিস্তান কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দুই দেশের এই জবাব-পাল্টা জবাবের মধ্যে দিয়ে আরও একবার সামনে এল কাশ্মীর, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানগত বিরোধ (India Slams Pakistan)।

     

  • S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন, সরাসরি জবাব জয়শঙ্করের

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইকের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। শুক্রবার লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তির সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল ‘গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’। বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে এটিকে মূলত ‘শুধুমাত্র বক্তব্যের বিবরণী’ হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক বৈঠকের শেষদিকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, “আপনাদের সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে?” এর পরেই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    নির্মম সত্যের মুখোমুখি পাক সাংবাদিক!

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ—নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি ওই পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন। খুব স্পষ্টভাবেই আপনার জবাব পেয়ে গিয়েছেন।” আসলে, গতকাল ভারতীয় সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?” শাহবাজের কাছে এর কোনও জবাব ছিল না, তিনি সেখান থেকে চলে যান। আজ ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু জয়শঙ্করের কাছ থেকে নির্মম সত্যের মুখোমুখি হন তিনি।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

    সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একইসঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও ধরনের সহায়তা বন্ধ করার জন্যও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন।

    এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালায়। ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের পরিকাঠামো, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক পরিকাঠামো নয়।

    নয়াদিল্লি আরও দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকারের প্রয়োগ। এই হামলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চেও উঠে এসেছে।

    ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নিয়ে ভারতের দাবি

    পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর যোগ থাকার দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই টিআরএফ-কে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

    ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকা টিআরএফ-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির একটি রিপোর্টেও টিআরএফ এবং পহেলগাঁও হামলার মধ্যে যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্যও ভারত নিয়মিত ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদ্যোগ নিয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নিয়েও পাকিস্তানকে ঘিরে চাপ

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের উৎস বন্ধ করাও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন রোধের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

    ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর নজরদারিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং অর্থপাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না করার কারণে পাকিস্তান একাধিকবার এফএটিএফ-এর ‘গ্রে লিস্টে’ ছিল। সর্বশেষ পর্যায়ে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান বর্ধিত নজরদারির আওতায় ছিল।

    এই সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন চিহ্নিত ও বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর পথ আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য ছিল, এফএটিএফ-এর নজরদারির ফলে পাকিস্তানকে একাধিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের সরব জয়শঙ্কর

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক টানাপড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক করে তোলা উচিত নয়।

    নিউইয়র্ক সফরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকও করছেন জয়শঙ্কর। শনিবার সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁর শুক্রবারের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংবাদিক বৈঠকের তাৎক্ষণিক উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান—সবকটি বিষয়ই এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে।

  • BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলির তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও জোটের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ব্রিকসকে (BRICS Delhi Summit) কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াও ছিল নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জোটের দুই সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। সম্মেলনের মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। রিও দে জেনেইরোতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি। ফলে পাঁচ সদস্যের জোট (Global South) থেকে ২০২৫ সালে ১১ সদস্যের ব্রিকসে পরিণত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা (Global South)

    কিন্তু সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও সম্মিলিত নিন্দা জানায় জোট। একই সঙ্গে ভারত ব্রিকসের বৃহত্তর কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থকেন্দ্রিক রাখতে সক্ষম হয় এবং জোটটিকে সরাসরি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হতে দেয়নি।

    অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সম্মেলনকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে ব্রিকসের দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন সময়েও নয়াদিল্লি আবারও ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিন দিনে, অর্থাৎ সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে সম্মেলনটি ভারতের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

    ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈঠকের মঞ্চ হল নয়াদিল্লি

    সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে (BRICS Delhi Summit) তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরেও দুই দেশের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখায় পরিণত হয়েছিল।

    এর আগে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষা চেয়েছিল। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল।

    ফলে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক থেকে ঐকমত্যের ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও বিদেশনীতি বিভাগের সহ-সভাপতি হর্ষভি পন্তও সম্মেলনের আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উত্তেজনা যৌথ ঘোষণা আটকে দিতে পারে।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিভাজন ব্রিকসের বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দু’দেশই পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের আহ্বান জানানো ব্রিকসের বিবৃতিতে সই করে (BRICS Delhi Summit)।

    এর পর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম।

    ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য এখানেই—ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বন্দ্বকে বৃহত্তর ব্রিকস-বিভাজনে পরিণত হতে না দেওয়া এবং নয়াদিল্লিকে দুই দেশের আলোচনার মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা।

    ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে ব্রিকসকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিল ভারত

    ভারতের দ্বিতীয় এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

    জোট সম্প্রসারিত হওয়ার পর ঐকমত্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের রিও দে জেনেইরো বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন সভাপতি ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পরিবর্তে সভাপতির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তাই নয়াদিল্লি সম্মেলনের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—আগে যে কাজ সম্ভব হয়নি, তা কি এবার করা যাবে? উত্তর মিলেছে ইতিবাচকভাবেই। নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানায়নি, বরং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথাও বলেছে।

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে এবং সম্মেলন আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনও জোটের ক্ষেত্রে সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিছক আনুষ্ঠানিক দলিল নয়। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলি যে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে থেকে একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছতে পারে, এই ঘোষণা তারই প্রমাণ।

    হর্ষভি পন্ত সম্মেলনের আগে বলেছিলেন, ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পরীক্ষার মুখে। তাঁর মতে, “অনেক দেশ ব্রিকসের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতা সেই আশাকে দুর্বল করতে পারত (BRICS Delhi Summit)।

    পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য

    নয়াদিল্লি ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ জখম হন।

    ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোট। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণায় পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। কিন্তু পহেলগাঁও হামলাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

    চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি পহেলগাঁও হামলাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে (Global South)।

    বৃহত্তর ব্রিকস কর্মসূচিতে ভারতের অগ্রাধিকার

    ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।

    তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তৃতীয় সাফল্যটি আলাদা করে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অংশে সরাসরি চতুর্থ সাফল্য হিসেবে ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Delhi Summit)।

    ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দিল না ভারত

    ভারতের আর একটি বড় সাফল্য ছিল তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে সামনে রাখলেও নয়াদিল্লি ব্রিকসকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দেয়নি।

    নয়াদিল্লি ঘোষণা বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা চাপের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, এর ফলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত। অন্যদিকে চিন বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দুই দেশের চাপ ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

    কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিকরি শনিবার ভারতের অবস্থানকে পশ্চিম-বিরোধী নয়, বরং পশ্চিমের বাইরে থাকা অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিম-বিরোধী নই; আমরা এক পৃথিবী হিসেবে বাঁচতে চাই।” নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও সেই ভারসাম্যই স্পষ্ট হয়েছে (Global South)।

    যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বৈচিত্র্যময় জোটকে সামলাল ভারত

    ভারতের পঞ্চম সাফল্যটি সবচেয়ে বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ব্রিকস আর আগের পাঁচ সদস্যের জোট নয়। সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের দেশগুলি একই মঞ্চে এসেছে।

    চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ জোটের দুই সদস্য সরাসরি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

    এই যুদ্ধগুলির প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহণ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    তার মধ্যেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, পরামর্শ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পেয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন।

    যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন এবং বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিকস যখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে, তখন ভারত ঐকমত্য গড়ে তুলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লি দেখিয়ে দিয়েছে, গভীর (BRICS Delhi Summit) মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখা সম্ভব।

    এখন পরবর্তী পরীক্ষা চিনের। ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব চিনের হাতে যাবে। ভারত যে ঐকমত্য তৈরি (Global South) করেছে, বেজিং সেটি কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই দেখার।

     

  • PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে আরও গভীর এবং বহুমাত্রিক বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ক্রিকেটের উপমায় দুই দেশের কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি (India Australia Relations) জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট এক বিশেষ কূটনৈতিক ভাষা হিসেবে কাজ করে এবং দুই দেশের বৈঠকও অনেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আমরা বিশ্বের ক্রীড়া রাজধানী মেলবোর্নে রয়েছি। এখানে খেলাধুলার কথা না বলা ঠিক যেন ক্রিকেট ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট বা বল কোনওটাই না করা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট একটি কূটনৈতিক ভাষা।’’

    ক্রিকেটের উপমা (PM Modi)

    তিনি আরও বলেন, ‘‘অনেক দিক থেকেই আমাদের বৈঠক ক্রিকেটের মতো। আমাদের আলোচ্যসূচি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো লক্ষ্যনির্ভর, আমাদের সিদ্ধান্ত কুড়ি ওভারের ম্যাচের মতো দ্রুত, আর আমাদের অংশীদারিত্ব পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর।’’ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই অলিম্পিক এবং কমনওয়েলথ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে শুধু দুই দেশের ক্রীড়া সহযোগিতাই আরও শক্তিশালী হবে না, ক্রীড়া পরিকাঠামোয় বিনিয়োগেরও নতুন নতুন সুযোগও তৈরি হবে।’’

    যৌথ বিবৃতি

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করে এমন হিংসাত্মক মৌলবাদের সব ধরনের রূপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা(PM Modi)। দুই নেতা জানান, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সব দেশের সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ জরুরি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির তালিকাভুক্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের সহযোগী, মদতদাতা এবং অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ডাকও দেন তাঁরা।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহমত দুই দেশই

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। জঙ্গি হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসে নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পহেলগাঁও ও বন্ডাই সমুদ্রসৈকতের হামলা-সহ সব ধরনের জঙ্গি হামলার নিন্দাও করেন তাঁরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরমাণু সহযোগিতার নয়া মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)।

    উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সহযোগিতা

    জানা গিয়েছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই উগ্রপন্থা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের অঙ্গীকার করেছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন সহিংস চরমপন্থা, নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো এবং বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে উদ্ভূত হুমকির মোকাবিলা করা (India Australia Relations)। শীর্ষ বৈঠকে নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এই নতুন কাঠামো আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক চুক্তি

    এর আগে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর ফলে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান অংশীদারিত্বে কৌশলগত পারমাণবিক সহযোগিতার একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল হবে বলেই আশা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই অংশীদারিত্বই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এই কাঠামোর ভিত্তিতেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার মেলবোর্নে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে (India Australia Relations) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্যাঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

  • Pakistan: শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

    Pakistan: শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে (Terror Network Connections) নানা অভিযোগ রয়েছে। এবার পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা পেসার শোয়েব আখতারের (Shoaib Akhtar) পরিবারের একটি শোকানুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে উসকে দিয়েছে সেই বিতর্ক। শোয়েবের বড় ভাই শাহিদ আখতারের (Shahid Akhtar) জানাজায় লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-র একাধিক শীর্ষ নেতার উপস্থিতির ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।

    শোয়েব আখতারের ভাইয়ের মৃত্যু

    গত ২৪ জুন শাহিদ প্রয়াত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানান শোয়েব। তিনি “Returned to Allah” লিখে শোকপ্রকাশ করেন এবং জানাজার সময় এবং জায়গা সম্পর্কেও তথ্য ভাগ করে নেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত ওই জানাজায় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    জানাজায় লস্কর নেতারা!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও এবং ছবিতে দাবি করা হয়েছে, জানাজায় উপস্থিত ছিলেন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ডেপুটি প্রধান সইফুল্লাহ কাসুরি (Saifullah Kasuri)। সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রী তিনি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ (Pakistan Markazi Muslim League)-এর সভাপতি ইনাম-উর-রহমান কাম্বোহ (Inam-ur-Rehman Kamboh)-কে-ও। উল্লেখ্য, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগকে লস্কর-ই-তৈবার রাজনৈতিক শাখা হিসেবে দেখা হয়। সংগঠনটি গঠিত হয় জামাত-উদ-দাওয়া (JuD) এবং মিল্লি মুসলিম লিগের (MML) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর। এই দুই সংগঠনের সঙ্গেই রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের (Hafiz Saeed) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। ভিডিওতে আরও যাঁদের উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লস্করের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল্লাহ তুর (Abdullah Toor), PMML-এর জোনাল জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ উমর (Hafiz Umar) এবং খিদমত কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ ভাট্টি (Amjad Bhatti)।

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ

    ভারতের দাবি মতো, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল (Pakistan) জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। হামলার দায় কবুল করেছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (The Resistance Front বা TRF), যাকে ভারত লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবেই চিহ্নিত করে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অভিযোগ, সইফুল্লাহ কাসুরি এই (Terror Network Connections) হামলার অন্যতম মূল চক্রী। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাক সরকার।

    নতুন করে উঠছে প্রশ্ন

    জানাজায় লস্কর নেতাদের প্রকাশ্য উপস্থিতির ভিডিও সামনে আসার পর পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উঠছে মেলা প্রশ্ন। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের স্বাধীনভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়টিকেই সামনে তুলে ধরছে। এদিকে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া আর একটি ভিডিওয় সইফুল্লাহ কাসুরিকে দাবি করতে শোনা যায়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাঁকে বিভিন্ন সরকারি বৈঠক ও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় এবং সেনা সদস্যদের জানাজায় ইমামতি করার অনুরোধও করে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক জঙ্গি সংগঠন নিরাপদ আশ্রয় ও কার্যকলাপের সুযোগ পেয়ে থাকে। পাকিস্তান অবশ্য (Terror Network Connections) বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সব (Pakistan) ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ফের মিলল পাক-যোগের প্রমাণ! তদন্তকারীরা জেনেছেন, জঙ্গিদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনের উৎস পাকিস্তান। ২০২১ সালে আমদানি করা একটি চালানের সঙ্গেই সেটি এসেছিল ভারতে। এই চালানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছিল করাচির একটি ব্যাঙ্ক। অতীতেও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের এই ব্যাঙ্কের নাম। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

    বাজেয়াপ্ত ২ ফোন (Karachi Bank)

    সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জেনেছেন, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা দু’টি Xiaomi Redmi সিরিজের ফোন ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে একটি ছিল Redmi 9T। ২০২১ সালে এটি আমদানি করা হয়েছিল পাকিস্তানে। অন্য ফোনটি ছিল Redmi Note 12, আমদানি করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ফোন দু’টি উদ্ধার হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই, জম্মু-কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে মুলনার মহাদেব এলাকায়। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় তিন জঙ্গি—ফয়সাল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানির কাছ থেকে। আরও জানা গিয়েছে, Redmi 9T ফোনটি পাকিস্তানের করাচির ক্লিফটন রোডের Tech Sirat Pvt Ltd নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালানের অংশ ছিল। Xiaomi Global-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালানটি ১ জানুয়ারি ২০২১ সালে পাকিস্তানে পৌঁছেছিল।

    ফোন পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের হাতে

    এই চালানের লজিস্টিকস ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় ইসলামিক ব্যাঙ্ক ফয়জল ব্যাঙ্ক লিমিটেড (Faysal Bank Ltd)। চালান ডেলিভারির ঠিকানায় লেখা ছিল: “ফয়জল হাউস, মেন ব্রাঞ্চ, সাহারা-ই-ফয়জল, করাচি।” তদন্তকারীদের অনুমান, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া, যেমন লেটার অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে আমদানিতে অর্থায়ন করা হয়েছিল। ফোনটি ওই চালান থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে পরে পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গিদের হাতে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মধ্যে একজন বলেন, “পহেলগাঁও হামলায় ব্যবহৃত ফোনটি সম্ভবত এই চালান থেকেই পাচার হয়ে লস্কর-ই-তৈবার হাতে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালে আমদানির পর থেকে ফোনটি চালুই করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার সময়ই সেটি প্রথম চালু হয়।”

    ফয়জল ব্যাঙ্কে জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট

    তদন্তকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এখনও অব্দি ফয়জল ব্যাঙ্ককে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে অতীতের বিভিন্ন সন্ত্রাসে অর্থায়ন-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের ওই ব্যাঙ্কটির নাম। ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফয়জল ব্যাঙ্কে লস্কর-ই-তৈবা এবং লাজনাত-আল-দাওয়া-সহ কয়েকটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও ব্যাঙ্কটির হোল্ডিং কোম্পানি সেই সময় স্পষ্ট জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই। এও জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর তাদের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই ফোন চালু

    তদন্তকারীরা ৯/১১ হামলার পর প্রকাশিত পুরানো কিছু রিপোর্টের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ওই প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই দেশেরই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে, এর মধ্যে ফয়জল ব্যাঙ্কও ছিল।জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ফোনটি পাকিস্তানেরই লাহোরভিত্তিক এয়ার লিঙ্ক কমিউনিকেশনস লিমিটেড আমদানি করেছিল।তদন্তকারীরা জেনেছেন, কেনার পর এই ফোনটিও কয়েক বছর চালু করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই প্রথম চালু করা হয়।

    ফোনে মিলল ছবি

    ফোন দু’টিতে নিয়মিত কল আসা-যাওয়া কিংবা ইন্টারনেট যোগাযোগের তথ্যও মেলেনি। কারণ জঙ্গিরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের বদলে দূর-পাল্লার রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করত। তাই তারা নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করতে পেরেছে এবং সাধারণ কল বা ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও ডিজিটাল ট্রেইল রেখে যায়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য ওই ফোন দু’টি থেকে কিছু ছবি এবং মানচিত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন মেডোজ এবং আশপাশ এলাকার ছবিও। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জঙ্গিরা একটি তাঁবু পেতেছিল। এটি হামলার কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁবুটি এমন একটি উঁচু জায়গায় ফেলা হয়েছিল যেখান থেকে সহজেই নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।

     

  • Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল। একইসঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাল চার দেশ। মঙ্গলবার হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোসেমিৎসু মোতেগি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং শক্তিসম্পদ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে কোয়াড গোষ্ঠী ৷

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি

    মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠক করেন ৷ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনও পক্ষের একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার বিরোধিতা করেছে কোয়াড দেশগুলি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে কোয়াড। গুরগাঁওয়ে অবস্থিত ভারতের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নজরদারি ও তথ্য ভাগাভাগির উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে “কমন অপারেশনাল পিকচার” তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে সামুদ্রিক নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়। আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য ৷

    পহেলগাঁও হামলার কড়া নিন্দা

    যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড দেশগুলি “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের” বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার উল্লেখ করে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের মদতদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে “দৃঢ় ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ”-এর দাবি জানানো হয়েছে।

    দক্ষিণ চিন সাগর ও সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ

    কোয়াড দেশগুলি দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে “বিপজ্জনক ও জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ”, জলকামান ব্যবহার, জাহাজে ধাক্কা মারা, নৌ চলাচলে বাধা এবং বিতর্কিত অঞ্চলের সামরিকীকরণের বিরোধিতা করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল ও বাণিজ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea) মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ও মায়ানমার প্রসঙ্গ

    বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কোয়াড দেশগুলি কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু-মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান জানায়। অন্যদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, বন্দিদের মুক্তি এবং সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অর্থনীতি, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে জোর

    বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে কোয়াড দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) নিয়ে নতুন কাঠামো গঠনের ঘোষণা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এছাড়া “কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ” চালু করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

    প্রযুক্তি, এআই ও আন্ডারসি কেবল

    বৈঠকে ৫জি, ৬জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো ও নির্ভরযোগ্য সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির “মেরুদণ্ড” হিসেবে আন্ডারসি কেবল নেটওয়ার্কের সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কোয়াডের সহায়তায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের সব দেশকে আন্ডারসি কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার দেশ। পাপুয়া নিউ গিনির ভূমিধস ও মায়ানমারের ভূমিকম্পে যৌথ ত্রাণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোয়াড দেশগুলি জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের বার্তা

    বৈঠকের শেষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “এই আলোচনার বেশির ভাগ অংশ এবং দ্বিপাক্ষিক মত বিনিময়ের অনেকটা জুড়ে ছিল বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিত ৷ আমরা চারজনই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী গণতান্ত্রিক দেশ ৷ আমরা সুরক্ষিত এবং বাধাহীন সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেছি ৷” একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেকগুলি দিক ও মাত্রা রয়েছে ৷ কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠকে সেই বিষয়গুলির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ আগামী দিনে বিশ্বে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আগামী দিনে, অর্থনৈতিক কাজকর্ম হোক বা শক্তিসম্পদের বাণিজ্য বা সমুদ্রে বাণিজ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে ৷ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোয়াড গোষ্ঠীর দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ৷”

LinkedIn
Share